বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে প্রধান ১০টি বাধা


দেশে অনেক কাজ হচ্ছে। গত ৪১ বছর ধরেই হচ্ছে। কিন্তু যেজন্য দেশ স্বাধীন করা হয়েছিল। পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলাদেশ জন্ম নিয়েছিল। সেই কাজগুলো যেন ঠিকমতো হচ্ছে না। পাকিস্তান আমলে ধনী গরিবে যে বৈষম্য ছিলো স্বাধীন বাংলাদেশে সেটা আরো বেড়েছে। তফাত হলো পাকিস্তান আমলে ধনীরা থাকতো পশ্চিম পাকিস্তানে আর গরিবরা পূর্ব পাকিস্তানে। ফলে একটা ভৌগোলিক দূরত্ব ছিল। এখন ধনী গরিবরা একই জায়গায় থাকে। ধনীদের সম্পদের পসরা বসানো গুলশানের পাশেই ঢাকার বৃহত্তম বস্তি। রাস্তার বেরুলেই দরিদ্র মানুষের চেহারা দেখা যায়। এখন ধনী দেখতে পশ্চিম পাকিস্তানে যেতে হয় না। দেশের মার্কেটগুলোতে চোখ মেললেই দেখা যায়। এই দেশের রাস্তায় এখন কোটি টাকার গাড়ি যেমন হরহামেশা দেখা যায়। তেমনি উদোম গায়ের দরিদ্র শিশু। ফলে গত ৪১ বছরে ধনী আর গরিবের ভৌগোলিক দূরত্ব কমছে আশঙ্কাজনকভাবে!

তারপরও বলতে হবে বাংলাদেশের আর্থিক অবস্থা আগের তুলনায় ভালো হয়েছে। রাস্তাঘাট হয়েছে। অবকাঠামো বেড়েছে। কেউ কেউ এতে মহাখুশি। তাদের সেই খুশিতে আমি পানি ঢালতে চাইনা। থাকুক না মিথ্যা খুশিতে কিছু মানুষ।

বৈদেশিক ঋণের বোঝা দিনে দিনে বাড়ছে। ঋণের অর্থে সর্বগ্রাসী দুর্নীতির পরও চুইয়ে চুইয়ে যে অর্থ শেষ পর্যন্ত তলে যাচ্ছে তাতে তো কিছুটা উন্নয়ন হবেই। তাছাড়া মানুষের সংখ্যা বাড়ার ফলে কর্মীর সংখ্যা বেড়েছে। সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালি এখন ১৫ কোটি। এই মুহুর্তে জনসংখ্যা বোনাসে পা দিয়েছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি। এই অবস্থা চলবে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত। স্বাভাবিক কারণেই উৎপাদন বেড়েছে। প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। এখানে রাষ্ট্র পরিচালকদের কোন বাহাদুরি নেই। একটা কলাগাছও যদি ক্ষমতায় থাকত একই ফলাফল পাওয়া যেতো। তারপরও এতেই তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন কেউ কেউ। বেশ তো। তুলুক না। মানুষ তাদের জীবনের তাগিদেই লড়াই করছে বেঁচে থাকার। তাতে উৎপাদন বাড়ছে। মিডিয়া সেই সব উৎপাদনের কৃতিত্ব তাদের মালিকপক্ষের বন্ধু বান্ধবদের উদার হস্তে বিলিয়ে দিচ্ছে। বেশ তো দিক না।

তাতে ধনী আর গরিবের মধ্যে ব্যবধান কমেনি। বরং বেড়েছে। বেড়েছে বেকারত্বের হার। মানুষের মধ্যে হতাশা বেড়েছে।

সামগ্রিকভাবে সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ মানুষ এখনো পায়নি। অনেকটা পরাধীন জাতির আদলেই দেশ চলছে। একথা ঠিক যে, পাকিস্তানীরা নেই। কিন্তু পাকিস্তান আমলে সমাজে যে বিভেদ ছিলো সেটি আরো তীব্র হয়েছে। দেশের মধ্যেই পশ্চিম পাকিস্তানী আর পূর্ব পাকিস্তানীদের মতো সামাজিক বঞ্চনার স্তর তৈরি হয়েছে। ফলে দেশ স্বাধীন হওয়ার কোন সুফল সামগ্রিকভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। রাষ্ট্র গরিব মানুষের কল্যাণে খুব বেশি সাফল্য দেখাতে পারেনি। শেখ মুজিব থেকে শুরু করে জিয়া, এরশাদ, খালেদা, হাসিনা সরকার রুটিন কাজ করেই দিন পার করেছেন। ফলে যাকে বলে টেকসই উন্নয়ন, সেটা হচ্ছে না।

