মশা মারার এক্সট্রা ব্যাট


দু বছর আগে বাসায় রং করানোর পর প্রায় দিন পনেরো ঘুমানোর জন্য আর মশারি টানাতে হয়নি। ব্যাপারটা আগেও লক্ষ্য করেছি। রং করানোর পর ঘরে মশা কমে যায়। কেন কমে, সেই কারণ কখনো খুঁজিনি। মশা নেই। তাতেই শান্তি। তাই এবার যখন রংয়ের কাজ শেষ হলো। আমি খুশি হয়েছিলাম। রাতে মশারি টানাতে হবে না। কিন্তু সেই আশার গুড়ে বালি। প্রবল প্রতাপে মশারা বাসায় বিরাজ করছে। দিনে দিনে যেন ওদের সংখ্যা বাড়ছে। আমি শঙ্কিত কবে না ওদের কারণে আমাকে সারাক্ষণ মশারির মধ্যেই অবস্থ‍ান নিতে হয়।

আজকাল রাত নয়টা সাড়ে নয়টা বাজলেই ল্যাপটপটা নিয়ে মশারিতে ঢুকে পড়ি। খাটের ড্যাশবোর্ডে বালিশে হেলান দিয়ে কাজ করি। এভাবে আগেও কাজ করেছি, কিন্তু এতো দীর্ঘ সময় ধরে নয়। একটানা ৫/৬ ঘণ্টা এভাবে কাজ করা সত্যিই কষ্টকর। তার উপর যখন তখন মশারির মধ্য থেকে বের হওয়া যায় না। রাতে লেখালেখি করার সময় আমার খিদে বেড়ে যায়। এটা ওটা খেতে ইচ্ছে করে। একটু হাটাহাটি করতে ইচ্ছে করে। কিন্তু মশারির মধ্য থেকে বারবার বের হওয়া সম্ভব নয়, বের হতে গেলেই মশা ঢুকে পড়ে।

দিনের বেলা বাজারে গেলে দ্রব্যমূল্যের কারণে সরকারের উপর একবার মেজাজ খারাপ হয়। রাতে আরেকবার খারাপ হয় মশার কারণে। এভাবে দিনে রাতে মেজাজ খারাপ হতে থাকলে শরীর খারাপ হতে বাধ্য। তাতে আরো সমস্যা। আমার পরিচিত ডাক্তাররা বড় বড় হাসপাতালে চাকরি নিয়েছে। পারতপক্ষে নামী দামী হাসপাতাল আমি এড়িয়ে চলি। আবার পরিচিত ডাক্তার ছাড়াও ডাক্তার দেখাতে রাজি নই। ফলে, বাধ্য হয়ে আমাকে ৮০০ টাকা+ ভ্যাট ভিজিট দিতে হয়। আমি মেজাজ শান্ত রাখতে সচেষ্ট থাকি। এদিকে, ওষুধের দামও বেড়েছে অনেক।

তবে, একটা জিনিসের দাম কমেছে। মশা মারার ব্যাট। আগে যে কোম্পানির ব্যাট ৪০০ টাকায় কিনেছি সেটার দাম কমে ৩৫০ হয়েছে। সরবরাহ বাড়ার কারণে বোধহয় এটি হয়েছে। আমার পাড়ার দোকানগুলোতে এখন নানান কোম্পানির মশা মারার ব্যাট পাওয়া যায়। সেদিন বাসার জন্য ইলেকট্রিক বাল্ব কিনতে গিয়ে দেখি মানুষজন ব্যাট কিনছে। দোকানী আসলাম আমাকে বলল, ব্যাট লাগবে নাকি? নতুন ব্যাট এসেছে। ভালো মানের। একজন ক্রেতা জানতে চাইলো ওয়ারেন্টি আছে কিনা? না, চাইনিজ মালের কোন ওয়ারেন্টি নেই। ক্রেতা সাড়ে তিনশ টাকায় ব্যাট কিনে ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। সে কয়েকদিনের ওয়ারেন্টি চায়। আসলাম যখন কোনমতেই ওয়ারেন্টি দিতে রাজী নয়। তখন ক্রেতা জানতে চাইল নষ্ট হলে ঠিক করা যাবে কিনা? আসলাম বলল, না, সেই সুযোগ নাই।

বুঝলাম ক্রেতা আমার মতোই আসলামের দোকানের পুরনো কাস্টমার। আমি আসলামের সাহায্যে এগিয়ে গেলাম। ক্রেতাকে বললাম, ব্যাটটা নিয়ম মেনে চার্জ দিলে সহজে নষ্ট হবে না। এজন্য আপনাকে যা করতে হবে, তাহলো ব্যাটের সুইট অফ করে তবে চার্জ দেবেন। আর প্রথমবার কমপক্ষে ৪ ঘণ্টা চার্জ দেবেন। আর নষ্ট হলেও ভয় নেই, ঠিক করানো যাবে। হিরনের দোকানে নিয়ে গেলে সারানো যাবে। (আমাদের পাড়ায় ক্রোকারিজের একটা দোকান আছে ওটার মালিক। যেকোনো কিছু সারানোর ব্যাপারে ওস্তাদ।) ব্যাট সারাতে সে ১০০ টাকা নেয়। লোকটা আমাকে ধন্যবাদ জানিয়ে হিরণ কিভাবে তার প্রেসার কুকার ঠিক করে দিয়েছিল সেই গল্প বললো। আসলামও সেই গল্পে যোগ দিল। ব্যাট তো বিক্রি হলো।

গত সপ্তাহে অন্যকে টিপস দিয়েছি আর আজকেই আমার ব্যাটটা নষ্ট হয়েছে। দু’পায়ে মশার তীব্র আক্রমণ শুরু হয়েছে। একটু পরে বের হয়ে আসলামের দোকান থেকে একটা নতুন ব্যাট কিনতে হবে। কারণ পুরনোটা হিরনকে দিয়ে আসতে হবে ঠিক করানোর জন্য। ও সাথে সাথে দিতে পারবে না। সেদিন অন্য ‍কাজে গিয়ে দেখেছি ওর দোকানে অনেক ভীড়। প্রতিদিন অনেকগুলো করে ব্যাট আসছে। এখন মশা মারতে প্রত্যেকেই দুয়েকটা এক্সট্রা ব্যাট রাখছে।

এটা অনেকটা এক্সটা প্লেয়ারের মতো ব্যাপার। খেলাধুলাতে এক্সট্রা ব্যাপারটা আছে। এমনকি বিনোদন জগতেও। কিন্তু বিনোদনের সেরা স্থান রাজনৈতিক খেলায় এক্সট্রা নেই। থাকলে ভালো হতো।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s