সময় হয়েছে চক্র ভাঙ্গার


(লেখাটি প্রকাশিত হয়েছিল ২০০৭ সালের ১৭ এপ্রিল যায়যায়দিনে)

এক. দেশে এখন একটা শুদ্ধি অভিযান চলছে৷ সবাই খুশি৷ রাজনৈতিক দলগুলোও মেনে নিয়েছে৷ আরো অন্তত ১৮ মাস তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকবে৷ অর্থাত্ আমরা রাজনৈতিক অস্থিরতাবিহীন ৫৪০টি দিন পাবো৷ এই সময়টাকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে৷ দেশের অনেক রকমের উন্নয়নের মতো প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নেও কিছু গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করার এটিই সবচেয়ে উত্তম সময়৷ দেশের উন্নয়নের মূলধারায় প্রযুক্তি খাতের সম্পৃক্তকরণের লক্ষে করণীয়গুলো এখন খুজে বের করা দরকার৷ সম্ভব হলে ভিত্তি রচনা বা ফাউন্ডেশনের কাজটিও করে রাখতে হবে যাতে রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এসে এসময়ে তৈরি করে রাখা ফাউন্ডেশনের উপর কাঠামোটি সহজেই দাড় করাতে পারে৷

দুই. আমাদের দেশের তথ্য প্রযুক্তি খাতের বাধাগুলো কোথায় খুজতে গেলে প্রথমত যে কারণটি সামনে চলে আসে তা হলো ব্র্যান্ডিং না করা৷ অর্থাত্ আমাদের প্রযুক্তি পণ্য ও সেবাগুলোকে আমরা মেড ইন বাংলাদেশ কথাটি দিয়ে বিশ্ব বাজারে প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি৷ কিন্তু এই কাজটি আমরা পোশাক, সিরামিক এবং চা শিল্পে সফলতার সঙ্গে করতে পেরেছি৷ দেশে বিদেশে মানুষ বাংলাদেশের পণ্যকে বাংলাদেশী জেনেই কিনছে৷ এই একই ধরনের কাজ করতে হবে প্রযুক্তি পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে৷ এটি করতে পারলে আমাদের প্রযুক্তি পণ্যও সাফল্যের মুখ দেখতে পারে৷ এটি করা তেমন কঠিন কিছু নয়৷

তিন. সফটওয়্যার খাতে আমাদের বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা সবসময়ই ছিলো৷ পাশাপাশি বিকশিত হওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যাও সবসময়ই ছিলো৷

প্রথম সমস্যাটি হলো বাস্তবতাবর্জিত টার্গেট সেটিং৷ গত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সরকারের আমলে আমরা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার সফটওয়্যার রপ্তানীর টার্গেট করেছি৷ যা কোনোমতেই বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিলো না৷

দ্বিতীয় সমস্যাটি হলো ফলোআপের অভাব৷ ১৯৯৭ সালে প্রফেসর জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ থেকে কমপিউটার সফটওয়্যার রপ্তানীর সমস্যা ও সম্ভাবনার সুলুক সন্ধান করার জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছিল৷ টাস্ক ফোর্স সফটওয়্যার রপ্তানির লক্ষ্যে ৪৫টি করণীয় সম্পর্কিত একটি রিপোর্ট পেশ করেছিল৷ সেই রিপোর্টের ফলোআপ আমরা করিনি৷ অনেকেই মনে করেন সেই রিপোর্টটিকে যদি আমরা অনুসরণ করতাম এবং সেই মোতাবেক সফটওয়্যার খাতকে আপডেট করতাম তাহলে আজকে আমরা বছরে বিলিয়ন ডলার সফটওয়্যার রপ্তানি আয়ের কাছাকাছি পৌছে যেতে পারতাম৷

