অবহেলার শিকার প্রধানমন্ত্রীর সাউথ সাউথ পুরস্কার লাভ


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাউথ সাউথ পুরস্কার লাভের সংবাদটি বাংলাদেশের গণমাধ্যমে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয়নি৷ এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরকারিভাবে পরিচালিত ডিজিটাল বাংলাদেশ শীর্ষক ওয়েবসাইট (http://www.digitalbangladesh.gov.bd/)-এ সংবাদটি দায়সারাভাবে প্রকাশিত হয়েছে৷ ডিজিটাল বাংলাদেশ শীর্ষক ওয়েবসাইটের কর্তাব্য িক্তরা প্রধানমন্ত্রীর সাফল্যের সংবাদটি একটি জাতীয় ইংরেজি দৈনিকের সংবাদকে লিঙ্ক আকারে প্রকাশ করে তাদের দায়িত্ব সেরেছে৷ এমনকি ওয়েবসাইটের বাংলা সংস্করণে (http://www.digitalbangladesh.gov.bd/bangla/index.php) প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কার পাওয়ার সংবাদটি পর্যন্ত নেই৷ অথচ প্রধানমন্ত্রীর সাউথ সাউথ পুরস্কারের সঙ্গে ডিজিটাল বাংলাদেশের কর্মকান্ডের ওতপ্রোত সম্পর্ক রয়েছে৷

প্রধানমন্ত্রী নারী ও শিশু স্বাস্থ্য উন্নয়নে তথ্য প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাউথ সাউথ পুরস্কার লাভ করেছেন৷ অথচ ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির চালিকা প্রকল্প একসেস টু ইনফরমেশন কর্তৃক পরিচালিত ডিজিটাল বাংলাদেশ শীর্ষক সরকারি ওয়েবসাইটে প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কার লাভের সংবাদটি বাংলায় প্রকাশ করার মতো দায়িত্বপালনেও অদক্ষতা দেখালো প্রকল্পের কর্তাব্যক্তিরা এটি এমন একটি সংবাদ যে একে ঘিরে একাধিক ফিচার প্রকাশিত হতে পারত৷ বাংলাদেশে তথ্য প্রযু িক্ত প্রয়োগের মাধ্যমে নারী ও শিশু স্বাস্থ্য উন্নয়নে কি কি কর্মকান্ড বাস্তবায়িত হয়েছে এবং আগামীতে আরো কি করা হবে তার বিস্তারিত বাংলা ভাষায় প্রকাশিত হলে দেশের আপামর জনগণ সেকথা জানতে পারত৷ কিন্তু অজ্ঞাত কারণে প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কার লাভের বিষয়টি একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের অবহেলার শিকার হয়েছে৷

আমরা আরো লক্ষ্য করি যে, প্রধান প্রধান জাতীয় দৈনিক ও টিভি চ্যানেলগুলোও সংবাদটি প্রকাশে কাপর্ণ্য করেছে৷ এতো বড় একটি সুসংবাদ দেশের বেশিরভাগ মানুষ জানতে পেরেছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার পক্ষ থেকে সংবাদপত্রগুলোর প্রথম কিংবা শেষ পাতায় বড় আকারে ছাপা হওয়া অভিনন্দন, শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা শীর্ষক বিজ্ঞাপন থেকে৷ বিজ্ঞাপনগুলো দিয়েছে ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ আরো অনেকে৷ আমরা জানি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রচারে অনেক অর্থ খরচ হয়৷ ফলে, বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পুরস্কারের বিস্তারিত দিক বিজ্ঞাপনদাতাদের পক্ষে জনগণের সামনে প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি৷ এখানে ইন্টারনেটে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই পুরস্কারের বিস্তারিত দিক তুলে ধরা হলো৷

