নেতা নেত্রীরা জ্বর হলে কী করেন এবং জ্বরাক্রান্ত দেশের চিকিত্‌সা


mosquitoএক.

আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে- হাসিনা ও খালেদার জ্বর হলে তারা কি করেন? ওষুধ খান? নাকি আদা চা, পায়ের তালুতে সরিষার তেল মাখা, লেবুর শরবত ইত্যাদি পথ্য ও ব্যবস্থা নেন। আমার এমনটা জানতে চাওয়ার কারণ আমার জ্বর হয়েছে।

দুই.

আমি অনেক সিনেমা দেখেছি। প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে তৈরি সিনেমাও দেখেছি। কিন্তু কোথাও তাদের জ্বর হওয়া দেখানো হয়েছে বলে মনে করতে পারছি না। রাজনৈতিক পটভূমি নিয়ে তৈরি করা সিনেমাগুলোতে সরকার বিরোধী রাজনীতিকদের চরিত্রও থাকে। কোন সিনেমাতে বিরোধী রাজনীতিকদের জ্বর হয়েছে তেমনটা মনে করতে পারছি না। ফলে, বাস্তবে হাসিনা খালেদার জ্বর হলে কি করেন সেটানা হোক, অন্তত সিনেমাতে জ্বর হলে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতারা কি করেন সেটা জানারও সুযোগ হয়নি। আমার এই লেখা কোন কারণে যদি সিনেমা নির্মাতা কেউ পড়েন তারা তাদের কোন একটি রাজনৈতিক সিনেমাতে সরকার ও প্রধান বিরোধী দলীয় নেতার জ্বর হলে তারা কি করেন তেমন একটা বিষয় গল্পে রাখতে পারেন।

তিন.

এমনিতে ছোটবেলা থেকেই আমি জ্বরে খুব শক্ত থাকি। সিজনাল জ্বরে আমি ওষুধ খাই না। সেটা পরিবারের সবাই জানে। তারপরও বেড়াতে আসা ছোট ভাই আমার কষ্ট দেখে বলল, তার জানা একটি ওষুধ আছে যেটা খেলে কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই জ্বর, গলা ব্যথা, মাথা ও শরীর ব্যথা, নাক দিয়ে পানি পড়া সব কিছু ভালো হয়ে যাবে। শুনে আমি বললাম, যে ওষুধ এতো কিছুর উপর কাজ করে তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া না থেকে উপায় কী? ও বুঝল আমাকে দিয়ে ওষুধ খাওয়া হবে না।

চার.

ছোটবেলা জ্বর হলে বাতলি ভরে পানি এনে বদনা দিয়ে কপালে ঢালা হতো। এসময়ে বিছানায় শুয়ে থাকতে হতো। মাথার নিচে একটি রাবার ক্লথ অর্থাৎ এক প্রস্থ প্লাস্টিকের টুকরো দেয়া হতো, যার অন্যপ্রান্ত বালতিতে থাকত। আবার মাথার চুল বেয়ে পানি যেন বালিশ না ভেজায় সেজন্য একটি তোয়ালে বা গামছা রোল করে ঘাড়ের নিচে গুজে দেওয়া হতো। শুয়ে থাকতাম আর বাসার বড় কেউ পরম মমতায় মাথায় পানি ঢালতেন। আমার ফুফুর বাসায় দেখেছি বসে বসে পানি না দিয়ে ছোট মাটির কলসি ফুটো করে মাথার উপর ঝুলিয়ে দেওয়া হতো। কিছুক্ষণ পরপর সেটা ভরে দেওয়া হতো।

আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদার জ্বর হলে তাদের শিয়রে বসে পরম যত্নে কেউ কি মাথায় পানি ঢালে? আমার মনে হয় কেউ না কেউ কাজটি করে।কারণ এতো তাদের গুণমুগ্ধ এতো মানুষ, সেবা করার জন্য তাদের অস্থির হয়েই থাকার কথা।

পাঁচ.

শীত কি গ্রীষ্ম, জ্বর হলে পুকুরে গোসল করার কথা পরামর্শ দিতেন গৌরাঙ্গ স্যার। খেপুপাড়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক স্যার আমাকে যখন একথা বলেছিলেন তখন তিনি থাকতেন চিঙ্গুরিয়াতে। তিনি নিজেও পালন করতেন।

আমাদের নেত্রীরা কি জ্বর হলেও গোসল করেন? যদি করেন তবে সেকথা জানলে গৌরাঙ্গ স্যার নিশ্চিত খুশি হবেন।

ছয়.

