লাইফস্টাইলও তরুণদের বেশি মৃত্যুর কারণ


আজকাল দেখা যাচ্ছে সব দেশেই তরুণ ছেলেরা মেয়েদের তুলনায় বেশি মৃত্যুর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে৷ এর কারণ তাদের জীবনযাপন প্রণালী৷ বিভিন্ন গবেষণা থেকেও এই সত্যিটি বের হয়ে আসছে৷

গবেষণা থেকে দেখা যায় ১৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের মধ্যে মারা যাওয়ার ক্ষেত্রে নাম্বার ওয়ান কারণ দুর্ঘটনা ও আত্মহত্যা৷ অন্যদিকে হৃদরোগ, ক্যান্সার, ক্রনিক লিভার রোগসহ নানাবিধ রোগে মারা যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে ৩৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সীদের মধ্যে৷

প্রতিটি দেশেই পুরুষরা এমন সব কারণে মারা যাচ্ছে যার অনেকগুলোই এড়ানো সম্ভব৷ বেশিরভাগ মৃত্যুর কারণের সঙ্গে সরাসরি কিংবা কমবেশি জীবনযাপনের ধরন ও ঝুঁকি গ্রহণের যোগসূত্র রয়েছে৷ ইংল্যান্ডের লীডস মেট্রোপলিটান ইউনিভার্সিটির গবেষক এলান হোয়াইটের বক্তব্য এমনই৷

এলান তার সহকর্মী মাইক হোমসের সঙ্গে মিলে ৪৪টি দেশের ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সীর মৃত্যুর কারণগুলো বিচার বিশ্লেষন করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন৷ তারা দেখেছেন প্রতিটি দেশেই পুরুষরা বেশি মারা যাচ্ছেন৷ যেমন, থাইল্যান্ডে তারা দেখেছেন ওই বয়সী জনসংখ্যার ৩৫ শতাংশ মারা যাচ্ছেন যেখানে সুইডেনে ওই বয়সী মানুষের মধ্যে মারা যাওয়ার হার ৩.৫ শতাংশ৷

তাদের গবেষণায় দেখা যায় ১৫ থেকে ৪৪ বয়সীদের মধ্যে বেশি পুরুষ মারা যাচ্ছেন থাইল্যান্ড, ব্রাজিল, কাজাখস্তান এবং ফিলিপন্সে অন্যদিকে একই বয়সীদের মধ্যে মারা যাওয়ার হার কম জাপান, নেদারল্যান্ড এবং ইটালিতে৷ ব্রাজিলে তরুণদের মারা যাওয়ার সর্বোচ্চ কারণ খুনোখুনি৷ অন্য িদকে  জাপানে এই বয়সীরা মারা যাচ্ছেন মূলত আত্মহত্যার কারণে৷ তাদের গবেষণা থেকে জানা যায় ইওরোপের উত্তরের ধনী দেশগুলোর তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি৷ দক্ষিণের গরিব দেশগুলোতে আত্মহত্যার ঘটনা তেমন নেই৷

কেন এই গবেষণা করলেন তেমন এক প্রশ্নের জবাবে গবেষকরা বলেন, আমরা চাই সরকার পুরুষদের স্বাস্থ্যের বিষয়টিতে আরো বেশি মনোযোগ দিক৷ তারা মনে করিয়ে দেন, আপনি যখন একজন তরুণ পুরুষের স্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেন তখন শুধু তার স্বাস্থ্যই দেখছেন না৷ আপনি তাদের পরিবারগুলো এবং সমাজের ভবিষ্যত্ও দেখছেন৷ তবে একথা মনে রাখতে হবে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এবং যে দেশগুলো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে তেমন দেশগুলোতে তরুণরা বেশি সংখ্যায় মারা যাচ্ছে৷ তবে তাদের এই গবেষণায় সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং ইনডিয়া, পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ার কারণে৷

গবেষকরা বলেন, ক্যান্সার, হৃদরোগ এবং ক্রনিক লিভার রোগে মারা যাওয়ার তথ্য থেকে একথা সুস্পষ্ট যে, জীবনের সঙ্গে লাইফস্টাইল বা জীবনযাপন প্রণালী খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ ধূমপান এবং এলকোহল গ্রহণ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি বড় সমস্যা৷

তারা আরো লক্ষ্য করেছেন মেয়েদের ক্ষেত্রে ব্রেস্ট ক্যান্সার, ওভারি এবং সার্ভিক্স ক্যান্সার মৃত্যুর অন্যতম কারণ হলেও ক্যান্সার হওয়ার দিক থেকে ছেলেরাও পিছিয়ে নেই৷ তারা আরো লক্ষ্য করেছেন ছেলেরা ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে মেয়েদের তুলনায় তাড়াতাড়ি মারা যান৷

(৯ আগস্ট ২০০৬ সালে যায়যায়দিনে প্রকাশিত)

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s