স্বপ্নের আমেরিকার অন্ধকার দিক-৪


আমেরিকাতে পরিবার প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পথে৷ আমেরিকার শিশু জন্মের মোট সংখ্যার মধ্যে প্রায় ৩০ ভাগ অর্থাৎ মোট শিশু জন্মের প্রায় ৩০ শতাংশ জন্ম নেয় বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের মাধ্যমে৷

আর দুর্নীতির কথা যদি বলি তবে বাংলাদেশের সকল দুর্নীতিই আপনি মডিফাইড ভাবে আমেরিকাতে পাবেন। কিন্তু দুর্নীতি তো দুর্নীতিই, কি বলেন?

কয়েকটি উদাহরণ নিচে দেয়া হলো৷

সরকারি অফিসের দুর্নীতি

শিকাগো শহরে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা একটি ১৪ হাজার ৮২ বর্গফুটের অফিস বিল্ডিং যখন বাজারদরের চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়ায় ২০ বছরের জন্য ভাড়া হলো তখন আশেপাশের অনেকেই বিষ্মিত হলো৷ কিন্তু যখন জানা গেলো নতুন ভাড়াটিয়া আর কেউ নয়৷ সরকারের দি সোশ্যাল সিকিউরিটি এডমিনিস্ট্রেশন, তখন কারো কারো বিষ্ময় কেটে গেলো৷

করদাতাদের অর্থে নিজের প্রচার

১৯৯১ সালের শেষে এসে দেখা গেলো নিউজার্সির নেওয়ার্ক শহরের বাজেটে ৪১ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি পড়েছে৷ ঘাটতি বাজেট মোকাবেলায় সিটি কাউন্সিল কর্মী ছাটাইসহ বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিল৷ অথচ সেসময়ে তারা সিটি কাউন্সিলের অতীত ও বর্তমানের ৪২ জন কাউন্সিল মেম্বারের প্রোট্রেট তৈরি করার জন্য ৬ লাখ ৫২ হাজার ডলার ব্যয় করা হলো৷ এর প্রতিবাদ করে শহরের করদাতা সমিতির চেয়ারম্যান বললেন, ওরা কর্তৃপক্ষ বলেই জনগণের অর্থে নিজেদের প্রচার করছে এবং সেসঙ্গে জনগণকে শোষন করছে৷

স্বপ্নের আমেরিকার অন্ধকার দিক-৫

মার্কিনী দুর্নীতির কিছু চমকপ্রদ খবর শুনুন:

১. রাগ হলে খুন করে কিন্তু দায়িত্ববোধ তার প্রখর: ওয়াশিংটন পোস্টের একটি খবর হলো এমন- ছোটখাটো চেহারার হেনরী জেমস গুলী ছুড়তে পছন্দ করে৷ তবে সবসময় নয়৷ যখন সে রেগে যায় তখন রাগ কমাতে সে অন্য কাউকে গুলি করে৷ এযাবতকালে সে এমন গুলি ছুড়েছে তিনবার৷ প্রতিবার একজন করে মারা গেছে৷ তার সর্বশেষ শিকার ৩৬ বছরের এক মহিলা৷ ঘটনাটি ঘটেছিল এভাবে- জেমস গাড়িতে যাচ্ছিল৷ হঠাত্ই তার মেজাজ খিচড়ে যায়৷ কি করবে ভেবে না পেয়ে সে গাড়ির জানালার কাচ নামিয়ে সিগনালে থেমে থাকা পাশের গাড়ির আরোহীনিকে গুলি করে৷ ফলে সে মারা যায়৷ পুলিশ তাকে ধরে ফেলে৷ তখনই তার আগের দুটো হত্যার কথা এবং সেসঙ্গে তার মন খারাপ হলে গুলি করার কথা জানা যায়৷ পত্রিকাটিতে আরো লেখা হয়৷ জেমস নিষ্ঠুর প্রকৃতির হলেও তার একটি সুন্দর কোমল মন আছে৷ সেটি বোঝা যায় যখন দেখা যায় সে তার দুই কিশোরী মেয়ের খোজ খবর নেয়৷ তাদেরকে সময়ে সময়ে টাকাপয়সাও দেয়৷ (এ ঘটনাটি প্রমাণ করে আমেরিকান সমাজে বাবা-মেয়ের দায়িত্ববোধ বিষয়টিকে কিভাবে দেখা হয়)

২. খুনির ব্যক্তিগত: বাইশ বছরের একটি মেয়েকে টুকরো টুকরো করে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ডেনিস বেলডটিকে ম্যাসাচুচেটস আদালত যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত করে৷ তার বাড়ি থেকে ব্যাগভর্তি মেয়েটির লাশ পাওয়া যায়৷ এসময় তার বাড়ি থেকে অনেকগুলো ব্লু ফিল্ম, স্টিল নগ্ন ছবি, নোংরা ও বাজে ম্যাগাজিন জব্দ করা হয়৷ কিন্তু আদালত এই বলে রায় দেয় যে, যেহেতু কোনো প্রমাণ নেই বেলডটি এগুলো বাইরে বিক্রি করতো, তাই এগুলো তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি৷ অতএব এগুলো তাকে ফেরত দেয়া হোক৷ (ব্যক্তিগত সম্পত্তির এমন সংজ্ঞা আপনি শুধুমাত্র আমেরিকান সমাজেই পাবেন, জয় আমেরিকা)।