এই বিষয়গুলো অনেকদিন ধরে মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। বোঝার চেষ্টা করছি সবগুলো সরকারের সাফল্য যদি কমবেশি একইরকম হয় তাহলে তাদের সমস্যাগুলোরও মধ্যে কমন কিছু ব্যাপার নিশ্চয়ই আছে। সেগুলো কি? একা একা আর ভাবতে চাচ্ছি না। সেকারণেই কয়েকদিন আগে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম- ‘বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে প্রধান ১০টি বাধা- একটি তালিকা আজকালকের মধ্যে লিখে ফেলতে চাই। কারো কোন পরামর্শ থাকলে দিতে পারেন।’ অল্প কয়েকজন আমার এই আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন। তাদেরকে ধন্যবাদ।

১. সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের অভাব: মি. আলিমুল হক লিখেছেন, প্রধান বাধা- সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের অভাব। আমি তার সঙ্গে একমত। আলিমুল হকের ডাক নাম টিপু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন। এরপর দেশের গণমাধ্যমে সুনামের সঙ্গে দীর্ঘকাল কাজ করেছেন। সততা ও যোগ্যতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন নিজ অঙ্গনে। আমরা কলেজে একসঙ্গে পড়েছি। আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ২৮ বছরের চেনাজানা। সুযোগ পেলেই লী কুয়ান কিংবা মাহাথির মোহাম্মদের কথা বলে। বিশ্বাস করে একজন সৎ ও যোগ্য নেতা হলে দেশটা বদলে যাবে। আমি তার সঙ্গে দ্বিমত করিনা। তবে পুরোপুরি একমতও নই। আমার বক্তব্য হলো বাংলাদেশ মালয়েশিয়া কিংবা সিঙ্গাপুর নয়। বিশেষ করে যখন এই দেশের মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে বিবেচনায় নেওয়া হয়। যে কথাটি মি. রণ ইশতিয়াক বলেছেন।

২. বাঙালির চরিত্র: রণ ইশতিয়াকের মতে, বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে বাধা একটাই সেটা হলো বাঙ্গালী চরিত্র। তিনি লিখেছেন, ‘দূর, ১০টা কই পাবেন?  কারণ একটাই, বংগালী চরিত্র; সবাই অন্যের চাইতে সেয়ানা, বাকী অন্যান্য সবই চর্বিত-চর্বণ। 😦 ’ বাঙ্গালী চরিত্র বড়ই বিচিত্র, কোন সন্দেহ নেই। সেকারণেই একজন মাহাথির কিংবা লী কুয়ান শুধু নয়। এখানে দরকার একটি টিম। আমি মোটামুটি হিসেব করে দেখেছি টপ লেভেলে শখানেক মানুষের একটি টিম হলে বাংলাদেশের উন্নয়নের পথের বাধাগুলো দশ বছরে অপসারণ করা সম্ভব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী এই বিষয়টি বুঝতে আমাকে অনেক বেশি সাহায্য করেছে। বইটি পড়ে বুঝতে পেরেছি বাঙ্গালী চরিত্রের সমস্যা, ব্রিটিশ আমলেও ছিলো। রাজনীতিতে মারামারি, দলাদলি, ষন্ডা আর গুন্ডাদের আধিপত্য ও কদর সেসময়েও ছিলো। পরবর্তীতে পাকিস্তান আমলেও সেটা লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশে এখন জেলা ও উপজেলা লেভেলে কিংবা জাতীয় পর্যায়ে মারামারি ও হানাহানির যে তান্ডব দেখা যায় তা আসলে ধারাবাহিকতা মাত্র।