তৃতীয় সমস্যাটি হলো প্রচারণার অভাব৷ আমরা একটি মেসেজ বিশ্বকে জানাতে ব্যর্থ হয়েছি৷ তাহলো বাংলাদেশ সফটওয়্যার তৈরি করতে পারে৷ প্রচার একটি ধারাবাহিক বিষয়, যা আমরা মেনে চলিনি৷ ২০০১ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সফটএক্সপো-তে এশিয়ান-ওসেনিয়ান কমপিউটিং ইন্ডাস্ট্রি অরগানাইজেশন (অ্যাসোসিও) সভাপতি হ্যারিস টেন মন্তব্য করেছিলেন ইনডিয়ার পর বাংলাদেশ হবে আইটি সুপার পাওয়ার৷ এসময় বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত ও উদীয়মান ২০টি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান তাদের সফটওয়্যার পণ্য ও সেবা সম্পর্কে বাংলাদেশে সফররত অ্যাসোসিওভুক্ত মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, জাপান, শ্রীলংকা ও সিঙ্গাপুর প্রতিনিধদের বাংলাদেশী সফটওয়্যার ও তথ্য প্রযু িক্ত ব্যবসা সম্পর্কে জানাতে পেরেছিলো৷ ধারণা করা হয়েছিল তারা ফিরে গিয়ে অ্যাসোসিও’র সদস্য ১০ হাজার প্রতিষ্ঠারে সামনে বাংলাদেশকে তুলে ধরবে৷ কিন্তু তারা সেই কাজটি করেছেন কিনা তা নিয়ে আর ফলোআপ আমরা করিনি৷ কিংবা আমরা নিজেদের উদ্যোগে তাদেরকে জানানোর জন্যেও পরবর্তীতে কোনো বড় ধরনের প্রচারণায় যায়নি৷ আমাদের রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো কিংবা মন্ত্রণালয় এবিষয়টিকে যতটা গুরুত্ব দিয়ে টেক-আপ করার দরকার ছিলো সেটি করেননি৷

চতুর্থ সমস্যাটি হলো কোয়ালিটি ট্রেনিংয়ের অভাব৷ আমরা সফটওয়্যার রপ্তানীতে সবসময়ই ইনডিয়ার মতো সাফল্য পেতে চেয়েছি৷ কিন্তু এই সাফল্য পাওয়ার জন্য ইনডিয়া যা যা করেছে তার কিছু্‌ই আমরা করিনি৷ যেমন, কোয়ালিটির প্রতি আমরা কখনো গুরুত্ব দেইনি৷ ইনডিয়া সফটওয়্যার রপ্তানীর ক্ষেত্রে কোয়ালিটিকে সর্বদা গুরুত্ব দিয়েছে৷ যে কারণে ১৯৮৭ সালে তারা সফটওয়্যার পলিসি প্রণয়ন করেছে৷ সেই পলিসি মোতাবেক দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য যা যা করার দরকার সবই তারা করেছে৷ যেমন, ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মতো ইনডিয়ার একটি সফটওয়্যার রপ্তানী প্রতিষ্ঠান সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট ক্যাপাবিলিটি ম্যাচুরিটি মডেল (এসইআইসিএমএম)লেভেল ৫ সার্টিফিকেশন লাভ করে৷ ২০০০ সালের জুন পর্যন্ত হিসেব অনুযায়ী বিশ্বের মোট ২৩টি সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসইআই লেভেল ৫ সার্টিফিকেশন পেয়েছে যার মধ্যে ১৫টিই হলো ইনডিয়ান প্রতিষ্ঠান৷ ইতোমধ্যে ইনডিয়ার  ১৭০ টি সফটওয়্যার কোম্পানী আইএসও ৯০০০ সার্টিফিকেট অর্জন করেছে৷