সাউথ সাউথ পুরস্কারের উপর একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট (http://www.southsouthawards.com/) আছে। এখান থেকে জানা যায় যে, পুরস্কার প্রদানের বণ্যর্ঢ্য অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল নিউইয়র্কের প্রাচীণ হোটেল ওয়ালডর্প এস্টোরিয়ায়৷ ১৮৯৩ সালে প্রথমে ওয়ালডর্প এবং পরবর্তীতে ১৮৯৭ সালে এস্টোরিয়া হোটেল চালু করা হয়৷ বর্তমানে হিলটন ওয়াল্ডওয়াইডের মালিকানাধীন এই হোটেলে ৪৭টি তলা ও ১,৫০৮টি কক্ষ রয়েছে৷ এই হোটেলে অনেক বিখ্যাত লোক বিভিন্ন সময়ে থেকেছেন৷ তবে যার নাম বিশেষভাবে উচ্চারিত হয় তিনি হলেন আমেরিকার রাজনীতির ইতিহাসে প্রথম আইরিশ ক্যাথলিক রাজনীতিবিদ যিনি ‘কিংমেকার’ নামে সর্বাধিক পরিচিত মি. জেমন এলয়সিয়াস ফারলে৷ তিনি আমেরিকার ৫৩তম পোস্ট মাস্টার জেনারেল ছিলেন৷ প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের নির্বাচনে জেতার পেছনে তার অবদান সর্বাধিক বলে সবাই জানে৷ তিনি কোকাকোলা কোম্পানির চেয়ারম্যান থাকাকালে ১৯৪০ সাল থেকে মৃত্যুর পূর্বপর্যন্ত ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত, মোট ৩৬ বছর ধরে ওয়ালডর্প এস্টোরিয়া হোটেলের পাশাপাশি দু’টি কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন৷ এতোটা দীর্ঘ সময় ধরে এখানে আর কেউ থাকেনি৷ মেরিলিন মনরো ১৯৫৫ সালে এই হোটেলে কয়েকমাস থাকলেও, এক পর্যায়ে তিনি এই হোটেলের অত্যধিক ভাড়ার কারণে হোটেল বদলাতে বাধ্য হন৷ এই হোটেলের বর্তমানে সর্বনিম্ন রুম ভাড়া হলো ২৫০ ডলার৷ তাছাড়া অনেক গ্যাংস্টার ও মাফিয়া ডনরা এই হোটেলে থেকেছেন বলেও ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে৷ এই হোটেল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন: http://www.waldorfnewyork.com/

এই হোটেল অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী৷ টাইটানিক জাহাজ ডুবির তদন্ত কার্যক্রম ১৯১২ সালে এই হোটেল থেকে পরিচালিত হয়েছে৷ কাকতালীয়ভাবে টাইটানিক জাহাজ ডুবিতে যারা বেঁচে গেছেন তাদের একজন মেডেলিন এই হোটেলের সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাকব এস্টোর ফোরের দ্বিতীয় স্ত্রী৷ আমেরিকার ন্যাশনাল ব্রডকা িস্টং কোম্পানি এনবিসি-র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও এই হোটেলে ১৯২৬ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ ১৯৪৮ সালের ২১ জুন বিশ্বের প্রথম এলপি রেকর্ড উদ্বোধন হয় এখানে৷ এই তালিকা আরো দীর্ঘ করা যেতে পারে৷ এখানেই সর্বশেষ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী ও শিশু স্বাস্থ্য রক্ষায় তার অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সাউথ সাউথ পুরস্কার গ্রহণ করলেন৷ পুরস্কার প্রদান উপলক্ষ্যে বিশাল সঙ্গীত অনুষ্ঠান হয়েছে৷ অনেক নামী দামী শিল্পীরা সেখানে গিয়েছেন৷ ওয়েবসাইটের বেশিরভাগ পাতায় সেসব শিল্পীদের কথা বলা হয়েছে৷ যেমন, ওয়েবসাইটের ‘এবাউটদি এওয়ার্ডস’ বোতাম চাপলে পুলডাউন মেনুতে দু’টি বিষরে বোতাম রয়েছে৷ একটি হলো ‘মাস্টার অফ সেরেমনি’ এবং অন্যটি ‘সাউথ সাউথ এওয়ার্ডস পারফরমার’৷ মাস্টার অফ সেরেমনি ছিলেন সুপারমলে প্যাট্রিশিয়া ভেলাস্কুয়েজ (PATRICIA VELASQUEZ)৷ পারফরমার হিসেবে ছিলেন কেনি জি-সহ মোট ১২ জন বিশ্বসেরা শিল্পী৷ ওয়েবসাইটে ‘ক্যাটাগরি’ নামে একটি বোতাম আছে যেখানে কোন কোন ক্ষেত্রে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে তার উল্লেখ রয়েছে৷ এখানে কারো নাম না উল্লেখ করে বলা আছে যে যাদেরকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে তারা রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান, ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে সিইও, এনজিও নেতা এবং স্বতন্ত্র ব্যক্তি যারা বিশেষ দক্ষতা দেখাতে সক্ষম হয়েছেন৷ ‘সাপোর্টার্স’ বোতাম চেপে আপনি এই পুরস্কারে কারা স্পন্সর তাদের নাম দেখতে পাবেন৷ একটি হলো পোলারিশ এভিয়েশন সলিউশন নামের একটি প্রাইভেট জেট এয়ারক্রাফট কোম্পানি (http://polarisaviation.com/index.aspx)৷ অন্যটি হলো চীনের বেইজিংয়ে অবস্থিত কুল কার্টুন কমিউনিকেশন কোম্পানি লিমেটেড৷ এদের কোন ওয়েবঠিকানা দেয়া নাই৷ ‘টিভি ডিস্ট্রিবিউশন’ বোতারে অধীনে ‘ব্রডকাস্ট ইনফো’-তে বলা হছে যে,  ১৯ সেপ্টেম্বর “ডিজিটালহেলথ ফর ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট” হলো এবছরের সাউথ-সাউথ পুরস্কারের প্রতিপাদ্য বিষয়৷ পুরস্কারের আয়োজক যৌথভাবে এন্টিগুয়া ও বারবুডার প্রধানমন্ত্রী, আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন আইটিইউ, ইউনাইটেড নেশনস ইকনোমিক কমিশন ফর আফ্রিকা এবং সাউথ সাউথ নিউজ৷

