উদ্যোক্তা সিরিজ


উদ্যোক্তা সিরিজ-৪

বাংলাদেশের প্রথম কুমির চাষীর কথা- শেষ পর্ব

 

প্রশ্ন: পত্রিকায় পড়েছি মালিকানা দ্বন্দ্বে কুমির রপ্তানি বন্ধ দেড় বছর ধরে। বিষয়টি একটু খুলে বলুন।

একথা সত্যি। কুমিরের চামড়ার ক্রেতা খুবই কম। সত্যি বলতে কি, চাহিদার চেয়ে সরবরাহ বেশি। এদিকে এই শিল্পের সঙ্গে যারা জড়িত তারা আমাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন। তারা জানেন যে, আমাদের খামারে কি ঘটেছে। যেহেতু এটি একটি ছোট কমিউনিটি। এই অবস্থায় ফ্রান্স থেকে একজন বড় ক্রেতা আমাদের খামার দেখতে আসতে চান। কিন্তু আমি তাকে আনতে পারিনি। কাউকেই আনতে পারছি না। কারণ দ্বন্দ্ব মিটমাট না হওয়া পরযন্ত আমি সেটা করতে পারি না। ফলে, কুমিরগুলো খামারে পড়ে আছে। সংক্ষেপে বললে, আমাদের খামার ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে ক্রেতাদের এখন আস্থা নেই।

প্রশ্ন: আপনার খামারে এখন রপ্তানি উপযোগী কুমিরের সংখ্যা কতো?
৬০০ এর মতো।

প্রশ্ন: এই প্রকল্পে বাংলাদেশ ব্যাংক কিভাবে যুক্ত হলো?
বাংলাদেশ ব্যাংকের মালিকানা হলো ৪৯ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটা প্রকল্প আছে- ইইএফ। আমরা সেই প্রকল্প থেকে তহবিল নিয়েছি। বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন: http://youtu.be/Z5lFppR5QIs

প্রশ্ন: জানা যায়, এই প্রকল্পের তিনজন মালিক। বাংলাদেশ ব্যাংক ৪৯ শতাংশ। আপনার মামা মেজবাউল হকের ৩৬ শতাংশ এবং আপনার ১৫ শতাংশ। প্রশ্ন হলো- আপনি কেন আপনার মামাকে এই প্রকল্পে ‍যুক্ত করেছিলেন?

কুমিরের খামার করার ধারণাটি প্রথমে রম্য ভাইয়ের। এর মাত্র তিনমাস পরে তিনি দেশ ছেড়ে চলে যান। তিনি আমাকে বলেছিলেন কাজটি করতে হলে প্রথমে কি কি করতে হবে।

আমি আইইউসিএন এর ড. আনিসুজ্জামান খানের সঙ্গে দেখা করি। কি করতে চাই খুলে বলি। এদিকে ইন্টারনেট থেকে আমি তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলি। এভাবে আমি কুমির চাষ সম্পর্কে নিজের ধারণা বাড়াতে থাকি। এরকম এক সময়ে ২০০৩ সালের শুরুর দিকে ইউএসএআইডি এগ্রোবিজনেস প্ল্যান প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। আমি সেখানে অংশ নিয়ে চতুর্থ হই। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের জন্য আমি দু’টো দাওয়াত পত্র পাই। আমার মা-বাবা বিদেশে ছিলেন। মামী জানতে চাইলেন আমার সঙ্গে কে যাবে? এরপর তিনিই বলেন, মামা আমার সঙ্গে যেতে পারেন। আমার তেমন কেউ ছিল না যে তাকে নিয়ে যাব। ফলে মামাই গেলেন। মামা জানতেন যে, আমি অনুষ্ঠানে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দেব। তিনি সেটা দেখলেন। এরপর তিনি আমার কাছে জানতে চাইলেন, আমি এই মিলিয়ন ডলারের প্রজেক্ট কিভাবে বাস্তবায়ন করব? আমার উত্তর ছিল সহজ- আমি বলেছিলাম আমি আমার এই ধারণাটি বিক্রি করব। তবে শর্ত থাকবে প্রথম ৫ বছরের জন্য আমি কোম্পানির এমডি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হবো। এরপর অনুষ্ঠানের আগে আমি যখন তাকে তার কার্ড দিতে গেলাম তখন তিনি বললেন এটা একটা পারিবারিক ব্যবসা হতে পারে। এভাবেই তার এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হওয়া।

