জনতার অবিচারের শিকার নিরীহ জনগণ


ইতর জনসাধারণের উচ্ছৃঙ্খলতায় গণধোলাইয়ের শিকার হয়ে সর্বশেষ সাভারে ৬টি তরতাজা জীবন ঝরে গেলো৷ গণপিটুনিতে বাংলাদেশে মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনা এই প্রথম না হলেও এবারের ঘটনা মানুষের মনকে নাড়িয়ে দিয়ে গেছে৷ এটি শবে বরাতের রাতের ঘটনা হওয়ার জন্য নাকি একসঙ্গে ছয়জনের মৃত্যুর কারণে তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না৷ কারণ যাই হোক না কেন, ঘটনাটি মানবতার চরম লংঘন৷ একটি দেশের মালিক জনগণ হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া জনগণের জন্য বৈধ নয়৷ কারণ, জনগণ যখন আইন নিজের হাতে তুলে নেয় তখন বিচার হয় না৷ সেটি হয় অবিচার৷ যেকারণে এই ধরনের ঘটনা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব৷

ইতোমধ্যে লক্ষ্য করা গিয়েছে সাভারের ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের চেষ্টা শুরু করেছে বিরোধী দল বিএনপি৷ এটি কোন ভালো লক্ষণ নয়৷ যদিও নৈরাজ্যবাদকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের ইতিহাস পুরনো৷ বিশেষ করে শ্রমিক আন্দোলনে এর প্রয়োগ দেখা যায়৷ অনেকে মনে করেন ১৯১৭ সালের রাশিয়ার বিপ্লব হলো নৈরাজ্যবাদের বড় জয়৷ স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে জাসদের রাজনীতিকেও কেউ কেউ নৈরাজ্য তৈরির মাধ্যমে সরকার পতনের কৌশল হিসেবে উল্লেখ করে থাকে৷ ত্রিশকের দশকে স্পেনের গৃহযুদ্ধেও নৈরাজ্যবাদীদের দাপট দেখা যায়৷ নৈরাজ্যবাদ আমেরিকার পুজিবাদের সঙ্গে মিলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নতুন তত্ত্বের জন্ম দেয় উত্তর আমেরিকাতে যা এনার্কো-ক্যাপিটালিজম (anarcho-capitalism) নামে পরিচিত৷

এই দেশের একজন ভোটার হিসেবে আমি সুস্পষ্টভাবে বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, জনগণ যখন আইন হাতে তুলে নেয় তখন জনগণের জীবনই বিপন্ন হয় না রাজনৈতিক দলগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ নিকট অতীতে টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে ২০০৬ সালে গুলিস্তানে লাঠি বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে মানুষ মারা হয়েছিল৷ যা শেষ পর্যন্ত দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আড়ালে সামরিক সরকারকে দেশ পরিচালনায় আসতে বাধ্য করেছিল৷ সেসময়ে বিরোধী দলগুলো দেশে নৈরাজ্যবাদের বিস্তার ঘটাতে তত্পর ছিলো৷

প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও প্রায় সবদেশেই সবকালে মানুষকে নিজের হাতে আইন তুলে নিতে দেখা গেছে৷ ইন্টারনেটে খুঁজে তাই পেলাম৷ যেমন, উইকিপিডিয়া বলছে, দেশের আইনের প্রতি মানুষ যখন আস্থা হারাতে শুরু করে তখন মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে শুরু করে৷ তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা বেশি ঘটে যখন একটি দেশে সরকারিভাবে বিচার বহির্ভূত ঘটনা বেশি ঘটতে থাকে৷ আমেরিকায় একসময় প্রচুর পরিমাণে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড হয়েছে৷ ১৮৮২ সাল থেকে ১৯৩০ সালের মধ্যে সরকারি হিসেবে জনতার আদালতে ২,৮৫০ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মারা হয়েছে৷ মূলত সেসময়ে কৃষ্ণাঙ্গদের উচ্ছৃংখল শ্বেতাঙ্গরা সামান্য কারণেই ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে, গুলি করে কিংবা পিটিয়ে মেরেছে৷ গবেষকরা দেখেছেন যে মোট ৬৮টি কারণে শ্বেতাঙ্গরা দলবেধে কৃষ্ণাঙ্গদের মেরেছে যার মধ্যে সন্দেহজনক চলাফেরা, জুয়া খেলা, শ্বেতাঙ্গদের সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত হওয়া, গৃহপালিত পশু হত্যা করা, কোনো শ্বেতাঙ্গ নারীকে অপমান করার মতো ঘটনাও রয়েছে৷ আজকে সেই আমেরিকায় এক কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট৷ আমেরিকাতে গৃহযুদ্ধের পর জনতার বিচার বৃদ্ধি পেয়েছিল৷ শেষ পর্যন্ত তো আমেরিকাতে lynch law নামে একটি আইন পর্যন্ত পাস করতে হয়েছে জনতার বিচার বন্ধে৷

