শহরে গরিব (ভাগ্যান্বেষী) মানুষের ভীড় বাড়ছে


গুলশান ৩৪ নাম্বার রাস্তার শেষ মাথায় বনানী ব্রীজের উঠার মুখে হাতের ডানের ফুটপাথের অস্থায়ী খাবারের দোকানটা আগেই ছিল। আজকে সকালে দেখি হাতের বাদিকের ফুটপাথে আরেকটা অস্থায়ী খাবার দোকান লাগানোর প্রস্ততি চলছে। একটি টেবিলে পরোটা বানানোর জন্য ময়দার বড় খন্ড ও বেলুনি। টেবিলের পাশে চুলা জ্বালানো হচ্ছে। অদূরে পেয়াজ ও ডিম। ভাজি তৈরিরও প্রস্তুতি চলছে। বাড়ির দেয়ালে পেরেক লাগিয়ে তাত কলা ঝুলানো হয়েছে। আরেকটি পেরেক বনরুটি। একটি বেকারির ভ্যান থেকে মাত্র কেক দেওয়া হচ্ছে। ওগুলো ঝোলানোর জন্য আরেকটি পেরেক আছে। আমি যখন দোকানটি পার হচ্ছি তখন ৭টা ৩৪ বাজে। একজন মহিলা কাপ ধুচ্ছে বালতির পানিতে। পানি কি লেক থেকে সংগ্রহ করা, জানি না।

১৯৯৬ সালের দিকে সদ্য বিলুপ্ত (!) শ্যামলী সিনেমা হলের সামনে প্রায় প্রতিদিন নতুন নতুন রিকশাচালকের সঙ্গে দেখা হতো। ওই সময়ে আমি বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির এক নাম্বার রোডে যেতাম। যদ্দুর মনে পড়ে রিকশা ভাড়া ছিলো তখন ৩ টাকা বা ৪ টাকা। নতুন রিকশাচালকদের বেশিরভাগ জামালপুর থেকে আসা। আমাদের অফিসের একজন সহকর্মীর বাড়ি ছিল জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে। তিনি তার এলাকার মানুষের জীবনের দুঃখকষ্টের কথা বলতেন। আর সবসময় আশাবাদ ব্যক্ত করতেন এমন দিন নিশ্চয়ই ফুরাবে। ১৯৯৯ সালে ওই অফিস ছেড়ে আসার পরও সেই সহকর্মীর সঙ্গে দুয়েকবার দেখা হয়েছে। আজ সকালে তার কথা মনে পড়ল। তিনি কি এখনো আশাবাদী? ১৯৯৬ সালের পর ১৬ বছর পার হয়েছে। আর স্বাধীনতার পর ৪০ বছর। দু’মুঠো অন্নের জন্য ভাগ্যান্বেষণে গ্রামের মানুষ ঢাকায় ভীড় করবে সেটা নিশ্চয়ই স্বাধীনতার মূলনীতিতে ছিলো না।

পরবর্তীতে আমি জামালপুর এলাকায় কাজের সুবাদে গিয়েছিলাম। দেওয়ানগঞ্জে ছিলামও অনেক দিন। ওখানে একটি চিনিকল আছে। অনেক পুরনো। অব্যবস্থাপনায় ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জীর্ণপ্রায়। আমি যখন সেখানে যাই সময়টা সম্ভবত ২০০০ সাল। দেওয়ানগঞ্জের নদী দখল করে ভরাট করা কিংবা নদীর পানি আটকে প্রভাবশালীদের মাছ চাষের ঘটনা দেখেছি। এই দেশের গ্রামগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর স্থানীয় পরযায়ের নেতাদের প্রত্যক্ষ মদদে একদম ইউনিয়ন পরযন্ত দুবৃত্তায়নের যে রূপ আমি ১৯৯৯ থেকে ২০০৩ সাল পরযন্ত দেখেছি পরবর্তীকালে তাতে কোন পরিবর্তন আসেনি। বরং তার ধারাবাহিকতা চলছে। কখনো বেশি কখনো কম। মূলত, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বরাদ্দকৃত অর্থ এবং বিভিন্ন ধরনের থোক বরাদ্দ, এমনকি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির অর্থকে ঘিরে দুবৃত্তায়নের মূল কারযক্রম চলে। সেখানে আরো যুক্ত হয় বাজার ইজারা, ঘাট ইজারাসহ স্থানীয় পরযায়ের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণের মহড়া। এনজিও কর্মকান্ডের নিয়ন্ত্রণও বাদ যায় না। প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন বনের গাছ, নদীর মাছ ইত্যাদি ঘিরেও চলে এক ধরনের অনৈতিক প্রতিযোগিতা। দখলের রাজনীতি। অসুস্থ এই প্রতিযোগিতায় আইন প্রণেতারা কখনো কখনো নিজে কিংবা তার ভাই ব্রাদাররা সক্রিয় থাকেন। ফলে, দেশের প্রকৃত উন্নয়নে গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে ও গ্রাম পরযায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য তাদের যে দায়িত্ব ও কর্তব্য সেটা তারা পূরণ করছে না।

এভাবেই কি চলবে……………

Advertisements

2 thoughts on “শহরে গরিব (ভাগ্যান্বেষী) মানুষের ভীড় বাড়ছে

  1. নবী ভাই , শহরে জীবিকার সন্ধানে শুধুমাত্র গরিব মানুষের ই ভিড় বাড়ছেনা । প্রতি বছর হাজার হাজার তরুণ শিক্ষা জীবন শেষ করে ঢাকা শহরে আসছে জীবিকার সন্ধানে । এমনিতেই ঢাকার যানজট মানুষের জীবন স্থবির করে ফেলেছে । এভাবেই যদি চলতে থাকে , আজ থেকে ১৫-২০ বছর পর ঢাকা শহরের চিত্র কল্পনা করলে গা শিউরে উঠে ।

    • আমি তোমার সঙ্গে পুরোপুরি একমত সিদ্ধার্থ। ওই যে বললাম, ‘সেখানে আরো যুক্ত হয় বাজার ইজারা, ঘাট ইজারাসহ স্থানীয় পরযায়ের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণের মহড়া। এনজিও কর্মকান্ডের নিয়ন্ত্রণও বাদ যায় না। প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন বনের গাছ, নদীর মাছ ইত্যাদি ঘিরেও চলে এক ধরনের অনৈতিক প্রতিযোগিতা। দখলের রাজনীতি। অসুস্থ এই প্রতিযোগিতায় আইন প্রণেতারা কখনো কখনো নিজে কিংবা তার ভাই ব্রাদাররা সক্রিয় থাকেন। ফলে, দেশের প্রকৃত উন্নয়নে গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে ও গ্রাম পরযায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য তাদের যে দায়িত্ব ও কর্তব্য সেটা তারা পূরণ করছে না।’
      অথচ এই দেশের প্রতিটি গ্রাম হয়ে উঠতে পারে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের এক একটি বড় ক্ষেত্র। তোমাদেরকে সেই কাজটিই করে দেখাতে হবে।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s