লুটপাটই জীবনের আসল কথা


লুটপাট শেখানোর জন্য আমি একটি ইন্সটিটিউট করার কথা ভাবছি। কোন ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই এই ইন্সটিটিউটের প্রধান নির্বাহীর পদটি সাবেক রাষ্ট্রপতি হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদকে অফার করার কথা ভাবছি। কিন্তু গোল বেধেছে অন্য জায়গায়? ইন্সটিটিউটের বিভিন্ন বিভাগে কাদেরকে নেওয়া হবে তা বুঝতে পারছি না। কারণ অনেক।

যেমন, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ এই মুহুর্তে খুব একটা ব্যস্ত নন। তিনি আমার লুটপাট শেখানোর ইন্সটিটিউটকে সময় দিতে পারবেন বলেই বিশ্বাস করি। তাছাড়া তিনি কবি মানুষ। তার মনও অনেক নরম। আমার অনুরোধ তিনি ফেলতে পারবেন না। কাজের অভিনবত্বকেও তিনি সবসময় গুরুত্ব দেন। সেই বিবেচনায় আমার কাজটি তার ভালো লাগবে। এই ইন্সটিটিউটে আমেরিকান ও ব্রিটিশ ফান্ড থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। সৌদি ফান্ড জোগাড় করাটাও খুব একটা কষ্টকর হবে না যদি এরশাদ থাকেন। সবমিলিয়ে ধরে নেওয়া যায় তিনি এমন একটি যুগান্তকারী কর্মকান্ডের সঙ্গে থাকতে আগ্রহবোধ করবেন।

কিন্তু এরশাদের সঙ্গে কারা কাজ করতে আগ্রহী হবেন সেটা বোঝা মুশকিল। এমন অনেকে আছেন যে বা যারা নিজেকে এরশাদের চেয়েও বেশি দক্ষ মনে করেন এই পদের জন্য। কিন্তু আমার বিবেচনায় সামগ্রিকভাবে তাদের চেয়ে এরশাদ বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন হওয়ার আমি নিশ্চয়ই তাদেরকে এরশাদের উপরে স্থান দিতে পারি না। আবার একথাও ঠিক যে, তাদেরকেও আমি জাতির স্বার্থে এই ইন্সটিটিউটে না এনে পারব না। সেক্ষেত্রে আমি কি করতে পারি?

আমার মনে হয়, আমি প্রথমত এমন কতগুলো বিভাগ তৈরি করতে পারি যেগুলো কাজের দিক থেকে খুবই গুরুত্ব পাবে। যাদের প্রচার বেশি হবে। মিডিয়া কাভারেজ বেশি থাকবে। প্রধান নির্বাহীর তুলনায় তারা বেশিবার টেলিভিশন চ্যানেলে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। এই দেশের লুটপাটকারীদের আবার টেলিভিশন ক্যামেরার প্রতি এক ধরনের দুর্বলতা আছে। এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আমি তাদেরকে এরশাদের সঙ্গেও কাজ করাতে হয়তো রাজী করাতে পারব।

এই পর্যায়ে নিশ্চয়ই পাঠক আপনারা ভাবছেন টেলিভিশন কেন আমার কথামতো সেসব লোকদের বেশিবার সুযোগ দেবেন। খুবই সহজ। আমি এই কাজে সহযোগী হিসেবে এই দেশের সবচেয়ে বড় লুটপাটকারী টেলকো কোম্পানিগুলোকে সঙ্গে নেবো। আরে একথা কে না জানে যেখানে টেলিফোন কোম্পানি সেখানেই মিডিয়া। এই দেশের টেলিফোন কোম্পানিগুলোর কেনা গোলাম হলো মিডিয়াগুলো। টেলিফোন কোম্পানিগুলো চাইলে মিডিয়াগুলো সকাল বিকেল তাদের ক্যামেরা পাঠানো শুধু কেন, প্রতিটি টিভি চ্যানেল তাদের একটি করে ইউনিটকে ২৪ ঘণ্টার জন্য আমার ইন্সটিটিউটে বসিয়ে রাখবে। আমি এদের জন্য একটি মিডিয়া সেন্টার করবো। এবং আপনারা শুনলে অবাক হবেন ওই মিডিয়া সেন্টারের জন্য ভাড়াও আমি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর কাছ থেকে এবং সংবাদপত্র অফিসগুলো থেকে আদায় করব।

আপনারা হয়তো ভাবছেন টেলিফোন কোম্পানিগুলো কেন আমার এই ইন্সটিটিউটের সঙ্গে থাকবে? খুবই সোজা। আমি আমার ইন্সটিটিউটে বাঘা বাঘা সব রাজনীতিবিদদের ডিপার্টমেন্ট প্রধান করব। যাদের আর্শিবাদ ছাড়া টেলিফোন কোম্পানিগুলোর পক্ষে লুটপাট চালানো সম্ভব নয়। আপনারা হয়তো ভাবছেন বাঘা বাঘা রাজনীতিবিদগণ কেন এই ইন্সটিটিউটে আসবে? তারা আসবে কারণ এখানে আমি আমেরিকান ও বৃটিশ ডোনার ছাড়াও বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ এর মতো দাতা সংস্থাদের যুক্ত করব।

আমি জানি আপনারা আমাকে পাগল ভাবতে শুরু করেছেন। কিন্তু আমি নই পাগল আসলে আপনারা। নতুবা একটি সহজ সত্য আপনারা উপলব্ধি করতে পারছেন না। আমার এই ইন্সটিটিউটে আসার জন্য দাতা গোষ্ঠী হুমড়ি খেয়ে পড়বে। কারণ আমি তাদেরকে বাংলাদেশের গ্যাস, তেল, কয়লাসহ সকল কিছু লুটপাটে সহায়তা করার ব্যবস্থা করব।

আর এই সব কিছুই আমি করব পজেটিভ ভঙ্গিতে। আমি করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটির কথা বলব। আমি সুশাসনের কথা বলব।

আপনারা যারা আমার সাফল্য নিয়ে সন্দিহান তাদেরকে বলি, আমার কথা বিশ্বাস না হলে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদকে জিজ্ঞাসা করে দেখতে পারেন। কারণ একটানা সর্বাধিক সময়কালে তিনিই এই দেশ শাসন করেছেন।

পল্লবী। মিরপুর সাড়ে এগারো। ঢাকা।

৬ অক্টোবর ২০১১।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s