বিশ্ব টেলিভিশন দিবস এবং আমাদের জনগণ


(লেখাটা ২০০৬ সালের ২১ নভেম্বর দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। লেখাটা তার প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি!)

আজ ২১ নভেম্বর, বিশ্ব টেলিভিশন দিবস৷ ১৯৯৬ সালের এদিনে প্রথমবারের মতো বিশ্ব টেলিভিশন ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়৷ ফোরামে বিশ্বের মিডিয়া জগতের নামী দামী ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন৷ তারা বিশ্বের অগ্রগতিতে টেলিভিশনের তাৎপর্য তুলে ধরেন৷ ওই বছরের ১৭ ডিসেম্বর জাতিসংঘের ৯৯তম সাধারণ সভায় বিশ্ব টেলিভিশন ফোরাম আয়োজিত প্রথম সম্মেলনের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতিবছর ২১ নভেম্বর বিশ্ব টেলিভিশন দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়৷ আরো আশা করা হয় এ দিনটিকে সামনে রেখে বিশ্বের দেশগুলো শান্তি, নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করা সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম নিজেদের মধ্যে বিনিময় করার মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে৷ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও বিশ্ব টেলিভিশন দিবসটিকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে পালন করা হয়৷ আমাদের দেশে টেলিভিশন মিডিয়ার প্রচার ও ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে৷

অদৃশ্য চাপে মিডিয়া

আমাদের দেশের টেলিভিশনসহ সকল ধরনের মিডিয়ার স্বাধীনতা ভোগের মাত্রা যত দিন যাচ্ছে বাড়ছে৷ ১৯৯১ সাল থেকে আমাদের দেশের মিডিয়াতে সরকারের তরফ থেকে কোনো ধরনের সেন্সরশিপ কিংবা বিধিনষেধ লক্ষ্য করা যায়না৷ এমনকি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চাপ রয়েছে বলেও শোনা যায় না৷ তবে আমরা অনেকসময় মিডিয়ার প্রধান নির্বাহীদের বলতে শুনি তারা এক ধরনের অদৃশ্য চাপের মধ্যে থাকেন, সেই চাপ তারা বোধ করেন মিডিয়ার মালিক পক্ষ থেকে৷ আমাদের দেশের বেশিরভাগ মিডিয়ার মালিক শিল্পপতি৷ তারা করপোরেট কালচার থেকে মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে চান৷ যে কারণে সকল ধরনের মিডিয়াতে অদৃশ্য চাপের বিষয়টি বেড়ে চলেছে৷ এটি শুধুই আমাদের দেশের সমস্যা নয়৷ পৃথিবীর সকল দেশেই শিল্প মালিকানায় পরিচালিত মিডিয়া হাউজগুলোতে এক ধরনের সেন্সরশিপ থাকে৷ এই ধরনের সেন্সরশিপকে অনেকে বলেন সেলফ সেন্সরশিপ

সেলফ সেন্সরশিপের ধরনটা এমন যে, বিজনেস হাউজগুলোর বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না৷ এমনকি সেখানে যদি নিউজ ভ্যালুও থাকে তবুও চুপ করে থাকাটাই রেওয়াজ৷ আবার উল্টোভাবে প্রতিপক্ষের ব্যবসায়িক ক্ষতি করতে মিডিয়াকে ব্যবহারের নজির রয়েছে৷ এই ধরনের অবস্থায় একটি দেশের বড় বড় করপোরেট হা্‌উজগুলো মিডিয়াতে নিজেদের অবস্থান তৈরিতে ব্যস্ত থাকে৷ রেডিও,  টেলিভিশন কিংবা নিউজপেপার কোন কিছু একটা নিয়ে তারা নিজের ক্ষমতা পোক্ত করতে চায়৷

এই ধরনের পরিস্থিতি মিডিয়ার সার্বিক বিকাশের জন্য ভালো নয় বিশেষ করে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে যেখানে বেশিরভাগ মানুষ আবার স্বল্প শিক্ষিত কিংবা নিরক্ষর৷ মিডিয়া এক্মপার্টরা মনে করেন এই অবস্থাকে যদি চ্যালেঞ্জ না করা হয় তবে আগামী দিনগুলোতে আমাদের দেশের মানুষেরা তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ক্রাইসিসে পড়তে পারেন৷ এতে করে বর্তমান তথ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় আরো বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে৷

