ভাবী কাহিনী


imagesএকবার এক জুনিয়র সরকারি কর্মকর্তা আমাকে বলেছিলেন, ‘আচ্ছা নবী ভাই, আমাকে বলুন তো ভাবী কি কোন পোস্ট?’

‘না, ভাবী কেন পোস্ট হতে যাবে?’

‘সব মহিলা জেলা ক্রীড়া সংঘ এবং এই ধরনের সংস্থাগুলোতে পদাধিকারবলে প্রধান হচ্ছেন ‘ডিসি ভাবী’। সংবাদপত্রে বলা হয় ডিসি পত্মী! আচ্ছা ধরুন অফিসের বিগ বস মানে জেলা প্রশাসক মহিলা। তাহলে কি মহিলা ক্রীড়া সংঘের প্রধান হবেন পদাধিকারবলে তার পতি। পত্রিকাগুলো কি লিখবে ডিসি পতি!’

১.
বসুন্ধরা সিটির মেইন এন্ট্রান্স। কালো রংয়ের হুন্দাই টাকসনের পেছনে শিবলীর সরকারি গাড়িটা থামল। শিবলী তখন গাড়ি দেখছে না। তার মাথায় ঘুরছে অন্য চিন্তা। ড্রাইভারকে বলল আমি ফোন দিলে স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড বুথের সামনে আসবে। জ্বী স্যার বলে ড্রাইভার পার্কিং করতে চলে গেলো।

২.
দোকানদার অনেকক্ষণ ধরে দেখল। একবার এটা বসাচ্ছে। আরেকবার ওটা বের করছে। দোকানটা শিবলীর পরিচিত। দোকানের ক্যাশ মেশিনের সামনের টুলে বসেছে শিবলী। তার জন্য সাত তলা থেকে ফ্রেশ আখের রস আনা হয়েছে। তাতে চুমুক দিচ্ছে আর দোকানের মালিকের সঙ্গে টুকিটাকি কথা হচ্ছে। বেশিরভাগ কথাই সময় কাটানোর জন্য। হঠাৎই শিবলীর মনে হলো তাড়া দেওয়া দরকার। বলল, ভাই আর কতোক্ষণ? মালিক কোনায় বসে কাজ করছে যে ছেলেটি তাকে জিজ্ঞাসা করল, কিরে মজনু আর কতোক্ষণ?

‘বস, এটা বোধহয় ঠিক করা যাবে না। আইসি পাচ্ছি না।’

‘তোর কাছে না থাকলে অন্য কোথাও খোঁজ নে।’

‘বস, হেইডা তো আগেই লইছি। ইস্টার্ণ প্লাজায়ও ফোন দিছিলাম। নাই।’

‘তাইলে?’ এবার শিবলী জিজ্ঞাসা করল।

‘রেখে যেতে হবে। পরে যদি পাওয়া যায় ঠিক করে ফোন করে দেব, স্যার।’

‘কিন্তু রেখে গেলে তো হবে না। ফোন তো লাগবে। আচ্ছা, এটা ঠিক করতে কতো খরচ হতে পারে?’

‘আইসি পাওয়া গেলে শত পাঁচেক টাকায় হয়ে যাবে। কিন্তু আইসি পাওয়া না গেলে ঠিক হওয়ার কোনই সম্ভাবনা নেই।’

‘এরকম নতুন সেটের দাম কতো?’ শিবলীর এবারের প্রশ্নটা দোকান মালিককে।

মেকার মজনুর কাছ থেকে মডেল ও কোম্পানি জেনে নিয়ে মালিক দামটা বলার পর শিবলী দ্রুতই সিদ্ধান্ত নিলো। বলল, আমাকে ঠিক এরকম আরেকটা সেট দেন।

‘সেট যদি নেন তাইলে এই সিরিজের পরের মডেলটা নেন। দাম অলমোস্ট একইরকম।’

‘বেশ, তাই দিন।’

