খুনী আমেরিকা


এই লেখাটার শিরোণামে এক ধরনের শস্তা ব্যাপার আছে৷ পাঠককে আকৃষ্ট করার চেষ্টা আছে৷ লেখককে খেলো ভাবার কিছুটা ঝুঁকিও আছে৷ তারপরও এই শিরোণামটিই আমি বেছে নিলাম কারণ গত ১০ বছর ধরে আমেরিকা বিশ্বময় শত্রু খতমের খেলায় বেসামরিক নাগরিকদের যেভাবে হত্যা করেছে তাতে “খুনী” শব্দটির চেয়ে কোমল ও যথার্থ কোনো অভিধা আমি খুঁজে পাইনি৷

আমেরিকার জনগণের পক্ষে সেদেশের কংগ্রেস সর্বসম্মতিক্রমে ২০০১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খুনের লাইসেন্স দিয়েছিল৷ “অথরাইজেশন টু ইউজ মিলিটারি ফোর্স অ্যাক্ট” এর মাধ্যমে সেদিন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ওসামা বিন লাদেন ও আল কায়েদার অন্যান্য নেতাদের হত্যা করার জন্য আমেরিকার অভ্যন্তরে কিংবা বিশ্বের যেকোনো স্থানে হামলা চালানোর অনুমতি দেয়া হয়৷ তত্কালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ ঘোষণা করলেন, “জাস্টিজ উইল বি ডান” (ন্যায়বিচার করা হবে)৷

সীতাকুন্ডে তিন পাহাড়ের মাটি কাটার অনুমতি নিয়ে ১১ পাহাড়ের মাটি কাটার মতোই এক ওসামা বিন লাদেন আর আল কায়েদকে শায়েস্তা করার অনুমতি নিয়ে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ বিশ্বজুড়ে নানান কায়দায় শত্রু খতমের খেলায় মেতে উঠে৷ শত্রু খতমের এই খেলা স্নায়ু যুদ্ধকালীন কমিউনিস্ট নিধনকেও ছাড়িয়ে যায়৷ গত দশ বছর ধরে পুরো বিশ্বকে এক ধরনের ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছে আমেরিকা৷ ২৩৩৭ দিনের তান্ডব শেষে তারা মহাশত্রু ওসামা বিন লাদেনকে বধ করলো৷ বর্তমান আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ঘোষণা করলেন, “জাস্টিজ হ্যাজ বিন ডান” (ন্যায়বিচার সম্পন্ন হলো)৷

প্রশ্ন থেকে যায়, নিরস্ত্র বিন লাদেনকে পাকড়াও করে বিচারের মুখোমুখি না করে গুলি করে হত্যা করাটাই কি ন্যায়বিচার? আরো অনেক প্রশ্নই করা যায়৷ যেমন: যে প্রক্রিয়ায় বিন লাদেনকে হত্যা করা হলো সেটি তো আরো আগেই করা যেতো৷ তাহলে বিন লাদেনকে এতোদিন কেন জীবিত রাখা হলো? তাহলে কি ওসামা বিন লাদেনকে জীবিত রাখার প্রয়োজন ফুঁরিয়ে গিয়েছিল বলেই তাকে খুন করা হলো৷ সেই খুনের ঘটনা স্টার সিনেপ্লেক্সে মুভি দেখার মতো করে দেখেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, তাঁর পারিষদবর্গসহ৷ বিন লাদেনকে খুন করার জন্য তারা আন্তর্জাতিক আইন লংঘন করে ভিনদেশে হামলা চালাতেও দ্বিধা করেননি৷ মুভির কাহিনীর মতোই নায়কের বিজয় আর ভিলেনের পরাজয় হয়েছে৷