সমাধান কমিউনিটি মিডিয়া

এই ধরনের পরিস্থিতির মোকাবেলায় অনেকে সমাধান হিসেবে কমিউনিটি মিডিয়ার কথা বলেন৷ তারা মনে করেন কমিউনিটি মিডিয়া প্রাইভেট ও সরকারি মিডিয়ার মধ্যে বিরাজমান অবস্থায় ব্যালেন্স রোল পালনের মাধ্যমে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে৷ কিন্তু আমাদের দেশে কমিউনিটি মিডিয়া এখনো আইনসিদ্ধ নয়৷ এনজিওসহ অনেক প্রতিষ্ঠানের কমিউনিটি মিডিয়া চালু করার আগ্রহ থাকলেও তারা সেটি করতে পারছেন না আইন না থাকার কারণে৷ এমনকি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল নীতি-র আওতায় কমিউনিটি মিডিয়া চালুর প্রস্তাব থাকলেও সেটি আইনি কাঠামোর অভাবে চালু করা সম্ভব হচ্ছে না৷

ধারণা করা হয়, সরকার যখন কমিউনিটি মিডিয়া চালুর অনুমোদন দেবেন তখন আমাদের দেশে কমিউনিটি মিডিয়া হিসেবে শুরুতে টেলিভিশন নয়, আমরা দেখতে পাবো কমিউনিটি রেডিও৷ আবার একথাও ঠিক যে, ন্যারো কা িস্টংয়ের মাধ্যমে এক প্রকার কমিউনিটি টেলিভিশন আমাদের দেশের কয়েকটি এলাকায় বর্তমানে চালু রয়েছে যার আরো প্রসার তখন ঘটবে৷

কমিউনিটি টেলিভিশন

অনেকে মনে করেন আমাদের দেশে টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা এখনই বেশি৷ আমাদের দেশের আয়তন মাত্র ৫৫ হাজার বর্গমাইল৷ এতোটুকু জায়গায় এতো বেশি টেলিভিশন চ্যানেলের দরকার নেই বলেই আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে৷ কিন্তু আমরা যদি আমাদের দেশের জনসংখ্যাকে বিবেচনায় রাখি তাহলে এই সংখ্যা মোটেই বেশি নয়৷

বরং ১৫ কোটি মানুষের এদেশে বর্তমানের মোট টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যাটি নিতান্তই কম৷ এখানে আরো অনেক বেশি টেলিভিশন চ্যানেল চালুর সুযোগ আছে৷ তবে সেক্ষেত্রে বিজ্ঞাপননির্ভর গতানুগতিক টেলিভিশন চ্যানেল করার কথা ভাবলেই হবে না৷ পাশাপাশি কমিউনিটি পর্যায়ে টেলিভিশন কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগের বিষয়টি নিয়েও চিন্তা করতে হবে৷ কমিউনিটি টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে ছোট আকারে অনুষ্ঠান প্রচার করে একটি নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের কাছে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠা সম্ভব৷ এই ধরনের টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য, পরিবেশ  উন্নয়নসহ অনেক ধরনের দরকারি সেবা দেয়া সম্ভব৷ ভিয়েতনামে কমিউনিটি পর্যায়ে টেলিভিশন চ্যানেল চালু আছে৷

কমিউনিটি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো কি করবে তার একটি উদাহরণ দেয়া যাক৷ ধরা যাক, আমাদের দেশের ঢাকার ধানমন্ডিতে একটি কমিউনিটি টেলিভিশন স্টেশন রয়েছে৷ এখন আমরা জানি ধানমন্ডি লেকের ধারে প্রতিদিন অনেক মানুষ সকালে বিকালে হাটতে আসেন৷ তারা সেখানে আড্ডা দেন৷ গল্প করেন৷ সময় কাটান৷ এই মানুষদের জন্য একটি টেলিভিশন চ্যানেল চলতে পারে৷ এটি সকালে তিন ঘণ্টা এবং বিকালে তিন ঘণ্টা চলবে৷ এতে রান্না করা, ব্যায়াম, অসুখ-বিসুখে করণীয় ইত্যা িদ অনুষ্ঠান প্রচার করা যেতে পারে যা ওই এলাকায় বসবাসরত এবং সকাল বিকেলে বেড়াতে আসা মানুষের কাজে লাগবে৷ এই চ্যানেলে যা দেখানো হবে তার একটি প্রচারসূচি থাকবে৷ মাসিক একটা চাদা দেয়ার বিনিময়ে এর ভিউয়ার্স তৈরি হবে৷ কি ধরনের অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে তার চাহিদাও জানানোর সুযোগ থাকবে কমিউনিটির মানুষের৷ সেই সূত্রে লাইভ শো-র আয়োজন করা যেতে পারে৷ এভাবে কমিউনিটির প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি কমিউনিটির তরুণদের কাজের সংস্থানও হতে পারে কমিউনিটি টেলিভিশনের মাধ্যমে৷