পঞ্চম সমস্যাটি হলো সুপারফিসিয়াল কথাবার্তা৷ আমাদের নীতি নির্ধারকগণ ১৯৯০ সাল থেকে সবসময়ই বলে আসছেন কিছু দিনের মধ্যেই আমরা ডাটা এন্ট্রি আর সফটওয়্যার রপ্তানী করে হাজার হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করবো৷ কিংবা লক্ষ লক্ষ বেকারের কর্মসংস্থানের স্বপ্ন তারা গত এক দশক ধরেই দেখিয়ে চলেছেন৷ পরবর্তীতে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মেডিকেল ট্রান্সক্রিপশনসহ নানাবিধ আইটি এনেবলড সার্ভিস সেক্টর থেকে অফুরান আয়ের সম্ভাবনার ধুম্রজাল৷ এই ধরনের কথাবার্তা মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার পরিবর্তে বাস্তবে যখন ঘটনাগুলো ঘটেনি তখন তারা আরো বেশি হতাশ হয়েছে৷ যার প্রভাব পড়েছে সম্ভাব্য উদ্যোক্তাদের উপরও৷ এই খাতে অনেক সংখ্যক উদ্যোক্তা আমরা এখনো পাইনি তার পিছনের বড় কারণও এই ধরনের সুপারফিসিয়াল কথাবার্তার প্রচার ও প্রচারণা৷

ষষ্ঠ সমস্যা সরকারকে দোষারপ করা৷ আমাদের দেশের তথ্য প্রযু িক্ত সেক্টরে ক্রিস্টাল ক্লিয়ার বলে কোন কিছু নেই৷ তথ্য-উপাত্ত আর পরিসংখ্যান দিয়ে কনক্রিট কোন কিছু প্রকাশ হয় না৷ ভাসা ভাসা এক ব্যাপার স্যাপার সবর্ত্র৷ ফলে যখনই কোন কিছু নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছে তথ্য প্রযুক্তি অঙ্গনের মানুষেরা তখনই নির্দ্বিধায় ‘—-সবদোষবোয়াল মাছের’ মতো দোষ চাপিয়ে দিয়েছেন সরকারের উপর৷ দায়িত্ব এড়ানোর মতো এরচেয়ে চমত্কার পন্থা বাংলাদেশে আর কিইবা হতে পারে৷

 

চার. আমরা মনে করি এই অবস্থার অবসান হওয়া দরকার৷ এজন্য আমাদেরকে আর দেরী না করে কয়েকটি পদক্ষেপ তড়িত্গতিতে নিতে হবে৷ এই লক্ষ্যে যে কাজগুলো করতে হবে তার মধ্যে অন্যতম কাজগুলো হতে পারে নিম্নরূপ:

প্রথমেই কমপিউটার কাউন্সিলকে ক্তিশালী করতে হবে৷ ১৯৮৯ সালের ডিসেম্বরে এক অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে কমপিউটারের ব্যবহারিক কাঠামোর উন্নয়ন এবং কমপিউটার সংক্রান্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ পেশাগত মান উন্নীত করে তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার মোকাবেলা করার জন্য বাংলাদেশী নাগরিকগণকে উপযোগী করে গড়ে তোলার মাধ্যমে বিশ্ববাজারে মানবসম্পদ দক্ষতা রফতানির উদ্যোগ নেয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কমপিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) প্রতিষ্ঠা করা হয়৷ গত ১৮ বছরে এই সংস্থাটি তাদের উপর অর্পিত দায়িত্বের কোনটিই সাফল্যের সঙ্গে পালনে ব্যর্থ হয়েছে৷

