বু্দ্ধিজীবীদের জবাবদিহিতায় বাধ্য করুন-১


(বু্দ্ধিজীবীদের জবাবদিহিতার কথা আজপর্যন্ত কাউকে বলতে শুনি নাই। আমার এই আহ্বান ও লেখা বুদ্ধিজীবী বিদ্বেষ থেকে নয়। সমাজের অগ্রগতিতে তাদের ভূমিকাকে শুদ্ধ করার জন্যই এই আহ্বান।)

বু্দ্ধিজীবীদের জবাবদিহিতার কথা আজপর্যন্ত কাউকে বলতে শুনি নাই। আমরা রাজনীতিবিদদের জবাবদিহিতা খুঁজি, ব্যবসায়ীদের জবাবদিহিতা খুঁজি, কিন্তু তাদেরকে পরামর্শ দেয় যারা সেই বু্দ্ধিজীবীদের জবাবদিহিতা খুঁজি না। আমি প্রতিমুহুর্তেই উপলব্ধি করি, ৪০ বছরেও দেশ তার কাঙ্খিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকার কারণে। তারা সঠিক ভূমিকা পালন না করার কারণেই দেশে আজ এতো বিশৃঙ্খলা। এদেশের বুদ্ধিজীবীরা বিশেষ করে জাতীয় পর্যায়ে বুদ্ধিজীবীরা স্বার্থের মোড়কে আটকে আছে। এরাঁ অনেকেই রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় এবং ব্যবসায়ীদের অর্থে তুষ্ট হয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করে চলছে। কিংবা জাতির জন্য যা সঠিক সেইকথা বলা থেকে বিরত থাকছে। এরাঁ ‘পজেটিভ’ চিন্তার দোহাই দিয়ে সত্য গোপন করে চলেছে। তাই আজ সময় হয়েছে তাদেরকে জবাবদিহিতায় বাধ্য করার।

স্বাধীনতার ৪০ বছরে পা দিয়ে এদেশের আপামর জনসাধারণ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানাতে চাই, আসুন আমরা সবাই মিলে বুদ্ধিজীবীদের জবাবদিহিতার মুখোমুখি করি। গ্রাম থেকে শুরু করে রাজধানী পর্যন্ত স্থানীয়, আঞ্চলিক, এবং জাতীয় সকল বুদ্ধিজীবীদের জবাবদিহিতার মুখোমুখি করি। তাদের কর্মকান্ডকে চ্যালেঞ্জ করি। তাদের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাই। তাদের মধ্যে কখনো স্ববিরোধীতা দেখলে আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে দেই।

১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষপ্রান্তে দেশের বুদ্ধিজীবীদের ১৪ ডিসেম্বর হত্যা করা হয়েছে। তারপর দেশ স্বাধীনতার পর গত ৪০ বছরে দেশে বুদ্ধিজীবীদের একটি নতুন ব্যাচ তৈরি হয়েছে। এই ব্যাচে ১৪ ডিসেম্বর হত্যার শিকার হননি এমন বুদ্ধিজীবীও রয়েছেন। দেশে মিডিয়ার ব্যাপক প্রসারে বুদ্ধিজীবীদের একাংশকে আমরা নিয়মিত দেখতে পাই কিংবা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক লেখা পড়ি, কথা শুনি। দেশের রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি আজ সময় হয়েছে এদেরও জবাবদিহিতা করার। প্রতিবছর শহীদ বু্দ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়। ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী দিবস পালনকালে আসুন আমরা আমাদের সূর্যসন্তান শহীদ বু্দ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি জীবিত ও সচল বুদ্ধিজীবীদের জবাবদিহিতার মুখোমুখি করি। জাতীয় বুদ্ধিজীবীদের চেনার একটি সহজ উপায় হলো পত্রিকায় বিশেষ দিবসে ক্রোড়পত্র এবং উপ-সম্পাদকীয় লিখিয়েদের তালিকা দেখা। এছাড়া টেলিভিশনে টকশোগুলোতে নজর রাখলেও বুঝতে পারবেন জাতীয় বুদ্ধিজীবী কারা। বুদ্ধিজীবীর সংজ্ঞায় বাংলা একাডেমীর অভিধানে বলা আছে: সমাজ ও সংস্কৃতি সচেতন এবং জ্ঞান ও বিজ্ঞানে দক্ষ সুশিক্ষিত মানুষ যারা বুদ্ধির বলে বা বুদ্ধির কাজ দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের চল্লিশ বছর পূর্তির এই বছরে, আসুন বছরের শুরু থেকেই বুদ্ধিজীবীদের কর্মকান্ডের প্রতি নজর রাখা শুরু করি। যাতে করে ১৬ ডিসেম্বরের আগেই বু্দ্ধিজীবীদের জবাবদিহিতার এক নতুন ইতিহাস আমরা রচনা করতে পারি। পত্রিকায় চিঠিপত্র কলামে চিঠি লিখে, লাইভ টক শোতে প্রশ্ন করে বুদ্ধিজীবীদের জবাবদিহিতার মুখোমুখি করুন। চায়ের আড্ডায় শেখ হাসিনা আর খালেদার গল্প না করে কিংবা শেখ মুজিব বা জিয়ার গল্প না করে বুদ্ধিজীবীদের কর্মকান্ড নিয়ে আলোচনা করুন। দেশের প্রতি কমিটেড কারা জানুন। সেসঙ্গে দেশ ও জনগণের স্বার্থ বিরোধী বুদ্ধিজীবীদের চিহ্নিত করুন। ভালোদের স্বীকৃতি দিন, আর খারাপদের ধিক্কার দিন।

আমি আপনাদেরকে প্রত্যযের সঙ্গে বলতে চাই, বুদ্ধিজীবীদের জবাবদিহিতা‍র আওতায় আনতে পারলে দেশ অনেকখানি এগিয়ে যাবে।

 

Advertisements

2 thoughts on “বু্দ্ধিজীবীদের জবাবদিহিতায় বাধ্য করুন-১

  1. ধন্যবাদ একটি অতি ‘গুরুত্বপুর্ণ’ কিন্তু অনালোচিত বিষয়ে লেখার জন্য। তবে লেখাটি যতটা সম্ভব ছড়িয়ে দেয়া দরকার! বিশেষ করে ‘কথিত’ বুদ্ধিজীবীদের মাঝে………একটা discourse চালু হতে পারে……
    (এ সংক্রান্ত একটি বই পাঠ অত্যন্ত জরুরী ”বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস—আহমদ ছফা”, স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের উত্থান ও কার্যকলাপ বুঝতে এই বইটি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে ভবিষ্যতে! অবশ্য পাঠ্য)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s