প্রশ্ন: দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো শতাংশের হিসেবটি কিভাবে হয়েছে? মোট মূলধন কতো? মালিকানার বিষয়টি যদি খুলে বলতেন?
কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ছিল ৫ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক দিয়েছে ২.৪৩ কোটি টাকা। আমরা হলাম স্পন্সর পরিচালক। এটা একটা লিমিটেড কোম্পানি। যা ১৯৯৪ সালের কোম্পানি দ্বারা পরিচালিত।
প্রশ্ন: অতীতেও আপনি অংশীদারিত্বে ব্যবসা করতে গিয়ে প্রতারিত হয়েছিলেন। সেখান থেকে আপনি যা শিখেছেন সেটাকে এখানে কিভাবে কাজে লাগিয়েছেন? কাজে লাগানোর পরও আবারো কেন আপনারা মালিকানার দ্বন্দ্বে পড়তে হলো?

আমি প্রথম ব্যবসায় আসি ১৯৯৬ সালে। সেসময়ে আমার আইডিয়া ছিল। কিন্তু আইডিয়া বাস্তবায়নের জন্য কোন টাকাপয়সা ছিলো না। সত্যি বলতে সেসময়ে আমি জানতাম না সত্যিকারের ব্যবসার জগতটা কেমন।

শুরুতে আমি লং রেঞ্জ কর্ডলেস টেলিফোন ব্যবসা শুরু করি। বাজারে আমার প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা বকেয়া পড়ে যায়। আমার জন্য সেটা অনেক বড় টাকা ছিল। ওই টাকা তোলার জন্য আমাকে ৫০ বারের বেশি যেতে হয়েছে। আমি বুঝলাম কখনোই বাকিতে বিক্রি করা যাবে না।

এরপর আমি শুরু করলাম ইন্টারনেট ফ্যাক্স ব্যবসা। এটা ১৯৯৮ সালের কথা। ২০০০ সালে আমি ভিওআইপি শুরু করি। কিন্তু সেই ব্যবসায় অনেক অংশীদার ছিল। এবং একসময় অংশীদারদের মধ্যে ব্রেক আপ হয়ে যায়।

এরপর এলো কুমির ব্যবসা। আমার মামা আর আমি একই এপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে থাকি। তিনি তার জেনারেশনের প্রথম এমবিএ। সবমিলিয়ে একজন অংশীদার হিসেবে তাকে আমার আদর্শ মনে হয়েছে। আমি কারো সাহায্য ছাড়াই এই ব্যবসার পুরো রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করায় এর খুটিনাটি সব জেনে গেলাম। এসময়ে আমাকে বিশ্বব্যাংকের প্রকল্প এসইডিএফ থেকে সহায়তা করা হয়েছে। মামাকে আমি দেখলাম একজন একক বিনিয়োগকারী হিসেবে। ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে কুমির দেশে আসল। তখন তিনি জানালেন যে আমাদের আরো অর্থ দরকার। আমিও সেটা জানতাম। ফলে তার নামে তখন আরো শেয়ার ইস্যু করা হলো। ফলে শেয়ার হোল্ডার কাঠামোতে পরিবর্তন এলো। এরই মধ্যে ২০০৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের প্রকল্প অনুমোদন দিলো। তখন তিনি বললেন যে, তিনি হলেন গিয়ে মেজরিটি ইনভেস্টর ফলে তিনি যা বললেন সেটাই চূড়ান্ত। এটা হয়তো বোর্ড মিটিংয়ের জন্য সত্যি। কিন্তু প্রতিদিনকার কর্মকাণ্ডের জন্য এটা তো কোন কাজে আসবে না। তবে আমি তার এই ধরনের বক্তব্যের বিরোধীতা করিনি। একসময় দেখা গেল তার এই ধরনের কারযকলাপ ব্যবসার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করছে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আপনার কাজের অভিজ্ঞতার কথা বলুন।

