নির্লজ্জ অর্থমন্ত্রী নিজে মিথ্যার চালুনি হয়ে সুঁই ফখরুলের মিথ্যা খোঁজেন


অর্থমন্ত্রী যে ‘অতিকথন’ করেন, ‘বাড়িয়ে বলেন’ সেকথা তিনি নিজেই একাধিকবার স্বীকার করেছেন। পক্ষান্তরে যা মিথ্যারই নামান্তর। সর্বশেষ গতকালকে তিনি সাংবাদিকদের কাছে আবারও বললেন, ‘এখানে সবারই দোষ আছে, অতিকথন আছে। সেটি আমিও করেছি।’ তিনি এমন কথা বলেছেন, সাম্প্রতিককালে হলমার্কের ৪০০০ কোটি টাকা কেলেঙ্কারির সূত্র ধরে। মাত্র কয়েকদিন আগেই তিনি হলমার্ক কোম্পানি কর্তৃক রাষ্ট্রয়াত্ত্ব সোনালী ব্যাংক থেকে ৪০০০ কোটি টাকা লোপাট হওয়াকে সাধারণ ঘটনা উল্লেখ করে বলেছিলেন, “Here, my banking crisis … which is not a crisis at all. It is a matter of Tk 3,000 or 4,000 crore. Nonsense! But you [the media] are harming the banking sector by publicising it. The sector is now confronted with questions whether all of it had crumbled down.” (সূত্র: http://www.thedailystar.net/newDesign/news-details.php?nid=248398)

কিন্তু তার এই বক্তব্য গেলবারের শেয়ার বাজার নিয়ে তার উল্টাপাল্টা কথা বলার মতো পার পায়নি। সংসদে তারই দলের প্রভাবশালী সদস্যরা তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হলে তিনি এক পর্যায়ে সংসদের মাধ্যমে জাতির কাছে ক্ষমা চান। তবে তিনি তার ভাঙ্গা বাশি বাজানো থামাননি। নিজের দোষ অন্যের কাধে ঠেলে দিতে তিনি তার দলের অন্যান্যদের মতোই সক্রিয়ভাবে তৎপর। তারই সূত্রে দেখা যায় গতকালকেও তিনি বলেছেন যে, এক হাতে তালি বাজে না এখানে অনেকেই জড়িত। ব্যাংকিং খাতের বাইরের লোকও জড়িত।

তার পদত্যাগ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাজারে তো এটাই দাবী, ফখরুল ইসলাম সাহেব আছেন, তার বক্তব্য শুরু ও শেষ হয় এটা দিয়েই।’ এসময়ে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘তবে তিনি প্রায়ই অসত্য বক্তব্য দেন। আমি উনাকে খুব বেশি চিনি না। একটু একটু পরিচয় আছে। কিন্তু আমি দেখি ওনার স্টাইলটা এরকম যে, অসত্যটা উনি খুব ভালো করে সামনে তুলে ধরেন।’

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, আমেরিকার গুড বুকে থাকা মি. মুহিত ২০০৯ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার মন্ত্রীসভায় অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তার দায়িত্ব পালনকালের পুরো সময়টায় ছোট বড় নানান ধরনের আর্থিক দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হলেও কেউ তার পদত্যাগ দাবী করেনি। প্রথমবারের মতো সেই দাবী উঠে ২০১১ সালে শেয়ার বাজারের কেলেঙ্কারির পর। তিনি তার ভুল স্বীকার সে যাত্রায় রক্ষা পান। যদিও শুরুতে তিনি শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারিকে ‘ননসেন্স’ বিনিয়োগকারীদের লোভের খেসারত হিসেবে দেখাতে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারই গঠিত তদন্ত কমিটি যখন তার অদক্ষতার দিকে আঙ্গুল তুললে তিনি ক্ষমা চেয়ে নেন।

তার সেই ক্ষমা চাওয়ার কৌশল এখনো চালু আছে। তবে তিনি একথাও বুঝতে পারছেন যে, একই কৌশল বারবার কাজ করবে না। ফলে, তিনি এখন কিছুটা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বিরোধী দলের দিকে তার অদক্ষতার দায়ভার চাপাতে চাচ্ছেন। বেছে নিয়েছেন বিরোধী দলের তৃতীয় প্রধান ব্যক্তি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। এযেন চালুনির সুইয়ের ফুটো খোঁজার মতো অবস্থা।

মির্জা ফখরুল সত্য বলেন নাকি মিথ্যা বলেন সেটা নিয়ে গবেষণা হতে পারে। কিন্তু অর্থমন্ত্রী মিথ্যা বলেন সেটা তিনি নিজেই স্বীকার করায় বলা যায় তিনি হলেন আত্মস্বীকৃত মিথ্যাবাদী। তার কোন কথাই জনগণ বিশ্বাস করে না। তাতে অবশ্য তার তেমন কিছু আসে যায় না। তার কাছে তো এদেশের জনগণ ‘ননসেন্স’।

তার এই সীমাহীন অসত্য ভাষণ আর সত্য গোপনে এই দেশের জনগণ খুবই চিন্তিত সেটা পত্র-পত্রিকা, ফেসবুক, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে দেখা যায়। অর্থমন্ত্রী নিজেও বোধহয় খানিকটা অসহায় বোধ করেন মাঝে মাঝে। যেকারণে তিনি কায়দা করে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আছেন আগুনের মধ্যে, আমার মতোই। কিন্তু আগুন দেখে তো পালিয়ে গেলে হবে না। আগুন নেভানো দরকার। শারীরিক অবস্থার কারণে আমিও নয়মাস ধরে পালিয়ে যেতে চাচ্ছি। সরকার থেকে বেরিয়ে যেতে চাচ্ছি।

তার এই পালিয়ে যাওয়া কিংবা বেরিয়ে যাওয়ার কথায় চিন্তার কিছু নেই। কিন্তু এরপর তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে যা বলেছেন সেটা যেমন সত্যি কথা ঠিক তেমনি চিন্তার কথা। তিনি বলেছেন, ‘আমি প্রায়ই বলি, আমাদের দেশে দুর্নীতি প্রমাণ করার কেস সীমিত। এর একটি প্রধান কারণ সামাজিক আচরণ। এর সাথে ওর পরিচয়, ওর সাথে এর আত্মীয়তা এসব বিষয় তো স্বাভাবিক।’

ইতিহাস লেখকদের কেউ কেউ দাবী করেন ঠিক এরকম একটা কারণেই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে পারেননি। সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

মাননীয় অর্থমন্ত্রী অন্যের দোষ খোঁজা বাদ দিয়ে নিজের দিকে তাকাবেন কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s