মন্ত্রীদের কমনসেন্স: বুয়েট, মেডিকেল ভর্তি, রেলের কর্মীকে চড়….১


বাংলা একাডেমীর ডিকশনারিতে commonsense শব্দের অর্থ লেখা আছে সাধারণ জ্ঞান।

মন্ত্রীরা অনেক বড় মাপের মানুষ। তাদের কমনসেন্সও নিশ্চয়ই অনেক বড় হবে। কি বলেন? তাদের সেই বড় বড় চিন্তার বেড় পাওয়া মুশকিল। মুশকিল তো হবেই। দেশে মানুষের সংখ্যা ১৬ কোটি। কিন্তু মন্ত্রীর সংখ্যা ১৬ হাজারও নয়। তাহলে বুঝুন। এতো বড় যে মানুষ তাদের বুদ্ধির বেড় পেতে হলে আমার মতো গোলাম নবীর একার বুদ্ধিতে কুলাবে কেমনে? সঙ্গতকারণেই আমি আপনাদের সাহায্য চাচ্ছি। আসুন সবাই মিলে চিন্তা করে মন্ত্রীদের কমনসেন্স বোঝার চেষ্টা করি।

প্রথমেই বুয়েট প্রসঙ্গ। কয়েকমাস হয়ে গেলো বুয়েটের ক্লাস হচ্ছে না। বুয়েটে যারা পড়ে এবং যারা পড়ায় তারা সেরা মেধাবী। এনিয়ে কাউকে কখনো দ্বিমত হতে দেখিনি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রোভিসি যারা তারাও মেধাবী। তারমানে বুয়েটের সবাই মেধাবী। বাংলা ভাষায় একটি কথা আছে দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যজ্য। প্রশ্ন হলো দুর্জন কে? ভিসি ও প্রোভিসি নাকি বাকি সবাই? এটা বোঝা কি খুবই কঠিন বিষয়? মন্ত্রীদের কর্মকান্ড দেখে মনে হয় বেশ কঠিন। এতোটাই কঠিন যে, বিপুল সংখ্যক ছাত্র ছাত্রীর জীবন থেকে যে মূল্যবান সময় ঝরে যাচ্ছে তা তারা দেখতে পাচ্ছেন না। সময়ের যেনো কোন দাম নেই। ছোটবেলায় যে পড়েছিলাম- সময় মূল্যবান সেই পড়া ভুল মনে হচ্ছে। অনেক বছর আগে এক গরিব মেধাবী ছাত্র বলেছিল যে, ড. জাফর ইকবালের জেদের কারণে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় কয়েক মাস বন্ধ থাকায় অন্যের কি লাভ হয়েছে সে জানে না। কিন্তু তার গরিব পিতার জন্য বড় কষ্ট হয়েছিল। প্রশ্ন হলো, বুয়েটে কি গরিব পিতার কোন সন্তান পড়ে না? যাদের কাছে এক একটি মাস একটি বছরের চেয়েও বেশি দীর্ঘ। মন্ত্রীরা সেকথা তো না বোঝার কারণ নেই। তারা তো বুদ্ধিজীবিদের মতো শহরবাসী কিংবা আমেরিকা থেকে আগত প্রবাসী বাংলাদেশী নন। তারা ভোটে নির্বাচিত। তারা তো জনগণের কাছে যান। তাহলে, তাদের সাধারণ জ্ঞান কি বলে? বুয়েট সমস্যার সমাধান কি আসলেই কি এতো কঠিন বিষয়? ভিসি ও প্রোভিসিই বা কেমন সাধারণ জ্ঞানের মানুষ যে এতো মানুষের ভাষা বোঝেন না। পদে থাকতেই হবে। পদে না থাকলে কি এমন ক্ষতি হবে। আর পদে থাকার মধ্য দিয়ে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জীবনে কি এমন পরিবর্তন আনতে পারছেন?

এবার মেডিকেলে ভর্তি প্রসঙ্গ। রাস্তায় এক ক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীকে হাফ ডজন পুলিশ যেভাবে পেটালো সেটি বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন। এই ঘটনাটির দায় কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রী এড়াতে পারেন না। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কমনসেন্স কি বলে? কোচিং বাণিজ্য বন্ধের জন্য এমন তাড়াহুড়ো করার কি দরকার ছিলো। যে কোচিং বাণিজ্য বিগত বছরগুলোতে চলেছে সেটি আরো একটি বছর চললে কি হতো। এবছর যদি স্বাস্থ্যমন্ত্রী নতুন ভর্তির নিয়ম ঘোষণা করতেন এবং আগামী বছর থেকে কার্যকর করতেন তাহলে কেউ উচ্চবাচ্য করতো না। তিনি মানুষকে উত্তেজিত করেছেন। এখন চাপে পড়ে নমনীয় হচ্ছেন। মাঝখান দিয়ে অনেক নাটক করলেন। সবচেয়ে বড় কথা অনেক অহেতুক ঘটনার জন্ম দিলেন। অনেক গুজবের জন্ম দিলেন। বলাবলি হচ্ছে মন্ত্রী কোচিংয়ের টাকার ভাগ না পাওয়ার কোচিং সেন্টারগুলোর উপর নাখোশ হয়েছেন। কেউ কেউ বলছে, নিজেদের আত্মীয় স্বজনকে চান্স পাইয়ে দেওয়ার জন্য নতুন ব্যবস্থা। কোচিংয়ে টাকা ভাগাভাগির বিষয়টি যুক্তিতে মিললেও আত্মীয় স্বজনকে চান্স পাইয়ে দেওয়ার বিষয়টি যুক্তিতে মিলে না। যাই হোক দেশে একটি অহেতুক আন্দোলনের ঘটনার জন্ম দিয়েছেন মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী। যার সূত্রে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উপর আরেক মন্ত্রীর দপ্তর চড়াও হয়েছে। পুলিশ হলো জনগণের বন্ধু। এই সরকারের আমলে সেই কথাটি সবসময় বলাও হচ্ছে। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাধারণ জ্ঞানের নাগাল জনগণ পাচ্ছে না।

সর্বশেষ রেলের কর্মীকে রেল মন্ত্রীর চড় প্রসঙ্গ। মন্ত্রী বলেছেন তিনি তার ভাই হলেও তাকেও চড় মারতেন। জনগণের সাধারণ জ্ঞান বলে ভাইকে ভাই চড় দিলেও দিতে পারেন। কিন্তু একজন দায়িত্বশীল মানুষ কখনো তার প্রাপ্তবয়স্ক ভাইকেও চড় দেন না। হয়তো মন্ত্রীরা দেন। ফলে, রেলের একজন কর্মীকে চড় দেওয়ার এই ঘটনা মন্ত্রী পরিষদের জন্য সাধারণ ঘটনা হলেও সাধারণ জনগণের জন্য অসাধারণ ঘটনা।

পত্রিকার পাতায় প্রতিদিন মন্ত্রীদের কমনসেন্স নিয়ে অনেক লেখা প্রকাশিত হয়। সাধারণ জনগণ যা বুঝতে পারে না।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s