খালেদা জিয়ার কাছে ক্ষমতায় যাওয়া ছাড়া আর কি এজেন্ডা আছে, যেখানে আমার স্বার্থ খুঁজে পাব?


khaleda_0_0

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া

খালেদা জিয়া ক্ষমতায় যেতে চান তাতে আমি দোষের কিছু দেখি না। তার দল বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতি করে। অতএব দলের নেত্রী হিসেবে তিনি দলকে ক্ষমতায় নিয়ে যেতে রাজনীতি করবেন সেটাই স্বাভাবিক। ক্ষমতায় যাওয়ার মতো যোগ্যতা তার দলের আছে সেটা বাংলাদেশের ২২ বছরের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে কয়েকবার প্রমাণিত হয়েছে।

গতকাল ঢাকায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট মহাসমাবেশ করেছে। সেখানে খালেদা জিয়া বক্তৃতা দিয়েছেন। তিনি ও তার দলের নেতারা কি বলেন সেটা শোনার আগ্রহ আমার ছিল। এখানে উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক যে, আমার প্রিয় চ্যানেলগুলোর একটি হলো সংসদ টিভি। বাসায় ছিলাম। এখন হলো ডিজিটাল দেশ গড়ার যুগ। ফলে ধরেই নিয়েছিলাম এই কর্মসূচি টেলিভিশনে দেখানো হবে। কিন্তু দেখানো হয়নি। যেকারণে সংবাদগুলোতে খন্ডিতভাবে যে বক্তৃতা দেখানো হয়েছে তা দেখেছি। শুনেছি। তিনি যা বলেছেন তার সারমর্ম আমি বুঝেছি এভাবে- আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার দেশ চালাতে ব্যর্থ। এবং এই ব্যর্থ সরকার দলীয় নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নির্বাচন করে পুনরায় ক্ষমতায় আসতে চায় যা হতে দেওয়া যাবে না। নির্বাচন হতে হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। তেমন নির্বাচন হলে তার নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় আসবেন। তখন তিনি জনগণের জন্য একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দেবেন।

যেহেতু আমি সংবাদের মধ্যে বক্তৃতা শুনেছি সে কারণে পুরোপুরি জানি না সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দেওয়ার জন্য কি পদক্ষেপ নেবেন। তবে খন্ডিতভাবে খবরে যা শুনেছি তাতে একটা দুইটা ব্রিজ করা এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের গৃহীত জনবিরোধী সকল পদক্ষেপ সংশোধনে তারা ব্যবস্থা নেবেন।

সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রের উন্নয়ন হলে সেখান থেকে উন্নয়নের কিছু রস চুইয়ে আমার কাছেও পৌঁছাবে তা মানি। প্রশ্ন হলো, যে রসটুকু আমি পাব আমার কি অতোটুকুই পাওয়ার কথা নাকি বেশি? আবার আমার চেয়ে যারা বেশি রস পাবেন তারা কি সেটা পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন কিংবা যারা কম পাবেন তাদের বেলায় কি ন্যায্য বিচার হবে?

মুশকিলটা এখানেই। সম্পদের বন্টন পদ্ধতিটা কি হবে? কে কতো পাবে সেটা কিসের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে? যে বা যারা খালেদা জিয়ার তোষামোদ করবে, গুণকীর্তন করবে এবং তার সামনে মিথ্যার চাদর বিছিয়ে দিয়ে তাকে বিভ্রান্ত করে রাখবে সেই সকল গুণীজনেরাই কি রাষ্ট্রের সুযোগসুবিধা ভোগের জন্য নির্বাচিত হবেন? নাকি রাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষজন তাদের যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতা অনুযায়ী রাষ্ট্রের সুযোগ সুবিধা পাবেন? খালেদা জিয়াকে আমি কখনো এই বিষয়টি সুস্পষ্ট করে বলতে শুনিনি।

আজকের পত্রিকায় পড়লাম, খালেদা জিয়া বলেছেন যে- সরকার রাষ্ট্রের চারটি স্তম্ভ- প্রশাসন, বিচার বিভাগ, সংসদ ও গণমাধ্যমকে ভেঙ্গে দিয়েছে। ফলে রাষ্ট্র চলছে সরকারের ইচ্ছে অনুযায়ী। দেশের মানুষের কোনো অধিকার আর থাকছে না।

খালেদা জিয়ার এই বক্তব্যের সঙ্গে দেশের সাধারণ মানুষ, এমনকি সরকার পরিচালনায় নিয়োজিত অনেকেই দ্বিমত পোষণ করবে না। সরকারের ভেতরের মানুষজন প্রকাশ্যে না বললেও ভেতরে ভেতরে এবং আড্ডাতে স্বীকারও করেন। এভাবেই বলছিলেন আজকের তৃতীয় মাত্রা অনুষ্ঠানে দুই সাংবাদিক নাইমুল ইসলাম খান ও শ্যামল দত্ত। নাইমুল ইসলাম ও শ্যামল দত্ত সরকারের ও বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ। তবে সাধারণ জনগণ দেখেছে যে, গতকাল তিনটি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠান সম্প্রচার হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

বিএনপি ও চারদলীয় জোটের অনেককে অভিযোগ করতে শোনা গিয়েছিল প্রথম আলো পত্রিকাটি নিলর্জ্জভাবে আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের পক্ষে গত নির্বাচনে তথ্য সন্ত্রাস করেছে। আজকের প্রথম আলো নিয়ে তারা কি বলবে জানি না। আগ্রহীরা দেখতে পারেন: http://eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=1&date=2012-03-13

