‘ওই বেটি না থাকলে থাকবে না…………রুম ছেড়ে দিতে বলো’


৯৫ ডলারের নিচে এক পয়সাও নয়। ওই বেটি না থাকলে থাকবে না। ওকে রুম ছেড়ে দিতে বলো।- এভাবেই ফ্রন্টডেস্ককে সিদ্ধান্ত দিলো ম্যানেজার। আমি আর ফ্রন্টডেস্কের কর্মী মুখোমুখি। ফ্রন্টডেস্কের কর্মীর মুখে সুস্পষ্ট লজ্জা। এই লজ্জা ধরে পড়ে যাওয়ার। তার লজ্জা দেখে আমারও লজ্জা লাগছিল। আমি অন্য কাজে ব্যস্ত হওয়ার ভাব দেখলাম। ম্যানেজার জানে না ব্রিটিশ ভদ্রমহিলা ও আমি পরিচিত। কিন্তু ফ্রন্টডেস্ক কর্মী সেটা জানে। সেকারণেই তার লজ্জা। ঘটনা হলো ব্রিটিশ ভদ্রমহিলা কয়েকদিনের জন্য একটা রুম ভাড়া নিয়েছেন এই গেস্ট হাউজে। যার ভাড়া প্রতিদিন ৮০ ডলার। তাকে বলা হয়েছে ওই রুমটি তাকে ছেড়ে দিতে হবে। কারণ একটি বড় গ্রুপের জন্য অন্যান্য রুমের সঙ্গে এই রুমটিও আগেই ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেকথা ভদ্রমহিলাকে আগে জানানো হয়নি। এখন তাকে অন্য রুমে শিফট করা হবে। ভদ্রমহিলা বললেন, তাকে শিফট না করে নতুন যারা আসবে তাদেরকে কেন ওই রুম দেওয়া হচ্ছে না? গেস্ট হাউজ জানালো যে, ওটার রেট বেশি। দিনে ১১০ ডলার। প্রশ্ন হলো তাহলে কেন তিনি সেটা নেবেন? তিনি তো বুকিং দিয়েছেন এবং রুমে উঠার সময় তাকে সেটা বলা হয়নি যে তাকে রুম ছাড়তে হবে। এনিয়ে নেগোশিয়নের এক পরযায়ে ম্যানেজারের ওই উক্তি। ব্রিটিশ ভদ্রমহিলা হাল ছেড়ে দিয়ে বিষয়টি মেনে নিলেন।

কিন্তু তিনি যে ম্যানেজারের কথাগুলো একদম খেয়াল করেননি তা নয়। এই ভদ্রমহিলা বাংলাদেশে প্রথম কাজ করতে এসেছিলেন ১৯৮৪ সালে। এরপর ১৯৯৯ সালে তিন বছরের জন্য। এরপর ২০০৯ সালে ছয়মাসের জন্য। এবার আবার এলেন। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন ম্যানেজার কি বলেছে। আমি তাকে বললাম। ব্রিটিশদের চেহারার পরিবর্তন সহজে বোঝা যায় না! এরা যখন প্রশংসা করে তখনও মনে মনে অন্য কিছু ভাবে। শুধু বলল, এটা প্রফেশনালিজম নয়।

তিনি বাংলা সব না বুঝলেও বাংলা বলতে পারেন। সিলেটি ভাষা জানেন। ম্যানেজার তো আর সেটা জানে না!

আমি একসময় কাজের সুবাদে যশোরের ম্যাগপাই হোটেলে উঠতাম। একবার সেখানে গিয়ে দেখি আমার রেঞ্জের রুম নেই। ম্যানেজার আমাকে প্রায় দেড়গুণ ভাড়ার রুমে দিয়ে দিলেন কম ভাড়ায়।

কাস্টমারের মরযাদা কি সেটা কবে শিখবে সার্ভিস সেক্টরের লোকজন?

 

Advertisements

2 thoughts on “‘ওই বেটি না থাকলে থাকবে না…………রুম ছেড়ে দিতে বলো’

  1. বলেন কি!!! তিনি মেনে নিলেন!
    আর এইসব ‘ফকিরা’ জায়গায় থাকাই বা কেন!!!
    ঢাকায় থাকলে কিছু থাপড়ায়া সুখ করা যেতো!!!

    ম্যাগপাই এ আমিও থাকতাম… আর খুলনায় রয়ালে… ফরিদপুরে হোটেল ছিলো না, তবে ওয়াটার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের একটা রেস্টহাউজ ছিলো। বরিশালের আলী ইন্টারন্যাশনাল। অনেকদিন পর্যন্ত ভালো হোটেল ছিলো না চট্টগ্রামে!

    ইচ্ছা করতেছে ওই ম্যানেজারকে গিয়ে এখুনি পিটাই।
    আর মহিলা কোন অফিসের? সে অফিসে লজিস্টক্স অফিসার জাতীয় কেউ বুকিং দিয়েছে কি? সেই অফিসার কি দেখে দিলো? ইজ্জত মারা সারা! 😦

  2. যশোরে পরবর্তীতে আরেকটি হোটেল হয়েছে হাসান। ওটা হওয়ার পর ম্যাগপাইয়ের অনেক কাস্টমার সেখানে চলে গিয়েছে কারণ ওখানে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা আছে। তাছাড়া সেবার মানও ভালো। আর খুলনায় ক্যাসেল সালাম হওয়ার পর রয়্যাল হোটেলের কাস্টমারদের কিছু কিছু সেখানে চলে গিয়েছে। আবার একথাও ঠিক যে, মানুষের মুভমেন্ট বাড়ার কারণে সামগ্রিকভাবে সব হোটেলের ব্যবসাই ভালো।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s