এটা কি শুধুই নির্লজ্জতা?


বাংলাদেশের যুবনীতি অনুযায়ী ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল বাংলাদেশী নাগরিক ‘যুব’।

শুভ সকাল!

প্রিয় যুব, আজকের দিনে কেমন আছো তোমরা?

আজকে আমি আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের কিছু বিষয় নিয়ে তোমাদের সঙ্গে আলাপ করব। এই আলাপের মাধ্যমে আমরা সবাই মিলে বুঝতে চাইব, এগুলো কি শুধুই নির্লজ্জতা? আজকের আলোচনায় আমি মূলত আর্থিক অসততা নিয়ে কথা বলব। তাহলে শুরু করা যাক, কি বলো?

এক.

একটি পরিবারের ছেলেমেয়েরা সাধারণত তাদের বাবা ও মা কি ধরনের কাজ করেন সেটা জানে। একটু বড় যারা তারা হয়তো এও জানে যে, তাদের বাবা ও মা মাসে কতো টাকা বেতন পায়। তারা বাড়িতে যেসব জিনিসপত্র কেনা হয় সেগুলোর কোনটার কতো দাম তাও জানে। ঠিক তো?

পত্র-পত্রিকার রিপোর্ট থেকে জানা যায় যে, আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা অঙ্কে একটু কাচা! কিন্তু তারা নিশ্চয়ই অতোটা কাচা নয় যে, বাবা-মায়ের আয় ও খরচের মধ্যে যে বিপুল অসঙ্গতি সেটা তারা বুঝতে পারে না।

ছেলেমেয়েরা নিজেরা যে পোশাক, স্যান্ডেল, জুতা, কিংবা মোবাইল ফোন কেনে সেগুলোর দাম তো তারা জানে, তাই না? সেসঙ্গে ফাস্ট ফুডের দোকানে খাবারের দাম কতো, বাজারের জিনিসপত্রের দাম কেমন সে ব্যাপারেও তাদের কিছুটা ধারণা থাকে। কি বলো?

তাহলে, সংসারে যে পরিমাণ আয় হয় এবং তারা সবাই মিলে যা খরচ করে তার মধ্যে মিল না থাকলে সেটা কিন্তু তাদের চোখে পড়তে বাধ্য। যে দিনকাল পড়েছে, তাতে সৎ উপার্জনকারী পরিবারগুলোর সন্তানেরা নিয়মিতভাবে বিষয়গুলো টের পায়! যে সব পরিবারে অসৎ উপার্জন হয় সেই পরিবারগুলোর সন্তানেরাও জানে যে, তাদের অভিভাবকগণ অন্যায় কিছু করছে। কিন্তু তারা এনিয়ে কথা বলে না?

কি মনে হয় তোমাদের কেন এমনটা হয়? কেন তারা প্রতিবাদ করে না?

আমার কেন যেন মনে হয়, অসৎ লোকজন তাদের পরিবারের সদস্যদের এই ধারণা দেয় যে- টাকা আয় করাটাই বড় কথা; কিভাবে এলো সেটা বিবেচ্য নয়। তাছাড়া সবাই এভাবেই টাকা আয় করে।

এব্যাপারে তোমাদের কি মত?

দুই.

যারা ঘুষ খায়, অন্যকে বিপদে ফেলে অর্থ কামাই করে তাদেরও বন্ধু-বান্ধব আছে। তারাও সামাজিকতার কারণে এখানে ওখানে বেড়াতে যায়। ঠিক কিনা?

তাদের চলাফেরা, পোশাক পরিচ্ছদ এবং গাড়িবাড়ির সঙ্গে তাদের আয় যে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় সেটা তারা যেমন জানে তাদের বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিতজনেরাও জানে। তোমাদের কি মনে হয়, জানে নাকি জানে না?

যদি জানে, তাহলে যারা অসৎ জীবনযাপন করছে তাদের কি একটুও লজ্জা লাগে না? আর তাদের বন্ধু-বান্ধবরাই বা কেমন? এর ব্যাখ্যাটা কি হতে পারে বলোতো?

তিন.

মানুষের কর্মস্থল তো তার সেকেন্ড হোম, তাই না? তো কলিগরা তো মোটামুটিভাবে একজন অন্যজন সম্পর্কে জানে। অনেক অফিসে যদিও কার বেতন কতো সেটা প্রকাশ করা হয় না। কিন্তু কমবেশি একটা ধারণা তো সবার সবার সম্পর্কে থাকে। তাই না?

কারো যখন বেতন হয় ১০ টাকা আর নিয়মিতভাবে খরচ করে ১০০ টাকা। তখন স্বাভাবিকভাবে বোঝা যায় তার উপরি আয় হচ্ছে। এই যে উপরি আয় মানে অসৎ আয় এটা তো কলিগরা জানে। তখন তার খারাপ লাগে না? তার কলিগরা তাকে কিভাবে দেখে?

চার.

প্রলোভন কিন্তু সবসময় ছিলো। থাকবেও। লোভকে জয় করাটাও কিন্তু মানুষের নৈতিক গুণাবলী। নিজে শুধু লোভকে জয় করলেই কি চলবে? সমাজ তো একক মানুষের জায়গা নয়। অনেক মানুষ মিলে যে সমাজ তাকে সবাই মিলেই তো সুন্দর করতে হবে, তাই না?

প্রথমত আমাদেরকে নিজেদেরকে সৎভাবে জীবন যাপন করতে হবে। কারণ নিজে সৎ না হয়ে তো অন্যকে সৎ হওয়ার কথা বলা যাবে না।

দ্বিতীয়ত, যে অসততার বিস্তার সমাজে হচ্ছে তাকে থামানো দরকার। তোমরা কি বলো?

তৃতীয়ত, যারা ইতোমধ্যে অসৎ আচরণে লিপ্ত হয়েছে তারা কেন অসৎ সেই কারণগুলো কিন্তু আমাদেরকে আগে জানতে হবে। তারপর কারণগুলো দূর করার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।

চতুর্থত, মাছের মাথায় পচন ধরলে শরীর বাঁচিয়ে রাখা যায় না। যেকারণে মাথার পচন নিশ্চিত হলে সেখানেই ওষুধ দিতে হবে। যখন কারো চিকিৎসা চলে তখন বিকল্প দায়িত্বের কথাও ভাবতে হবে। কি হতে পারে সেটা?

আজকে এটুকুই। পরে আবারো কথা হবে। তোমরা চিন্তা করে তোমাদের মতামত বলো।

ধন্যবাদ সবাইকে।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s