ভয়ঙ্কর। আমি কোন ঘুষ দেইনি। ফলে, তাদের সঙ্গে কাজ আগানো কঠিন ছিল। তবে আশার কথা হলো পরিচালক পরযায়ে কিছু ভালো মানুষ থাকায় তারা আমার কথা শুনছিল। যদিও এটা অনেক বড় ধৈয্যের বিষয়। যেমন ধরুন আমার শেষ কিস্তির টাকা পাওয়ার জন্য ১৪ মাস তাদের সঙ্গে দেন দরবার করতে হয়েছে। ওই সময়ে আমি অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি যারা ইইএফ ফান্ডের টাকা নিয়েছে। তাদের মধ্যে আমি কাউকে পাইনি যে ঘুষ দেয়নি। ফলে ইইএফ ফান্ডের তহবিল ব্যবহারকারী ৯৯ শতাংশ কোম্পানি রুগ্ন। অথচ আমাদের মতো উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল দেয় এমন আর কোন কোম্পানি নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকে যাওয়ার আগে আমি সব ধরনের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করেছিলাম। তবে এখন ইইএফ এর কারযক্রম কিছুটা উন্নত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা অনেক বড় গল্প। এখানেই সেটা থাক!

প্রশ্ন: এই মালিকানা কিভাবে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ব্যবসায়ী ফারুক আহমেদ দাবী করলেন? তার সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কি?
মি. ফারুকও আমার মামা হন। আমার জানা মতে, মি. হক পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন কিন্তু কোম্পানিতে বিনিয়োগের সময় তিনি শুধুমাত্র নিজের নাম ব্যবহার করেছেন। আমি জানতাম। কিন্তু সেটা নিয়ে আমি কখনো প্রশ্ন করিনি। কারণ তিনি কিভাবে টাকা এনে বিনিয়োগ করছেন সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। মি. হক ও মি. ফারুক কাজিন।

প্রশ্ন: এই খামারটি কতোজনের কর্মসংস্থান করতে পেরেছে? প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই খামার বাংলাদেশের মানুষের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কিভাবে ভূমিকা রাখছে এবং ভবিষ্যতে রাখতে পারবে?
এই খামারটি যখন পরিপূর্ণভাবে চালু হবে তখন এখানে ৬০ জনের কর্মসংস্থান হবে। তবে আমরা প্রথম রপ্তানিকালীন সময়ে মাত্র ছয়জন স্টাফ ছিলাম। এমনকি আমার কোন একাউন্টেন্ট ছিল না। মি. হক অজ্ঞাতকারণে আমাকে কখনো একাউন্টেন্ট নিয়োগ করতে দেননি।

প্রশ্ন: কুমির চাষ করে কি কি উপায়ে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়?
কুমিরের চামড়া অনেক বছর ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাছাড়া এর মাংসও মানুষ খায়। এছাড়াও হাড়, চর্বি ও রক্তও বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও কুমির দেখতে অনেক মানুষ আসে, সেভাবেও আয়ও হয়। পৃথিবীর প্রাচীণতম কুমির খামারটি আমেরিকায় অবস্থিত। ১১৯ বছরের পুরনো খামারটি কুমির দেখিয়েই বেঁচে আছে!

 

উদ্যোক্তা সিরিজ-৩

বাংলাদেশের প্রথম কুমির চাষীর কথা-২য় পর্ব

মি. মুশতাক আহমেদ আমাকে তার বাসায় চায়ের দাওয়াতে লিখেছিলেন, ‘lets meet sometime. better if u could meet me in the evening, so that my wife could join as well…… she can say how she feels being wife of an entrepreneur….’

