মেয়র খোকা জনপ্রিয় বিশ্বাস করি না


ঢাকার মেয়র খোকা বলেছেন যে, সরকার তার জনপ্রিযতায় ভয় পেয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দুই ভাগে ভাগ করতে চাচ্ছে। তিনি বলেছেন যে, তিনি চান ঢাকা অখণ্ড থাকুক। প্রয়োজনে তিনি নর্বাচন করবেন না। তার আত্মপ্রত্যয়ী কথাবার্তা শুনতে ভালো লেগেছে। কিন্তু এই শহরের একজন নাগরিক হিসেবে আমি মনে করি না মেয়র খোকা জনপ্রিয়।

ঢাকায় যখন পরিবারের সঙ্গে আসি তখন আমার বয়স ২ বছর কয়েকমাস। ১৯৭০ সালে ঢাকায় বাড়ি তৈরি হলেও যুদ্ধের কারণে সেই বাড়িতে আসতে হয়েছে ১৯৭২ সালে। পশ্চিম রাজাবাজার। ১৯৯৩ সালে বিয়ে করে পৃথক বাড়িতে নিজের সংসার শুরুর আগে এই বাসাতেই আমার শৈশব, কৈশোরের কিয়দংশ, এবং তারুণ্যের শুরুটা কেটেছে। মাঝে ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৮৪ সাল সময়টুকু খেপুপাড়ায় ছিলাম।

আমার ছোটবেলার পশ্চিম রাজাবাজারে কোন ওষুধের দোকান পরযন্ত ছিলো না। মনে আছে তখন ক্লাস থ্রি কিংবা ফোরে পড়ি। একদিন ইলেকট্রিক তারের ভেতরের তামা বের করতে গিয়ে নতুন সেভেন ও ক্লক ব্লেডে বাহাতের বুড়ো আঙ্গুল প্রায় খসিয়ে দিয়েছিলাম! গভীর ক্ষত। ভয়ে আঙ্গুলে তোয়ালে চেপে রক্ত লুকাতে চাইলেও কিছুতেই সেটা হলো না। বাসায় জানাজানি হয়ে গেলো। তখন পড়িমড়ি করে আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো পূর্ব রাজাবাজারের হক ফার্মেসিতে। ওটাই ছিলো কাছের ফার্মেসি। এসময়ে ইন্দিরা রোডে আরেকটি ফার্মেসি ছিলো। নামটা ভুলে গেছি। ফার্মগেট এলাকায় তৃতীয় ফার্মেসি ছিলো আনন্দ সিনেমা হলের কাছে ইসলামিয়া মিষ্টির দোকান ও ইসলামিয়া ফার্মেসি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যেদিন হত্যা করা হলো সেই সকাল বেলা সকল গোলাগুলির শব্দ পরিষ্কার শুনেছি। তখন আমাদের বাসার একতলার ছাদ থেকে শুক্রবাদের নিদমহনল হোটেলটা যেখানে ওই অংশটা ফাঁকফোকর দিয়ে দেখা যেতো। দাদার হাত ধরে ধানমন্ডি লেক। মানিকমিয়া এভিনিউ। কিংবা লস্কর বাড়ির কোনায় বকুল ফুল কুড়ানো ছিলো নিত্যদিনের ঘটনা। তল্লাবাগ তখনো তেমনভাবে গড়ে উঠেনি। সোবাহানবাগ তো নয়ই! ইন্দিরা রোডের দোহা সাহেবের বাড়ির পেছন থেকে বিক্রমপুর হাউজ পরযন্ত অনেকখানি জুড়ে ধান চাষ হতো। পাসপোর্ট অফিসটা তখন লস্কর বাড়ির উল্টোদিকে। লস্কর বাড়িটা চিনেছেন তো? ইন্দিরা রোডের যে বাড়িটায় এখন সিএনজি স্টেশন। পাসপোর্ট অফিসটা যে কম্পাউন্ডে সেখানেই এখন কালিন্দি এপার্টমেন্ট। আমি ক্লাস ওয়ানে রাজধানী স্কুল, টু-তে সেন্ট মার্গারেট টিউটোরিয়াল, থ্রি থেকে সেভেন পরযন্ত ধানমন্ডি বয়েজ স্কুলে পড়ার সুবাদে এবং একা একা স্কুলে যাওয়ার কারণে এই অংশটা খুব ভালোভাবে চিনতাম। এরপর ৮০ থেকে ৮৪ সালটা খেপুপাড়া স্কুলে পড়া শেষ করে ঢাকায় নটরডেমে পড়ার সুবাদে এবং বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের কারণে মতিঝিল, আরামবাগ, মালিবাগ, মগবাজার, কমলাপুর, রামকৃষ্ণমিশন রোড, গেন্ডারিয়া, ধুপখোলা মাঠ, লোহার পুল, সদরঘাট এলাকাগুলোতেও যাতায়াত হতো খুব। এসময়ে প্রতিমাসে একবার করে চকবাজার যাওয়া হতো। তারপর ১৯৯৩ সালে বিয়ের পর প্রথমে কল্যাণপুর ১ নং রোডে একবছর এরপর মোহাম্মদপুর ইকবাল রোডে দেড় বছর এবং গত ১৫ বছর ধরে পল্লবীতে থাকার সুবাদে এই জায়গাগুলোর নাগরিক সুবিধাগুলো দেখা হয়েছে। আর এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে তো নানান জায়গায় বেড়াতে গিয়েছি। সবমিলিয়ে, যদি বলি বলতে হবে মেয়র খোকা এই শহরের জন্য কিছুই করেননি! যা করেছেন সেটা খোকা না হয়ে অন্য কেউ হলেও হতো। অতএব তিনি জনপ্রিয় সেটা বিশ্বাস করি না।

তবে, তাকে রেখে আওয়ামী লীগ মেয়র নির্বাচন করতে ভয় পায় সেটা আমি অবিশ্বাস করি না। কারণ, আওয়ামী লীগ মেয়র খোকার চেয়েও অজনপ্রিয়। সেকারণে নির্বাচনে তারা হারতে পারে সেই সম্ভাবনাই বেশি। কারণ, জনগণ নাগরিক সুবিধা বিবেচনায় নয় সামগ্রিকভাবে দেশ পরিচালনায় আওয়ামী লীগ সরকারের যে ভুলগুলো তার কারণেই আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে না। এটাকে মেয়র খোকা নিজের জনপ্রিয়তা মনে করলে সেটা হবে, বিনাকারণে আত্মতৃপ্তির একটি উদাহরণ মাত্র!

Advertisements

2 thoughts on “মেয়র খোকা জনপ্রিয় বিশ্বাস করি না

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s