জ্বরের ঘোরে প্রলাপ বকতে আমি শুনেছি কাউকে কাউকে। ভয় লাগে তখন। কষ্ট হয়। শুনেছি জ্বরের ঘোরে মানুষ যখন প্রলাপ বকে তখন অনেক গোপন কথা বলে ফেলে। ওই রকম পরিস্থিতিতে কি কখনো আমাদের নেত্রীরা পড়েছেন। তখন সেখানে কি কেউ ছিলেন? তারা কি সেই গোপন কথা শুনে ফেলেছেন? তাদের সেই কথা শোনার পর কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?

সাত.

খুব ছোটবেলা আমার একবার প্রচন্ড জ্বর হয়েছিল, ৭৫/৭৬ সালের দিকে। জ্বর ১০৪+ হয়েছিল। আমি তখন পশ্চিম রাজাবাজার থাকি। সেসময়ে পশ্চিম রাজাবাজারে কোন ডাক্তার তো দূরের কথা ওষুধের দোকানই ছিল না। ডাক্তার বসতেন পূর্ব রাজাবাজারের হক ফার্মেসিতে আর ইন্দিরা রোডে বিনিময় স্টুডিও-র পাশে এক ফার্মেসিতে। অথবা যেতে হতো ফার্মগেটে আনন্দ সিনেমা হলের কাছে ইসলামিয়া ফার্মেসি কিংবা শুক্রাবাদে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির কাছে আহমদ ফার্মেসিতে। আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বিনিময় স্টুডিও-র পাশের ফার্মেসিতে। ডাক্তার আমাকে দেখে অবাক হয়েছিলেন। এতো জ্বর নিয়ে আমি কিভাবে চলাফেরা করছি সেটাই ছিল তার বিষ্ময়ের কারণ। জ্বরে আমার শরীর পুড়ে যাচ্ছিল। আমি জ্বরে খুব শক্ত থাকতে পারতাম। এমনকি জ্বরে আমি কখনো খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিইনি। আমি দেখেছি জ্বর হলে অনেকেই খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দেয়। এটা জ্বরকে সুযোগ করে দেয়া, যা রোগকে শরীর আক্রমণের সুযোগ করে দেয়। কারণ জ্বর নিজে রোগ না, অন্য রোগের লক্ষণ। শরীর যখন অন্য রোগের জীবাণুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকে তখন জ্বর হয়। খাওয়া দাওয়া কমে গেলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে তখন বাইরের রোগ জীবাণু সুযোগ পেয়ে যায়। যেকারণে খাওয়া দাওয়া ঠিক রাখতে হবে।

আট.

আচ্ছা জ্বর কি শুধু মানুষের হয়, দেশের হয় না? যদি হয় তবে সেই জ্বর ছাড়ানোর উপায় কী?

আমি মনে করি, পরিবার পরিজনের স্নেহ ভালোবাসা যেমন জ্বরাক্রান্ত মানুষের মনকে চাঙ্গা করে জ্বর মোকাবেলায় শক্তি জোগায় তেমনি দেশের জ্বর ছাড়ানোর উপায় হলো দেশকে ভালোবাসা, একে অন্যের সাহায্যে এগিয়ে যাওয়া এবং ঐক্যবদ্ধ হওয়া। মনে রাখতে হবে, দেশের জ্বর ভালো না হওয়া মানে দেশের ক্ষতি হওয়া। যেহেতু জ্বর হলো লক্ষণ। সেক্ষেত্রে দেশের জ্বর হওয়া মানে বাইরের শক্তি যা জ্বরের কারণ তাকে মোকাবেলা না পারা, সেটা না পারলে সত্যিকারের রোগ দেখা দিলে সেটা সারানোর উপায় নাও থাকতে পারে।

নয়.

আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে, আমার এই কথাগুলোর সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিরোধীদলীয় নেত্রী একমত কিনা?

(২০১২ সালে প্রকাশিত লেখার পরিবর্তিত সংস্করণ)

পল্লবী।। ঢাকা।।

২৯ অক্টোবর ২০১৫।।

আপনারা এখন কি করবেন? স্যুপ খাবেন?

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s