সরকার যেমন ভিওআইপি বিষয়টিকে সিরিয়াসলি দেখছে তেমনি সিরিয়াসলি দেখা দরকার কমপিউটার কাউন্সিলের কর্মকান্ডকে৷ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেখা দরকার কমপিউটার কাউন্সিল তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে কেন বছরের পর বছর ধরে ব্যর্থ হচ্ছে৷ তারপর একটি শক্তিশালী কমপিউটার কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এটিকে সচল করে তোলা দরকার৷ দেশের কমপিউটার শিক্ষার মান বৃদ্ধি ও বজায় রাখার দায়িত্ব তাদের৷ প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে বিসিসির দায়িত্ব ও কর্তব্য পুনঃবিশ্লেষণ ও পুনর্নিধারণ হওয়া দরকার৷ বিসিসির প্রধানতম দায়িত্ব হওয়া দরকার সরকারি কমপিউটারাইজেশনের কাজগুলোতে উপযুক্ত কারিগরি ও প্রশিক্ষণ সহায়তা প্রদান৷ বর্তমানে সরকারি কমপিউটারাইজেশন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে অনেক ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় যার সমাধানে ওয়ানস্টপ সার্ভিস না থাকায় কমপিউটার সংগ্রহ, স্থাপন ও ব্যবহার প্রক্রিয়ার কাজটি দীর্ঘায়িত হয়৷ সামগ্রিকভাবে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ সেই অবস্থার অবসানে কার্যকর ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে যেতে পারে বিসিসি৷

আইসিটি পলিসি বাস্তবায়নে কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে৷ একটি দেশে আইসিটির উপযুক্ত প্রয়োগের জন্য যে ধরনের আইন ও নীতিমালা থাকা দরকার আমরা ইতোমধ্যে সেসব প্রণয়নে স¶ম হয়েছি৷ বাংলাদেশে ২০০২ সালের অক্টোবরে একটি জাতীয় আইসিটি নীতিমালা প্রণীত হয়েছে কিন্তু নীতিমালা বাস্তবায়নে আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত উপযুক্ত সার্বিক কোনো কর্মপরিকল্পনা প্রণীত হয়নি৷ তবে দারিদ্র বিমোচন কৌশলপত্র বা পিআরএসপিতে কতগুলো কাজ ২০০৭ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে৷ কিন্তু সেই সব কাজ কারা, কিভাবে এবং কতটা বাস্তবায়ন করবে তার সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই৷ যেমন বলা হয়েছে, খাদ্য, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রদানের জন্য উপজেলার বিভিন্ন স্থানে টেলিসেন্টার স্থাপন করা হবে৷ এমন আরো অনেক সুন্দর সুন্দর পরিকল্পনার কথা পিআরএসপিতে বলা হয়েছে৷ যেমন, বিটিআরসি দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে কম দামে (ওয়ারলেসলোকাল লুপ) প্রযুক্তি প্রদান করবে৷ কিংবা উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টেলিমেডিসিন সেন্টার স্থাপন করা হবে৷ এই বিষয়ে আর দেরী না করে আইসিটি পলিসির আওতায় আমাদের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও তার বাস্তবায়ন করা দরকার৷

মন্ত্রণালয়কে জনগণমুখী হতে হবে৷ বাংলাদেশের বিজ্ঞান তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কি করে সেসম্পর্কে সাধারণ জনগণ জানেন না৷ তবে বিএনপি সরকারের শেষ দিকে পত্র পত্রিকায় খবর বের হয়েছিল বিজ্ঞান তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের কোটি কোটি টাকা লোপাট করেছেন কিংবা দুর্নীতিগ্রস্তদের লোপাটে সহায়তা করেছেন৷ আইসিটি যেহেতু স্বচ্ছতার একটি হাতিয়ার৷ তাই প্রথমত বিজ্ঞান তথ্য যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে স্বচ্ছতা চর্চা করতে হবে৷ অর্থাত্ এই মন্ত্রণালয়ের কাজকর্ম জনগণের কাছে সুস্পষ্ট করে তুলতে হবে৷ অনেকভাবেই তারা এই কাজটি করতে পারে৷ একটি কাজ হতে পারে ওয়েবসাইটে বছরের শুরুতে জানিয়ে দেয়া মন্ত্রণালয় সারা বছর কি করতে যাচ্ছে৷ সেই মোতাবেক কাজের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ওয়েবসাইট আপডেট করা৷ বাংলাদেশে তথ্য যোগাযোগ প্রযু িক্তর অগ্রগতি দেখার দায়িত্বও এই মন্ত্রণালয়ের৷

