এখানে মানবতা কোথায়? তাহলে সভ্যতা….?


এক.

আধুনিক পৃথিবীকে বলা হয় সভ্য পৃথিবী। আদিম যুগে মানুষ গুহায় বাস করতো। এখন সুন্দর সুন্দর ঘরবাড়িতে বাস করে। আগে মানুষ উলঙ্গ থাকতো। এখন বাহারি পোশাক পরে। আগে মানুষ কাঁচা মাংস চিবিয়ে খেতো। এখন মানুষ বিভিন্ন মসল্লা দিয়ে খাবার তৈরি করে। পৃথিবী নিশ্চয়ই অনেক সভ্য হয়েছে।

দুই.

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পুজিবাদী গণতান্ত্রিক দেশগুলো নিজেরাই নিজেদেরকে ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড নামে ডাকতে শুরু করেছে। তারা দরিদ্র দেশগুলোকে দরিদ্র না বলে বলতে লাগল থার্ড ওয়ার্ল্ড। তাহলে প্রশ্ন হলো সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড কারা? ভাশুরের নাম মুখে নিতে নেই করে তারা বিষয়টি ছেড়ে দিলো অন্যদের উপরে। সবাই বুঝে নিল। তখন স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। পুঁজিবাদের শত্রু হলো সমাজতন্ত্র। ফলে কমিউনিস্ট সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো পরিচিত পেলো সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড হিসেবে। সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙ্গনের পর অনেক নতুন নতুন নাম এলো। সবকিছুকে ছাপিয়ে আমেরিকা হয়ে গেলো সবচেয়ে সভ্য দেশ! দ্বিতীয় বিশ্বের অনুপস্থিতিতে তৃতীয় বিশ্ব নতুন নাম পেলো উন্নয়নশীল বিশ্ব। স্বল্পন্নোত দেশ ইত্যাদি। সামগ্রিকভাবে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলো জানিয়ে দিল সমাজতন্ত্রের বিদায়ে পুরো পৃথিবীই সভ্যতার দিক থেকে অনেকখানি এগিয়েছে!!

তিন.

এখন বিশ্বে গণতন্ত্র ও পুঁজিবাদের জয়জয়কার। পুঁজিবাদের অন্যতম শক্তি হলো বাণিজ্য। সভ্য পৃথিবীতে বাণিজ্যের যে রূপ জোরদার হচ্ছে সেটা কতোটা সভ্য তা বোঝা মুশকিল!

চার.

বিশ্বের সবচেয়ে লাভজনক বাণিজ্য হলো মাদক। ইউএনওডিসি-র তথ্য মতে, প্রতিবছর বিশ্বে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের মাদক কেনাবেচা হয়। মাদককে যদি একটি দেশ ভাবা যায় তাহলে মাদকের মোট ব্যবসার আয়তন বাংলাদেশের প্রায় ২৫ বছরের বাজেটের সমান। পৃথিবীতে দিনে ১ ডলারের কমে বেঁচে আছে প্রায় ১১০ কোটি মানুষ। তারমানে প্রতিবছর যে পরিমাণ অর্থ মাদকের পিছনে ব্যয় হয় তাতে ১১০ কোটি মানুষ ২৭২ দিন বেঁচে থাকতে পারে। আমাদের সভ্যতাকে কেমন মনে হচ্ছে? আরো উদাহরণ দিচ্ছি।

পাঁচ.

বাণিজ্যের দিক থেকে সবচেয়ে বড় বাণিজ্য হলো প্রতিরক্ষা খাত। একদিকে মানুষ যখন চিকিৎসা পাচ্ছে না। লেখাপড়া করতে পারছে না। খাবার পাচ্ছে না। তখন দেশে দেশে ট্যাংকের গোলা, ভারী সামরিকযান, যুদ্ধবিমান ইত্যাদি নির্মাণে প্রতিবছর ১,৪০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করা হচ্ছে। এই খরচ বাড়ছেই। যুদ্ধাস্ত্র আবার সবাই বানায় না। যারা বানায় তাদের জন্য এটা আবার বড় বাণিজ্য। প্রতিরক্ষা খাতে খরচের দিক থেকে এক নাম্বারে আছে বিশ্বের এক নাম্বার সভ্য দেশ আমেরিকা। তারা ২০০৮ সালে খরচ করেছিল মাত্র ৬২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যে অর্থে বিশ্বের ১ ডলারের কমে বেঁচে থাকা মানুষেরা ৫৬৬ দিন বেঁচে থাকতে পারত। তারমানে তাদের খরচের সামর্থ্য একবছরে ১.৫৫ গুণ বৃদ্ধি পেতে পারত। অর্থাৎ তারা আর এক ডলারে নয় এক ডলার ৫৫ সেন্ট খরচ করতে পারত, যদি শুধুমাত্র আমেরিকা প্রতিরক্ষা খাতে একবছর কোন ধরনের খরচ না করত।