স্নায়ুযুদ্ধকালীন সময়ে আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসন চলাকালে বিশ্বজুড়ে কমিউনিস্ট নিধনের অংশ হিসেবে আমেরিকা সোভিয়েত বিরোধী যুদ্ধে লিপ্ত হয়৷ আর সেসময়ে আমেরিকা ওসামা বিন লাদেনকে অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করে সোভিয়েত বিরোধী যুদ্ধে৷ অনেকে মনে করেন, পরবর্তীতে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙ্গনের পর লাদেনের তাত্ক্ষনিক প্রয়োজন আমেরিকার কাছে ফুরিয়ে গেলেও লাদেন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে গিয়ে নিজের প্রয়োজনকে ধরে রাখেন৷ তার এই ইমেজকে প্রয়োজন অনুযায়ী কাজে লাগায় প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর৷ টুইন টাওয়ার ধ্বংসের ঘটনার জন্য ওসামা বিন লাদেনকে দায়ী করে জর্জ বুশ সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ শুরু করে দেয়৷ লাদেন এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেননি৷ কিন্তু লাদেনকে সামনে রেখে আমেরিকা গত ১০ বছর ধরে সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে বিশ্বময় এক ধরনের তান্ডব চালালেও ওসামা বিন লাদেনকে পাকড়াও করার ব্যাপারে আন্তরিক হয়নি৷ বরং বিশ্বজুড়ে একটি সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করে অস্ত্র বাণিজ্য এবং দেশে দেশে মাথা চাড়া দিয়ে উঠা আমেরিকান শত্রুদের শায়েস্তা করার মধ্য দিয়েই দিন কাটিয়েছে তারা৷ ইতোমধ্যে সাদ্দামকে খুন করেছে৷ সম্প্রতি গাদ্দাফীর এক পুত্র ও তিন নাতিকে খুন করেছে৷ অবশেষে লাদেনকে বধ করলো৷ কিন্তু এই হত্যা আমেরিকা সৃষ্ট গোলযোগ কি বন্ধ করতে পারবে? এই হত্যা কি বিশ্ব শান্তির জন্য কোনো কল্যাণ বয়ে আনবে? আমি সেই প্রশ্নের উত্তর এই লেখাতে খুঁজবো না৷ আমি আমার লেখার শিরোণামের সপক্ষে কয়েকটি হত্যার ঘটনার কথা শুধু বলব৷ যে ঘটনাগুলোতে আমেরিকা বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করেছে৷ যে হত্যার লাইসেন্স তারা আমেরিকান জনগণের কাছ থেকে নিয়েছে৷ ওসামা বিন লাদেনের বিরুদ্ধে টুইন টাওয়ারে নিরীহ মানুষ হত্যার অপ্রমাণিত অভিযোগ (যা প্রমাণিত নয়) এর বিপরীতে বেসামরিক নাগরিক হত্যার প্রমাণিত অভিযোগ রয়েছে আমেরিকার বিরুদ্ধে৷ ওসামা বিন লাদেনের অপ্রমাণিত অভিযোগ প্রমাণের কোনো সুযোগ না দিয়ে, ন্যায়বিচার ছাড়াই তাকে হত্যা করা হলো৷ আর প্রমাণিত অভিযোগগুলোর কোনো বিচার নেই৷ কারণ, লাদেনকে হত্যা করার জন্য আমেরিকা যে সন্ত্রাস বিরোধী আইন করেছে তার একচেটিয়া সুবিধাভোগীও আমেরিকা৷ ফলে, আমেরিকা আমাদের দেশের গ্রামের মোড়লের আন্তর্জাতিক সংস্করণ৷ যারা সবসময় নিজের জন্য এক আইন ও অন্যদের জন্য পৃথক আইন ব্যবহার করে থাকে৷ অর্থাৎ তারা সালিশ মানি আর তালগাছটা আমার বলে থাকে৷

আমেরিকা যেসময়ে কমিউনিস্ট খতম করত, তখন কমিউনিস্টদের মধ্যে মুসলমান, হিন্দু, খৃষ্টান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা থাকতো কিন্তু আমেরিকা যখন সন্ত্রাসী নির্মূলে মাঠে নামল কোনো এক অজ্ঞাতকারণে তারা মুসলমানদের টার্গেট করতে শুরু করল৷ ফলে, আমেরিকার সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানকে অনেকে ইসলাম বিরোধী অভিযান বলেও অনেকে গণ্য করে৷ তবে, এই বিষয়টিও আমার আজকের লেখার বিষয় নয়৷ আমার আজকের লেখার বিষয়টি খুবই সাধারণ৷ এক ঝলকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমেরিকার বেসামরিক নাগরিকদের খুনের কয়েকটি ঘটনা মনে করা৷ কারণ, আমেরিকা কিভাবে কোথায় কত মানুষকে খুন করছে তার বিশদ বর্ণনা দিতে গেলে মহাকাব্য লিখতে হবে৷ আমেরিকার অগ্রগতির ইতিহাসের সঙ্গে, আমেরিকান সভ্যতার সঙ্গে খুন বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত৷

