আগামী নির্বাচনে হাসিনার ক্ষমতায় আসার চান্স কতটুকু?


(প্রতিদিন লেখালেখির কৌশলের অংশ হিসেবে ৩০ মিনিটে লেখার এটা তৃতীয পর্ব। এই লেখাটা আমি উৎসর্গ করছি মিলকী ভাইকে। মিলকী ভাইয়ের পুরো নাম- সাইদুল হক মিলকী। প্রোগ্রাম কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট হিসেবে কাজ করেন ইউনিসেফের এডুকেশন সেকশনে।)

ইউনিসেফের নতুন নিয়ম অনুযায়ী একবার কার্ড ইস্যু করে এক ফ্লোরে ঢোকার পারমিশন পাওয়া যায়। এই অবস্থায় একাধিক ফ্লোরে যেতে হলে, সেখানকার কারো সঙ্গে দেখা করতে হলে আগের কার্ড ফেরত দিয়ে নতুন কার্ড ইস্যু করতে হবে। এই কাজটি করতে হবে অফিসের তিন তলাতে। তারমানে আপনি যদি ৫ ও ৬ তলায় দু’জনের সঙ্গে দেখা করতে চান তাহলে প্রথমে তিন তলা থেকে কার্ড ইস্যু করে কোন একটি তলার কাজ সারতে হবে এরপর তিন তলায় সেই কার্ড ফেরত দিয়ে আবার নতুন কার্ড নিয়ে অন্য তলায় যেতে হবে। এটা হলো একটা উপায়। অন্য উপায়টি হলো আপনি যার কাছে যাবেন তিনি যদি এসে দরজা থেকে আপনাকে রিসিভ করে।

তো আমি কার্ড নিয়ে গিয়েছিলাম চারতলাতে। সেখানকার কাজ সেরে আমি ফোন দিলাম বদরুল ভাইকে। তিনি বসেন ২য় তলায়। বললেন- আমি তো ক্যাফেটারিয়ায় এলাম। ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি একটা বাজে। বললাম আমার জন্য একটা খাবার নেন, আমিও আসছি! ক্যাফেটারিয়ায় গিয়ে দেখি আমাদের খাবার টেবিলে বদরুল ভাই ছাড়াও ওমর ফারুক ভাই, মিলকী ভাই এবং আরো দু’জন আছেন। দুয়েকটা কথার পর মিলকী ভাই দেশের কথা জানতে চাইলেন। নরসিংদী প্রসঙ্গ এলো। দেশ কেমন চলছে। আগামী নির্বাচনে হাসিনা আবার ক্ষমতায় আসতে পারবেন কিনা। ইত্যাদি ইত্যাদি। এক পরযায়ে মিলকী ভাই জানতে চাইলেন আমার ব্লগে মোট হিট সংখ্যা কতো হলো। উত্তর শুনে বললেন, খুব ভালো তো। তখন আমি পাঠক আরো বাড়ানো নিয়ে আমার কালকের ফেসবুক স্ট্যাটাসের কথা বললাম। তিনি বললেন, পড়ার সময় পান না।