অতএব আমি টিপুর সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব বিষয়টিকে ১০টা পয়েন্টের মধ্যে নিচ্ছি। সেসঙ্গে রণের বাঙ্গালী চরিত্রকেও একটি পয়েন্ট হিসেবে নিচ্ছি।

৩. অসচেতন জনগণ: মি. নুরুজ্জামান রাতুল লিখেছেন, জনগণ-মানে আমরা নিজেরাই নিজেদের দায়িত্ব, কর্তব্য, অধিকার নিয়ে সচেতন না ! তিনি মনে করছেন যে, এটা একটা প্রধান বাধা। আমি তার সঙ্গে একমত। ফলে ১০টা পয়েন্টের মধ্যে এটাও থাকছে। আমি তার কথাগুলো অসচেতন জনগণ নামে লিখছি। কোন সন্দেহ নেই বাংলাদেশের জনগণ তাদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জানে না। তারা তাদের মৌলিক অধিকারগুলো সম্পর্কে জানে না। এর একটি কারণ দেশের বেশিরভাগ মানুষ দেশের সংবিধান সম্পর্কে অবগত নয়। তারা জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কেও অবগত নয়। দীর্ঘকালের সংস্কৃতি তাদেরকে ভুলিয়ে দিয়েছে যে একজন জনপ্রতিনিধি শুধুমাত্র ভোটের দাবীদার নয়, তার নির্দিষ্ট কিছু দায়িত্ব আছে জনগণের প্রতি। তাছাড়া জনপ্রতিনিধিরা যেভাবে জনগণবিরোধী কাজ করে সেটার প্রতিবাদও তাদেরকে করতে হবে। এই যে দীর্ঘ ৪১ বছরে ভুলে যাওয়ার সংস্কৃতি সেই সংস্কৃতি থেকে বের হতে হবে। এই দেশের জনগণ সর্বশেষ তাদের অধিকার ও দায়িত্বের চর্চা করেছে ৭০ সালের নির্বাচনে। এরপর তারা ভুলে গেছে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বের কথা ও নিজেদের কর্তব্যের কথা। জনপ্রতিনিধি ছাড়াও এই দেশের জনগণ একজন ডাক্তারের কর্তব্য সম্পর্কে জানেন না, জানেন না একজন শিক্ষকের দায়িত্ব কি? তারা জানেন না একটি হাসপাতাল থেকে সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে তার কি কি অধিকার আছে। কিংবা জানেন না ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তার কি কি সেবা পাওয়ার কথা। এই দেশের মানুষ সচেতন নন তাদের নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে। যারা এর ব্যতিক্রম তাদের জন্য একথা প্রযোজ্য নয়। তাদের সংখ্যা কম। সেটাই বাধা।

৪. পরিবারভিত্তিক রাজনীতি: মি. নাফীস হুসেইন মনে করেন পরিবারতান্ত্রিক মসনদি রাজনীতি বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে বাধা। নাফীস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট তুলে ধরেছেন। যদিও নাফীস জাতীয় রাজনীতি বিশেষ করে দুটি শীর্ষ দলের প্রতি এর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন বলে মনে হচ্ছে। তবে আমার পর্যবেক্ষণ হলো বাংলাদেশের ইউনিয়ন থেকে জাতীয় রাজনীতি পুরোটাই পরিবারতন্ত্রে আক্রান্ত। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমরা দেখেছি স্বাধীনতার বিরোধীদের বিচার করা সম্ভব হয়নি। কারণ তারা আওয়ামী লীগের নেতাদের ভাই ব্রাদার। চাচা-মামা। কিংবা বেয়াই-বেয়াইন। পরবর্তীকালে এই অবস্থা আরো বেশি লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এই সময়কার তরুণ হৃদয় জয়ী সংসদ সদস্য মি. আন্দালিব রহমান পার্থ জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা নাজিউর রহমান মঞ্জুর সন্তান। নিজে এখন পার্টি প্রধান। বিয়ে করেছেন আওয়ামী লীগের নেতা শেখ হেলালের মেয়েকে। এমন পারিবারিক বন্ধন বাংলাদেশে প্রচুর। ফলে একই পরিবারে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টির সহাবস্থান এবং বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিত্বমূলক পদ পদবীতে অবস্থান একটি সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। দেশের ব্যবসা বাণিজ্য থেকে শুরু করে যাবতীয় কর্মকাণ্ড চলছে গুটিকয়েক পরিবারের মাধ্যমে। ফলে পাকিস্তান আমলের ২২ পরিবার না থাকলেও মোটামুটি ১০০ পরিবার চালাচ্ছে বাংলাদেশ। এটি ভালো না মন্দ সেটা দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়। কারণ অনেকে মনে করেন ক্ষমতা ও সম্পদের নিয়ন্ত্রণ কম মানুষের হাতে থাকা ভালো। তাতে করে সমস্যা কম হয়। আবার কারো কারো ধারণা এই ব্যবস্থা টেকসই উন্নয়নের পথে বাধা। আমি দ্বিতীয় দলে।