ওয়েবসাইটে ‘সাউথ সাউথ নিউজ’ নামে একটি বোতাম আছে৷ এটি চাপলে পুলডাউন মেনুতে তিনটি পৃথক বোতাম পাওয়া যাবে৷ একটি হচ্ছে সাউথ সাউথ নিউজ প্রেসিডেন্Uরে বাণী৷ অন্য দুটির একটিতে নিউজ কাভারেজ এবং অন্যটিতে স্পেশাল কাভারেজ রয়েছে৷ নিউজ কাভারেজ বোতাম চাপলে আপনি যে পাতায় যাবেন সেখানে শুরুতে তিন সারিতে ১৮ জন বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের বক্তব্য রাখার ছবি পাবেন৷ যার মধ্যে প্রথম ১২ জন পুরুষ৷ এবং শেষ সারিতে দুইজন নারীর ছবি রয়েছে৷ এই পাতার নিচের দিকে আপনি ত্রিশটি মিনেয়েচার ছবি দেখতে পাবেন৷ এই ছবিগুলো স্লাইড শো আকারে উপরে দেখা যাবে৷ এখানে দু’টি ছবিতে আমারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাস্যজ্জ্বোল ছবি দেখা যাবে৷ একটিতে তিনি অন্যদের সঙ্গে টেবিলে উপবিষ্ট৷ অন্যটিতে তিনি পদক নিচ্ছেন৷ তবে এই পদকের ছবিটি বাংলাদেশের পত্রপত্রিকায় ছাপা হওয়া সাউথ সাউথ পুরস্কারের নয়৷ এটি ভিন্ন একটি পুরস্কারের ছবি৷ এটি হলো ২০১০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি যে এমডিজি পুরস্কার পেয়েছিলেন সেই ছবি৷ এসম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন: http://gurumia.com/2010/09/20/prime-minister-sheikh-hasina-receives-un-award/| কেন এই ছবিটি এখানে ব্যবহার করা হলো তা বোধগম্য নয়৷ যাহোক, সাউথ সাউথ এওয়ার্ড ওয়েবসাইটে সর্বসাকুল্যে এই আছে৷ এতো বড় একটি পুরস্কার নিয়ে যে ওয়েবসাইট সেখানে সেই পুরস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরার বদলে অনুষ্ঠানের শিল্পীদের কথা বেশি বেশি করে লেখা হয়েছে এমনকি যারা পুরস্কার পেলেন তাদের জীবন ও কর্মও এখানে অবহেলিত৷ এমনটা দেখে হতাশ হতে হয়৷ ওয়েবসাইটের ‘কন্ট্যাক্ট’ বোতাম চেপে একটা ইইেল ফরমে আপনি আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন৷

২ অক্টোবর৷ পল্লবী। ঢাকা।

(রাইট টার্ন, বিপরীত স্রোত, বর্ষ ১, সংখ্যা ২৮, মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর ২০১১)

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s