৫ কোটি বাংলাদেশী অচিরেই মারা যাবে!


এটা একটা ধারণা। তবে ভিত্তিহীন নয়। হিসেবটি সন্ধ্যায় শুনলাম। তবে সংখ্যাটি আমি বসিয়েছি। যে বলেছে তার ভাষায় বরং বলি।

‘বাংলাদেশের মধ্যবিত্তরা মারা যাবে। আগে মরবে শহরের লোকজন। বেঁচে থাকবে শুধু গ্রামের দরিদ্র মানুষেরা। শহরের দরিদ্র মানুষেরাও তুলনামূলকভাবে বেশিদিন বাঁচবে।’ সেদিন টেলিভিশনের খবরে শুনলাম আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশে মধ্যবিত্তের সংখ্যা ৫ কোটি।

বললাম, ‘তাহলে তো ৫ কোটি লোক মারা যাবে।’

‘সেটা তো জানি না। ৫ কোটি হবে নাকি ১০ কোটি হবে। তবে কথা হলো যারা শহরের বাজার থেকে যতোবেশি জিনিস কিনে খায় তারা আগে মারা যাবে। সেই হিসেবে প্রথমে মরবে যারা মাছ, মাংস, ফলমূল বেশি খায়।’

‘তাহলে তো ধনী লোকেরা আগে মরার কথা।’

‘বেশি ধনী ও মন্ত্রীরা আগে মরবে না। কারণ তারা আমদানী করা অলিভ অয়েল কিংবা সূর্যমুখী তেলে রান্না করে। ফলমূল খায় সেটাও বিদেশ থেকে আমদানী হওয়া না ভাঙ্গা কার্টন থেকে। মাংস খায় বাড়িতে খাসি কিংবা ভেড়া জবাই করে। আর মাছ খায় বিদেশী।’

‘তাহলে মধ্যবিত্তরা কেন মরবে?’

‘সহজ হিসেব। মাছে, মাংসে ও ফলমূলে তিনবার বিষ মেশানো হয়। একবার উৎপাদনস্থলে। একবার পরিবহণকালে। শেষবার বাজারে। আপনি কি জানেন, আপেলে মোমের প্রলেপ থাকে।’

‘না জানি না।’

‘জেনে নিবেন। ক্যান্সার রোগী দেশে কতো বেড়েছে জানেন?’

‘না জানি না।’

‘তাহলে আমার কথা বিশ্বাস করুন।’

‘করলাম।’

‘আরেকটা কথা বলি। আগে মানুষ দেশে টাকাপয়সা রাখত। এখন ধনী আর উচ্চবিত্তরা ১ কোটি টাকা হলে বিদেশে গিয়ে বাড়ি কেনে। কিংবা কোন ব্যবসায় টাকা খাটায়। এই দলে রাজনীতিবিদরাও আছে। ফলে, দেশে কে মারা গেলো। তাতে তাদের কিছুই যায় আসে না।’

‘বুঝলাম।’

‘তাহলে শেষ পর্যন্ত কারা বেঁচে থাকবে?’

‘গরিব আর ধনীরা।’

‘আর মন্ত্রীরা।’

‘এমপিরা থাকবে না?’

‘থাকবে। তবে সবাই না।’

‘গরিবরা কেন বাঁচবে?’

‘কারণ, গ্রামের গরিব মানুষ নিজের ক্ষেতের ফসল খায়। মুরগি যদি খায় সেটা বাড়িতে পালা। ডিমটাও বাড়ি থেকেই আসে। মাছ তো খেতেই পায় না। যদিও বা খায় সেটা নদী বা খাল থেকে ধরে খায়। তারা পুষ্টি কম পায় কিন্তু বিষও কম খায়।’

‘বুঝলাম।’

‘মনে হচ্ছে আপনি আমার কথা বিশ্বাস করছেন না?’

‘করছি। যুক্তি দিয়ে বলছো বিশ্বাস করব না কেন?’

‘না। আমি ভাবলাম আপনি হয়তো ভাবছেন দেশের ক্ষমতায় স্বাধীনতার সপক্ষ শক্তি আওয়ামী লীগ। তারা তো বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে। তারা কি করে বাংলাদেশের মানুষের এতো বড় ক্ষতি হতে দেবে।’

‘সেটাও যুক্তির কথা।’

‘মোটেই না। আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপি বলে কথা নয়। কথা হলো মানুষ। রাজনীতি এখন নষ্ট মানুষদের দখলে। দল তো কোন মানুষ গড়ার কারিগর নয়। মানুষই তো দল গড়ে।’

‘যুক্তির কথা। তোমার বয়সীদের চেয়ে তুমি ভিন্ন কথা বলছো।’

‘আমার বয়সীরা কি বলে?’

‘তারা মনে করে দল দেশ চালায়। তারা বোঝে না যে, মানুষ দল চালায়।’

‘আামার জেনারেশনের ছেলেমেয়েদের আবেগ বেশি। আপনার ছিলো না এই বয়সে, বেশি আবেগ।’

‘আমার আবেগ এখনো আছে। কিন্তু আমি কখনো বুদ্ধি হারাইনি। বাদ দাও এসব। পায়েস নাও।’

‘সারাদিন অনেক খেয়েছি।’

‘তাহলে আরেকটা টিকিয়া নাও। তোমাদের বয়সে আস্ত গরু খেতাম!’

‘সেকারণেই তো আপনাদের বয়সীরা কিংবা বড় যারা তারা দেশটাকে আস্ত খেয়ে ফেলছে।’

‘মন্দ বলোনি।’

 

 

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s