যেমন, ১৯৭৭ সাল থেকে ২০০১ সালে পর্যন্ত আমেরিকাতে প্রায় ৫ লাখ নিরীহ মানুষ হত্যার শিকার হয়েছে, যাদেরকে প্রটেকশন দেওয়ার দায়িত্ব ছিলো সরকারের৷ অর্থাত্ বছরে গড়ে ২০ হাজার আমেরিকান মানুষ আমেরিকানদের হাতে খুন হয়েছে৷ আমেরিকাতে সর্বাধিক সংখ্যক ক্ষুদ্রাস্ত্র ব্যবহৃত হয়৷ একই সময়ে আমেরিকা ৭১৬ জন নারী ও পুরুষকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে৷ আমেরিকান পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে যে নৃশংসতার অভিযোগ আছে তা লিখতে হলে পৃথক লেখা লিখতে হবে৷ শুধু তাই নয়, ২০০১ সালের হিসাব মতে, আমেরিকার জেলে প্রায় ২০ লাখ বন্দী ছিল যা বিশ্বের সর্বোচ্চ৷ এবং বিশ্বের মোট কারাবন্দীর এক চতুর্থাংশ৷ এই আমেরিকা ২০০১ সালের পর সন্ত্রাস নির্মূলে বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বে তান্ডব শুরু করে জর্জ বুশের নেতৃত্বে৷ বারাক ওবামা যখন চমক দেখিয়ে ক্ষমতায় এলেন তখন অনেকে ভেবেছিলেন তিনি এই অন্যায় যুদ্ধ বন্ধ করবেন৷ তাঁর বেশ কিছু ঘোষণা সেই আশাবাদের প্রতিফলন ঘটায়৷ ২০০৯ সালে তিনি যখন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান তখন বিশ্বের মানবতাবাদী মানুষগুলো নিরীহ বেসামরিক মানুষ হত্যা শেষ হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল৷ কিন্তু বারাক ওবামা হলিউডি কায়দায় ওসামা বিন লাদেনকে খুন করে এবং এর রেশ আরো দশ বছর থাকতে পারে সেই আশঙ্কা ব্যক্ত করে খুনের রাজনীতিকেই সমর্থন জানালেন৷

২০০৯ সালে লক্ষ্য করা গিয়েছিল বারাক ওবামা জাতিসংঘের অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তি (এটিটি) আলোচনায় অংশ নিতে সম্মতি জানিয়েছে৷ বুশ প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত আমেরিকান সরকার একমাত্র দেশ হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তি প্রক্রিয়ার বিরোধীতা করে আসছিল৷ অনেকেই মনে করেন, বিশ্বজুড়ে যে অগণিত জীবনহানি ঘটছে তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এই বিরোধীতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে৷ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমেও আমেরিকা পরোক্ষভাবে মানুষ খুন করার পদ্ধতি চালু রেখেছে৷ যেমন: বারাক ওবামা ২০০৯ সালে কিউবার উপর ৪৭ বছর ধরে চলে আসা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা নবায়ন করেন৷ এই ধরনের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটিতে লাখ লাখ মানুষ প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে৷ আমেরিকা জাতীয় স্বার্থে “ট্রেডিং উইথ দি অ্যানিমি অ্যাক্ট” এর আওতায় বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে থাকে৷ আমেরিকা ২০০৭ সালে ইউনিসেফের গাভি কর্মসূচির আওতায় কেনা ৩০ লাখ ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ সরবরাহের কার্যাদেশ বাতিল করে কিউবান শিশুদের জীবন বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছিল৷ তারা যখন জানতে পেরেছিল যে, সিরিঞ্জগুলো কিউবাতে যাবে তখনই কার্যাদেশ বাতিল করেছিল৷

