শীতকাল প্রমাণ করে………..


এই দেশে শীত মানে অনেক কিছু। শীতকাল প্রমাণ করে এই দেশে বিচিত্র ধরনের মানুষ বসবাস করে। বিচিত্রতায় ভরা তাদের দিনকাল। শীতকালে স্কুলগুলোতে বার্ষিক পরীক্ষা শেষের ছুটি শুরু হওয়ায় সন্তানদের ঘিরে যাদের জীবন তারা বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে গ্রামে যান, অন্যরা কেউ ছুটি কাটাতে দেশ ও দেশের বাইরে চলে যান। গ্রামের মানুষের জীবনে শীত নানা ভাবে ধরা দেয়। একসঙ্গে বসে তাপ পোহানো। শীতের সকালে দীর্ঘ সময় ধরে আড্ডা দেওয়া। উত্তরবঙ্গের কিছু কিছু জায়গায় শীতকাল মানে দেরী করে ঘুম থেকে উঠা। আর অলস দিন কাটানো। সিলেট আর চট্টগ্রামে শীতকাল মানে ওয়াজ মাহফিল আয়োজনের মওশুম। আমি এক শীতে লোহাগড়া ছিলাম। প্রতি রাতে এতো বেশি ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন হতো এবং এতোটা স্বল্প দূরত্বে যে এক মাইকের শব্দে অন্য মাইকের কথা শোনা মুশকিল ছিলো। একসময় এই দেশে শীতকালে সাকার্স আর যাত্রার আসর বসতো। আমি জানি না তার বর্তমান অবস্থা কি।

তবে শীতকালে ধনী ও গরিব সবার বাড়িতে তরিতরকারি রান্না নিয়ে চিন্তা কমে যায়। এসময়ে বাজারে প্রচুর ও অনেক ধরনের সবজি পাওয়া যায়। দামও থাকে নাগালের মধ্যে।

শীতকালে এই দেশের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়। সারাবছর ধরে রাজনীতিবিদগণ অপেক্ষা করতে থাকেন কখন শীত আসবে আর মানুষের শান্তিপূর্ণ জীবন যাপনকে তারা অস্থির করে তুলবেন। যারা বেড়াতে যেতে যান তাদের যাত্রাপথ যাতে দুশ্চিন্তায় কাটে তার জন্য যতো রকমের ব্যবন্থা করা যায় আর কি। হত্যা, গুপ্তহত্যা, খুন, রাহাজানি বাড়িয়ে তোলা হয়। রাজনীতিবিদগণের যেন পণ হলো শীতের ছুটি যেন সাধারণ মানুষ উপভোগ করতে না পারে।

শীতকালে সরকারের অত্যবশ্যকীয় সেবাগুলোও কেমন যেন মিইয়ে যায়। কুয়াশার দোহাই দিয়ে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

অনেক মানুষ শীত ভালোবাসে। আমি বাসি না। কারণ এই দেশের মানুষের শীত মোকাবেলার সামর্থ্য কম। ছয় ঋতুর এই দেশে শুধু শীত ঋতুতেই মানুষ প্রকৃতির কাছে অসহায় হয়ে জীবন দিতে বাধ্য হয়। ১০ ডিগ্রী তাপমাত্রার শীতেও যে মানুষ মারা যেতে পারে তার বড় প্রমাণ এই দেশ। স্বাধীনতার ৪০ বছরে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব যারা নিয়েছে তারা সামান্য এই ব্যবস্থাটি পরযন্ত করতে পারেনি। আমার সীমিত সামর্থ্যে আমি শীতকে অপছন্দ করা ছাড়া আর কিইবা করতে পারি। যদি কেউ বলেন, আমরা আমাদের পুরনো গরম কাপড় তাদেরকে দিতে পারি। আমি বলব কেন? আমি নতুন গরম কাপড় পড়ব আর তারা কেন আমার দেওয়া পুরনো কাপড় পড়বে?

এটা তো বন্যা কিংবা ঘূর্ণিঝড় নয় যে হঠাৎ করে সব কিছু লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে। স্বাধীনতার ৪০ বছর পরেও শীতের কাপড় কেনার সামর্থ্য কেন থাকবে না একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের? এই দেশে ৫০ হাজার কোটি টাকায় এয়ারপোর্ট করার পরিকল্পনা হয়। নদী মাতৃক এই দেশে ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে সেতু বানানোর পরিকল্পনা হয়। খননের অভাবে নদী মারা যায়। ঢাকা শহরে আরো কয়েক লাখ কোটি টাকা খরচ করে রাস্তাঘাট বানানোর চিন্তা করা হয়। কিন্তু গ্রামের উন্নয়নের জন্য কি করা হচ্ছে? দান খয়রাত করে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তো এই দেশ স্বাধীন করিনি। প্রতিবছর শীত আসবে। আর সেই শীতে মানুষ মারা যাবে। কিছু লোক শীতবস্ত্র সংগ্রহ করবে। তারপর ঘটা করে সেগুলো বিতরণ করবে। প্রশ্ন হলো কেন এই দেশের মানুষকে অন্যের কাছ থেকে শীতের পোশাক ভিক্ষা নিতে হবে? রুট কজ খুঁজে বের করুন। ৪০ বছর ধরে একই কাণ্ড চলছে। লজ্জা করে না আমাদের! আর কি দিয়ে প্রমাণ করতে হবে যে, আমাদের নেতৃত্ব ভুল। জাতীয় নেতারা ব্যর্থ। আসুন সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ে আন্দোলন করি। জ্ঞানভিত্তিক আন্দোলন করি। ক্ষমতায় গিয়ে যদি সাধারণ মানুষের মধ্যে মরযাদাবোধই তৈরি না করতে পারলাম তাহলে ক্ষমতায় যাই কেন!

Advertisements

3 thoughts on “শীতকাল প্রমাণ করে………..

    • ধন্যবাদ সুমন। এখানে শুধুমাত্র আইডিয়াটা দেওয়া হয়েছে। ৩০ মিনিটের লেখায় এরচেয়ে বেশি কিছু দেওয়া সম্ভবও নয়! এটিকে বিভিন্ন আঙ্গিকে চিন্তা করতে হবে। তোমরা বন্ধুরা যারা এই দেশকে আগামীতে নেতৃত্ব দেবে তাদের চিন্তায় ভিন্নতা আসা দরকার। প্রচলিত ধ্যান ধারণা থেকে বের হয়ে আসা দরকার।
      মূল কথাটি হলো এই দেশ আমাদের। আমাদেরকেই এই দেশ গড়তে হবে। আর সেজন্য দরকার প্রথমত দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো। আমরা কি নিয়ে রাজনীতি করব সেটা চিন্তা করা দরকার। চিন্তা করা দরকার কেন রাজনীতি করব। কাদের জন্য রাজনীতি করব। নিজেকে বাদ দিয়ে রাজনীতি নয়। কিন্তু শুধু যেন নিজের জন্য রাজনীতি না করি। আর প্রচলিত রাজনৈতিক ধ্যান ধারণাকে যেন বুদ্ধি দিয়ে, জ্ঞান দিয়ে চ্যালেঞ্জ করি।
      শেষ কথাটি হলো, তোমরা পড়ো বলেই আমি লিখতে উৎসাহ পাই।

  1. ধন্যবাদ স্যার…সময়োপযোগী লেখা,কিন্তু আমাদের মন যদিও চায় শীত বস্ত্রহীন মানুষকে সাহায্য কিন্তু সাধ্য কম…তারপরও যত টুকু পারা যায় ততটুকু চেষ্টা করব…।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s