সেই চায়ের দাওয়াতে এখনো যাওয়া হয়নি। তার স্ত্রীর কথা শোনা বাকি আছে। তবে তাকে কিছু প্রশ্ন পাঠিয়েছিলাম তারই ভিত্তিতে আজকের পর্ব।

প্রশ্ন: আপনার ছোটবেলা সম্পর্কে বলুন।

উত্তর: আমার ছোটবেলা কেটেছে দর্শণাতে। ছোটবেলায় আমি দুইশতভাগ দুষ্ট ছিলাম। আমার বিরুদ্ধে শিক্ষকদের দিক থেকে অভিযোগ ছিল সাধারণ ঘটনা। আমরা ঢাকায় আসি মধ্য সত্তরের দশকে। ক্লাস সেভেনে আমি ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হই। সেই থেকে আমার জীবনের মোড় ঘুরে যায়। আমাকে এরপর আর কখনো পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

প্রশ্ন: কর্মজীবনের কথা বলুন।

আমার কর্ম জীবন শুরু হয়েছিল চা বাগানে, ১৯৮৯ সালে। তখনো আমার বন্ধুরা লেখাপড়া শেষ করেনি। আমি তখন দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত চা বাগানে কাজ করি। তিন বছর কাজ শেষে আমি কৃষি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পড়ার জন্য যুক্তরাজ্যে যাই। সেখান থেকে ফিরে এসে আমি একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে যোগদান করি। আপনি এবিষয়ে বিস্তারিত আমার ফেসবুক প্রোফাইলে (https://www.facebook.com/crocodilefarmer/info) পাবেন।
প্রশ্ন: একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার অভিজ্ঞতার কথা বলুন?

উত্তর: Good, bad, ugly. ব্যবসা করতে গেলে অন্যকে বিশ্বাস করতে হয়, যা অনেক সময় ঝুঁকির কারণ হয়। যেকোন ব্যবসার ক্ষেত্রে তথ্য উপাত্তগুলো খুব ভালোভাবে জেনে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমি আমার অংশীদারদের দ্বারা প্রতারিত হয়েছি। সেকারণে আমি ব্যবসা পরিবর্তন করেছি। সেসঙ্গে আমার অংশীদারও। শুরুতে আমি কমপিউটার সংক্রান্ত ব্যবসা করেছি। সেসব ব্যবসার কিছুই এখন নেই।

কুমির খামার আমার সন্তানের মতো। এখানেও আমার অংশীদারদের সঙ্গে আমার বিরোধ চলছে। তবে আমি প্রতারক অংশীদারদের মোকাবেলায় আর নতুন নই।

উদ্যোক্তা হওয়ার বিষয়টি আমি এনজয় করি……..আমি এদেশের সবচেয়ে বিত্তশালী মানুষ হিসেবে মারা যেতে চাই না, কিন্তু আমি চাই একটি বিজনেস মডেল তৈরি করতে যা আমার মৃত্যুর পরও প্রজন্মের কাছে একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিকে থাকবে, সেটাই আমার লক্ষ্য ও স্বপ্ন।

আমি বিশ্বাস করি আপনার মধ্যে যদি অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের সাহস থাকে, নিজের প্রতি আস্থা থাকে তাহলে আপনি একজন উদ্যোক্তা হতে পারবেন। পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় ৮০ ভাগ উদ্যোক্তার প্রথম উদ্যোগ ব্যর্থ হয়……………….তারপর আগের উদ্যোগের ভুলগুলো থেকে শিখে উদ্যোক্তা নতুন উ্দ্যোগ নিয়ে এগিয়ে যায়……………….

প্রশ্ন: প্রায়শ বলা হয় বাংলাদেশে যৌথ ব্যবসায় অংশীদারীত্ব ততোদিন টেকে যতোদিন অভাব থাকে! অবস্থা ভালো হলেই অংশীদারিত্ব মালিকানা ভেঙ্গে যায়? এব্যাপারে আপনার কি মত?