আর আফগানিস্তানে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার ঘটনা তো একটা চলমান বিষয়৷ ২০০৯ সালে এক হিসেব মতে, বিভিন্ন ঘটনায় আফগানিস্তানে ২,৪১২ বেসামরিক নাগরিক মারা গিয়েছে৷ ২০০১ সালের পর থেকে প্রতিবছরের সংখ্যাটি কম বেশি এমনই৷ ২৫ জুলাই, ২০১০ তারিখে প্রকাশিত উইকিলিকসের প্রায় ৯২ হাজার গোপন ফাইল থেকে আফগানিস্তানে ২০০৪-২০০৯ সালের ফাঁস হওয়া তথ্য থেকে জানা যায় যে, আফগানিস্তানে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার ব্যাপারে আমেরিকান নেতৃত্বাধীন ন্যাটো কর্তৃপক্ষ উদাসীন৷ তখন বলা হয় যে, জবাবদিহিতা না থাকাই এই ধরনের হত্যার কারণ৷ আমেরিকা বেসামরিক নাগরিক হত্যার জন্য ওসামা বিন লাদেনদের জবাবদিহিতা খুঁজলেও নিজেদের জবাবদিহিতার ব্যাপারে তারা কতোটা উদাসীন নিচের ঘটনাগুলোতে দেখুন৷

১২ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের মারজাহ জেলার সীমান্ত এলাকার আমেরিকার ছোড়া দুটি মিসাইল একটি বাড়িতে আঘাত হানলে ছয়টি শিশুসহ অন্তত বারোজন মারা যায়৷ ন্যাটো এই ঘটনার জন্য মিসাইলের ত্রুটিকে দায়ী করে৷ পরেরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি অপারেশন মোশতারাক অভিযানে মারজাহ ও এর আশপাশের এলাকায় সামরিক অভিযানে অন্ততপক্ষে ১৫ জন বেসামরিক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে৷ ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরের ৪ তারিখে কুন্দাজ প্রদেশের আমাখিলের নিকটবর্তী এক গ্রামে আকাশ হামলা চালালে ৮৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি মারা যায়৷ আমেরিকা এবার বললো যে, তালেবানরা বেসামরিক বাড়িগুলোতে আশ্রয় নেওয়ার কারণে এমন ঘটনা ঘটছে৷ কিন্তু তাদেরকে যখন প্রশ্ন করা হয় যে, তারা কেন ক্লিনিক ও হাসপাতালে হামলা চালায়৷ সেই জবাব তারা দেয় না৷ ২০১০ সালের আগস্টের ২৭ তারিখে পাকটিকা প্রদেশের একটি ক্লিনিকে হামলা চালানো হয় চিকিত্সারত তালেবান নেতাকে হত্যা করার জন্য৷ যা ছিল আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লংঘন৷

ব্যাপারটা এখানেই শেষ নয়, বেসামরিক মানুষদের হত্যা করে শুধুমাত্র ভুল স্বীকার করেও আমেরিকা মনে করেছে যে, তাদের দায়িত্ব পালন করা হয়েছে৷ যেমন, ২০১০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তালেবানবাহী গাড়ি ভেবে আমেরিকান সামরিক হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষন করা হলে ডাই কুন্ডি ও উরুঝগান প্রদেশের সীমান্ত এলাকাতে ২৭ জন বেসামরিক ব্যক্তি মারা যাওয়ার ঘটনায় আমেরিকা ভুল স্বীকার  করে৷

আমেরিকা একা নয়, তার মিত্রদের বেসামরিক নাগরিক হত্যাকে তারা নীরবে ও সরবে অনুমোদন করে৷ যেমন: ইসরাইলী বাহিনী “কাস্টলিড” নামের ২২ দিনের অভিযানে (২৭ডিসেম্বর ২০০৮ থেকে ১৮ জানুয়ারি ২০০৯) ৩০০ এরও বেশি শিশুসহ প্রায় ১৪০০ ফিলিস্তিনীকে হত্যা করেছিল৷ ওই ঘটনায় আরো কয়েকশত মানুষ জখম হয়েছিল এবং কয়েক হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছিল৷ ওই সময়ে শিশুরা প্রাইমারি স্কুলে আশ্রয় নিয়েও বাঁচতে পারেনি৷

