বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী মানুষটি কি সবচেয়ে বড় ধনী?


মনে হয় না! পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাশালী মানুষ বোধহয় বারাক ওবামা। কিন্তু বারাক ওবামা মোটেই ধনী মানুষ নন। বারাক ওবামা ও তার স্ত্রীর মোট সম্পত্তির পরিমাণ আনুমানিক ৪৮ কোটি টাকা। আমাদের দেশের যেকোন মন্ত্রীর সম্পত্তির চেয়ে বারাক ওবামার এই টাকার পরিমাণ কম। তফাত শুধু একটাই বারাক ওবামার কি আছে কি নেই সেটা সাদা চোখে দেখা যায়। আমাদের মন্ত্রীদেরগুলো নয়। যদিও কথা গত নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতায় আসে তবে তারা তাদের দলের এমপি ও মন্ত্রীদের অর্থ সম্পদের হিসাব প্রকাশ করবেন। কিন্তু যেকোন কারণেই হোক সেটা আর করা হয়নি। পাশের দেশ ভারতে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সম্পদের হিসাব প্রকাশ করা হলেও কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর হিসেব প্রকাশ করা হয়নি। তবে আমার লেখার বিষয়বস্তু সেটা নয়। আমি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাশালী মানুষের সম্পদের হিসেব নিয়ে কথা বলছি। সেই মানুষটি বাংলাদেশে কিংবা ভারতের নন, তিনি একজন আমেরিকান। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

তার এই ক্ষমতা ও সম্পদ নিয়ে আমার কোন গর্ব নেই। কারণ তিনি আমার নেতা নন। তবে আমাদের দেশের অনেক নেতা যাদের দ্বৈত পাসপোর্ট আছে বিশেষ করে আমেরিকান পাসপোর্ট তারা তাদের আমেরিকান নাগরিকত্বের কারণে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে নিয়ে গর্বিত হতে পারেন। সেটাই স্বাভাবিক।

তো আসুন এবার জেনে নেওয়া যা বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সম্পদের মধ্যে কি কি আছে?

ওবামার ইউএস ট্রেজারিতে নোট ও টি-বিল বন্ড আকারে মোট জমা আছে প্রায় ২৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। যা আগের বছরের চেয়ে ১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা কম। এছাড়াও মিউচুয়াল ফান্ডে তার জমা আছে প্রায় ৫ কোটি টাকা। তার মেয়েদের জন্য কলেজ ফান্ডে জমা আছে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আর পেনসন ফান্ডে জমা আছে প্রায় ৭২ লাখ টাকা।

শিকাগোতে স্ত্রীর সঙ্গে যৌথভাবে তার একটি বাড়ি আছে। ৬,২০০ বর্গফুটের এই বাড়ির মূল্য প্রায় ১৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। এই বাড়িটি তিনি কিনেছেন ২০০৫ সালে। এই বাড়ি বন্ধক রেখে তিনি প্রায় ৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন।

তার আয়ের একটি বড় উৎস হলো তার বই। তার লেখা অডাসিটি অফ হোপ এবং ড্রিম ফ্রম মাই ফাদার বিক্রি করেই তিনি এই আয় করেছেন। সম্প্রতি বইগুলোর বিক্রি কমে যাওয়ায় তার আয়ও কমেছে।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত সম্পদের তালিকায় ওবামা আরো উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বেশ কিছু উপহার পেয়েছেন। যার মধ্যে একটি পর্তুগিজ ওয়াটার ডগ আছে যার দাম প্রায় দেড় লাখ টাকা। তাকে এই উপহার দিযেছেন প্রয়াত সিনেটর টেড কেনেডি। তাছাড়া তিনি ২০০৯ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন প্রায় ১১ কোটি ২০ লাখ টাকা। এই টাকা অবশ্য তিনি পুরোটা দান করে দিয়েছেন।

আমাদের দেশের একজন ক্ষমতাশালী সাংবাদিক উপহার হিসেবে নাকি ঢাকাতেই ছয়টি ফ্ল্যাট পেয়েছেন। এটি গুজব হলেও হতে পারে। কিন্তু বারাক ওবামার সম্পদের হিসেব গুজব নয়।

2 comments

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s