হান্নানদের জীবনযুদ্ধে সরকারের অবদান ঘোড়ার ডিম


এই ছবিতে মি. হান্নান নেই। এটা ইন্টারনেট থেকে নেওয়া একটি ছবি। মি. হান্নান যখন কাজে যোগ দিয়েছিল তখন তারও বয়স এই শিশুটির মতোই ছিল। মি. হান্নানেরা তাদের শৈশব হারিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখে। যা সমর্থনযোগ্য নয়। দেশটা একারণে স্বাধীন করা হয়নি।

এই ছবিতে মি. হান্নান নেই। এটি মি. হান্নানের ওয়ার্কশপও নয়। এটা ইন্টারনেট থেকে নেওয়া একটি ছবি। মি. হান্নান যখন কাজে যোগ দিয়েছিল তখন তারও বয়স এই শিশুটির মতোই ছিল। মি. হান্নানেরা তাদের শৈশব হারিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখে। যা সমর্থনযোগ্য নয়। দেশটা একারণে স্বাধীন করা হয়নি।

দিনে মজুরি ৫ টাকা। দিন ছিল ১৩ ঘণ্টার। সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা। বাড়িতে ফেরার পথে হাতে ৫ টাকা পাওয়া যেতো। ময়মনসিংহের ন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ার ওয়াকর্সে এভাবেই প্রায় ১২ বছর আগে লেদ মেশিনে কাজ শেখার জীবন শুরু হয়েছিল মোহাম্মদ হান্নানের।

৩ বছর পর হান্নানকে  বেতনভুক্ত কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, বেতন ধরা হয় মাসে ৩০০ টাকা। দিনে হাত খরচ বাবদ ৫টাকা তখনোও পেতো। একবছর পর হান্নানের বেতন বেড়ে হয় ৯০০ টাকা। পঞ্চম বছরে বেতন হয় ১১০০ টাকা। হান্নান বলছিলেন, ‘আমি সবসময় ভাবতাম আমি ভালো ভাবে কাজ করলে একদিন অবশ্যই উন্নতি হবে।’

হান্নানের এই বিশ্বাস মিথ্যা হয়নি। এই কাজই একদিন তার ভাগ্য খুলে দিল। হান্নানের কাজ দেখে তাকে একজন ঢাকায় নিয়ে এলো। হান্নান যোগ দিলেন ঢাকার মিরপুরে এসএস ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসে। বেতন ধরা হলো ৩০০০ টাকা। সেসঙ্গে মালিকের বাসায় থাকা ও খাওয়া ফ্রি। মাত্র ৩ বছরে হান্নানের বেতন বেড়ে হলো মাসে ৯,০০০ টাকা।

হান্নান সবসময় টাকা জমাতেন। যখন সে মাসে ৩০০ টাকা পেতো তখন তার পুরো টাকাটাই ডিপিএসে জমা রাখতেন। ভাইয়ের সংসারে থাকতেন। টাকা জমানোর এই অভ্যাসটাই তাকে নতুন জীবন শুরুর ব্যবস্থা করে দেয়। চাকরি জীবনের বয়স প্রায় ১২ বছরের মাথায় প্রায় ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে হান্নান এইচএইচ ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস দিয়েছে। তার কর্মচারীর সংখ্যা এখন ৯ জন। হান্নান তার নিজের কর্মচারীদের সর্বনিম্ন মাসে ১,৫০০ টাকা বেতন দেয়।

হান্নান মনে করেন, সরকার যদি গাড়ির পুরনো ইঞ্জিন আমদানী বন্ধ করতো তবে তাদের মতো লেদ মেশিনের দোকানগুলো অনেক লোকের কাজের ব্যবস্থা করে দিতে পারত।

শৈশব হারানো হান্নানরাই দেশটাকে গড়ছে। যা তাদের করার কথা নয়। একসময়কার ৫ টাকা বেতনের হান্নান এখন ৯ জন মানুষের কর্মসংস্থান করেছে। এখানে সরকারের অবদান ঘোড়ার ডিম। সংবিধান অনুসারে সরকারের দায়িত্ব হান্নানদের মতো শিশুদের লেখাপড়ার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করা এবং প্রাপ্ত বয়সে তাদের শিক্ষা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ যাতে করতে পারে সেলক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুবিধাদি তৈরি করা। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে লুটপাটে ব্যস্ত সরকারগুলো না করেছে শিশুদের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা না করেছে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযুক্ত কর্মের সংস্থান। সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত দায়িত্ব পালনে রাজনৈতিক সরকারগুলোর অবদান ঘোড়ার ডিম।

4 thoughts on “হান্নানদের জীবনযুদ্ধে সরকারের অবদান ঘোড়ার ডিম

  1. Salute to this man..A real hero..we do not expect the Government to support us who wants to be enterpreneurs…we just want the Govt. not to make unnecessary unwanted interventions….the govt. create every possible thing it can to discourage an enterpreneur.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s