পরকীয়ার রকমফের-৪: পরকীয়ার লক্ষণগুলো কি?


ভারতের মুম্বাইয়ের এক নাগরিক ইন্টারনেটে পরকীয়া নিয়ে একবার মন্তব্য করেছিল- ‘পরকীয়া হলো মাস্তি! প্রতিদিন একই ডালভাত খেতে কি ভালো লাগে? লাগে না। মাঝে মাঝে স্বাদ বদলাতে বিরায়ানি যেমন খাই, তেমনি পরকীয়া। মাঝে মাঝে হলে দোষের কিছু নেই।’

রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে অনেক বিখ্যাত মানুষ পরকীয়া করেছে (বিস্তারিত জানতে আগের পর্বগুলো দেখুন)। রাজনীতিবিদদের পরকীয়ার ঘটনা বেশ শোনা যায়। তবে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে এরশাদ ছাড়া আরো কারো পরকীয়ার কথা তেমন একটা শোনা যায় না। এরশাদের পরকীয়া সম্পর্কগুলোর একটি হলো মেরি মুমতাজ, যিনি সম্পর্ক ভাঙ্গার পর আমেরিকাতে এরশাদের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিলেন। কিন্তু আমেরিকার সংবিধান বন্ধু রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানের বিচার করার অনুমতি না দেওয়ায় সেই বিচার সেখানে হয়নি। এরশাদের পরকীয়ার গল্প রূপকথার মতো। সেখানে কতো বিবাহিত ও অবিবাহিত নারীর নাম আছে সেটা লিখে কুলানো যাবে না। বাংলাদেশের সংসদে তারপরও এরশাদ ও তার প্রথম স্ত্রী রওশন এরশাদকে পাশাপাশি দেখা যায়। তারা হেসে কথাও বলেন।

প্রশ্ন হলো- এরশাদ যে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়েছেন রওশন এরশাদ সেকথা জানার জন্য কি করেছিলেন? কিংবা কোন লক্ষণগুলোর দিকে নজর দিলে এরশাদের পরকীয়ার বিষয়গুলো আগে ভাগে জানা যেতে পারত? জানলেই যে এরশাদের পরকীয়া বন্ধ হয়ে যেতো তা কিন্তু নয়। কিন্তু পরকীয়ার লক্ষণগুলো জানা থাকা ভালো কি বলেন?

১. অফিসে কিংবা কর্মক্ষেত্রে বেশি সময় ধরে থাকা। বাড়িতে দেরি করে ফেরা।

২. বাড়িতে ফিরে সঙ্গীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা। এবং বারবার বলা যে তাকে সে সারাদিন কতোটা মিস করেছে।

৩. হঠাৎ করেই নিজের শরীরের গণ্ধের প্রতি মনোযোগী হওয়া। বেশি বেশি করে পারফিউম ব্যবহার করা। মুখে দুর্গন্ধ হলো কিনা সেনিয়ে চিন্তা করা। প্রতিবার খাওয়ার পর দাঁত ব্রাশ করা।

৪. কোথায় যাচ্ছে সেনিয়ে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করা। কিংবা এমনভাবে জায়গার নাম বলা যে, ওখানে থাকতেও পারে কিংবা সেখান থেকে অন্যখানে চলে যেতে পারে।

৫. পুরনোদিনের বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো। এবং মাঝেমাঝেই তাদের সঙ্গে দেখা করার কথা বলে বাইরে চলে যাওয়া।

৬. নিজের প্রিয় পোশাকগুলো বেশি বেশি করে পড়া। নতুন নতুন পোশাক কেনা।

৭. অফিসে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে আগেভাগে বের হওয়া। বিশেষ করে পরকীয়ার সঙ্গী যখন অফিসের সহর্কমী হয় তখন এটি বেশি ঘটে। অন্যরা আসার আগে কিছুটা সময় একত্রে কাটাতে তারা এই সুযোগ নেয়।

৮. ইন্টারনেট ও ইমেইল ব্যবহার বেড়ে যাওয়া। পরকীয়া সম্পর্কে অনেক বেশি মিথ্যা থাকে। মিথ্যা সামনাসামনি বলার চেয়ে অনেক বেশি সহজ ইমেইল কিংবা ইন্টারনেটে বলা।

৯. পরকীয়ার শুরুর দিকে দু’জনে অনেক বেশি সময় একসঙ্গে কাটায়। এই অবস্থায় যারা পরকীয়ায় লিপ্ত হয় তারা নিজেদের দৈনন্দিন জীবনের রুটিন এলোমেলো করে ফেলে। যা সহজেই চোখে পড়ার কথা।

১০. অল্পতেই কোন কিছুতে অস্থিরতার প্রকাশ ঘটে। বিশেষ করে বাড়িতে। এটি হওয়ার কারণ পরকীয়ায় লিপ্ত মানুষের শরীর বাড়িতে থাকলেও মন তো অন্যখানে। এসময়ে তারা অল্পতেই বিরক্ত হয়ে যায়।

১১. কথায় কথায় বাড়ি ছেড়ে বের হওয়ার হুমকি দেয়। কিংবা বের হয়ে যায়। বাড়িতে স্বামী কিংবা স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে বের হওয়ার সুবিধা হলো সারাটা দিন সঙ্গীর সঙ্গে কাটানোর সুযোগ পাওয়া যায়।

১২. বন্ধু বান্ধবের সংখ্যা বেড়ে যায়। বাড়তি বন্ধু বান্ধবদের মধ্যে একজন থাকে যার সঙ্গে প্রেম। বাকিদের রাখা হয় স্বামী কিংবা স্ত্রীকে বিভ্রান্ত করার জন্য। আপনি সন্দেহ করলে নতুন সব বন্ধুবান্ধব সম্পর্কে জানুন।

১৩. ফোনের বিল গোপন রাখা। লক্ষ্য করা যায় যে, একসময় যে ফোনের বিল টেবিলে খোলা পড়ে থাকতো সেটি এখন কুরিয়ার সার্ভিস বাড়িতে দেওয়া মাত্র সরিয়ে রাখা হয়।

১৪. পরকীয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে ঠাণ্ডা মাথায় জবাব দেয়- এটা তোমার উর্বর মস্তিষ্কের চিন্তা কিংবা তোমার যা খুশি ভাবতে পার।

১৫. ব্যায়াম করার প্রতি মনোযোগী হওয়া। অনেকে নিয়মিত জিমে যেতে শুরু করেন। শরীরটা ফিট রাখা আর কি।

চলবে……আগামী কিস্তিতে আরো লক্ষণ জানানো হবে

Advertisements

One thought on “পরকীয়ার রকমফের-৪: পরকীয়ার লক্ষণগুলো কি?

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s