প্রথম আলোতে গতকালের মহাসমাবেশ নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত এক নিউজে বলা হয়েছে- সন্ধ্যার পর সংসদ ভবন প্রাঙ্গনে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে হানিফ বলেন, ‘চারদলীয় জোটের মহাসমাবেশে জনসমাগম কম হওয়ায় এবং মানুষ আনতে ব্যর্থ হওয়ায় বিরোধীদলীয় নেতা বেসামাল হয়ে অসত্য তথ্য দিয়েছেন। আমরা তার মিথ্যাচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

প্রথম আলোতে খালেদা জিয়ার জনসভার চুম্বক অংশগুলো তুলে দেওয়া হয়েছে। একটি সংবাদে লেখা হয়েছে- খালেদা জিয়া প্রশ্ন রাখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে ভাষায় আমাকে ও বিরোধী দলকে আক্রমণ করেন, তা কি শোভনীয়?’ প্রধানমন্ত্রীকে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পদের মরযাদা ক্ষুন্ন হয়-এমন কথা বলবেন না। আপনি বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার কি কোলে তুলে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসাবে? তাহলে আপনার বক্তব্য অনুযায়ী আপনি কি স্বীকার করছেন যে ফখরুদ্দিন-মইন আপনাকে ওভাবে ক্ষমতায় বসিয়েছে?

আজকের প্রথম আলো পড়লে মনে হবে খালেদা জিয়ার কথা মতোই বর্তমান সরকারের নৈতিক মৃত্যু ঘটেছে। কিন্তু এই দেশের নাগরিক হিসেবে আমার প্রশ্ন হলো নৈতিকতা হারানো এই সরকারকে সরিয়ে দিয়ে খালেদা জিয়াকে ক্ষমতায় এলে আমার কি লাভ হবে? লেখার শুরুতেই বলেছি খালেদা জিয়া ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতি করেন। আমার প্রশ্ন হলো- তিনি কি দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করেন? যদি তাই করবেন, তাহলে গত নির্বাচনে দেশের যে ৪০ শতাংশ ভোটার তার দল বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটকে ভোট দিলো সেই ভোটের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি কেন তার নির্বাচনী ইশতেহারের ইস্যুগুলো নিয়ে সংসদে কথা বলেননি। কেন তিনি সংসদ ও সংসদের বাইরে যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তোলেননি। কেন তিনি ও তার দল ২০০৪ সালের আওয়ামী লীগের রাজনীতির অনুকরণে শুধুই সংসদের বাইরে রাজনীতি করছেন।

শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়াই যদি হয় লক্ষ্য তবে আমি একজন নাগরিক হিসেবে এই রাজনীতির বিরু্দ্ধে আমার প্রতিবাদটি জানিয়ে রাখলাম। আমি নিশ্চয়ই তেমন একজনকে খুঁজব যে শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার এজেন্ডা নয় নাগরিকদের স্বার্থও দেখবে। নতুবা আমিই রাজনীতি করব। ৪০ বছর বয়সী দেশের লিজ নেওয়া গেলেও ১৬ কোটি মানুষের লিজ নেওয়া যায় না!

ঢাকা।
১৩ মার্চ ২০১২

Advertisements

8 thoughts on “খালেদা জিয়ার কাছে ক্ষমতায় যাওয়া ছাড়া আর কি এজেন্ডা আছে, যেখানে আমার স্বার্থ খুঁজে পাব?

  1. ভালো বলেছেন। শ্বশুরমশাইও দেখি সেদিন ফোনে বলছিলেন হাসিনা এই, খালেদা ঐ। আমার বুঝতে কষ্ট হচ্ছিলো ফের খালেদা কেন। এই না উনি এই করেছেন, সেই করেছেন, উনার ছেলে স্মরণকালের সেরা টাকা-মারিয়ে, তাই তো সবাই বললে, মায় শ্বশুরমশাই সুদ্ধ, ভাবখানা এমন যে উনারা সবাই স্বচোক্ষে দেখেছেন এসব। তাই এখন হাসিনাওতে অভক্তি এসে গেলো তো খালেদা এই করবে সেই করবে। এমনকি মতিবাবু পত্রিকাতেও অনলাইন জরীপের ফল হটাৎ করে খালেদা/বিএনপি এর পক্ষে যাচ্ছে!
    প্রথমত আওয়ামী লীগের উপর থেকে ভরসা হারানোর মানে হয় না, জনগণের উচিত ফের উনাদের নির্বাচিত করে তাঁরা যে কাজ শুরু করেছেন তা সম্পূর্ণ করতে দেয়া।
    আর তা পছন্দ না হলে যোগ্য কাউকে নির্বাচিত করা।
    তাছাড়া টক আম গাছে তো আর রাতারাতি ফজলি আম ধরবে না, টক আমই ধরবে!
    ২০২০ পর্যন্ত আওয়ামী লীগকেই দেশ চালাবার ম্যান্ডেট দেয়া যেতে পারে, নইলে, ‘খবর আছে’!

  2. I think its time to admit that bangladeshi mass people (including me) are stupid idiot and do not deserve freedom at all….we all understand everything still cant stop doing the things that hurt our own interest…who give votes to Al/BNP each and every time???? the thing that we have no other option except AL and BNP is bullshit…its just a cover we use to hide our failures…..I am really sick of the mass people of bangladesh….we should not blame others for our misery…we are responsible for it and dont deserve any better than AL/BNP unless we change ourselves…

  3. The same prejudice revolving time over time while in power and in opposition, How many and who are really pointing out the problems of our regular lives and resolving it, which political party are working for the welfare of the general citizens….Corruption and Mismanagement are in every sector, the Favors are only for the certain group…. The same peoples are committing many things prior to the elections and tend to forget everything other than fullfilling thier own selfish political objectives… These parties had thier terms twice and now its even… dreadfully we need some new dedicatin for the Nation and its people. Stop and end believing the fake peoples, We have to rise and build up the truth….

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s