উত্তর: এটি ৯৯% ভাগ সত্যি। তবে অংশীদারি ব্যবসায় সাফল্যের কাহিনীও আছে।

৭. অনেক কিছুই তো করার ছিলো। কুমির নিয়ে কাজ করার কথা কেন ভাবলেন?
নিচের লিঙ্কগুলো দেখুন প্লিজ:
http://youtu.be/bqnGWjqRe3g
http://youtu.be/FvQIzei2ARM

প্রশ্ন: ধরা যাক আপনি নতুন করে কিছু করতে চান। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে আপনি কোন সেক্টরে কাজ করার কথা ভাববেন?

ইকো টুরিজম।

প্রশ্ন: একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনি কি কি ধরনের সমস্যা মুখোমুখি হয়েছেন? সমস্যাগুলো উত্তরণে আপনি কি কি পদক্ষেপ নিয়েছেন?

এটা খুবই কঠিন প্রশ্ন! আসলে এবিষয়ের উপর চাইলে পিএইচডি করা যাবে। আমি সমস্যা সমাধানে সবসময় আইনী পদক্ষেপ নিয়ে থাকি…..

প্রশ্ন: আজকে এতোগুলো বছর পর। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনি আপনার কোন পদক্ষেপগুলোকে সঠিক ছিলো না বলে মনে করেন। কেন?

আমি মনে করি না নিজের অতীত বিচার বিশ্লেষণ করার সময় আমার হয়েছে…..তবে আমার সবচেয়ে বড় ভুল ছিল মানুষকে বিশ্বাস করা……..

উদ্যোক্তা সিরিজ-২

বাংলাদেশের প্রথম কুমির চাষীর কথা

প্রাককথন

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১২

মোহাম্মদ গোলাম নবী: আসসালামু আলাইকুম। আশা করি ভালো আছেন। বহু বছর আগে আপনার লালমাটিয়ার বাসায় দেখা হয়েছিল। যাই হোক। একটা বিষয়ে জানতে লিখছি। আমার জানামতে, আপনি বিদেশে কুমির ও কুমিরের মাংস রপ্তানী করছেন কিন্তু কেউ কেউ আমাকে বলল যে আমি যা জানি সেটা ঠিক নয়। এব্যাপারে যদি সঠিক তথ্যটি দিতেন ভালো হতো।

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১২

মুশতাক আহমেদ: হ্যা, আমি মনে করতে পারছি, আপনি আমার বাসায় এসেছিলেন। আপনি যা জানেন (কুমির ও কুমিরের মাংস রপ্তানি বিষয়ে) সেটা আংশিক সত্য। আমরা ২০১০ সালে জার্মানীতে ৬৭টি কুমির রপ্তানি করেছি। তারপর আমার ব্যবসায়িক অংশীদারদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। বর্তমানে আমি পরযটন সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে বেশি সময় দিচ্ছি।

মোহাম্মদ গোলাম নবী: আমাদের দেশে অংশীদারী ব্যবসার চিত্রটাই তাই। গরিব থাকলে বন্ধুত্ব থাকে!! ব্যবসায় টাকা আসতে শুরু করলেই ব্যবসায় বিরোধ বাড়ে! তবে মাত্র ৬৭ পিস একবার রপ্তানির পরই বিরোধ শুরু হওয়াটা খুব তাড়াতাড়ি বলতে হবে। ওই রপ্তানি কতো টাকার ছিল বলা যাবে কি? আর ওই ব্যবসাটা কি এখন বন্ধ? শুনলাম বান্দরবানে আকিজ গ্রুপ একই ধরনের কাজ করছে। এব্যাপারে কি জানেন? আপনি কি আগের সেই বাসাতেই আছেন? ডি ব্লকে ছিল সম্ভবত। বাসার লোকেশনটা মনে আছে। যাই হোক। পরযটন ব্যবসা কেমন চলছে?