আসলেই তো সত্যি কথা। আজকাল মানুষ খবরের কাগজেরও হেডিংই বেশি পড়ে। খাওয়া শেষে আরো কিছু সময় ইউনিসেফে কাটিয়ে বের হলাম। উদ্দেশ্য গুলশান এক নাম্বারে যাবো। রাস্তা পার হয়ে পিজির সামনে গিয়ে দেখি গুলশান এক নাম্বারে যাওয়ার মতো কোন গাড়ির কাউন্টার নেই। কয়েকটা সিএনজিকে জিজ্ঞাসা করলাম। দুয়েকটা যেতে রাজী হলো। দেড়শো টাকা। আমার কাছে ভাড়াটা অনেক বেশি মনে হলো। এই রুটটা আমার খুব পরিচিত না। গুলশান পরিবহন এমন আর কি কি যেন বাস রাস্তায় দেখেছি। নন্দনে যায় এমন একটা বাসের কাউন্টারে বললাম, ভাই গুলশানে যাওয়ার বাস নেই? বলল, এখানে না শিশু পার্কের সামনে থেকে উঠতে হবে। মনে হলো, সেটাই ভালো। হেটে হেটে শিশু পার্কের সামনে গিয়ে দেখি ওখানে কোন বাসের কাউন্টার নেই। ওই লোকটার উপর মেজাজ খারাপ হলো। আবার হেটে হেটে পিজির সামনে এলাম। মনে হলো রাস্তায় যে ভীড় তারচেয়ে বরং বনানী চলে যাই। সেখান থেকে রিকশা নিয়ে গুলশান এক নাম্বারে চলে যাব। বনানী গেলে বিআরটিসিতে যাওয়াই ভালো। একটা টিকেট নিলাম। তখনই বাস এলো। বাসে উঠে দেখি এসি বাস! নতুন গাড়ি। ভালোই লাগলো। কিন্তু দুপুরের রোদে এতোক্ষণ হাটাহাটি করার পর কিছুটা ঘেমে গিয়েছিলাম, এনিয়ে কিছুটা অস্বস্তি কাজ করতে লাগল! বনানী নেমে রাস্তা পার হয়ে হেটে হেটে পোস্ট অফিসের গলিতে গিয়ে রিকশা নিলাম। বনানী এলাম ১৫ টাকায়। আর রিকশা ভাড়া নিলো ৩০ টাকা। মোট ৪৫ টাকায় শাহবাগ থেকে গুলশান এক নাম্বারে এলাম। দেড়শো টাকা সিএনজি ভাড়া থেকে বাচলো ১০৫ টাকা। কিন্তু আনুমানিক ৬/৭ কিলোমিটার রাস্তার জন্য ভাড়া গুনলাম ৪৫ টাকা। সময়ও লাগলো অনেক। একাধিকবার পরিবহন পাল্টাতে হলো। সরকার এই শহরের জনপরিবহণ ব্যবস্থার কোন উন্নয়ন করতে পারলো না।

ফেরার সময় অবস্থা আরো খারাপ হলো। ৫টা ১০ মিনিটে গুলশান এক নাম্বার গোল চক্করে এসে দাড়ালাম একটা সিএনজির আশায়। পল্লবী ফিরব। একটা যেতে রাজী হলো। ২০০ টাকা। মনে হলো এটা দেবো না। সিএনজিওয়ালা রাস্তায় প্রচুর জ্যামের কথা বলল। আসলেই অনেক জ্যাম। কি করব। তাই বলে বেশি ভাড়া। মিটারে যাবে না। অনেকক্ষণ পর দ্বিতীয়টা পেলাম। একই কথা ২০০ টাকা। নিলাম না। ৬টা ১০ মিনিটে মনে হলো। বাসায় যাওয়া দরকার কারণ কালকে একটা লেখা জমা দিতে হবে। সময় যাওয়া মানে টাকা চলে যাওয়া!! কিংবা রাত জাগা। এরপর আর স্কুটার পেলাম না যে পল্লবী আসবে। দেখি একুশের গাড়ি যাচ্ছে। ভাবলাম একুশেই যাবো। হেটে হেটে একুশের কাউন্টারে এসে দেখি লাইনের যে দৈর্ঘ্য তাতে অন্তত আরো ঘণ্টাখানেক দাঁড়াতে হবে। হাটতে শুরু করলাম। ফুটপাথে হাটার উপায় নেই। কখনো কখনো ফুটপাথ কখনো রাস্তা এভাবে শুধু আমি না আমার সঙ্গে আরো কয়েকশ মানুষ হাটছে। এই সরকার হাটার জন্য ফুটপাথও দিতে পারলো না। হাটতে হাটতে মিলকী ভাইয়ের কথা মনে পড়ল। বনানীর এক ফুটপাথে হাটার সময় তার ছিনতাই হয়েছিল। তিনি আহত হয়েছিলেন। হেটে হেটে মহাখালী, চেয়ারম্যানবাড়ী, রেলক্রসিং, সৈনিক ক্লাব পার হয়ে ক্যান্টমেন্টের মধ্যে রিকশা স্ট্যান্ডে এসে যখন পৌঁছলাম তখন দেখি ৪০ মিনিট হেটে ফেলেছি। ওখান থেকে একটা রিকশা ৮০ টাকায় নিয়ে বাসায় এলাম।