সিদ্ধান্তটা নিতে পেরে শিবলীর ভালো লাগছে। ভাবী নিশ্চয়ই খুশী হবে। যদিও শিবলী জানে ভাবী প্রথমে বলবে, এভাবে এটা আনা ঠিক হয়নি। কেন যে এইসব তোমরা করো। অযথাই এতোগুলো টাকা খরচ করলে। ইত্যাদি ইত্যাদি। এসময়ে সুযোগমতো ভাবীকে এসিআর সাইন করার কথাটা বলতে হবে। এসিআর এ একটা ভালো রিকমেন্ডশন পাওয়াটা শিবলীর জন্য খুব বেশি দরকার। ভাবী বললে স্যার ভালো কিছু লিখবেন সে বিষয়ে শিবলী নিশ্চিত।

৩.
এদেশে সরকারি চাকরিতে ভাবীদের দাপট নতুন কিছু নয়। সেই পাকিস্তান আমলে সিএসপি অফিসাররাও ভাবীদের তোষামোদ করতেন। তারও আগে অবিভক্ত ভারতবর্ষে যখন ইংরেজ শাসনামল ছিলো তখনও তোষামোদী চলত। তবে সরকারি চাকরিতে সবাই যে তোষামোদ করে, ভাবীদের ফুট ফরমায়েশ খাটে তা কিন্তু নয়।

৪.
সরকারি চাকরিতে কিছু অঘোষিত নর্ম আছে যা সরকারি চাকরিতে যারা নেই তারা বুঝতে পারবে না। সরকারি অফিসে সিনিয়রদের স্ত্রীরা খুব পাওয়ারফুল। জেলা পর্যায়ে বিষয়টি খুব চোখে পড়ে। জেলা প্রশাসকের স্ত্রী যেন ব্রিটিশ আমলের জমিদারের স্ত্রী। অনেক ডিসি-র স্ত্রী স্বামীর অফিসের অধঃস্তনদের তার ব্যক্তিগত কর্মকত‍র্ার মতোই মনে করেন। স্বামীদের কেউ কেউ বিষয়টিকে অজানা কারণে উপভোগ করেন। এসব দেখে কারো কাছে মনে হতেই পারে স্ত্রীদের ছড়ি ঘোরানোর মধ্যে তারা নিজেদের পুরুষত্ব খুঁজে পান। স্ত্রীদের যেন তারা বলছেন, দেখো আমি কতো পাওয়ারফুল যে তুমিও আমার দ্বারা ক্ষমতা পেয়ে এটা ওটা করতে পারছো!

৫.
শিবলীর মতো আরো অনেকেই এমনটা করছে। সরকারি কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে ঘুষের লেনদেন করে। সেটা নগদ কিংবা জিনিসপত্র কিনে দিয়ে হয়। সরকারি কর্মকর্তারা সাধারণত ঘুষ দেন প্রশিক্ষণ তালিকায় নিজের নাম উঠানোর জন্য। কিংবা সুবিধাজনক জায়গায় পোস্টিং পেতে। বাড়ি বরাদ্দ কিংবা গাড়ির এলটমেন্ট পেতে। আরো আছে। তালিকাটা দীর্ঘ। সবাই যার যার মতো করে সরকারি পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। এটাকে হরিলুট বলে কিনা কে জানে। তবে সিস্টেমটা এমন যে, এখানে একটা সময় পর্যন্ত কেউ কাউকে কিছু বলে না। লাইনচ্যুত হলেই নেমে আসে গজব। সরকারি কর্মকর্তাদের নিজেদের মধ্যে রেষারেষিটা কিন্তু কম নয়। বাইরে থেকে বিষয়টা বোঝা যায় না।

৬.
তবে ব্যক্তিগতভাবে আমার সুযোগ হয়েছে অনেক ভালো ও সৎ অফিসারের সঙ্গে মেশার। যারা তাদের জুনিয়রদের প্রতি স্নেহশীল। তাদের কাজের প্রতি দায়িত্বশীল। জনগণের কল্যাণের প্রতি মনোযোগী। সরকারি সম্পদ ব্যবহারে সতর্ক।

