মিডিয়া-২: কমিউনিটি টেলিভিশন নিয়ে ভাবা দরকার


প্রচলিত মিডিয়াগুলো যখন করপোরেট শক্তির হাতে পুতুলে পরিণত হয়েছে তখন উদ্যমী তরুণদের ব্যালেন্স রোল প্লে করার কথা ভাবতে হবে। এজন্য তারা সীমিত আকারে কমিউনিটি টেলিভিশনের কথা ভাবতে পারে। সরকার সাম্প্রতিককালে কমিউনিটি মিডিয়া হিসেবে টেলিভিশন নয়, কমিউনিটি রেডিও চালুর অনুমতি দিয়েছে। তবে কমিউনিটি টেলিভিশন চালু করার জন্য অতবেশি যন্ত্রপাতিরও দরকার নেই। আপাতত, ক্যাবল টেলিভিশন লাইনগুলোকে ব্যবহার করে পরীক্ষামূলকভাবে কমিউনিটি টেলিভিশন চালু করার কথা ক্যাবল টেলিভিশন পরিচালনাকারীরা ভাবতে পারে। এমনিতে উপজেলা পর্যায়ে তরুণরাই ক্যাবল ব্যবসায়ী। এটি বিজ্ঞাপন নির্ভর বাণিজ্যিক না হয়ে জনগণের কল্যাণ নির্ভর কিছু হলে এনিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রবক্তা জনগণমুখী আওয়ামী লীগ সরকার আপত্তি করবে বলে আমি মনে করি না। কারণ আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের সরকার।

তবে, যারা মনে করেন আমাদের দেশে টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা এখনই বেশি৷ তারা শুরুতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কান ভারী করতে পারে উল্টো বুঝিয়ে। সববিষয়েই নাকি কানপড়া দেয়ার এক রেওয়াজ বর্তমানে চলছে। সেকারণে জনগণ সঠিক সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিতও হচ্ছে। উপদেষ্টারা প্রধানমন্ত্রীর কান ভারী করছে। আবার মন্ত্রীরা সচিবদের বিরুদ্ধে আবার সচিবরা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে উপদেষ্টাদের কান ভারী করছে। এসবের মধ্যে কেউ যদি কমিউনিটি টেলিভিশন নিয়ে কান ভারী করার কাজটি করে সেটি করতেই পারে।

এমনিতে আমাদের দেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইল এলাকায় বসবাসকারী ১৬ কোটি মানুষের জন্য বিদ্যমান রেডিও এবং টেলিভিশনের সংখ্যা মোটেই বেশি নয়।

কমিউনিটি টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে ছোট আকারে অনুষ্ঠান প্রচার করে একটি নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের কাছে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠা সম্ভব৷ এই ধরনের টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য, পরিবেশ  উন্নয়নসহ অনেক ধরনের দরকারি সেবা দেয়া সম্ভব৷ ভিয়েতনামে কমিউনিটি পর্যায়ে টেলিভিশন চ্যানেল চালু আছে৷

কমিউনিটি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো কি করবে তার একটি উদাহরণ দেয়া যাক৷ ধরা যাক, আমাদের দেশের ঢাকার ধানমন্ডিতে একটি কমিউনিটি টেলিভিশন স্টেশন রয়েছে৷ এখন আমরা জানি ধানমন্ডি লেকের ধারে প্রতিদিন অনেক মানুষ সকালে বিকালে হাটতে আসেন৷ তারা সেখানে আড্ডা দেন৷ গল্প করেন৷ সময় কাটান৷ এই মানুষদের জন্য একটি টেলিভিশন চ্যানেল চলতে পারে৷ এটি সকালে তিন ঘণ্টা এবং বিকালে তিন ঘণ্টা চলবে৷ এতে রান্না করা, ব্যায়াম, অসুখ-বিসুখে করণীয় ইত্যাদি অনুষ্ঠান প্রচার করা যেতে পারে যা ওই এলাকায় বসবাসরত এবং সকাল বিকেলে বেড়াতে আসা মানুষের কাজে লাগবে৷ এই চ্যানেলে যা দেখানো হবে তার একটি প্রচারসূচি থাকবে৷ মাসিক একটা চাদা দেয়ার বিনিময়ে এর ভিউয়ার্স তৈরি হবে৷ কি ধরনের অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে তার চাহিদাও জানানোর সুযোগ থাকবে কমিউনিটির মানুষের৷ সেই সূত্রে লাইভ শো-র আয়োজন করা যেতে পারে৷ এভাবে কমিউনিটির প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি কমিউনিটির তরুণদের কাজের সংস্থানও হতে পারে কমিউনিটি টেলিভিশনের মাধ্যমে৷

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s