ইওরোপেও সাদা আর কালোদের মধ্যে জাতিগত দাঙ্গার ইতিহাসও রয়েছে৷ তবে সাভারের ঘটনার কিছুটা মিল পাওয়া যায় মেক্সিকোতে ২০০৪ সালের ২৩ নভেম্বর একদল জনতার সাদা পোশাকধারী তিন গোয়েন্দাকে কয়েক ঘণ্টা ধরে পিটিয়ে এক পর্যায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনার সঙ্গে৷ টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর ক্যামেরা ঘটনার প্রায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রচার করে৷ টেলিভিশনের ক্যামেরায় মৃত মানুষদের আর্তি পর্যন্ত প্রচারিত হয়েছে৷ কিন্তু কেউ তাদেরকে বাঁচাতে এগিয়ে যায়নি৷ ঘটনার এক পর্যায়ে পুলিশ গোয়েন্দাদের উদ্ধার করতে এলেও ততোক্ষণে দু’জন মারা গেছে৷ আর তৃতীয়জন আগুনে পুড়ে ভয়ানক আহত৷ সাভারের শিক্ষার্থীদের মতোই মেক্সিকোর গোয়েন্দারা জনতার মার শুরু হওয়ার পর তাদের পরিচয় দিলেও জনতা থামেনি৷ কেন এমনটা হয়েছে সেসম্পর্কে পরবর্তীতে জানা গিয়েছে গোয়েন্দা দলটি যে মাদক ব্যবসায়ীদের খোঁজে ওই এলাকায় গিয়েছিল তারাই জনতাকে খেপিয়ে দিয়ে নিজেরাসহ ওই তিনজনকে পিটিয়ে মারার বন্দোবস্ত করেছে৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র কাউকেই এই ঘটনায় গ্রেফতার করতে পারেনি৷ তারা ঘটনাটিকে হতভাগ্যদের ভাগ্য বলেই ছেড়ে দিয়েছিল৷ সরকারি প্রেসনোটে দাবী করা হয় যে, পুলিশ স্টেশন থেকে ঘটনাস্থল অনেক দূরে ছিলো আর পুলিশ যদি উন্মত্ত জনতার কাছ থেকে সেসময়ে হতভাগ্যদের উদ্ধার করতে যেতো তাহলে হয়তো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত৷ হয়তো আরো অনেক মানুষ মারা যেতো৷

এই ধরনের পিটিয়ে মারার ঘটনায় মিডিয়াগুলোর ভূমিকা সবসময় সবদেশে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে৷ যেমন, গুয়াতেমালায় তরুণী আলেজান্দ্রা মারিয়াকে ২০০৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর উন্মত্ত জনতা পিটিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়৷ তরুণী বাসের মধ্যে এক যাত্রীর পকেটে হাত দিয়েছিল৷ পুলিশের আগমনে মারিয়ার জীবন বেঁচে গেলেও তাকে টপলেস অবস্থায় পুলিশ ধরে নিয়ে যায় আর পত্রিকাগুলো তার অর্ধনগ্ন অবস্থার ছবি তুলে পরদিন পত্রিকায় ছাপিয়ে দেয়৷ সরকারি হিসেবে ২০০৯ সালে গুয়াতেমালায় ২১৯ জন গণপিটুনির শিকার হয়েছিল৷ যার মধ্যে ৪৫ জন মারা গিয়েছিল৷