বিজ্ঞান চর্চা বাড়াতে হবে৷ বাংলাদেশের বাজেটে সবচেয়ে কম বরাদ্দ থাকে গবেষণা উন্নয়ন খাতে৷ বিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণা বাড়াতে না পারলে আমরা জাতি হিসেবে আগাতে পারবো না৷ আমরা কি আশা করতে পারি বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার আগামী বাজেটে এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবেন৷

বিজ্ঞান সাংবাদিকতাকে উত্সাহিত করতে হবে৷ বাংলাদেশে বিজ্ঞান সাংবাদিকতা একটি অবহেলিত বিষয়৷ আমাদের দেশের বেশিরভাগ সংবাদপত্রে সায়েন্স বা বিজ্ঞান বিট বলে কিছু নেই৷ এখানে এনার্জি বিট আছে৷ হেলথ বিট আছে৷ কিন্তু পিওর বিজ্ঞান বলে কিছু নেই৷ একথা ঠিক যে, বিজ্ঞান বলে আলাদা কিছু নেই৷ এটি একটি ক্রস কাটিং ইস্যু৷ তবে বিজ্ঞানকে সাধারণের কাছে জনপ্রিয় করার দরকার আছে৷ আমরা দি দীর্ঘমেয়াদে বিজ্ঞানের সুফল পেতে চাই তবে আমাদেরকে বিজ্ঞান বিষয়ক লেখক সাংবা িদক তৈরি করতে হবে৷ দায়িত্বশীল বিজ্ঞান সাংবাদিকতাকে বিশ্বের অনেক দেশে সরকারিভাবে উত্সাহিত করা হয়৷ বেসরকারিভাবেও তাদের জন্য বছরব্যাপী সুযোগসুবিধা দেয়া হয় যাতে তারা মর্যাদাপূর্ণভাবে জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে সমাজ জনগণের জন্য যথার্থ বিজ্ঞান বার্তা উপযুক্ত সময়ে সরবরাহ করতে পারেন৷ সরকার ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে পারেন৷ সরকারের বিজ্ঞান প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে বিজ্ঞান বিষয়ক লেখালেখিতে উত্সাহিত করার ক্ষ্যে অনুদান দেয়া  যেতে পারে৷

পাচ. ব্র্যান্ডিং করতে হবে দেশেও৷ আমাদের দেশে বিদেশী সফটওয়্যার কেনার একটি প্রবণতা রয়েছে৷ এই প্রবণতা থেকে প্রথমত মুক্ত করতে হবে সরকারি দফতরগুলোকে৷ দেশী সফটওয়্যার দেশে যদি বিক্রি না হয় তবে বিদেশে রপ্তানী করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সাফল্য পাওয়া যাবে না৷ ইনডিয়ার বেলায়ও সেই ঘটনা আমরা লক্ষ্য করেছি৷

শেষ কথা

একটা সময় ছিলো আমরা যখন কথায় কথায় বলতাম দেশে সাবমেরিন কেবল না থাকায় তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে আমরা কিছুই করতে পারছি না৷ দেশে সাবমেরিন কেবল এসেছে বছর পার হলো এখনো আমরা কিছুই করতে পারছি না কেন? সেই প্রশ্নটি অন্যকে দোষ দিতে অভ্যস্তদের করা যেতেই পারে৷ আমাদের দেশের প্রযুক্তির উন্নয়ন কয়েকটি তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক পত্রিকা, তাদের পৃষ্ঠপোষক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবসায়ী, কয়েকজন সুবিধাভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রযুক্তি বিষয়ক জ্ঞানের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিবিহীন কয়েকজন সরকারি আমলার তৈরি জালে আটকে আছে৷ এখন সময় হয়েছে আমাদের এই চক্র ভাঙ্গার৷ এই চক্র যত তাড়াতাড়ি ভাঙ্গা যাবে আমাদের প্রযুক্তির উন্নয়ন ততো দ্রুত ঘটবে৷

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s