শেখ হাসিনার গরিব দর্শণ! বনাম খালেদা জিয়ার কাউন্টার করার প্রস্তুতি!!!


(কাল্পনিক এই লেখাটি লিখতে অনুপ্রাণিত করেছেন কানাডা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক নতুন দেশ এর প্রকাশক শওগাত আলী সাগর ভাই। তিনি কয়েক লাইনের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে মন্তব্য করেছিলেন  ৪০০/৫০০ শব্দ লিখলে নাকি অসাধারণ কিছু হবে। আমি তার ভবিষ্যতবানীর বারোটা বাজাতে ৭৭৭ শব্দ লিখলাম। বারোটা বাজানোর ঘোষণাটা আগেই দিয়েছিলাম। তার ওখানে অবশ্য এখন রাত তিনটা!! ধন্যবাদ সাগর ভাইকে।)

আমি একটা দৃশ্য কল্পনা করছি। ঢাকার বনানীর মাঠের পাশের ফুটপাথে পলিথিনের ঘরে বঙ্গবন্ধু কন্যা হাসিনা ময়লা ও আধা ছেড়া শাড়ি পড়ে জবুথবু হয়ে শুয়ে আছেন। তিনি শীতে গরিবের কষ্ট উপলব্ধি করতে এই ব্যবস্থা নিয়েছেন। আশেপাশে আর কোন গরিব নেই। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স তিন স্তরের নিরাপত্তা দিচ্ছে একদিনের শীতে কাতর শেখ হাসিনাকে। এটি শেখ হাসিনার বাগদাদের বাদশাহ হারুন-উর-রশিদকে অনুকরণ করার তৃতীয় পদক্ষেপ। শুয়ে শুয়ে তিনি আগের দুটো পদক্ষেপের ভালোমন্দ বিশ্লেষণে মনোযোগী হলেন।

প্রথমটি ছিল ভারতের সীমান্ত থেকে কাটাতার টপকানো। প্রতিদিন কিভাবে গরিব মানুষেরা ভারতের সীমান্তের কাটাতার টপকিয়ে চলাচল করে সেই অভিজ্ঞতা নিতে তিনি গিয়েছিলেন কুড়িগ্রামের সেই জায়গাটাতে। যেখানে মাত্র কয়েকদিন আগে এক কিশোরী মারা গিয়েছে। তার এই অভিজ্ঞতাকে স্মরণীয় করতে রাখতে শ্রদ্ধাভাজন মনোমোহন সিং সেই কিশোরীর পিতার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। দৃশ্যটিতে বাস্তবের ছোঁয়া দিতে সেদিন বাংলাদেশের জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী সালোয়ার কামিজ পরেছিলেন। তিনি যখন টপকে এপাশে চলে এলেন তখন কামিজটি কাটাতারে না আটকানোতে দৃশ্যটি অসম্পূর্ণ হবে বিধায় তাকে কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। অতি উৎসাহী উপদেষ্টাদের কেউ কেউ বলেছিলেন যে, সফট রাবার বুলেট ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীকে সেই মৃত ফেলানীর গুলি খাওয়ার ‍অনুভূতি দিতে। কিন্তু আইডিয়াটি কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী পছন্দ করতে পারেননি। কারণ, সোনিয়া মনে করেন এই ধরনের পদক্ষেপ ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর ঐতিহ্যকে নষ্ট করতে পারে। সোনিয়া গান্ধীর উপর কথা বলার সাহস কারো ছিল না। অতএব সেই পরিকল্পনা বাদ দেয়া হয়।

এদিকে দুই দেশের মিডিয়াতে বিষয়টি ব্যাপক প্রচার পাওয়ায়, জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হওয়ার সংবাদ পাওয়া গিয়েছে। সমালোচকদের কেউ কেউ একে অতি নাটুকেপনা বলে আখ্যায়িত করেছেন। বিশেষ মন্তব্য প্রতিবেদনে বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক (আমি মিটুন ভাইয়ের লেখার দুই দশকের পাঠক ও তার লেখা পছন্দ করি) বিষয়টিকে বাহবা দিলেও বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ (আমি তার প্রকাশিত সব বই নগদ অর্থে কিনে থাকি) মৃদু ভৎসনা করেছেন। এই দুইজন না লিখলে এনিয়ে হয়তো প্রবাসী বুদ্ধিজীবী গাফফার চৌধুরী কিছুই লিখতেন না। গাফফার চৌধুরী লিখেছেন, শেখ মুজিবুর রহমান জীবতকালে ৭৪ এর দুর্ভিক্ষে যখন আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীরা লঙ্গরখানার খাবার দাবার লুটপাট করেছিল সেসময়ে কেউ কেউ তাকে বাগদাদের বাদশাহ হারুন-উর রশিদ স্টাইলে রাতে বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। শেখ মুজিব তাদের সেই পরামর্শ তো শুনেনইনি বরং তাদেরকে এই ধরনের বাজে পরামর্শ দেয়ার জন্য তিরস্কার করেছিলেন। শেখ হাসিনারও সেরকমই করা উচিত ছিল। এই পর্যায়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র ভাবনা থেমে যায়।