ছয়.

বাণিজ্যের দিক থেকে তিন নাম্বারে আছে পতিতাবৃত্তি। যৌনব্যবসা। এর আয়তন প্রতিবছর ১০৮ বিলিয়ন ডলার। ভাবছেন মাদকের টাকা কিংবা যুদ্ধের টাকা অপচয় হলেও এই টাকা তো একজন যৌনকর্মী পাচ্ছে। ভুল। যৌনকর্মীদের আয়ের দুই-তৃতীয়াংশ চলে যায় দালাল ও সিন্ডিকেটের পকেটে। ব্যবসাটাকে এমনভাবে দাঁড় করানো আছে যাতে করে একজন যৌনকর্মী কখনোই এই কাজ ছেড়ে দিতে না পারে। কখনো যদি তার হাতে একটু বেশি টাকাপয়সা চলে আছে সেগুলো খরচ করার ব্যবস্থা করা হয়। অনেকে দু’চারটা ব্যতিক্রম ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করে যে যৌনকর্মীরা ভালো আছে। তাদের আয়ের উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আছে। কিন্তু প্রকৃত অবস্থা তা নয়।

সবচেয়ে মজার তথ্যটি হলো বিশ্বের সবচেয়ে বেশি যৌনকর্মী দেখতে পাওয়া যায় দরিদ্র দেশগুলোতে এবং ধনী দেশের মিলিটারি বেইজগুলোতে। তারমানে যুদ্ধ-যুদ্ধ যে খেলা সেটা মাদক ও পতিতাবৃত্তিকে টিকিয়ে রাখার অনেকগুলো কৌশলের একটি।

সাত.

জুয়ার বাজারও কম বড় নয়। শুধুমাত্র আমেরিকাতে আইনস্বীকৃত জুয়া ব্যবসায়ীদের জুয়ার বাজারের আকার হলো প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে অনলাইনে জুয়া ব্যবসার আকার দিনে দিনে যেভাবে বাড়ছে তাতে আগামী দিনগুলোতে সম্ভবত এটাই হবে সবচেয়ে বড় বাণিজ্য।

আট.

কি মনে হয় গুহা ছেড়ে আসা কাঁচা মাংস খাওয়া মানুষগুলো সত্যিই সভ্য হয়েছে?

Advertisements

3 thoughts on “এখানে মানবতা কোথায়? তাহলে সভ্যতা….?

  1. আমেরিকাতে পর্ন ইন্ডাষ্ট্রির বাৎসরিক আয় ১০-১৩ বিলিয়ন ডলার (উইকিপিডিয়া), ১৯৭৫ এ ছিলো ৫-১০ মিলিয়ন। এখন চলছে এমেচার পর্ন। সভ্যতার বড়াই করা আমেরিকাতে এখন ক্রেজ চলছে কাকোল্ড (cuckold) এর, এতে স্ত্রী/বান্ধবী এক বা একাধিক পুরুষের সাথে যৌনমিলনে রত হয় এবং স্বামী/বয়ফ্রেন্ড সেসব দৃশ্য ক্যামেরায় তুলে ইন্টারনেটে দিয়ে দেয়ু। অন্যদিকে এরাই আবার বৈধভাবে একাধিক বিয়ে করার জন্য মুসলমানদের টিটকারী দেয়। কালা বাংগালীর ছেলে কয়েকবছর আমেরিকাতে থেকে এই আম্রেরিকার সভ্যতার বড়াই করে, সমর্থন করে! কাকে কি বলবেন? কমনসেন্স আসলেই কমন নয়!

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s