পাঠক, আজকেই প্রথম হাটা নয়। এই কাজটি প্রায়ই করতে হয়। কিছুদিন আগে গুলশান এক নাম্বারে সেভ দি চিলড্রেনে মিটিং ছিলো সকাল ১০টায়। বাসা থেকে সাড়ে আটটায় বের হয়ে সাড়ে এগারো বাস স্ট্যান্ডে এসে দেখি যে সিএনজি আছে সেগুলো গুলশানে যাবে না। এখান থেকে গুলশান এক নাম্বারে যাওয়ার অন্য কোন বুদ্ধিও নেই। সময় বাঁচাতে উত্তরার গাড়িতে উঠলাম। বনানী নেমে যাব। মহাখালী নামা যাবে না। কারণ মহাখালী থেকে রিকশা পাওয়া যাবে না। মহাখালী ফ্লাইওভার ব্রিজের কাছে যখন পৌঁছলাম তখন ১১টা বাজে। আগেই ফোন করে রানা ভাইকে বলে দিয়েছি আমার আসতে দেরী হবে। রানা ভাই বললেন, আমার তো সমস্যা নেই কিন্তু বকুল ভাই বসে আছেন। উনার আবার অন্য জরুরি কাজ আছে। বাস ব্রিজের উপর দিয়ে যাবে কিন্তু যে পরিমাণ জ্যাম তাতে বনানী যেতে যেতে আরো দেরী হবে। হাটা শুরু করলাম। মাত্র ১৭ মিনিটে চলে এলাম সেভ দি চিলড্রেন এর অফিসে। এটা পোস্ট অফিসের গলিতে। কিন্তু ঘেমে অবস্থা খারাপ। ঢোকার পরই রানা ভাই এক গ্লাস পানি দিলেন। পানি খেলাম। টিস্যু দিয়ে ঘাম মুছলাম। তারপর মিটিং। ভাবছিলাম, এটা যদি অপরিচিত কোন অফিস হতো তবে কি হতো? কিংবা কোন করপোরেট অফিস!

আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় বলেছে, বিএনপি-জামাত জোট সরকারের দুর্নীতি ও দুঃশাসন, সংকটাপন্ন বাংলাদেশ থেকে তারা দেশকে উদ্ধার করবে এবং কর্মসূচির অগ্রাধিকার তালিকার ৫.৭ এবং অন্যান্য কর্মসূচির ১৫ ধারায় যা কিছু অঙ্গীকার করেছে তার কোন প্রতিফলন নেই। জনগণ দেখছে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের দুর্নীতি ও দুঃশাসন, সংকটাপন্ন বাংলাদেশ এখন আওয়ামী লীগের দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছে মাত্র।

খাবার টেবিলের আলোচনায় হাসিনা আবার ক্ষমতায় আসতে পারবেন কিনা সেনিয়ে কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারিনি! কিন্তু এখন বলছি যে অবস্থা দেখছি তাতে আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটে হাসিনার ক্ষমতায় আসার চান্স নেই। অন্য কিছু হলে ভিন্ন কথা। এই নগরে প্রতিনিয়ত আমার মতো মানুষের যে দীর্ঘশ্বাস যুক্ত হচ্ছে বাতাসে, যে অসহায়ত্ব আমাকে মনে করিয়ে দেয় আমি এই দেশে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক। তেমন মানুষই তো এই শহরে বেশি। এই দেশে বেশি। যারা এক আল্লাহ/খোদা/গড ছাড়া আর কারো কাছে প্রতিকার চাইতে পারে না। তাদের ভোট কোন অধিকার নয়, উপলক্ষ মাত্র।

Advertisements

2 thoughts on “আগামী নির্বাচনে হাসিনার ক্ষমতায় আসার চান্স কতটুকু?

  1. পাঠক প্রতিক্রিয়াঃ
    খুবই বাস্তবধর্মী লেখা; পড়তে পড়তে হাঁপিয়ে গেলুম; ঘটিখানেক জল পান করে তবে ধাতস্ত হলুম। নাহ, এ যেন নিজেই হাটছিলুম ঢাকার পথে।

    ঘরপোড়া বাংলাদেশী প্রতিক্রিয়াঃ
    বলেন কি! ২০২১ এর আগেই! ভাগ্যিস আল্লাহ ডঃ শেখ হাসিনা ওয়াজেদকে রেখেছেন, নইলে দেশ উচ্ছন্নে যেতো! 😦

  2. The reality of the situation that we face everyday is leaving its mark on all of us. That is what will count two years from now. I hope our representatives realize that. Do we have a choice? Will we be going through the same cycle of inertia again with a new set? Still we dream and hope for change that may never come. Great work Nabi Bhai, keep writing. You will make us headline readers into regular readers soon.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s