বিরোধী দলীয় নেত্রীর কমনসেন্স: বিরোধী দলীয় নেতাদের কমনসেন্স পর্ব ১


বাংলা একাডেমীর ডিকশনারিতে commonsense শব্দের অর্থ লেখা আছে সাধারণ জ্ঞান।

শুরুটা করেছিলাম মন্ত্রীদের কমনসেন্স দিয়ে। তিনটি পর্ব লিখেছি।

এর মধ্যেই একটি বড় ঘটনা ঘটিয়ে ফেললেন বিরোধী দলীয় নেত্রী। যেহেতু রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা নিয়োজিত তাদের কমনসেন্স নিয়ে লিখছি অতএব বিরোধী দলীয় নেত্রীর কমনসেন্স নিয়ে লেখার চাপ ভেতর থেকে অনুভব করলাম। মনে রাখা আবশ্যক যে, বিরোধী দলীয় নেতার পদটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। সরকারি দলকে সঠিক পথে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা আবশ্যক।

অতি সম্প্রতি প্রধান বিরোধী দল বিএনপি-র ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি তৈরি করা হয়েছে। পত্র পত্রিকার সংবাদে দেখলাম যে, ছাত্রদলের এই কমিটিতে যারা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে স্থান পেয়েছেন তাদের বয়স ৪৩/৪৪ বছর। কয়েকদিন আগে জেনেছিলাম, বিরোধী দলীয় নেত্রী এবং বিএনপি-র চেয়ারপারসন বলেছিলেন যে, কমিটি তিনি তৈরি করে দেবেন। কমিটি তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে অনেক কথা বলার থাকলেও সেগুলো নিয়ে এই লেখায় বলব না। কারণ এই লেখা শুধুমাত্র কমনসেন্স সংক্রান্ত।

কমনসেন্স থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, শিক্ষার্থীদের সংগঠন ছাত্রদলের নেতৃত্বে এমন ছেলেমেয়েরা থাকবেন যারা তরুণ শিক্ষার্থী। যাদের কাছে শিক্ষাই মুখ্য। বৌ, ছেলেমেয়ে কিংবা ব্যবসা বাণিজ্য নয়। অথচ ছাত্রদলের কমিটিতে এমন শিক্ষার্থীদের স্থান দেওয়া হয়েছে যাদের বয়স আগেই বলেছি ৪৩/৪৪। যাদের কাছে শিক্ষা নয় মুখ্য বিষয় হলো স্ত্রী, সন্তান এবং রুটি রুজি করা।

প্রসঙ্গত, উল্লেখ করা যেতে পারে বিএনপি-র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন মাত্র ৩৯ বছর বয়সে। খালেদা জিয়া যখন বাংলাদেশী প্রধানমন্ত্রী হন তখন তার বয়স ছিলো মাত্র ৪৫ বছর। অর্থাৎ ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতির চেয়ে মাত্র ১ বছর বেশি।

কোন যুক্তিতে বিরোধী দলীয় নেত্রী এই কাজটি করলেন আমার মাথায় আসে না। তাঁকে যারা পরামর্শ দেন তারা কোন বুদ্ধি ধারণ করেন সেটা আমার বুঝে আসে না। তবে পত্র পত্রিকায় খবর বের হয়েছে, ছাত্রদলের নবনির্বাচিত নেতারা একসময় আওয়ামী লীগ করতেন। তারা বিএনপি-র উপর আক্রমণের নেতৃত্বও দিয়েছেন। একই সময়ে কমিটি তৈরির পর বিএনপি-র এক শীর্ষ নেতাকে টেলিভিশনে বলতে শুনলাম- ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব মাঠে থেকে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে মোকাবেলা করবে, আওয়ামী লীগকে মোকাবেলা করবে। আরেক নেতা বলেছেন, ম্যাচিউর নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে দেশের নিরীহ ছাত্ররা বিপদাপন্ন হয়ে পড়েছে। দেশের শিক্ষাঙ্গন বারবার হুমকিগ্রস্ত হচ্ছে। সর্বশেষ বুয়েটে ছাত্রলীগের ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ড দেশের মানুষ দেখেছে। আওয়ামী লীগের কয়েক ডজন মন্ত্রী ও নেতা বিভিন্ন সময়ে বিশেষ করে বিরোধী দলের হরতাল কর্মসূচিতে ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে মাঠে থাকার কথা বলেছেন।

এখন আমরা শুনছি সরকারের ছাত্র সংগঠন মোকাবেলায় বিরোধী দলের ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বকে ব্যবহারের ঘোষণা।

সরকারি দল না হয় কমনসেন্স হারিয়ে বসেছেন তাই বলে বিরোধী দলকেও কমনসেন্স হারাতে হবে। তারা কি বোঝেন না যেকোন সংঘাত সংঘর্ষে শুধু ক্রিমিনালরা মরে না সঙ্গে নিরীহ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শান্তির জন্য যে যুদ্ধ সেখানে আদর্শ থাকে। আওয়ামী লীগের মধ্যে কোন বোধ বা আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি এই ধরনের একটি ছাত্র নেতৃত্ব তৈরি করল বুঝতে পারছি না। তাদের নিজেদেরই বা কি আদর্শ এখানে প্রতিফলিত হচ্ছে।

ছাত্রদের কমিটি তৈরির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে দেশব্যাপী ছাত্রদের সম্পৃক্ত না করে এককভাবে একটি কমিটি, আবার যে কমিটিতে পৌঢ় মানুষের ভীড় তেমন একটি কমিটি তৈরির মতো এই ধরনের একটি ভুল পদক্ষেপ নিয়ে বিরোধী দলীয় নেত্রী কি মেসেজ দিলেন সবাইকে সেটা তাকে জিজ্ঞাসা করার মতোও কি কেউ নেই দেশের ক্ষমতায় তিন তিনবার থাকা এই দলটিতে?

 

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s