ঘুষ দুর্নীতির অংশ নয়


চমকে উঠার মতো কিছু নেই। কথাটি সত্যি ভাবলেই সত্যি। আসলেই ঘুষ দুর্নীতির অংশ নয়।

অভিধানে বলা আছে ঘুষ হলো-অবৈধ সহায়তার জন্য প্রদত্ত গোপন পারিতোষিক। কিন্তু বাস্তবে কি হয়? আমরা প্রতিনিয়ত বৈধ সহায়তার জন্য প্রকাশ্যে অর্থ দিচ্ছি। সকলেই জানছে। কতো লেনদেন হচ্ছে তাও পরিস্কার। তারপরও বলা হচ্ছে এটা ঘুষ।

এবার দেখুন দুর্নীতি সম্পর্কে অভিধানে কি বলা আছে। দুর্নীতি হলো নীতিবিরুদ্ধ, কুনীতি, অসদাচরণ। সমাজের নানান অংশে ঘুষ নামে যে অর্থের লেনদেন হয় তার মধ্যে কয়টা ঘটনা নীতিবিরুদ্ধ, কুনীতি বা অসদাচরণ রয়েছে? কয়েকটি উদাহরণ দেই দেখুন।

উদাহরণ ১: হঠাৎ বরিশাল যেতে হবে। গাবতলী গিয়ে জানা গেলো বাসে সিট একটা আছে কিন্তু সেটা একদম পিছনের সারিতে। তবে একজন ডি লাইনের একটি টিকেট নিয়েছিলেন কিন্তু এখন যাবেন না। তার টিকেটটা নেওয়া যেতে পারে। টিকেটটা যার হাতে সে আবার যাত্রী না। আপনি বুঝতে পারছেন এটা কলার বয়। মানে যারা যাত্রীদের ডাকে আর কি। আপনাকে টিকেট দেওয়া হলো। আপনার মনটা ভালো হয়ে গেলো। সামনের দিকে সিট পেয়েছেন। আপনি জিজ্ঞাসা করলেন কতো দেব। এই ফাকে টিকেটের গাযের দামটা দেখে নিলেন। লোকটা কিছুই বলছে না। দ্বিতীয়বার জিজ্ঞাসা করায় বলল, দ্যান একটা কিছু ইনসাফ কইরা। আপনি টিকেটের দামের উপর আরো ২০ টাকা তাকে খুশি হয়েই দিলেন। এটা কি ঘুষ? এটা কি দুর্নীতি?

উদাহরণ ২: কোন উৎসব পার্বন নয়। ঢাকার সদরঘাট থেকে টিকেট কাটতে কে যাবে? লোক না পাওয়ায় বরিশালে আপনি ফোনে একজনকে বললেন যে, একটা ডাবল কেবিন রাখতে। যথারীতি কেবিন রাখা হলো। আপনি নিয়মিত যাত্রী না হওয়ায় জানেনও না কেবিন ভাড়া কতো। যাহোক। আপনাকে জানানো হলো কেবিন ভাড়া ১৫০০ টাকা দিতে হবে। সকালে যখন টিকেট হাতে পেলেন দেখলেন টিকেটের গায়ে লেখা ১১০০ টাকা। কি ব্যাপার। জিজ্ঞাসা করতে বলা হলো সব কেবিন থেকেই ৪০০ টাকা বেশি নেওয়া হয়। এটা নিয়ম। সবাই জানে। আপনি যার মাধ্যমে টিকেট করিয়েছিলেন পরে তাকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলেন যে লঞ্চের কেরানি ঠিকই বলেছে। এটা কি ঘুষ?

উদাহরণ ৩: একজন তার বাসার মেইন ইলেকট্রিক লাইন চেঞ্জ করার জন্য ডেসকোতে গেলো। তার একটু তাড়াহুড়ো ছিলো। ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করল। তাকে জানালো বিষয়টি। তিনি তার অধঃস্তনকে তাড়াহুড়োর বিষয়টি বলে ব্যবস্থা নিতে বললেন। গ্রাহক ধরেই নিয়েছেন যে তাকে ১/২ হাজার টাকা অতিরিক্ত দিতে হবে। কিন্তু তিনি জানেন না শেষে কি হবে! যাহোক, মাত্র ১ দিনের ৮/১০টা সিগনেচার হয়ে গেলো। টাকা জমা দেওয়া হলো। পারমিশন কমপ্লিট হলো। গ্রাহক ইতস্ততঃ করছেন কতো দেবেন সেনিয়ে। কারণ তার ঘুষ দেওয়ার অভিজ্ঞতা নেই। অধঃস্তন লোকটা তাকে বলল, আপনি চলে যান কালকে আপনার বাসার লাইন চেঞ্জ করে দেওয়া হবে। তখন সুযোগ পেয়ে সে বলল, আমাকে কতো দিতে হবে? লোকটা তাকে অবাক করে দিয়ে বলল, কিছুই দিতে হবে না। গ্রাহকেরই তখন খারাপ লাগতে শুরু করল। এই খারাপ লাগাটা তাকে কিছু না দিতে পারার। কারণ, গ্রাহক শুনেছে যে মেইন লাইন চেঞ্জ করা ও লোড বাড়ানোর জন্য ৪/৫ হাজার টাকাও কেউ কেউ দেয়। তাহলে হলোটা কি? ঘুষ দিতে না পারার এই মনোবেদনা এই দেশের অনেক লোকের হয়।

উদাহরণ ৪: একবার এক বিদেশী একটা লাইট শেড তার অফিসের সাপ্লায়ারকে দেখিয়ে বলল, এটা তোমাদের দেশে কতো দাম। সাপ্লায়ার বলল, এক্সাটলি জানিনা। তবে ১৫ হাজারের মতো হবে। বিদেশী তাকে তখন বলল, ঠিক আছে তুমি আমার কাছ থেকে এগুলো ১৫ হাজার টাকা করে কিনে নেবে। আর তুমি ৯০ হাজার টাকা করে বিল করবে। সেখান থেকে তুমি ১৫ হাজার নিয়ে নেবে। ইঙ্গিত পরিষ্কার। সাপ্লায়ার সেই মোতাবেক ওই অফিসে যে কয়টা লাইট শেড দরকার ছিলো তার কাছ থেকে নিয়ে নিয়েছে। এটা কি ঘুষ? নাকি দুর্নীতি?

উদাহরণ ৫: এক বিদেশী কোন একটি এনজিও প্রজেক্টের জন্য যতো টাকা দরকার তারচেয়ে ৬৫ হাজার ডলার বেশি দিয়ে সেখান থেকে তাকে যাবার সময় ৪৮ হাজার আমেরিকান ডলার ক্যাশ দেওয়ার জন্য বলে দিলো। যারা কাজটা পেয়েছে তারা ১৭ হাজার ডলার লাভ হওয়াতেই খুশি। এটা কি ঘুষ? নাকি দুর্নীতি?

চলবে………..

Advertisements

3 thoughts on “ঘুষ দুর্নীতির অংশ নয়

  1. #১ – ঘুষ নয়।
    #২- এটিও ঘুষ নয়!
    #৩ – কথা সত্য; এইটা আমাদের একটা বদ-চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য।
    #৪ – দূর্নীতি। তবে ঘুষও হতে পারে; এইভাবে না করলে যদি কাজ না পায়, তাহলে দুর্নীতি -ঘুষ।
    #৫ – #৪ দেখুন!

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s