৩. মাকে হত্যা করাটা বাহাদুরি: আমেরিকান শিশুরা তাদের প্রিয় তারকা খেলোয়াড়ের ছবির কার্ড সংগ্রহ করতে ভালোবাসে৷ প্রতিটি কার্ডের এক পিঠে তারকার ছবি এবং অন্যপিঠে ওই তারকা সম্পর্কে বিবরণ থাকে৷ এই তারকা মানে যে শুধুই সিনেমার নায়ক-নায়িকা, কিংবা খেলোয়াড় তা নয়৷ হরেক কিসিমের তারকা আছে আমেরিকান সোসাইটিতে৷ ১৯৯২ সালে এই ধরনের কার্ড নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছিল পত্র-পত্রিকায়৷ কারণ তখন এক ধরনের কার্ড বাজারে ছেয়ে গিয়েছিল যা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন সচেতন মানুষেরা৷ সেসময়ে ওই সব কার্ড আবার শিশুদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছিল৷ কি ছিলো সেসব কার্ডে তার একটি নমুনা দেখুন৷ একটি কার্ডের একপিঠে এডমন্ড এমিল কেম্পার নামে এক লোকের একটি ছবি ছাপানো ছিলো৷ ছবির নিচে আবার ছোট করে লেখা ছিলো বর্ণ কিলার অর্থাত্ জাত খুনী৷ অপর পিঠে তার সম্পর্কে বিস্তারিত লেখা৷ সেখানে লেখা তের বছর বয়সে সে তার বাড়ির পোষা বিড়ালটিকে কেটে টুকরো টুকরো করেছে৷ আরেকটু বড় হয়ে সে দু’টি বালিকাকে তুলে নিয়ে গিয়ে টুকরো টুকরো করে পাহাড়ের উপর পুতে রাখে৷ এরপর সে আরেকটি ১৫ বছরের বালিকাকে অপহরণ করে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে৷ কার্ডের লেখার শেষ করা হয়েছে এভাবে- এডমন্ড তার মাকেও হত্যা করেছিলো তার উপর খবরদারী করার জন্য৷ মাকে হত্যার পর তার স্বরযন্ত্র কেটে ফেলেছিলো বেশি কথা বলার শাস্তিস্বরূপ৷

এই ধরনের কার্ড বিক্রির উপর পরবর্তীতে নিউইয়র্ক শহরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়৷ (আমাদের দেশে এমন কার্ড কেনার কথা কিংবা বিক্রি করার কথা ভাবা যায়?)

৪. রোগীর শরীর হাতিয়ে যৌনসুখ নেয়া: ফিলাডেলফিয়া নিবাসী দাতের ডাক্তার ওয়ারেন এস. গ্রাবয়েস কিশোরী রোগীদের শরীর হাতড়িয়ে যৌনসুখ নিতেন৷ কিন্তু একবার এক সাহসী কিশোরী বিষয়টি প্রকাশ্যে জানিয়ে দিলে এটি আদালত পর্যন্ত গড়ায়৷ ডাক্তারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়৷ কিন্তু শাস্তির জন্য তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়৷ কারণ গ্রাবয়েস যা করেছেন তার কারণ, ফ্রটিরিসম নামের একটি রোগ৷ যদিও ডাক্তার গ্রাবয়েস নিজেও তার এই রোগটি সম্পর্কে জানতেন এবং জেনেশুনেই তিনি এমনটা করতেন৷

৫. শিক্ষকরা ফাকি দেয়: বাল্টিমোর রাজ্যের সাড়ে ৪ হাজার শিক্ষকের উপর পরিচালিত এক জরিপ থেকে স্কুল শিক্ষকরা মাসের পর মাস ক্লাস ফাকি দিয়েও ঠিকই বেতন তুলে নেন৷ এমনকি এজন্য তাদের কোনো শাস্তি হয় না৷ যেমন, একজন শিক্ষিকা ৪ বছরে মাত্র ৭ দিন ক্লাস নিয়েও প্রতিমাসেই পুরো বেতন তুলে নিয়েছেন৷ (বাংলাদেশের শিক্ষার মান বাড়ানো, স্কুল থেকে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া এবং শিক্ষকদের স্কুল ফাকি দেয়ার প্রবণতা হ্রাসের কাজে অনেক বিদেশী বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশে কাজ করছেন যার মধ্যে আমেরিকানরাও আছেন৷)

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s