আর আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে জাতিগত দাঙ্গার মাধ্যমে জনতার অবিচার করার ঘটনা অনেক পুরনো একটি বিষয়৷ সেখানে উচ্চ বর্ণের হিন্দুরা নিম্নবর্ণের হিন্দুদের আক্রমণ করে মেরেছে এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে৷ বিহারে জাতিগত দাঙ্গার কারণে ১৯৪৭ সালে বৃটেনের কাছ থেকে স্বাধীন হওয়ার সময়কার ভারতের অন্যতম ধনী রাজ্য বিহার ভারতের সবচেয়ে দরিদ্র অঞ্চলে পরিণত হয়েছে৷ বিহারে এখন মানুষের মৌলিক সেবাগুলোই নেই৷ লক্ষ লক্ষ তরুণ বেকার৷ রাস্তাঘাট নেই৷ মূলত উচ্চ ও নিম্নবর্ণের হিন্দুদের জাতিগত দাঙ্গায় বিহার ধ্বংসের পথে এগিয়ে গিয়েছে৷ তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মাওবাদীদের আন্দোলন৷ বিহারে রাষ্ট্র কর্তৃক বিচার বহির্ভূত হত্যার ঘটনাও ঘটছে৷ এই মুহুর্তে পাকিস্তানের করাচীতে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে দেখামাত্র গুলি করার আদেশ দেওয়া হয়েছে৷ যা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের লাইসেন্স প্রদান৷ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এলিট ফোর্স ৠাব বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড ঘটিয়ে যাচ্ছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবী করে থাকে৷ অনেকে মনে করেন, দীর্ঘকাল ধরে ৠাবের উপস্থিতি সমাজে জনগণের নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার মতো ঘটনার জন্ম দিচ্ছে৷

ভারত ও পাকিস্তানে জনতার আদালত গড়ে উঠার কারণও রাষ্ট্র কর্তৃক বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতি বলে গবেষকরা মনে করেন৷ কাশ্মীর ও ছত্তিশগড়ে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর সদস্যরা বিচারের ঊর্ধ্বে থেকেই আইন শৃঙ্খলা রক্ষার নামে হত্যা করছে৷ এই ধরনের ঘটনার প্রভাব পড়ছে অন্য রাজ্যগুলোতেও৷ ২০০৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বিহারে একদল গ্রামবাসী চোর সন্দেহে পিটিয়ে ১০ জনকে মেরে ফেলেছিল৷ পুলিশ তাদের কাউকেই ধরেনি৷ তবে, ২০০৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ভারতের নদীয়াতে এক বহুজাতিক কোম্পানির প্রধান নির্বাহীকে হত্যার অভিযোগে ১৩৬ জনকে গ্রেফতার করে যাদের মধ্যে ১৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যার এবং ৬৩ জনের বিরুদ্ধে দাঙ্গার অভিযোগ আনা হয়েছিল৷ তখন অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিল যে, পুলিশ কি যথাসময়ে উপস্থিত হয়ে হত্যার শিকার ব্যক্তিকে বাঁচাতে পারত কিনা৷

