নৈতিকতা বনাম সংসদ সদস্য


অর্থ আয় করা অন্যায় নাহলে খরচ করাটা অন্যায় হবে কেন?
যেমন ধরুন, একজন বাংলাদেশীর অনেক টাকাকড়ি আছে। সে ১৬ কোটি টাকা দিয়ে গাড়ি কিনে ঢাকার রাস্তায় চালায়। এটা কি অন্যায়? কিংবা আরেকজন বাংলাদেশী ১০০ কোটি টাকা খরচ করে বাড়ির অন্দরমহল সাজালো সেটা কি অন্যায়?

টাকা থাকলে খরচ করবে নাতো কি টাকা জমিয়ে রাখবে? মানুষ তো ভোগ করার জন্যই আয় করে। তাছাড়া গাড়ি তো বিক্রি করার জন্যই তৈরি হয়েছে। বাড়ি সাজানোর জিনিসের বেলায়ও কথাটা সত্যি। তাহলে?

এখন বাংলাদেশে থাকে বলে একজন মানুষ তার সম্পদ খরচ করতে পারবে না সেটা কেন হবে? যুক্তিটা কি?

কেউ কেউ বলেন, দেশে এতো গরিব মানুষ সেখানে এতো এতো খরচ করাটা অন্যায় নাতো কি? প্রশ্ন হলো একটি গরিব দেশে যদি একজন মানুষের পক্ষে এতো টাকা আয় করা সম্ভব হয়  এবং তিনি যদি নিজের অর্জিত অর্থ দিয়ে গাড়ি বাড়ি করতে চান দোষের কি আছে? একজন গরিব মানুষের যদি নিজের আয় তার ইচ্ছেমতো খরচ করার অধিকার থাকে তাহলে একজন ধনী মানুষের কেন দেশের আইন মেনে নিজের ইচ্ছেমতো খরচ করার অধিকার থাকবে না? আমরা যদি গরিব মানুষের খরচ করার অধিকার স্বীকার করি তাহলে ধনী মানুষের খরচের অধিকার কি করে অস্বীকার করি?

আয় ব্যয়ের জায়গায় নৈতিকতার বাণী দিয়ে লাভ নেই।

একথা ঠিক যে, ফুটপাথে পলিথিনের ঘরে বসবাসকারী মানুষের পাশে যখন একটি ১৬ কোটি টাকা দামের গাড়ি এসে থামে সেটি দেখতে ভালো লাগে না। কিংবা ৩০০ কোটি টাকার বাড়ির গার্ড যখন মাস শেষে ৩৫০০ টাকা বেতন নেয় সেটা দেখতেও ভালো লাগে না। কিন্তু তাই বলে যারা ওই গাড়িতে কিংবা বাড়িতে থাকে তাদেরকে তো সেজন্য দোষ দেওয়া যাবে না। তারা তো অন্যায় কিছু করছে না। দৃষ্টিকটু যাদের লাগছে সেটা তাদের নিতান্ত নিজস্ব বিষয়। এজন্য তো একজন বিত্তশালী তার সুখ স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করতে পারে না। দেশের গরিব মানুষের কি হলো সেটা দেখা তাদের দায়িত্বও নয়। সম্পদের সুষ্ঠু বন্টনের কোন কমিটমেন্ট তারা করেনি যে পালন করবে। সেসব দেখার জন্য রাষ্ট্র আছে। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সরকার আছে। সংসদ আছে। সংসদে ৩০০ মানুষকে জনগণ পাঠায় সম্পদের সুষ্ঠু বন্টনসহ এমন একটি সামাজিক পরিবেশ তৈরি করার জন্য যেখানে দৃষ্টিকটু বিষয়গুলো সহনীয় হবে। কিংবা চোখে পড়বে না। কোন বিত্তশালী মানুষ গরিবের দুঃখ কষ্ট দেখার জন্য কমিটেট না হলেও ওই ৩০০ মানুষ কিন্তু কমিটেট।

রাষ্ট্রের ৩০০ এমপি-কে জনগণ সংসদে পাঠায় দেশ ও জনগণ উপযোগী আইন তৈরি করার জন্য। তারা যদি সেখানে বসে গম ভাগ করা, রাস্তা মেরামতের বখরা নেওয়া আর এই জাতীয় কাজ করে তাহলে জনগণেরকাছে দেওয়া তাদের কমিটমেন্ট তারা রাখছে না। তারা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছে না। তাদের নৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। কারণ তারা নীতিগতভাবে জনগণের দেখভাল করার শপথ নিয়েছে। ছয় দরজার মার্সিডিজ আরোহী কিংবা শত কোটি টাকার বাড়ির বাসিন্দা কোন শপথ নেয়নি।

ফলে জনগণকে বুঝতে হবে দোষটা কার। এবং সেই মতো ব্যবস্থা নিতে হবে।

Advertisements

2 thoughts on “নৈতিকতা বনাম সংসদ সদস্য

  1. একমত, অবৈধ উপার্জন না হলে এবং ঠিকমত কর পরিশোধ করলে সম্পদ অর্জন এবং তা ভোগ করার অধিকার সকলেরই রয়েছে। এরকম কোন বিধিনিষেধ নেই যে এর বেশি তুমি আয় করতে পারবেনা। পরিশধিত করের টাকায় সরকার দারিদ্র মোচন করবে, সঠিকভাবে কর পরিশোধ করার মাধ্যমেই একজন নাগরিক দেশ ও সমাজের প্রতি তার দায়িত্ব পালন করতে পারে। এর বাইরে তিনি যা করবেন সেটা বাড়তি পাওনা হবে।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s