৭.
এক সরকারি কর্মকর্তা একবার আলাপকালে বলেছিলেন যে, জয়েন করার পর আমি সত্যি-ই দিশেহারা হয়েছিলাম। আমার জন্য প্রথম ধাক্কাটা ছিলো, যখন আমার সিনিয়ররা আমাকে নাম ধরে ডাকা শুরু করল। আমাকে যখন তখন এটা ওটা করার জন্য অর্ডার করতে লাগল। কিন্তু আমার জন্য আরো বড় বিষ্ময় অপেক্ষা করছিল। সরকারি দুম্বার মাংস নিতে না চাইলে আমাকে কড়া ধমক খেতে হয়েছিল। আমাকে বলা হয়েছিল, এটা সবাই নিচ্ছে অতএব তোমাকেও নিতে হবে। বিষয়টি যেন এমন সবাই ঘুষ খেলে আমাকেও খেতে হবে। নতুবা চেইন অব কমান্ড ব্রেক করার অপরাধে আমাকে নিন্দনীয় হতে হবে। এমনকি শাস্তিও পেতে হতে পারে! শাস্তি মানে আমাকে বেকায়দায় ফেলা আর কি।

৮.
ব্যক্তির অপরাধ আমাকে বিচলিত করে না। আমাকে বিচলিত করে অপরাধের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ। শিবলীর কথাই ধরুন না। শিবলী একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও অফিস আওয়ারে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার স্ত্রীর ফোন সারাতে কেন গেলো? কেনই বা ফোন সারাতে না পেরে তার উপরওয়ালার স্ত্রীর জন্য একটা নতুন ফোন কিনল? শিবলীর বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখুন তার স্ত্রীও ওই দামের ফোন হয়তো ব্যবহার করে না। নিজের স্ত্রীর জন্য শিবলী যা কিনতে পারেনি তার উপরওয়ালার স্ত্রীর জন্য কিনছে। কেন? কারণ তার উপরওয়ালার কাছ থেকে কিছুটা অনুগ্রহ পেতে। তার উপরওয়ালার অনুগ্রহ করার ক্ষমতা এলো কোথা থেকে। চেয়ার থেকে। ওই চেয়ারে না থাকলে শিবলী আর উপরওয়ালা একই কাতারে চলে আসতো। তাই না। আমাদের দেশে চেয়ারে বসা ক্ষমতাবান মানুষদের প্রতি সাধারণ মানুষের যে মনোভাব এবং একইমানুষ যখন ক্ষমতায় থাকে না তার সঙ্গে সাধারণ মানুষের যে আচরণ সেটি দেখার মতো। এই দেশের এক রিয়াল এডমিরাল যিনি এরশাদের আমলে উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ছিলেন অবসরে যাওয়ার পর একদিন সচিবালয়ে পুরনো লিফটম্যানের সালাম না পেয়ে তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন, ক্ষমতার প্রভাব! বিষয়টি তাকে এতোটাই নাড়া দিয়েছিলো যে, লিফট থেকে নেমে মন্ত্রীর পিএস-কে বলে তবে মন্ত্রীর রুমে ঢুকেছিলেন। তিনি মন্ত্রীর পিএস-কে বলেছিলেন, আমার জন্য লিফট একসময় দাঁড় করিয়ে রাখা হতো। সবাই সটান দাঁড়িয়ে থাকতো। আর আজকে? আমি লিফটম্যানকে চিনেছি কিন্তু লিফটম্যান মনে হলো আমাকে চেনেনি। ঘটনাটি ১৯৯২ সালের।

লেখাটি শেষ করব একজন সরকারি কর্মকর্তার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে। তিনি আমাকে তার জীবনের একটা গল্প বলছিলেন। ধরা যাক তার নাম নীলাঞ্জনা। তিনি আমাকে যেভাবে বলেছেন:

‘একদিন আমার পাশে বসা সিনিয়র এক পুরুষ কলিগ হঠাৎ তিনি আমার কানের কাছে মুখ নামিয়ে আনলেন, ‘নীলাঞ্জনা, তুমি কি দেখতে পাচ্ছো না পেছনে এডিসি ভাবী দাঁড়িয়ে আছেন?’