মুশতাক আহমেদ: হ্যা, আমি লালমাটিয়ার ডি ব্লকের সেই আগের বাসাতেই থাকি। আকিজ গ্রুপ একই ধরনের কাজ করার চেষ্টা করছে।

মোহাম্মদ গোলাম নবী: আপনার উদ্যোগ, উদ্যম ও সরে আসা সবমিলিয়ে একটি লেখা প্রকাশ করতে চাইলে আপনি কি রাজী হবেন? জানাবেন।

মুশতাক আহমেদ: আপনি কি মনে করেন এই ধরনের আলোচনা থেকে অন্যরা উপকৃত হবে? আমার আপত্তি নেই।

মোহাম্মদ গোলাম নবী: আমার তো মনে হয় অসম্ভবভাবে হবে। কারণ আমাদের দেশের মিডিয়াগুলোতে সাফল্যের কিংবা দুর্নীতির খবর ছাপায়। কিন্তু মানুষের প্রচেষ্টার গল্পগুলো কম থাকে। অনেকসময় পথের বাধা সরানোর জন্য কোন দিকগুলোতে নজর দিতে হবে সেবিষয়ে তাত্ত্বিক কথা থাকে। কিন্তু অভিজ্ঞ মানুষের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়গুলো থাকে কম। ফলে, চাকা আবিষ্কার চলতে থাকে। অভিজ্ঞদের বয়ান থেকে জেনে নিলে আমাদের সময় ও সম্পদ সাশ্রয় করা সম্ভব বলেই আমি মনে করি। যদিও অনেকেই দাবী করেন যে, একজনের সঙ্গে অন্যজনের মিলে না। কিন্তু পুরোপুরি অমিলও কিন্তু থাকে না। আমি কি আপনাকে প্রশ্ন পাঠাব আপনি সেগুলোর উত্তর লিখিতভাবে দেবেন। তারপর একদিন চা খেতে খেতে বাকি কথাগুলো শুনে নেব। জানাবেন।

মুশতাক আহমেদ: এতে আমার কোন আপত্তি নেই।

মোহাম্মদ গোলাম নবী: ধন্যবাদ। আগামী সপ্তাহের মধ্যে আপনাকে আমি কিছু প্রশ্ন পাঠাব। ভালো থাকবেন।

উদ্যোক্তা সিরিজ-১ শেখার জন্য চোখকান খোলা রাখুন

একজন উদ্যোক্তার সবচেয়ে বড় গুণ হলো শেখার আগ্রহ। আপনি যদি কখনো মনে করেন যে আপনি সব জেনে গেছেন, জেনে নিন আপনার পতন সময়ের ব্যাপার মাত্র। আর যদি আপনি শেখার মন নিয়ে এগিয়ে যান দেখবেন জীবনের চারপাশে ঘটে যাওয়া প্রতিদিনকার ঘটনা থেকেও অনেক কিছু শেখার আছে।

সেদিন একটি আর্টিকেলে পড়ছিলাম গাড়ি চালকদের আচরণ থেকেও একজন উদ্যোক্তার শেখার আছে। কীভাবে সেকথাই নিচে বলছি।

ট্রাফিক সিগনাল সবুজ হওয়ার আগেই অনেক ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে এগিয়ে যায়। ফলাফল হিসেবে প্রায়ই আমরা দুর্ঘটনা ঘটতে দেখি। আবার মটর সাইকেল চালকগণ ব্যস্ত রাস্তায় নানান কসরত করে এগিয়ে যেতে চায়। ফলাফল দুর্ঘটনা। বাস চালকগণ রং সাইড দিয়ে ওভারটেক করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটায়।

এখানে সবুজ বাতি হলো উদ্যোক্তার প্রস্তুতি। একজন উদ্যোক্তার জন্য প্রস্তুতি পর্বটি জরুরি। সবকিছু প্রস্তুত হলে তবেই তার সামনে আগানো উচিৎ। তা না হলে তার উদ্যোগ শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। সমস্যা দেখলেই সেটাকে পাশ কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ওই মুহুর্তে কিছুটা সুবিধা পাওয়া গেলেও পরক্ষণেই হয়তো সে অসুবিধায় পড়তে পারে।

গাড়ি চালকদের মধ্যে কারো কারো সারাক্ষণ ওভারটেক করার প্রবণতা থাকে। এই ধরনের চালকগণ সামনের গাড়ির সঙ্গে তার গাড়ির যে দূরত্ব থাকার কথা সেটা মেনে চলেন না। বরং হর্ণ বাজিয়ে সবাইকে ব্যতিব্যস্ত করে ফেলেন। কিন্তু শেষ পরযন্ত ওভারটেক আর করতে পারেন না।

