‘লজ্জায় নুয়ে পড়ে মাথা’


গতকাল ফোনে কথা হচ্ছিল শামীমের সঙ্গে। ২৭ বছরের পুরনো বন্ধু। দেশ জাতি নিয়ে অতো মাথা ব্যথা নেই। সংসার, বন্ধুবান্ধব আর পরিবার পরিজনদের নিয়েই বেশি চিন্তা। নিয়ম করে বন্ধুদের খোজ খবর নেয়। একটি চারতলা বাড়িতে চার ভাই ও মা থাকে বলে বলা যায় এখনো যৌথ পরিবার। পরিবারের সবার ছোট বলে হয়তো সবার সঙ্গে যোগাযোগটাও বেশি।

গতকাল ফোনে বলছিল লজ্জার কথা। কিভাবে লজ্জায় ওর মাথা নুয়ে পড়ছিল। মনে হচ্ছিল একি অসভ্যতা। ঘটনাটা মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সে। ওর পরিবার আর ওর সেজো ভাইয়ের পরিবারের মোট ৮ সদস্য গিয়েছিল মালয়েশিয়ায়। ফেরার ঘটনা নিয়ে তার যতো লজ্জা।
উড়োজাহাজে উঠার পর দেখা গেলো কিছু লোক হৈ চৈ করছে। সিটে বসছে না। এয়ারলাইনসের কর্মীরা তাদেরকে শান্ত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাদের কথা হলো টাকা দিয়ে টিকেট করেছি কেন পাশাপাশি বসতে পারব না। বেশ বড় একটা দল। শামীমের মনে হলো ২০/২২ জন হবে।  ওর একবার মনে হচ্ছে একটা দল একবার মনে হচ্ছে দু’টো গ্রুপ। যাই হোক। ক্যাচালটা সিট নিয়ে। এয়ারলাইন্সের লোকরা বোঝানোর চেষ্টা করছে যে, যেহেতু তারা আগে সিট কনফার্ম করেনি ফলে বোর্ডিং পাস দেওয়ার সময় যে সিটগুলো খালি ছিলো সেগুলোর মধ্য থেকে তাদেরকে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে কিছু লোক মাথার উপর গুতাগুতি করতে শুরু করেছে। তাদের আরো বেশি এসির বাতাস চাই। শামীমের কোলে ওর ছোট মেয়েটা। লোকজনের হৈচৈয়ে সে একটু ভড়কে গেছে। এদিকে সামনের সিটে বসা একজন একটা বক্স বের করে সমুচা নিজেও খেতে শুরু করেছে আবার তার সফরসঙ্গীদের দিতে শুরু করল। সমুচা বিতরণের পর সে বের করল ঝাঝালো মসলাযুক্ত মুরগি। মুহুর্তে সেই গন্ধ নাকে মুখে লেগে গেলো। এদিকে সিটে সবাই না বসাতে উড়োজাহাজ উড়াল দিতে পারছে না। একপর্যায়ে ক্যাপ্টেন এলেন। তিনি ঘোষণা করলেন যে, ১০ নির্ধারিত সময়ের পর ১০ মিনিট পার হয়েছে তারা আর দেরী করতে পারবেন না। যে যার সিটে না বসলে তিনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন।
শামীমের লজ্জা পাওয়া বাড়তে লাগল। যে ছেলের দেশ জাতি নিয়ে অতো মাথা ব্যথা নেই সেটা বাড়তে লাগল! সবাই যার যার সিটে বসায় স্বস্তি পেল। পুরো উড়োজাহাজে সবাই বাংলাদেশী। এবং টুরিস্ট। কারো কারো মুখে ইংরেজি ছাড়া বাংলা চলছে না। শামীম নিশ্চিত হলো এই উড়োজাহাজে যারা অসভ্য আচরণ করছে তাদের মধ্যে ধনী বাংলাদেশীদের ভাষায় লেবার শ্রেণীর কেউ নেই।

উড়োজাহাজ আকাশে উড়ার পর সিট বেল্ট খুলে পুরনো লোকগুলো নতুন ঘটনা শুরু করল। তারা হাটাচলার রাস্তাতে সিটের পাশে দাড়িয়ে গল্প গুজবে মেতে উঠল। ফলে বিমান কর্মীদের পক্ষে খাবারের ট্রলি নিয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে উঠল। শামীম আবারো লজ্জায় মিইয়ে যেতে লাগল নিজের ভেতর।

ঘটনা সেখানেই শেষ নয়। হার্ড ডিঙ্কস নিয়ে যখন কাড়াকাড়ি পড়ে গেলো তখন আরেকবার এবং দু’জনের বমি করার পর পুনরায় শামীম লজ্জিত হতে লাগল। খাবার সার্ভ করার সময় মুরগি আর ভেড়ার মাংস নিয়ে যে কীর্তি হলো সেটাও শামীমের মন খারাপের কারণ হলো।

ও ভাবতে লাগল পয়সাওয়ালা লোকগুলো এমন অসভ্যের মতো  করছে কেন?

তাই তো কেন এরা এমন করছে! সেদিন পাসপোর্ট অফিসের একজন জোড় ফ্লোরের লিফটে উঠে ৩ নাম্বার ফ্লোরের বোতাম চেপে বসিয়েই দিলো!

পল্লবী। ঢাকা।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s