আলু বুদ্ধিজীবীগণ


দেশের একজন বিখ্যাত মানুষের সঙ্গে আমার সপ্তাহে অন্তত একদিন কথা হতো ইন্দিরা রোডে। দেশ, সমাজ, সামাজিক আন্দোলন, বিজ্ঞান, শিক্ষা ইত্যাদি নানান বিষয়। দেখতে দেখতে ১৫ বছর হয়ে গেলো। একদিন কথা হচ্ছিল দেশের সুশীল সমাজ ও বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা নিয়ে। ওইদিনের সেই কথাগুলো আজো বার বার মনে হয়। কি দামী কথাই না তিনি বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি নিজেকে সব কিছুর সঙ্গে জড়াই না।’

কিন্তু আপনার উপস্থিতি তো অনেকের কাছে কাম্য। তাছাড়া আপনার বুদ্ধি পরামর্শ পেলে অন্যরা উপকৃত হতে পারে।

বুদ্ধি পরামর্শ তো আমি সাধ্যমতো দিয়ে থাকি। কেউ যদি বুদ্ধি পরামর্শ চায় এবং সেটা দেওয়ার মতো যদি সময় আমার হাতে থাকে তবে সেটা দিতে আপত্তি নেই। কিন্তু তাই বলে বিভিন্ন কমিটিতে থাকতে হবে সেটা আমি মনে করি না। কমিটিতে থাকা দরকার সেসব লোকদের যারা শুধু বুদ্ধি পরামর্শ নয়, কাজ করবে। তাছাড়া একজন লোক ১০০টা কমিটিতে থাকলে অন্তত ৯৯ জনের নেতৃত্বের বিকাশ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সব মানুষ তো স্যার সমান নয়। একজন মানুষ যদি ১০০ কমিটিতে কাজ করতে পারে তাহলে তো অসুবিধা নেই।

তুমি বিজ্ঞানের ছাত্র হয়ে একটা অবৈজ্ঞানিক কথা বললা।- স্যার বলেছিলেন। তিনি আরো বলেছিলেন, প্রতিটি মানুষের জন্য দিন হলো ২৪ ঘণ্টা। কেউ কেউ অভিজ্ঞতার আলোকে ও করিৎকর্মা হওয়ার কারণে অন্যের চেয়ে বেশি কাজ করতে পারে। কিন্তু ভিন্ন ধর্মী ডজন ডজন বিষয় নিয়ে মানসম্পন্ন কাজ করা কোন মতেই সম্ভব নয়।

কিন্তু স্যার আপনি দেখেন বাংলাদেশে এমন অনেক মানুষ আপনি পাবেন যারা ১০০-রও বেশি কমিটিতে নানান পদ দখল করে আছে। এটা যেমন জাতীয় পর‌যায়ে পাওয়া যায়। স্থানীয়ভাবেও পাওয়া যায়। এমনকি চিন্তা ও বুদ্ধিতে অসাধারণ বলে যারা সমাজে পরিচিত সেইসব বুদ্ধিজীবীদের মধ্যেও এমন লোক পাবেন। যারা জুতা সেলাই থেকে চন্ডিপাঠ পরযন্ত করছে। শুধু তাই নয়, তারা নিজেদেরকে শুধুমাত্র সমাজের নানান ইস্যুতে সীমিত রাখেনি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোও তারা অলংকিত করছে। সবচেয়ে বড় কথা এতো কিছু করার পরও তারা স্ব স্ব পেশায় নিয়োজিত যেমন কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কেউ এনজিও কর্মকর্তা, কেউবা মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ইত্যাদি। সমাজ ও সরকারের অনেকেই মনে করেন তাদের বুদ্ধি পরামর্শ ছাড়া দেশ অচল। তরুণ প্রজন্মের কাছেও তারা খুব প্রিয় ও শ্রদ্ধাভাজন। অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়।

তোমার শেষ হয়েছে??

জী, স্যার।

এরা হলো আলু বুদ্ধিজীবী। আলু যেমন সব তরকারিতে দেওয়া যায়। এরা তাই। এরা না নিজের প্রতি জাস্টিজ করছে না সমাজ ও দেশের প্রতি।

আজ প্রায় ১৫ বছর পর আমি বলতে পারি, এই দেশে আলু বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা বাড়ছে। এবং তারা ভালো আছেন। সামাজিক বিচারে অবশ্যই! এরা জাতিকে আলোকিত করছেন, যদিও সেটা কতোটা আলো আর কতোটা ধূসর সেকথা কেউ বলে না। সবাই স্রোতের সঙ্গে যেতে চাচ্ছে।

Advertisements

2 thoughts on “আলু বুদ্ধিজীবীগণ

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s