ইন্টারনেটে খুঁজে এরকম অনেক ঘটনার উদাহরণ পেলাম৷ যেমন বর্ণবাদ চলাকালে দক্ষিণ আফ্রিকায় কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ‘জনতার আদালত’ নামে এক ধরনের আদালত তৈরি করা হয়েছিল যেখানে শ্বেতাঙ্গ সরকারকে সহায়তাকারী কৃষ্ণাঙ্গদের বিচার করে দোররা মেরে কিংবা গলায় রাবারের টায়ার লাগিয়ে আগুন জ্বালিয়ে মেরে ফেলা হতো৷ তবে, ইন্টারনেটে অনেক দেশের ঘটনার উল্লেখ থাকলেও বাংলাদেশের উপর সাম্প্রতিক সাভারের ঘটনা ছাড়া তেমন আর কিছু নেই৷ বাংলাদেশে কবে থেকে বিচারের নামে জনতার অবিচার চলছে সেকথা জানা যায় না৷ তবে বিষয়টি নিয়ে প্রবীণদের সঙ্গে আলাপে তারা জানালেন যে, বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জে পাকিস্তান আমলে সালিশের নামে আইন হাতে তুলে নেওয়ার মতো প্রচুর ঘটনা ঘটতো৷ মূলত গ্রামের মাতব্বর গোছের লোকজন এই ধরনের ঘটনার নেতৃত্ব দিতো৷ তাদের মতে, সেই রকম ঘটনা আগের মতো ব্যাপক না হলেও পত্র-পত্রিকায় যা দেখেন তাতে গ্রাম গঞ্জে এমন ঘটনা এখনো ঘটে৷ তাদের মতে, ইসলামী ফতোয়ার নামে আইন হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনাও এই দেশে ঘটে থাকে৷ যার সবটা হয়তো পত্রিকাতে আসে না৷ তারা আরো জানালেন যে, ১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চের ২৫ তারিখ রাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর গণহত্যা শুরুর আগের কয়েকদিন ধরে দেশজুড়ে উচ্ছৃংখল জনতা আইন হাতে তুলে নিয়েছিল৷ সেসময়ে তারা দেশের অনেক জেলা শহরে শত শত মানুষকে পিটিয়ে মেরেছে৷ বিশেষ করে জুটমিলসহ বিভিন্ন ধরনের কারখানাগুলোতে ব্যাপকভাবে মানুষ মারার ঘটনা ঘটেছে৷ এরপর গণমানুষের অংশগ্রহণে স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে জনগণের কারো কারো হাতে অস্ত্র থাকার সুবাদে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা চলতে থাকে৷ অতঃপর জাসদের রাজনীতি অস্ত্রের রাজনীতিকে দীর্ঘায়িত করেছে৷ তারপর চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষের মধ্যে একদিকে যেমন মানুষ ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াই চলেছে অন্যদিকে ত্রাণের মালামাল লুটপাটের বিরুদ্ধে আইনের অসহায়ত্বে জনগণ নিজেদের হাতে আইন তুলে নিয়েছিল৷ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর যে সিপাই জনতা বিপ্লব সেখানেও আইন তুলে নিয়েছিল জনতা নিজের হাতে৷ আবার নব্বইয়ের দশক থেকে প্রতিটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের শেষে রাজনৈতিক দলগুলোর মদদে বিজয়ী দলের উচ্ছৃংখল নেতাকর্মীরা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে৷ এভাবেই কখনো ধর্মের নামে, কখনো রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে কিংবা আইনের অসহায়ত্বের সুযোগে কিংবা নিছকই মানুষের পশু মনের উল্লাসে দেশের আইনের স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে৷ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে পারে না অপরাধী মানুষ৷ যেকারণে বারবার অন্যায় আর ভুল করে৷ এখানেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব৷ বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রটি যারা চালান তারা কি রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল করে তুলতে পারবে? নাকি জনতার আদালতে বিচারের নামে অবিচারের শিকার হবে নিরীহ জনগণ সেটা সময়েই জানা যাবে৷

