পর্ণোগ্রাফি ও যৌনবাণিজ্য: ভারত বনাম পাকিস্তান


ভারত পাকিস্তানের লড়াই শুধু সীমান্ত নিয়ে নয়। বিশ্বের পর্ণোগ্রাফি ও যৌনবাণিজ্যের বাজার দখলেও দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের লড়াই সারা বছর জুড়ে চলতে থাকে। আমাদের প্রতিবেশী এই দুটো রাষ্ট্রের টাগ অব ওয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশ। প্রতিবছর এই দুই দেশের নারীদের পাশাপাশি কিছু বাংলাদেশীও নারী পাচারের শিকার হচ্ছে। যেহেতু পর্ণোগ্রাফি ও যৌনবাণিজ্যের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিবারগুলো জড়িত থাকে সেকারণে এই ধরনের অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করা কখনো সম্ভব হয় না।

অনেকেই মনে করে পাকিস্তান মুসলিম রাষ্ট্র বিধায় সেখানে পর্ণোগ্রাফি ও যৌনবাণিজ্য নেই। তাদের জ্ঞাতার্থে, এশিয়ার সবচেয়ে বড় ভিডিও পাইরেসি মার্কেট হলো পাকিস্তানে। আর সেই মার্কেটের বড় অংশ জুড়ে পর্নোমুভি। অন্যদিকে ভারত অনেকটা খোলামেলাভাবেই আদি রসাত্মক মুভি তৈরি করে থাকে। সম্প্রতি আইটেম সং নামে ভারতের মেইনস্ট্রিম মুভিতে সফট পর্ণোগ্রাফি বেশ ঝাকিয়ে বসেছে। ভারতে পতিতালয় বাণিজ্য আইনস্বীকৃত। ইদানীংকালে ভারতে সেক্স টুরিজমের কথাও বেশ শোনা যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ এখানে আসে যৌনতার লোভে। এদিকে ইউক্রেন, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরিঘিজিস্তানের মেয়েরা ভারতে যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করতে আসে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ভারত সরকার তাদেরকে ভিসা দেওয়ার উপর কড়াকড়ি আরোপ করায় ইউক্রেনে টপলেস হয়ে মেয়েরা ভারতীয় পতাকাও পুড়িয়েছে। সেক্স টুরিজমে বিশ্বে এক নাম্বার দেশ হলো থাইল্যান্ড। তারপর ব্রাজিল এবং ফিলিপিন্স।

ভারতে প্রাচীণকালে ‘নগরবধূ’ বলে এক ধরনের পতিতাবৃত্তি ছিলো। ভারতের গোয়া যখন পর্তুগিজ কলোনী ছিল সেসময়ে সেখানে জাপানী তরুণীদের যৌনদাস হিসেবে ব্যবহারের ইতিহাস আছে। ব্রিটিশ শাসনামলে ব্রিটিশরা পতিতালয় তৈরি ও টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। তারা তাদের দেশের সৈন্যদের জন্য ভারতীয় নারীদের পাশাপাশি বৃটেন থেকেও নারীদের এই দেশে আসতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। সেসময়ে অনেক ভারতীয় পুরুষ নিয়মিতভাবে পতিতালয়ে যেতে শুরু করে। এটা একটা নতুন ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছিল। সেই ট্রেন্ড এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ভারতে এখন প্রায় দেড় কোটি নারী যৌনকর্মী রয়েছে। সরকারিভাবে ২০০৭ সালে স্বীকার করা হয়েছিল ভারতে ৩০ লাখ যৌনকর্মী রয়েছে। তবে সংখ্যাটি যাই হোক না কেন এদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশের বয়স যে ১৮ এর নিচে সেনিয়ে কারো দ্বিমত নেই। ভয়টা সেখানেই। ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এইডস রোগের দেশ।

ভারতে এখন নগ্ন নাচের বারও চালু হয়েছে। এই ধরনের মদের দোকান ভারতে আইনস্বীকৃত নয়। গোপনে এগুলো চলে। ২০০৮ সালে পশ্চিম দিল্লীর মতিনগরে ৪২ বছর বয়সী সুরেশ সরকারকে ১০ জন মনোরঞ্জনকারীসহ আটক করা হলে বেশ হৈ চৈ পড়ে গিয়েছিল। সুরেশ দাবী করেছিল মেয়েরা সেমি ন্যুড ছিল। তারা কাস্টমার প্রতি ১৫০০ রুপি করে নিচ্ছিল। পাকিস্তানের নির্দিষ্ট এলাকার বাড়িতে নাচ গানের জলসা বসে। সেইসব নাচ গানের আসরের আড়ালে সেক্সও চলে। ভারতের মতো পাকিস্তানেও বিদেশীদের যৌনবাণিজ্যে উপস্থিতি দেখা যায়। এক্ষেত্রে মেসেজ পারলারের নামে যৌনতার বিস্তার কমন একটি বিষয়। ভারতে নারী যৌনকর্মীর সংখ্যা বেশি হলেও পুরুষ যৌনকর্মীর সংখ্যা পাকিস্তানে বেশি।

শতাব্দী প্রাচীণ যৌন বাণিজ্য থেকে বিশ্বের কোন দেশই মুক্ত নয়। পাকিস্তানের সামরিক শাসকরা বিভিন্ন সময়ে সেই দেশে পতিতালয় উচ্ছেদের চেষ্টা করায় যৌনকর্মীরা আবাসিক এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে মাত্র। তাতে যৌনবাণিজ্য বন্ধ হয়নি। পৃথিবীতে তেল বাণিজ্যের চেয়েও বড় বাণিজ্য হলো যৌনবাণিজ্য, একে সত্যিকার অর্থে মোকাবেলা করার জন্য যে ধরনের উন্নত মানসিকতা গড়ে তোলা দরকার সেটা আধুনিক বিশ্বে ক্রমশ অপসৃয়মান।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s