‘ননসেন্স’ অর্থমন্ত্রী: মন্ত্রীদের কমনসেন্স পর্ব ৩


বাংলাদেশের জনগণকে প্রকাশ্যে কথায় কথায় ননসেন্স বলার মতো মানুষ এই মুহুর্তে দেশে মাত্র একজন আছেন। তিনি মাননীয় অর্থমন্ত্রী মি. আবুল মাল আবদুল মুহিত। জন্ম সিলেটে, ১৯৩৪ সালে, এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। তার বাবা এডভোকেট আবু আহমাদ আবদুল হাফিজ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা আন্দোলনের নেতা এবং সিলেট জেলা মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। (সূত্র: http://www.mof.gov.bd/en/)

অর্থমন্ত্রী মুহিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অর্নাস ও মাস্টার্স করেছেন। ১৯৫৬ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। পাকিস্তান সরকারকে খেদমত করার পুরস্কার হিসেবে ১৯৬৬ সালে তাকে ‘Tamgha e Khidmat’ উপাধি দেওয়া হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে পরিকল্পনা সচিব করেছিলেন। কথিত আছে, আমেরিকার সঙ্গে তার সম্পর্ক তাকে এই পদ পেতে সহায়তা করেছে। পরবর্তীতে একই কারণে স্বাধীনতা যুদ্ধের এক নাম্বার সেক্টরের কমান্ডার ও পরবর্তীতে জেড ফোর্সের অধিনায়ক বীরোত্তম জিয়াউর রহমান তাকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বহিঃসম্পদ বিভাগের সচিব করেছিলেন। জিয়ার মৃত্যুর পর তিনি স্বেচ্ছা অবসরে গিয়ে আমেরিকান প্রতিষ্ঠান ফোর্ড ফাউন্ডেশনে যোগ দেন। এরপর তার আদর্শ ও অবস্থানগত সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি এরশাদের মন্ত্রীসভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। দুই বছর দায়িত্ব পালন শেষে তিনি বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, আইডিবি ও জাতিসংঘের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। আমেরিকার গুড বুকে থাকা মি. মুহিত ২০০৯ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার মন্ত্রীসভায় অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তার দায়িত্ব পালনকালের পুরো সময়টায় ছোট বড় নানান ধরনের আর্থিক দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হলেও কেউ তার পদত্যাগ দাবী করেনি। প্রথমবারের মতো সেই দাবী উঠে ২০১১ সালে শেয়ার বাজারের কেলেঙ্কারির পর। তিনি তার ভুল স্বীকার সে যাত্রায় রক্ষা পান। যদিও শুরুতে তিনি শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারিকে ‘ননসেন্স’ বিনিয়োগকারীদের লোভের খেসারত হিসেবে দেখাতে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারই গঠিত তদন্ত কমিটি যখন তার অদক্ষতার দিকে আঙ্গুল তুললে তিনি ক্ষমা চেয়ে নেন। কিন্তু জনগণকে ননসেন্স বলা তার থামেনি। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি সর্বশেষ দেশের জনগণ শুধু নয় গণমাধ্যম ও অর্থনীতিবিদদের ‘ননসেন্স’ বলেছেন। দুয়েকটি কোম্পানি কর্তৃক রাষ্ট্রয়াত্ত্ব সোনালী ব্যাংক থেকে ৪০০০ কোটি টাকা লোপাট হওয়াকে সাধারণ ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘

“Here, my banking crisis … which is not a crisis at all. It is a matter of Tk 3,000 or 4,000 crore. Nonsense! But you [the media] are harming the banking sector by publicising it. The sector is now confronted with questions whether all of it had crumbled down.” (সূত্র: http://www.thedailystar.net/newDesign/news-details.php?nid=248398)

দেশের জনগণ তার এই ধরনের ‘ননসেন্স’ কথাবার্তায় বিরক্ত। কিন্তু অসহায়। তবে জনগণ জানতে ইচ্ছুক, তার খুঁটির জোর কোথায়?

Advertisements

2 thoughts on “‘ননসেন্স’ অর্থমন্ত্রী: মন্ত্রীদের কমনসেন্স পর্ব ৩

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s