৫. নৈতিকতার অবক্ষয়: মি. মুশতাক আহমেদ মনে করেন অন্যতম প্রধান বাধা হলো- নৈতিকতার অবক্ষয়। কোন সন্দেহ ছাড়াই এটিকে একটি কারণ হিসেবে নেওয়া যায়। নৈতিকতার অবক্ষয় একটি সর্বগ্রাসী বিষয়ে পরিণত হয়েছে। দেশে আজকে যে দুর্নীতির ব্যাপক প্রসার এবং এ ব্যাপারে কারো কোন মাথাব্যথা না থাকা সেটা বিভিন্ন মাত্রার নৈতিকতার অবক্ষয়ের কারণেই হচ্ছে। এমন এক অদ্ভুত সময় পার করছে বাংলাদেশ যেখানে বাবা সন্তানকে অনৈতিক কাজ করার ব্যাপারে উৎসাহিত করে। অফিসের বস অধঃস্তনদের অনৈতিক কর্মকান্ডে উৎসাহিত করে। স্বাধীন বাংলাদেশের সমাজ সংসারে এমন ব্যাপকভাবে আর কোন কিছু ছড়িয়ে পড়তে পারেনি।

৫টি কারণ তো হয়ে গেলো। বাকি রইল ৫টি কারণ। কারো কিছু বলার আছে?

Advertisements

2 thoughts on “বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে প্রধান ১০টি বাধা

  1. #৪ এ আমার কিছু বোঝবার আছে… মিঃ নাফীস বলছেন পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি উন্নয়নের পথে বাঁধা। সত্যই কি তাই? উপমহাদেশ জুড়েই আমরা পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি দেখতে পাই। এরকমই কি হবার কথা নয়? আমরা নিজেরাই কঠোর পুরুষতান্ত্রিক পারিবারিক সমাজ কাঠামোতে বেড়ে উঠেছি, মিঃ নাফীসসহ অনেকেই আমরা চারপাশে তাকালে তাই দেখতে পারি। বাংলাদেশে পরিবারভিত্তিক পরিচয়ই অনেকখানিক মূল্য বহন করে, বিয়েশাদী থেকে শুরু করে চাকুরী অথবা ভর্তির ক্ষেত্রে। পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারতে আমরা যেমন পরিবারভিত্তিক রাজনীতি দেখি, তেমনি বার্মাতেও বিরোধী নেতার স্ত্রী ভোট এবং নোবেল পুরষ্কার জেতেন। এক্ষেত্রে মনে হয় পরাশক্তিরাও আমাদের সেভাবেই দেখতে চায়, বার্মাতেও যেমন, বাংলাদেশেও তেমন। জিয়ার স্ত্রী বা মুজিবের কন্যাকেও দেখা যায় বাংলাদেশের মানুষই ভোট দিয়ে আনে! বৃহত্তর জনগোষ্ঠি যখন পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতিতে সায় দেয়, তখন সেটিকে বাঁধা বলা কতখানি যুক্তিযুক্ত?

    • সেকারণেই সম্ভবত ওই দেশগুলোতেও আমরা ধনী আর গরিবের এতোটা বৈষম্য দেখতে পাই। হানাহানি আর হত্যার রাজনীতি দেখতে পাই। কৃষকের আত্মহত্যা দেখতে পাই। জাতিগত কোন্দল দেখতে পাই।……….

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s