উইকিলিকস প্রকাশিত কূটনৈতিক বার্তাগুলো থেকেও আমেরিকান সামরিক বাহিনীর বিশ্বজুড়ে হত্যাকাণ্ডের বিষয়গুলো জানা যায়৷ যেমন: ইয়েমেনকে না জানিয়ে আমেরিকা ২০০৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর আবিয়ানের আল-মাজালাতে ক্রুজ মিসাইল ছুড়লে ১৪ জন নারী ও ২১ জন শিশুসহ সর্বমোট ৪১ জন মারা যায়৷ এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে আমেরিকা ইয়েমেনের উপর চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি সামরিক সহায়তা বাড়িয়ে ২০০৯ সালের ৬৭ মিলিয়ন থেকে বাড়িয়ে ২০১০ সালে ১৫০ মিলিয়ন করে৷ বিনিময়ে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ জনগণকে জানায় যে, এটি ভুলক্রমে তারাই করেছে৷ পরবর্তীতে আল কায়েদার সন্দেহভাজন সদস্যদের হত্যা করার জন্য মানুষবিহীন ড্রোন বিমান পাঠিয়ে পশ্চিমাঞ্চলীয় ফারাহ প্রদেশের বালা বালুক জেলায় আমেরিকা ১০০ এরও বেশি বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করে৷ উইকিলিকস নথি প্রকাশ না করা পর্যন্ত এই সকল ঘটনার দায়দায়িত্ব সালেহ নিয়ে নিচ্ছিলেন৷ এভাবেই আমেরিকা আন্তর্জাতিক মানবিক ও মানবাধিকার আইনের লংঘন করে একের পর এক খুন করে চলেছে৷

তবুও খুনী আমেরিকা আমাদের কাছে পূজনীয় এক দেশ৷ আমাদের দেশকে মানবতা আর মানবাধিকার শেখাতে আমেরিকানরা নিয়মিত এই দেশে আসে৷ আর আমরা তাদের কাছ থেকে মানবতা শিখি৷ মানবাধিকার শিখি৷ ধন্য হই৷ কি বিচিত্র এই বিশ্ব৷

 (রাইট টার্ন, মোহাম্মদ গোলাম নবী, সাপ্তাহিক বিপরীত স্রোত, বর্ষ ১, সংখ্যা ৮, মঙ্গলবার, ১০ মে ২০১১, ২৭ বৈশাখ ১৪১৮)

Advertisements

4 thoughts on “খুনী আমেরিকা

  1. ‘লাইসেন্সড ট্যু কিল’ শিরোনাম হলেও মন্দ হতো না!
    মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে আপনার আগের লেখাটা কেমন অসমাপ্ত ঠেকেছিলো, এইটি সেটি পুরিয়ে দিলো।
    কেন যেন মনে হয় এই খুনটা ওবামার জন্য ব্যাক ফায়ার করতে পারে… দেখা যাক…
    আপাতত আমি এটা সেইভ করে রাখি… অনেকদিন পর সেই ঝাঁঝ পেলাম…
    ভালো থাকবেন! 🙂

  2. আরেকটি কথা… ওবামার মতো ‘চালু মাল’ ২০১২ এর ইলেকশনে জিতবার জন্য যা দরকার তার সবই করবে… তা উপরে লাদেনের মতো বাঁধা মুরগী জবেহ দেওয়া তো সবচাইত সহজ কাজ! বুশ কেমন বেজার হয়েছে দেখতেই তো পারছেন… 😛
    এখন যদি এটা ইরাক/আফিগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের জন্য ওবামা ব্যবহার করতে পারে, তাহলে কিছু পজিটিভ ব্যাপার হতে পারে, এই আর কি!
    (আমার দু’পয়সা… আরো কেউ কমেন্ট করবে বলে তো মনে হচ্ছে না!!! 😛 )

    • লেখা পড়েই বা কয়জনে। আর যারা পড়ে তাদের মধ্যে কমেন্টই বা করে কয়জনে। তোমাকে ধন্যবাদ। তবে খেলা বোধহয় সরল অঙ্কের মতো নয়। দ্রুতই দৃশ্যপট বদলাবে। মধ্যপ্রাচ্য আর উত্তর আফ্রিকা ছাড়াও ভারত ও ইসরাইল এবং চীনের নড়াচড়ার মূল্য আছে। দেখা যাক। দু’পেনি আমিও দিয়ে দিলাম!

      • কপাল ভালো আপনি আমার অংকের স্যার ছিলেন না… সরলাংকের মধ্যে চীন/ভারত/ইস্রায়েলের প্যাঁচ ঢুকলে তো আর সরল থাকলো না, ভংগ্নাশ আর দশমিকের লসাগু/গসাগু টাইপ হয়ে গেলো…!!!
        খেলোয়াড় ভাবে বল তার কোর্টে… আসলে খেলা যে কখন হাত থেকে বেদখল হয়ে যায়, টেরই পায় না… বর্তমান সময়ের কর্মগুলো সামনের মেলাদিন মানুষকে ভোগাবে!

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s