এই দেশে ৬০+ বয়সী সৎ ও সাহসী মুরব্বি কি নেই?


(আজকের ৩০ মিনিটের এই লেখাটি আমার বন্ধু আলিমুল হক টিপুকে উৎসর্গ করছি। যাকে ছোটবেলায় বন্ধুরা বিচারক নামে ডাকত।)

মাঝে মাঝে আমার অদ্ভুত সব ইচ্ছে হয়। ইদানীংকালে আমার ইচ্ছে হয় অসৎ মন্ত্রী এমপিদের গালে কষে দু’টো থাপ্পড় দিতে। তারপর সেটা ফেসবুক স্ট্যাটাসে দিয়ে দিতে। কিন্তু কীভাবে সেটা সম্ভব?

আমি ভাবি এমন যদি হতো আমার পরিবারে আমার চেয়ে ছোট কেউ মন্ত্রী এমপি হলো। সে অসৎ। একদিন তাকে আমার রুমে ডেকে পাঠালাম তারপর তার দুই গালে দুটো থাপ্পড় দিয়ে বললাম- তুই হয় ঠিক হবি নতুবা আমাদের পরিচয় আর দিবি না।

আমার জানা মতে, আজ অবধি কোন মন্ত্রী এবং এমপির গালে এমন থাপ্পড় দেওয়ার কথা তাদের গুরুজনদের কেউ ভাবেননি। কথা হলো, এই ধরনের থাপ্পড় খেয়ে কি দুর্নীতিবাজ ও অসৎ মন্ত্রীরা কি সৎ ও ন্যায়পরায়ন হয়ে উঠবে?

আমি বিশ্বাস করি অবশ্যই। কারণ, অসভ্য অসৎ নেতাদের ধরে যদি বাবা কিংবা দাদা পেটাতো। ওই পরিবারের অন্যরা একদম লাঠির মতো সোজা হয়ে যেতো। তখন দেখা যেতো অসৎ মন্ত্রীদের সন্তানেরাও পরযন্ত তাদের বাবা কিংবা মায়ের অসৎ কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন করছে। এখানে শর্ত হলো ওই বাবা বা দাদা যিনি পেটাবেন তাকে নিজেকে সৎ হতে হবে।

রাষ্ট্রীয়ভাবে মন্ত্রীদের অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী এই কাজটি করতে পারবেন না সামাজিকতার কারণে কিংবা বড় কোন শহরের কোন একজন সৎ ও ন্যায়পরায়ন মুরব্বিস্থানীয় মানুষও কাজটি করতে পারবেন না। কিন্তু এই কাজটি অনায়াসেই ওই পরিবারের একজন সৎ ও ন্যায়পরায়ন মুরব্বি ঠিকই করতে পারেন। কারণ তিনি তো পরিবারের মুরব্বি আর ওই মন্ত্রী তো তার চোখের সামনেই বড় হয়েছে।

আমি ভেবে পাই না। একটি উপজেলার একজন এমপি কিংবা নেতা কি করে কি হয়েছেন সেতো সেই উপজেলার সবাই জানে। ওই নেতাকে ন্যাংটো কাল থেকে চেনে এলাকার যে মুরব্বি, হতে পারেন তিনি আত্মীয় কিংবা অনাত্মীয় কিংবা তিনি হতে পারেন স্কুলের শিক্ষক। তার কি সেই সাহস নেই যে, একজন অসৎ মন্ত্রী কিংবা এমপি বা নেতাকে দুই গালে কষে থাপ্পড় দেওয়ার। তাহলে আর সমাজে মুরব্বি আছেন কেন? তবে এই ধরনের পদক্ষেপ নিতে হলে মুরব্বি কিংবা শিক্ষককে সৎ ও ন্যায়পরায়ন হতে হবে। নিজে যদি সৎ না হন তাহলে তারা এই কাজটি করতে পারবেন না বা করলেও তার কোন ইতিবাচক প্রভাব থাকবে না।

এই দেশের সংস্কৃতিতে তো মুরব্বীদের সবাই সম্মান করে। তারা কি সেই সম্মান রক্ষা করছেন? আমার খুব শখ হয় সেই সম্মান রক্ষা করার। আমার যদি সুযোগ মেলে, কোনদিন যদি আমার পরিবারের কেউ সামাজিক দায়িত্ব নেয়, এমপি হয়, মন্ত্রী হয় এবং অসৎ পন্থা অবলম্বন করে তাহলে আমি তার গালে কষে থাপ্পড় দেব। তারপর আমার যা হবার হবে। পরিবারের মুরব্বিরা যদি দায়িত্ব পালনে এগিয়ে না আসেন সমাজে তো অসৎদের রাজত্বই আরো মজবুত হবে। এই দেশকে এখন টেনে তুলতে হলে পরিবার ও সমাজের ন্যায়নীতিবান মানুষদের এগিয়ে আসার চেয়ে উত্তম পন্থা অন্য কিছু নেই। ৬০+ সৎ ও ন্যায়পরায়ন মুরব্বিরা সাহসে বুক বাধুন। আপনি চলে যাবেন কিন্তু কিছু একটা দেশের জন্য করে যান। দেশের জন্য কঠোর হোন। পরিবার ও সমাজের অসৎ লোকদের সোজা করুন। আপনাদের সুচিন্তিত পদক্ষেপই পারে আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে।

দেশে কি ন্যায় ও নীতিপরায়ন মুরব্বি মানুষের আকাল পড়েছে? যদি আকাল নাই পড়বে তাহলে এই দেশে ৬০+ বয়সী মুরব্বিরা কোন ধরনের পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করছেন না। তাদের উচিৎ অসৎ নেতাদের ধরে ধরে পেটানো। আপনি কি বলেন?

Advertisements

9 thoughts on “এই দেশে ৬০+ বয়সী সৎ ও সাহসী মুরব্বি কি নেই?

  1. এই দেশের সংস্কৃতিতে তো মুরব্বীদের সবাই সম্মান করে। তারা কি সেই সম্মান রক্ষা করছেন?
    আপনার মত একই ইচ্ছা দীর্ঘদিন ধরে লালন করছি …

  2. মদনমোহন তর্কালঙ্কার বলেছিলেন–”আদেশ করেন যাহা মোর গুরুজনে, আমি যেন সেই কাজ করি ভাল মনে।”। আপনার লেখাটা পড়ে আমার বলতে ইচ্ছে করছে—-আহারে কত ভক্তি তব গুরু চরণে, তবুও আছিস তুই মুদিত নয়নে। ধন্যবাদ সুন্দর একটি ভাবনা শেয়ার করার জন্য!

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s