ভিক্ষুক নিয়ে কয়েক লাইন পর্ব ১- ভিক্ষুকের ব্যবসায়ী হওয়া!


আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা এমন এক দেশে যেখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে ভিক্ষা করা হয়। স্কুলে পড়াকালীন ‘সাপ্তাহিক একতা পত্রিকা’ পড়া, ‘খেলাঘর আসর’ করা, কোরআন হাদিস পড়া, মহানবী (সাঃ) এর জীবনপাঠ সবমিলিয়ে ভিক্ষা বিষয়টি নানান আঙ্গিকে আমার মাথায় ঢুকে গেছে। পরবর্তীকালে কর্মসূত্রে ‘প্রকল্প প্রস্তাবনা’ বা ‘প্রজেক্ট প্রোপজাল’ লিখে ভিক্ষা করার নানান দিকগুলো দেখার সুযোগ আমার হয়েছে। তবে অতো বড় পরিসরে ভিক্ষা নিয়ে লেখার জন্য আজকে বসিনি। আজকে একদমই ব্যক্তিগত পর্যায়ে ঢাকার ভিক্ষুকদের পর্যবেক্ষণ থেকে দুয়েকটি কথা শেয়ার করার জন্য লিখতে বসা।

আমি একসময় ঢাকার রাস্তায় খুব হেটে বেড়াতাম। বেশিরভাগ সময় একাই হাটতাম। পরবর্তীকালে প্রেম ও বিয়ে সূত্রে বউ হাটার সঙ্গী হয়েছিল। আজকাল এই হাটাটা আর হয় না। এটা শুধু ব্যস্ততার জন্য নয়। ঢাকার রাস্তায় হাটার পরিবেশও দিনে দিনে কমেছে। এ‍কা যখন হাটতাম তখন সুযোগ পেলেই পথচলা ভিক্ষুকদের সঙ্গে গল্প করতাম। মনে পড়ে মিরপুর ১০ নাম্বার থেকে মিরপুর ২ নাম্বার পর্যন্ত হাটাপথে এক ভিক্ষুক বললো রাতে সে মসজিদে ঘুমায়। দিনের বেলা ভিক্ষা করে। ভিক্ষার জমানো টাকা মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছে জমা রাখে। ওখান থেকে কিছু টাকা নিয়ে দুই তিন মাস অন্তর বাড়ি যায়। বাড়ি কিশোরগঞ্জ। আর বাকিটা ইমাম সাহেবের কাছে থাকে। এ পর্যন্ত ৪০ হাজার টাকা জমেছে। ওই টাকা থেকে ইব্রাহীমপুর কাচা বাজারে এক লোককে ১০ হাজার টাকা ব্যবসার জন্য দেবে বলে কথাবার্তা চলছে।

ভিক্ষুকদের সঙ্গে এ ধরনের আলাপচারিতার কোন ফলো আপ কখনো করা হয়নি। আজকে লিখতে বসে মনে হলো মিরপুর ১৩ নাম্বারে যে মসজিদে থাকে বলেছিল সেখানকার ঠিকানা নিয়ে রাখলে এখন হয়তো খোঁজ নেওয়া যেতো। তবে প্রায় ৮/৯ বছর আগের সেই লোককে পাওয়া যেতো কিনা কে জানে। সেই ভিক্ষুক হয়তো আজকে ইব্রাহিমপুরের কাচা বাজারের বড় ব্যবসায়ী কিংবা এখনো সে ভিক্ষা করে এবং কাচা বাজ‍ারে বিনিয়োগ করছে।

পর্ব ২: ভিক্ষুকের আচরণ পরিবর্তন সম্ভব

পল্লবী। মিরপুর সাড়ে এগারো। ঢাকা। ২৮ অক্টোবর, ২০১১।।

Advertisements

One thought on “ভিক্ষুক নিয়ে কয়েক লাইন পর্ব ১- ভিক্ষুকের ব্যবসায়ী হওয়া!

  1. ভিক্ষুকদের নিয়ে আপনার লেখার তারিখটা বেশ লক্ষ্যনীয়। ২৮ অক্টোবর, ২০১১ সন। মাঝে মাঝে চলমান গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আপনাকে বেশ মৌন দেখি। মাঝে মাঝে আপনাকে বুঝিনা। বুঝার চেষ্টা করছি। আমার কমেন্ট যুক্ত হলো ১৫ এপ্রিল, ২০১২ তারিখে যখন সুরঞ্জিত বাবু বেশ বেকায়দায় আছেন। আপনি ব্লগে ফেসবুক দুটোতেই অনুপস্থিত।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s