‘আমি স্বাভাবিক গলায় বললাম, কই নাতো!’

‘তিনি বললেন, আস্তে কথা বলো। তুমি পেছনে গিয়ে বসো।’

‘আমি যেন বুঝতে পারিনি। বললাম, কেন স্যার?’

‘এটা নিয়ে পরে কথা হবে। এখন যা বলছি করো।’

পরেরদিন তিনি আমাকে তার রুমে ডেকে নিয়ে আমলাতন্ত্রের বিভিন্ন দিক বোঝালেন। সেখানে ঘুরে ফিরে ভাবীদের প্রসঙ্গ আসলো। তিনি সরকারি অফিসে ভাবীদের কি যে গুরুত্ব সেটা বললেন। জেলা পর্যায়ে যখন কোন সরকারি অনুষ্ঠান হয় তখন সরকারি অনুষ্ঠানের টাকায় ডিসি এডিসি সাহেবদের স্ত্রীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের গিফট কেনা হয় যেখানে শাড়িও থাকে। একবার একজন আমাকে বলছিলেন যে, ডিসি অফিসের ক্ষমতা আছে স্থানীয়ভাবে অর্থ সংগ্রহ করার। সেই সুবাদে অতি উত্‌সাহী কিছু অফিসার মৎস্য সমিতি, বাস মালিক সমিতি, রিকশা সমিতি, বাজার সমিতি ইত্যাদি থেকে অর্থ সংগ্রহ করে বিভিন্ন ধরনের সরকারি অনুষ্ঠানের জন্য। তারপর সেই অর্থ দিয়ে অনুষ্ঠান করার পাশাপাশি ভাবীদের জন্য গিফট কেনা হয়। একবার ২৬ মার্চের এক অনুষ্ঠানের চাদার টাকায় এক ডিসি ভাবীর জন্য ২৩টি শাড়ি কেনা হয়েছিল। গিফট কেনার ব্যাপারে অফিসারদের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় এবং প্রতিযোগিতা থাকায় এমনটা হয়ে থাকে।

৯.
এথেকে মুক্তির উপায় হলো জনগণের ক্ষমতা বাড়ানো। প্রশ্ন হলো জনগণের ক্ষমতা বাড়াবে কে? আমার প্রিয় নায়কদের একজন নানা পাটেকার অভিনীত একটি হিন্দি ছবির গল্প দিয়ে লেখাটা শেষ করি। হিন্দি ছবি ক্রান্তিবীরের মধ্যে দেখা যায় এক মহিলাকে গুন্ডারা ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তার ছেলে নানা পাটেকারকে বলছে, মামা মা-কে বাঁচাও। কিন্তু নানা পাটেকার নির্লিপ্ত। বস্তিতে অনেকেই ঘটনা দেখছে। কেউ এগিয়ে যাচ্ছে না। ওই মহিলা তখন নানা পাটেকারের ব্যাপারে তার উষ্মা প্রকাশ করছেন। নানা পাটেকার তখন বলছে, আমি আজকে বাঁচাব যখন আমি থাকব না, অন্য কেউ থাকবে না তখন কে বাঁচাবে। এরা তো আবার আসবে। যার বাঁচার দরকার তার নিজেকেই বাঁচার চেষ্টা করতে হবে। তখন মহিলা নিজেকে ছুটিয়ে নিতে চেষ্টা করেন এবং পাশে দাড়ানো একজনের হাত থেকে লাঠি কেড়ে নিয়ে গুন্ডাদের একজনের মাথা ফাটিয়ে দেন। অন্যদের পেটাতে থাকেন। এক পর্যায়ে ওরা ভেগে যায়। জনগণকে রুখে দাঁড়ানোর এই বাণী কে শোনাবে। আমাদের দেশে কে হবে নানা পাটেকার?’