তিনি শুনেছেন, অনেকেই মনে করেন গাফফার চৌধুরী বেশি কথা বলেন। আর সবসময় এমনভাবে বলে যা প্রমাণের কোন উপায় নেই। এই যেমন, তার বাবা কি বলেছিল তিনি জানেন না অথচ গাফফার চৌধুরী জানেন। তার আবার এখন জানারও উপায় নেই। তার মনে হয় এক্ষেত্রে বরং কবীর চৌধুরী ভালো। প্রথম এক্সপেরিমেন্টটা নিয়ে শেখ হাসিনার আর ভাবতে ভালো লাগলো না। তিনি মনে করার চেষ্টা করলেন দ্বিতীয় বিষয়টি নিয়ে। দ্বিতীয় বিষয়টি তুলনামূলকভাবে সহজ কিছু করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এখানে দেশে বিদেশে তার ইমেজ বাড়ানোরও একটা প্রয়াস ছিল। তিনি শুনেছিলেন, রোহিঙ্গা শরনার্থীরা বাংলাদেশী পাসপোর্টে মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে ঝামেলা পাকাচ্ছে আর তার দায়ভার পড়ছে গিয়ে সাধারণ বাংলাদেশী শ্রমিকদের উপর। ফলে প্রবাসী শ্রমিক ভাইয়েরা মধ্যপ্রাচ্যে বেকায়দায় রয়েছে।

এবার তিনি পুরুষের ছদ্মবেশ নিয়ে চলে গেলেন সৌদী আরবে। বাংলাদেশী পাসপোর্টধারী রোহিঙ্গাদের এক মেসে তিনি জায়গা করে নিলেন। মাত্র দুই দিনেই তিনি জেনে ফেললেন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ওদের ষড়যন্ত্র আর কুকর্মের কথা। সবকথা তিনি রেকর্ড করে নিলেন। তৃতীয় দিন তিনি যখন বিষয়টি নিয়ে মিডিয়ার সামনে হাজির হওয়ার কথা ভাবছেন তখন তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অন্য একটি দেশের রাষ্ট্রদূতসহ এসে তার কাছ থেকে ক্যাসেটটি চেয়ে নিল। পুরো ক্যাসেটটি শোনার পর সিদ্ধান্ত হলো এডিট না করে প্রকাশ করা যাবে না। কারণ, বাংলাদেশের শ্রমিকদের বাজার নষ্ট করার মাধ্যমে যে দেশগুলো উপকৃত হচ্ছে সেই দেশের নামও ক্যাসেটে আছে। সেই অংশগুলো বাদ দিতে হবে। আমাদের জনপ্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা এই ধরনের অভব্য প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করলেন। কিন্তু প্রেস কনফারেন্স আর তিনি করতে পারলেন না। অতএব দেশে বিদেশে বাংলাদেশের ইমেজ বাড়ানোর কর্মসূচি বাদ দিয়ে শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে শুধু ওমরাহ পালন করেই দেশে ফিরতে হয়েছে।

দু দুটো আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের পর পুরোটাই দেশীয় একটি পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তিনি ভেবেছিলেন এখানে তাকে নিষেধ করার কিংবা বাধা দেয়ার কেউ নেই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি দেখলেন, এখানেও তার ইচ্ছেমতো কিছুই হচ্ছে না। তার নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে ফুটপাথে থাকা ১৬টি পলিথিনের ঘরের সব কয়টি খালি করে দেয়া হয়েছে। আশপাশের বাড়ির ছাদে পর্যন্ত অটোমেটিক গান হাতে পাহারা দিচ্ছে নিরাপত্তা রক্ষীরা। বিশ্বকাপের জন্য আনা নতুন ফ্লাডলাইটগুলো এখানে বিশেষ ব্যবস্থায় লাগানো হয়েছে। এটি কে করেছে তিনি জানতেও পারেননি। এতো আলো আর মানুষের সমাগমে শীতের তীব্রতাই যেন কমে গিয়েছে বলে মনে হতে লাগল প্রধানমন্ত্রীর। শেষ ‍পর্যন্ত তিনি আর শুয়ে থাকতে পারলেন না।

তিনি পলিথিনের ঘর লাগায়ো সাবমেশিনগান হাতে থাকা ছয় মূর্তির একজনকে বললেন, গরম পানি দিতে। তিনি ওজু করলেন। নামাজ পরে পিতার কথা স্মরণ করলেন। আর মা, মা করে কেঁদে কেঁদে বললেন- ‘আমি আমার সংসারে ফিরে যেতে চাই। কালকের সংসদ অধিবেশনে আর যেতে চাই না।’ (আজকের অভিজ্ঞতা নিয়ে সংসদে আগামীকাল বিশেষ বক্তৃতার আয়োজন করা হয়েছে।)

শেখ হাসিনা যখন প্রার্থনারত, সেসময়ে, হাসিনার এক্সপেরিমেন্টাল পলিথিন হাউজ থেকে আধা কিলোমিটার দূরে এক বস্তিতে রাত কাটাচ্ছেন খালেদা জিয়া। তিনি ভাবছেন, আগামীকাল সংসদ অধিবেশনে যেতেই হবে। শেখ হাসিনা যখন আজকের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেবেন তখন তাকে কাউন্টার দিতে হবে।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s