পর্ণোগ্রাফির সঙ্গে ধর্মের শত্রুতা না বন্ধুত্ব?


গত জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশে ইন্টারনেট পর্ণোগ্রাফি বেড়ে গিয়েছিল। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী এব্যাপারে তার উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার কথা বলেছিলেন। ২০০২ সালে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পর্ণোগ্রাফি ও পর্ণোমুভি ক্লিপিংস তৈরি ও সেগুলোর বিতরণ পত্র পত্রিকায় বেশ আলোচিত হয়েছিল। কিন্তু এই ধরনের পর্ণোগ্রাফির সঙ্গে ইসলাম কিংবা ধর্মভিত্তিক কোন রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার কথা শোনা যায়নি। যেমনটা জানা গিয়েছে অক্টোবরে জার্মানীতে।

জার্মানীর পর্ণো ইন্ড্রাস্ট্রির সঙ্গে সেই দেশের ক্যাথলিক চার্চের যোগসূত্র নিয়ে খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। খবরে জানা যায়, জার্মানীর বিখ্যাত ওয়েল্টবিল্ড পাবলিশিং কোম্পানির শতভাগ মালিকানা ক্যাথলিক চার্চের। এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত প্রকাশিত বই, ‍ডিভিডির একটি অংশ পর্ণোগ্রাফিভিত্তিক। বিষয়টি চার্চের নজরে আনা হলে তারা দাবী করে যে, চার্চ প্রায় ১০ বছর ধরে এই ধরনের পণ্য বিক্রি না করার জন্য চেষ্টা করলেও প্রতিষ্ঠানের কতিপয় উৎসাহী লোকজনের কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ওয়েল্টবিল্ড কোম্পানির বার্ষিক মোট বিক্রয় ১.৭ বিলিয়ন ইউরো বা ১৭ হাজার কোটি টাকা এবং জার্মানীতে দ্বিতীয় বৃহত্তম অনলাইন স্টোর। তাদের দখলে রয়েছে জার্মানীর মোট আভ্যন্তরীণ বইয়ের বাজারের ২০ শতাংশ। কোম্পানিতে মোট কর্মীর সংখ্যা ৬,৪০০। তাদের অনলাইন ক্যাটালগে যে বইয়ের তালিকা পাওয়া গিয়েছে তার মধ্যে ২,৫০০ বই হলো যৌন উদ্দীপনামূলক কিংবা পর্ণোগ্রাফিক বই, যা চার্চের শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বইয়ের শিরোণামের মধ্যে রয়েছে: “Anwaltshure” (Lawyer’s Whore), “Vögelbar” (F—kable) and “Schlampen-Internat” (Sluts’ Boarding School).

বিখ্যাত মাফিয়া কাহিনীভিত্তিক মুভি ‘গড ফাদার’-এও দেখা যায় বিশ্বের বড় বড় বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে চার্চগুলো। বিদেশী আরো অনেক মুভিতে এই ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। সেকারণে অনেকে প্রশ্ন তোলেন, ধর্মের শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এই ধরনের কাজগুলোর সঙ্গে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে জড়িত করার দায়ভাগ কার? এটা কি কিছু সংখ্যক মানুষের যারা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত? নাকি ওই ধর্মের সকলের?
কোন ধর্মই পর্ণোগ্রাফিকে সমর্থন করে না। পর্ণোগ্রাফির সঙ্গে ধর্মের কোন মতেই বন্ধুত্ব হতে পারে না। ধর্মকে কলুষিত করে মূলত কিছু মানুষ। স্বার্থবাদী মানুষ কখনো ধর্মের নামে, কখনো সমাজের নামে, কখনো ভোটের নামে, কখনো জনগণের নামে ঘোরতর অন্যায়ে লিপ্ত হয়। এদের পাপ কর্মের জন্য এরাই শাস্তি পাবে। এজন্য ধর্মকে দোষারোপ করা ঠিক হবে না। কিন্তু ধর্মকে অপছন্দ করে এমন একদল বিরুদ্ধবাদী মানুষ সবসময় সুযোগ খুঁজে বেড়ায় যারা কিছু মানুষের অপরাধকে ধর্ম আর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অপরাধ হিসেবে প্রচার করে থাকে। যেমন, তারা জঙ্গিবাদকে ধর্মের সঙ্গে জুড়ে দেয়। কিন্তু কোন ধর্মই জঙ্গিবাদ কিংবা পর্ণোগ্রাফিকে সমর্থন করে না।
আসুন আমরা যেন ব্যক্তির অপরাধ দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ে ধর্ম থেকে দূরে সরে না যাই।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s