দশ ‘মহান সমাজ’


যুগে যুগে মহান মানুষের দেখা পেয়েছি আমরা। যেমন, বাংলাদেশে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এমএজি ওসমানী প্রমুখ। গ্রেট বা মহান মানুষের তালিকা অনেক তৈরি হয়েছে। এবারই প্রথম দেখলাম গ্রেট সোসাইটির তালিকা। এখানে গ্রেটের বাংলা আমি সেরা লিখতে পারতাম। কিন্তু মহান শব্দটিই আমার কাছে ভালো লেগেছে। যারা এই তালিকা বানিয়েছে তারা কিছু বিষয়কে বিবেচনায় নিয়েছে। যেমন, সমাজ মানুষকে সম্পদ অর্জনের সুযোগ কেমন দিচ্ছে, এরপর অর্জিত সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে জীবনমান উন্নয়নের সুযোগ কতোটা পাওয়া যায়, ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ কেমন। ফোর্বস ম্যাগাজিন এই তালিকা তৈরি করতে গিয়ে আরো কিছু বিষয় বিবেচনায় নিয়েছে যেমন, জিডিপি, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, ব্যবসা করার সুযোগ, বিশ্বায়নে তাদের অবস্থান, পরিবেশগত দিক, সমাজ কতোটা টেকসই, মানব উন্নয়ন সূচক এবং জীবনের মান ইত্যাদি। এসব সবকিছুর ভিত্তিতে যে তালিকাটি পাওয়া গিয়েছে তা হলো-

 

এক নাম্বারে আছে জার্মানী। জার্মানীর জিডিপি হলো ৩ হাজার ৮৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থনৈতিক সুযোগ ও জীবনমানের দিক থেকে জার্মানী ৯০ শতাংশ নাম্বার পেয়েছে। জার্মানীতে স্বাস্থ্য বীমা শক্তিশালী। বেতন ভাতাও বেশ উচ্চ। অবকাঠামোর দিক থেকে দেশটি সেরা। সবমিলিয়ে বসবাসের জন্য জার্মানী এক নাম্বার চয়েস হতে পারে।

 

 

কেউ যদি জার্মানীর পরিবর্তে অন্য কোন দেশকে বাছাই করতে চান বসবাসের জন্য তারা তালিকার ২ নাম্বারে থাকা নেদারল্যান্ডের কথা ভাবতে পারেন। নেদারল্যান্ডের জিডিপি ছিলো গতবছর ৭০৬ বিলিয়ন। অর্থনৈতিক সুযোগ ও জীবনের মানের দিক থেকে নেদারল্যান্ড জার্মানীর সমতুল্য্। নেদারল্যান্ডের বাসিন্দাদের জীবনযাপন অনেক সহজসাধ্য। খরচ কম। বাসা ভাড়া, শিক্ষা ও বিনোদনের খরচও নেদারল্যান্ডে পশ্চিম ইওরোপের অন্য দেশগুলোর তুলনায় কম।

 

তিন নাম্বারে থাকা দেশটি হলো যুক্তরাজ্য। তারাও ১০ এর মধ্যে ৯ পেয়েছে। ফ্রান্স আছে এরপর। অর্থনৈতিক সুযোগ ও জীবন মানের বিচারে ফ্রান্স ৮০ শতাংশ নাম্বার পেয়েছে। তবে স্বাধীনতা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করলে ফ্রান্স সেরা জীবনযাপনের কথাই বলে। খানাপ্রতি সম্পদের হিসাব করল অর্থ সম্পদের দিক থেকে ফ্রান্স ইওরোপের সবচেয়ে ধনী দেশ। বিশ্বের মধ্যে চতুর্থ ধনী দেশ। ফ্রান্সে সরকারি শিক্ষার সুযোগ অনেক বেশি। বসবাসের জন্য এমন একটি দেশকে যেকেউ বাছাই করবে।

 

পাঁচ নাম্বারে আছে এশিয়ার দেশ জাপান। তাদের মোট জিডিপি ২০১১ সালে ৪,৩৮৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থনৈতিক সুযোগ ও জীবন মানের দিক থেকে জাপান পেয়েছে ৮০ শতাংশ নাম্বার। জাপানের অর্থনীতির বিষয়টি বেশ মজাদার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে মানুষের খরচযোগ্য আয় সেভাবে না বাড়লেও জীবনযাপনের মান নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। শ্রমিক ও ব্যবস্থাপকদের মধ্যে বেতন বৈষম্য কমেছে। শুধু তাই নয়, জাপানের চাকরিজীবি মানুষের কাজের নিরাপত্তা বেড়েছে এবং তাদের পেশাগত সুযোগ সুবিধাও বেড়েছে।

জাপানের পর ৭০ শতাংশ নাম্বার পেয়ে অস্ট্রেলিয়া তালিকায় নিজেকে যুক্ত করেছে। তাদের জিডিপির পরিমাণ ৯১৮ বিলিয়ন ডলার। তবে এই মুহুর্তে বিশ্বের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় অর্থনীতির দেশ হলো অস্ট্রেলিয়া। তাছাড়া অস্ট্রেলিয়াতে অনেক দেশের মানুষ থাকে। সবমিলিয়ে আপনি অস্ট্রেলিয়ার কথা ভাবতে পারেন।

 

কানাডাকে তালিকায় না দেখে যারা অবাক হচ্ছিলেন তাদেরকে বলি কানাডা অস্ট্রেলিয়ার পরেই নিজের জায়গা খুঁজে পেয়েছে। নাম্বারের দিক থেকে অস্ট্রেলিয়ার সমান কানাডার সমাজে নিজের জন্য একটি বাড়ি, সন্তানের শিক্ষা কিংবা পরিবারের স্বাস্থ্যযত্ন অনেক উন্নতমানের। ফলে জীবনের প্রতি সন্তুষ্টিও বেশ ভালো।

 

যারা আমেরিকা এখনো তালিকায় পাননি। মন খারাপ করতে পারেন। কারণ এবার বলছি দক্ষিণ কোরিয়ার কথা। তালিকায় আট নাম্বারের দেশটি হলো দক্ষিণ কোরিয়া। অর্থনৈতিক সুযোগ ও জীবন মানের বিচারে কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার সমতুল্য দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে। পূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। ফলে, আমেরিকা চলে গেছে দক্ষিণ কোরিয়ার পেছনে। অর্থনৈতিক সুযোগ ও জীবন মানের দিক থেকে ৬০ শতাংশ নাম্বার পাওয়া আমেরিকার জিডিপি কিন্তু ঈর্ষণীয়! ১৫ হাজার ৪০ বিলিয়ন ডলার।

 

তালিকার সবশেষ দেশটি হলো তাইওয়ান। অর্থনৈতিক সুযোগ ও জীবনমানের দিক থেকে ৫০ শতাংশ নাম্বার পাওয়া তাইওয়ানে নাগরিকদের জীবনমান বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে স্বাস্থ্য সেবার দিক থেকে বিশ্বের সেরা দেশগুলোর অন্যতম তাইওয়ান।

 

এই হলো গিয়ে দশ মহান সমাজ। আমাদের নির্লজ্জ নেতৃত্ব এমন মহান সমাজের নিকুচি করে চলে।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s