প্রথম প্রকাশ ৯ আগস্ট ২০১২
পুনর্লিখন ১২ আগস্ট ২০১৫
গুলশান-২।। ঢাকা।।

One comment

  1. একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল আপনার এই লেখাটা পড়ে:

    জনৈক বড় ভাই: তুমি এখন কি করছ?

    আমি: একটা প্রাইভেট ফার্মে চাকরি করছি।

    জনৈক বড় ভাই: বেতন কত পাও?

    আমি: এখন পাচ্ছি ২৩,০০০ টাকা, সামনে একটা ইনক্রিমেন্ট হওয়ার কথা আছে।

    জনৈক বড় ভাই: হুমম, বেতন তো ভালই। তা তুমি বিসিএস দিবা না?

    আমি: আমার তো ইচ্ছা নাই।

    জনৈক বড় ভাই: কেন? পরীক্ষা খুব কঠিন হয় এই জন্য?

    আমি: না, না, না, তেমন কোন কথা না। বিসিএস চাকরির বেতন কম, আমার কম বেতনে চলবে না। নিজের খরচ, পরিবারে টাকা দেয়া, সব মিলিয়ে পোষাবে না।

    জনৈক বড় ভাই: কে বলছে বিসিএস চাকরির বেতন কম? তুমি জান একজন কাস্টম অফিসার মাসে কত টাকা কামাই করে?

    আমি: জানি, একজন কাস্টম অফিসারের বেতন মাসে ১৫,০০০ টাকার বেশি না এই মূহুর্তে। বছরে দুইটা বোনাস এবং সরকারি কিছু সুবিধা, কিন্তু আমার এতে চলবে না।

    জনৈক বড় ভাই: বেতন ১৫,০০০ টাকা কিন্তু তুমি জান না কত কামাই করে। একটা চালানেই লাখ টাকা কামানোর চান্স আছে। এমন চালান বছরে ১৫-২০ খুব সহজেই হয়ে যায়। তুমি জান একজন এএসপি মাসে কত কামাই করে?

    আমি: বেতন কত জানি, কিন্তু কত কামাই করে জানি না।

    জনৈক বড় ভাই: একজন বিসিএস কর্মকর্তা চালাক হলে মাসে লাখ লাখ টাকা কামাই করে নিতে পারে খুব সহজেই। তা তোমার লাখ টাকা বেতন পাইতে গেলে তো আরও ৫-৬ বছর চাকরি করতে হবে, তাই না?

    আমি: জানি, কিন্তু এত টাকা বিসিএস কর্মকর্তারা যে কামাই করে, তা তো অবৈধ। বিসিএস চাকরিতে সৎ থেকে লাখ লাখ টাকা কামাই করা তো সম্ভব না। তবে হ্যা, চাকরি শেষে পেনশনের খুব ভাল একটা সুবিধা আছে, যা প্রাইভেট চাকরিতে নাই। তবে শুরু থেকে কিছু কিছু সেভ করলে সেটাও কভার হয়ে যাবে।

    জনৈক বড় ভাই: আরে তুমি আমার পয়েন্টা টা ধরতে পার নাই। তুমি জান বিসিএস’র চাকরি কত সহজ, চাকরি চলে যাওয়া কোন ভয় নাই, কাজের প্রেশার কম, অনেক সুবিধা।

    আমি: আমি জানি ভাই, কিন্তু আমি অবৈধ পথে টাকা কামাই করতে চাই না এবং অন্যান্য সুবিধাও নিতে চাই না।

    একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে, জনৈক বড় ভাই: ঠিক আছে, তোমার ইচ্ছা। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে তোমার সিদ্ধান্ত ভুল, তোমার বয়স (বিসিএস দেয়ার) চলে যাচ্ছে, ঠিকমত সিদ্ধান্ত নিয়ে সুযোগ কাজে লাগাও।

    এই জনৈক বড় ভাই রাজশাহী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিভাগে মাষ্টার্স পাশ করা। দেশের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারীদের মনোভাব যদি এমন হয়, তাহলে এই সিস্টেম চেন্জ হওয়ার কোন চান্স নাই।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s