বেশ আছি


আমি ঢাকায় থাকি। তবে জন্ম খেপুপাড়ায় হওয়ায় সেখানে কি ঘটছে সেই খবরও রাখি। দেশের বাকি অংশের খবর আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু বান্ধবদের মাধ্যমে পাওয়া ছাড়াও ফেসবুক, পত্রিকা ইত্যাদিতে পাই। সবমিলিয়ে বলতে পারেন আমার কাছে দেশের হালনাগাদ তথ্য আছে। সর্বোপরি, আমি জাতীয় সংসদের কার্যক্রম দেখি। এখন আমি আমার কাছে দেশের কি খবর আছে সেগুলো বলব।

দেশের মানুষ ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছে। যেখানে এখনো বিদ্যুৎ পৌঁছেনি তাদের কথা ভিন্ন। অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন বসানো হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে আগামী বছরের মধ্যে দেশের শতকরা প্রায় ৯৯ ভাগ মানুষ তাদের বাড়িতে টেলিভিশন দেখতে পারবেন। গ্রামে ফ্রিজ ও এসি চালানোর মতো বিদ্যুৎ থাকবে। শুধুমাত্র কিছু চর ও দ্বীপে বিদ্যুৎ পৌঁছানো সম্ভব হবে না। তবে ওই চর ও দ্বীপগুলো নদী ও সমুদ্র ভরাট করার মাধ্যমে যখন মূল ভূখণ্ডে যুক্ত হয়ে যাবে তখন তাদেরকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে। দেশের চিনি রপ্তানির অনুমতি যখন দেওয়া হয়েছে তখন আশা করা যায় উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ রপ্তানিতে কোন ধরনের সমস্যা হবে না। মায়ানমারের আরাকান ও ভারতের বিদ্যুৎ ঘাটতি আছে এমন রাজ্যগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার মাধ্যমে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন উৎস পাওয়ার কথাও কেউ কেউ বলছেন।

দেশে বিশুদ্ধ খাবার পানির কোন সমস্যা নেই। রান্না করার জন্যও পর্যাপ্ত পানি রয়েছে। দেশের মানুষকে পানির সমস্যামুক্ত করার জন্য একটি পানি নীতি করা হয়েছে। দেশে খালেদা জিয়া ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় যে আর্সেনিক সমস্যা ছিলো সেই সমস্যা এখন আর নেই।

দেশে স্যানিটেশনের কাভারেজ প্রায় শতভাগ অর্জিত হয়েছে। যারা স্যানিটেশন কাভারেজের মধ্যে নেই তারা মূলত সেই ধরনের জনগোষ্ঠী যারা তাদের অভ্যাস ত্যাগ করতে পারছেন না কিংবা চাচ্ছেন না। এব্যাপারে তাদেরকে লাইনে আনার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া ছাড়াও সরকার পরিচালনায় নিয়োজিত মহাজোটের শরিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে, যারা স্যানিটেশন চর্চা করছেন তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।

রান্না করার জন্য শহরগুলোতে গ্যাসের কোন সমস্যা নেই। গ্রামেও বাড়িতে বাড়িতে সিলিন্ডার গ্যাস পৌঁছে গেছে। দেশের দারিদ্র্য ২৬ শতাংশে নামিয়ে আনার কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে।

মানুষের ক্ষয়ক্রমতা বাড়ার কারণে বাজারে সবজি, মাছ, মাংস সবই পাওয়া যাচ্ছে। তারা কিনতেও পারছেন।

রাস্তায় পর্যাপ্ত গাড়ি আছে। যাতায়াতে কোনই সমস্যা হচ্ছে না। সামান্য কিছু ভাঙ্গাচোরা আছে সেগুলোর মেরামতের কাজ চলছে।

ব্যাংকে গিয়ে টাকাও পাওয়া যাচ্ছে। হলমার্ক কেলেঙ্কারি নিয়ে যারা চিন্তিত তারা ভাবতেও পারবে না এর চেয়ে অন্তত সাড়ে সাত গুণ বেশি টাকা শেয়ার বাজার থেকে লুটপাট হয়েছে। কিন্তু তাতে সরকারের অর্থনীতি মোটেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

দূরপাল্লার বাসের টিকেট পেতে কোন সমস্যা হচ্ছে না। রাস্তায় প্রচুর বাস আছে। নতুন নতুন বাস নামানো হচ্ছে। ট্রেনের টিকেটও সহজেই কেনা যাচ্ছে। লঞ্চগুলোর ভাড়াও নাগালের মধ্যে।

নদীর পানি স্বচ্ছ। চেহারা দেখা যায় না ঠিকই কিন্তু দুর্গন্ধ নেই। সরকার যখন ক্ষমতা নিয়েছিল তখন বুড়িগঙ্গার পানি ছিলো কালো। এখন ধবধবে সাদা প্রায়।

ঢাকা শহরের যানজট আগে থাকলেও এখন সদরঘাট থেকে উত্তরা কিংবা গুলিস্তান থেকে গাবতলী যেতে ২০ মিনিটের বেশি লাগছে না।