একজন উদ্যোক্তাকেও মনে রাখতে হবে প্রতিদ্বন্দ্বিদের ওভারটেক করার জন্য তাদের পেছনে লেগে লাভ নেই কিংবা তাদেরকে বিরক্ত করেও নয়। বরং দূরত্ব বজায় রেখে সময় ও সুযোগের অপেক্ষা করতে হবে। নতুবা প্রতিদ্বন্দ্বি সর্তকতার সঙ্গে তাকে আটকে রাখবে যে তার পক্ষে কখনো সামনে যাওয়া সম্ভব হবে না।

একজন গাড়ির চালক যখন বড় রাস্তার মতোই শহরের অলিগলিগুলো চেনে তখন তারপক্ষে গন্তব্যে পৌঁছানো সহজ হয়।

একজন উদ্যোক্তা যখন মূল পরিকল্পনার বিকল্প পরিকল্পনাগুলো করে তখন তার সাফল্য পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তখন প্রতিদ্বন্দ্বিকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়াও সহজ হয়।

অনেক সময় গাড়ির চালকগণ চার রাস্তার মোড়ে গিয়ে সবুজ লাইট জ্বলার পর গাড়ির গতি কমিয়ে দিয়ে ডানে বামে দেখে গাড়ি আগান। বিশেষ করে ভোরে কিংবা রাতে যখন রাস্তায় গাড়ি কম থাকে। কেন করেন? কারণ রাস্তায় গাড়ি কম থাকার কারণে গাড়ি চালকদের মধ্যে কেউ লাল বাতি নাও মানতে পারেন। আর দুর্ঘটনা শুধুমাত্র নিজে নিয়ম মেনে চালালেই এড়ানো যায় না। অন্যেরা মানছে কিনা সেটাও দেখা দরকার হয়।

উদ্যোক্তাদের দিক থেকে মাঝে মাঝে থেমে চারপাশে তার প্রতিদ্বন্দ্বিরা কি করছে কিংবা চারপাশে কি ঘটছে সেগুলো জানার ও বিচার বিশ্লেষণ করার দরকার আছে। পরিকল্পনাগুলোকে যাচাই বাছাই করার দরকার আছে।

(আজকের এই লেখার সঙ্গে মিলিয়ে আগামী তিন পর্বে প্রকাশিত হবে একজন বাংলাদেশী উদ্যোক্তার সাক্ষাতকারভিত্তিক কাহিনী। যাকে অনেকে চেনেন। অনেকেই তাকে নিয়ে বাংলাদেশের পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত লেখা পড়েছেন। কিন্তু এখানে তিনি যা বলেছেন সেসব কথা তিনি আগে এমনভাবে কখনো বলেননি। জানার জন্য চোখ রাখুন এই ব্লগে। আপাতত তার নামটি জেনে নিন আর প্রস্তুতি নিন তিন পর্বের একটি অসাধারণ সাক্ষাতকার এবং উদ্যোক্তাদের জন্য মিলিয়ন ডলার মূল্যের টিপস পড়ার জন্য। তিনি হলেন মি. মুশতাক আহমেদ। তিনি আমাকে শুনিয়েছেন তার শৈশব, ক্যাডেট কলেজের দিনগুলোর কথা এবং উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প। তিনি জানিয়েছেন বাংলাদেশে একজন উদ্যোক্তা হতে গিয়ে তিনি ঠিক কি ধরনের সমস্যায় পড়েছেন। এবং কিভাবে সেই সমস্যাগুলো মোকাবেলা করে সামনে এগিয়ে গিয়েছেন।

আর হ্যা, লেখা সম্পর্কে আপনার মূল্যবান মতামত জানাতে ভুলবেন না। বন্ধুদের এই সিরিজ পড়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে ভুলবেন না। জেনে রাখুন আগামীর বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে গড়ে তুলবে তরুণ উদ্যোক্তারাই।)

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s