Advertisements

3 thoughts on “জনতার অবিচারের শিকার নিরীহ জনগণ

  1. পড়তে গিয়ে এখানটায় খটকা লাগলো – “সামরিক সরকারকে দেশ পরিচালনায় আসতে বাধ্য করেছিল”!
    জেনারেল মশায়েরা মোটেই বাধ্য ছিলেন না, তারা স্বেচ্ছায় ক্ষমতা দখল করেছিলেন, তাতে বিরোধী দলের প্রত্যক্ষ উস্কানী ছিলো যাতে ২০০৭ এর নির্বাচন বানচাল হয়ে যায়। নিকট অতীতের ঘটনা, অনেকেরই মনে থাকবার কথা যে এই ক্ষমতা দখলকে উৎসাহিত এবং ত্বরান্বিত করেছিলো ভারত, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের দূতেরা এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বৈদেশিক কর্মকর্তারা।
    ২০০৬ এর অক্টোবর মাসের লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে মারার সাথে সাম্প্রতিক ৬ তরুণকে গ্রামবাসীর পিটিয়ে হত্যার মধ্যে অন্যতম প্রধান পার্থক্য হলো যে প্রথমটি গণপিটুনী নয় বরং তৎকালীন বিরোধী দলের সমর্থকদের পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যা। পক্ষান্তরে গ্রামবাসীদের ৬ তরুণ হত্যা ডাকাতির বিরুদ্ধে জনপ্রতিরোধ (পত্রিকার ভাষ্যমতে)।
    ওই এলাকাবাসীদের টেলিভিশনে বলতে শুনেছি তাদের এলাকায় ডাকাতি রোজকার ঘটনা, এবং ডাকাতির উপদ্রবে তারা অতিষ্ঠ। যদিও একই টেলিভিশন খবরের সম্প্রচারে একজন পুলিশ কমিশনার বলেছেন যে ‘এই ঘটনাটি দিয়ে দেশের সামগ্রিক অবস্থা বিচার করা ঠিক হবে না; এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, আইন-শৃংখলা তাদের নিয়ন্ত্রনেই আছে’, তাহলেও কারুরই তাতে আশ্বস্ত হবার কোন কারণ নেই। এ ধরনের গৎবাঁধা বুলি এনারা কষ্ট করে না বললেও পারেন।
    ঐ এলাকায় প্রাত্যহিক ডাকাতির ব্যাপারটি টেলিভিশনে শুনে সত্যই মনে হয়েছে; আর বাংলাদেশে বসবাস করা মানুষমাত্রই জানেন যে বাড়িতে ডাকাতি হলে যে কাজটি করা উচিত নয়, সেটি হলো পুলিশে খবর দেয়া। যার বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে, তাকেই আসামী করে মামলা দেওয়াও পুলিশের পক্ষে সম্ভব।
    অন্যদিকে আমিনবাজার যে নেশাখোরদের স্বর্গ তা আজ থেকে নয়, কুড়ি বছরেরও বেশী সময় ধরে লোকে সেখানে নেশা করতে যায়।
    সব মিলিয়ে পুরো ব্যাপারটিই অত্যন্ত দুঃখজনক!
    একমাত্র আশার ব্যাপারটি হলো আজকাল মানুষের মনে এসব খবরের স্বায়ীত্ব খুবই ক্ষণস্থায়ী; রোজ এতসব ঘটনা ঘটছে, কে আর কোনটা ছেড়ে কোনটা মনে রাখে! কাল নাহয় পরশুই নতুন কোন হত্যা, নতুন কোন ক্ষমা, নতুন কোন ইস্যু এসে এই খবরটিকে সরিয়ে দেবে… কেবল রয়ে যাবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকাবাসীর কাছ থেকে পুলিশের নিত্য চাঁদা তোলা, কিছু গরীব লোকের ভীত পলাতক জীবনযাপন আর যেই মায়েদের নাড়ী ছেঁড়া ধনদের পিটিয়ে মারা হয়েছে তাদের চাপাকান্না…
    একজন মায়ের কাছে তার সন্তান হারানোর দুঃখ নিয়ে বিলাসিতা করা তো একটি জাতির পোষায় না!
    😦

  2. Since I read this yesterday, two new news has hit the media.

    (1) Beating to death of 7 people to death in Noakhali some 9 months ago has been unearthed by ETV. It so happened that ‘Nasir Bahini’ beat 7 people to death and did video of this ‘event’. They were able to hide this & the 7 people were reported missing/abducted. ETV got hold of this video clip & broadcast this. It should also be mentioned that the SP of Noakhali, some Mr. Hazari (relationship to the infamous Joinal Hazari unknown), claimed before to the TV that his workers did an inquiry and found no killing was done. The SP changed his version after ETV broadcasted the news!
    (The video is available in YouTube!)

    (2) BDNews24.com reports that yesterday mob in Noakhali beat 6 to death suspecting them as robbers, the reaction of both the media & the police are similar to the incident of Aminbazar!

    Seriously, is there any government in Bangladesh?

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s