সারের দামটা একটু বেশি কিন্তু ফসলের দাম বাড়িয়ে কৃষক সেটা পুষিয়ে নিতে পারছে। সার পাওয়ার জন্য কোন সমস্যাই হচ্ছে না। সারের দাবীতে কৃষককে গুলি খেতে হচ্ছে না। ভারতে প্রতিবছর ২ লাখ কৃষক আত্মহত্যা করে ফসলের দাম না পাওয়ার কারণে। বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত একজন কৃষককেও আত্মহত্যা করতে হয়নি। তাছাড়া বাজারে ফড়িয়াদের উৎপাত একদমই নেই। ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের কিছু নেতা মাঝে মাঝে বিপদে পড়ে কিছু টাকা পয়সা নেয়, তাতে সুবিধা হয়েছে পুলিশ আগের মতো নগদ টাকাপয়সা নেয় না।

দেশের মানুষের আয় বাড়ায় রাস্তায় গাড়ি বেড়েছে। ফলে পরিবহনে সময় কিছুটা বেশি লাগছে। একারণে খাবারে বিষ মেশানোর দরকার হচ্ছে। তাতে সঙ্গে সঙ্গে মারা যাওয়ার কোন ভয় নেই। দুরারোগ্য ক্যান্সার হলে সমস্যা নেই দেশে অনেক হাসপাতাল হয়েছে। তাছাড়া প্রতিবেশী ভারতে ক্যান্সারের ভালো চিকিৎসা আছে। অনেকেই বলেন ভারতীয় ভিসা পাওয়া ইওরোপের ভিসা পাওয়ার চেয়ে বেশি কঠিন। কিন্তু একথা ঠিক নয়। রোগী ও ভারতে অধ্যয়নরত বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা দ্রুত ভিসা পাচ্ছেন।

তাছাড়া ভারতীয় সীমান্তেও আগের মতো বিসিএফরা মারছে না। তারা এখন বিজিবি-র ট্রেনিং সেন্টার পরিদর্শন করছে।

এদিকে সমুদ্র জয় করার ফলে আগামীতে আমাদের দেশের আয়তন তিনগুণ বেড়ে যাবে। তখন দেশের জনসংখ্যা ৪৮ কোটি হলেও সমস্যা হবে না।

সমুদ্র কিভাবে ভরে ৩ কাঠা ৫ কাঠার জমি বিক্রি করতে হবে সেটা ভূমি উন্নয়নকারীরা জানেন। তারা আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে নদী ভরাট করছেন।

দেশে সাড়ে তিন বছর আগে অন্তত এক কোটি শিক্ষিত বেকার ছিলো। এখন দেশে কোন বেকার নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ থাকায় শিক্ষকরা স্বউদ্যেোগে চার বছরের কোর্স তিনবছরে শেষ করে দিচ্ছেন যাতে করে গরিব পরিবারের সন্তানেরা দ্রুত কাজে যোগ দিয়ে পরিবারের হাল ধরতে পারে।

দেশের তরুণ সমাজের চাহিবামাত্র তাদের পছন্দের কাজে আত্মনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। কারণ এই সরকার অকৃতজ্ঞ সরকার নয়। তারা জানে গত নির্বাচনে দেশের ১ কোটি তরুণের ভোট না পেলে তাদের পক্ষে ক্ষমতায় আসা সম্ভব হতো না। ফলে, তাদের জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এনিয়ে অবশ্য মিডিয়াগুলোতে মিথ্যাচার করা হচ্ছে যে, সরকার পুলিশ, রেল, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সকল বিভাগকে দলীয়করণ করছে।

আমি দেখছি সরকার মোটেই দলীয়করণ করছে না। বরং সংসদ সদস্যরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তাদের লক্ষ্য পূরণ করে চলছেন। তারা ক্ষমতা আকড়ে না থেকে যাতে নতুনদের ক্ষমতা দেওয়া যায় সেদিকে নজর রেখে ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর বিভিন্ন দেশে ব্যবসা বাণিজ্য দেখাশোনার মাধ্যমে জীবনের বাকি সময়টা স্ত্রী (যাদের আছে), পুত্র, স্বামী (যাদের আছে), কন্যা ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কাটাতে চান।

আমি বলব, সবমিলিয়ে সেরা সময় পার করছি। দোয়া করি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার যেন বারবার ক্ষমতায় আসে। কারণ এই প্রথমবারের মতো একটি সরকার আমরা পেলাম যারা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের সবগুলো প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পেরেছেন। জাতির জনকের হত্যাকারীদের বিচার করেছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছেন। জনগণের মৌলিক চাহিদাগুলো যেমন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা এবং শিক্ষা নিশ্চিত করেছেন।

হে, পরওয়ারদেগার, ‍তুমি সাক্ষী। আমি যদি কোন ভুল কিছু বলে থাকি তবে তুমি অবশ্যই ক্ষমা করবে। কারণ তুমি তো রহমানুর রাহীম।

আমিন।

 

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s