আইন চূড়ান্ত হওয়া দরকার

আমাদের দেশে একটি ন্যাশনাল ব্রডকাস্টিং অ্যাক্টের খসড়া ২০০৩ সালে প্রণীত হয়েছে৷ কিন্তু এটি এখনও চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি বলেই আমাদের দেশে কমিউনিটি মিডিয়া স্থাপন ও পরিচালনা করা সম্ভব নয়৷ খসড়া ব্রডকা িস্টং আইনে দেশের ব্রডকাস্টিং কার্যক্রমের অনুমোদন ও দেখাশোনার জন্য স্বতন্ত্র অথরিটি গঠন করতে হবে৷ যাদের কাজ হবে ব্রডকাস্টিং আইন বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা৷ এই অথরিটি জাতীয় সংসদের কাছে জবাবদিহি করবে৷

আমাদের দেশের খসড়া ব্রডকাস্টিং আইনে কমিউনিটি মিডিয়া পরিচালনার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বলা আছে৷ কিন্তু এই খসড়া আইনটি জাতীয় সংসদে এখনো উত্থাপিত এবং পাস হয়নি৷ এই স্বাধীন অথরিটির কাজ হবে ব্রডকাস্টিং আইন মেনে নতুন লাইসেন্স ইস্যু করা, ব্রডকাস্টিং ফ্রিকোয়েন্সি প্ল্যান বাস্তবায়ন এবং বিজ্ঞাপন কোড এবং প্রোগ্রাম কোড বাস্তবায়ন করা৷

ব্রডকাস্টিং আইন অনুযায়ী কমিউনিটি ব্রডকাস্টার মানে হলো অলাভজনক একটি প্রতিষ্ঠান যারা অলাভজনকভাবে কোনো একটি মিডিয়া পরচালনা করবে, তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে যে অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে তা হবে স্থানীয় সরকারের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট৷

বাংলাদেশে টেলিভিশনের অবস্থা ও অবস্থান

যত িদন পর্যন্ত কমিউনিটি মিডিয়া চালু না হচ্ছে তত িদন পর্যন্ত আমাদেরকে সরকারি ও প্রাইভেট সেক্টর পর্যায়ে চালু টিভি চ্যানেলের উপর নির্ভর করতে হবে৷ এমনিতে আমাদের দেশে ধারাবাহিকভাবে টেলিভিশনের দর্শক সংখ্যা শহর ও গ্রামে বাড়ছে৷ ন্যাশনাল মিডিয়া সার্ভে থেকে দেশে টেলিভিশন দর্শকদের সম্পর্কে জানা যায়৷ আমাদের দেশে প্রথম ন্যাশনাল মিডিয়া সার্ভে পরিচালিত হয় ১৯৯৫ সালে৷ এরপর ১৯৯৮ সালে দ্বিতীয়, ২০০২ সালে তৃতীয় এবং ২০০৫ সালে চতুর্থ মিডিয়া সার্ভে পরিচালিত হয়েছে৷ এই মিডিয়া সার্ভেগুলোর মাধ্যমে আমাদের দেশের প্রচলিত মিডিয়াগুলোর দর্শকপ্রিয়তা এবং কোন ধরনের জনগোষ্ঠীর কাছে কোন ধরনের মিডিয়ার চাহিদা বেশি ও তাদের মার্কেটিং ইত্যা িদ বিষয় সম্পর্কে জানা সম্ভব হয়৷

সর্বশেষ মিডিয়া সার্ভে থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের শহর এলাকার প্রায় ৭৮ শতাংশ বাড়িতে এবং গ্রাম এলাকার ২৭ শতাংশ বাড়িতে টেলিভিশন আছে৷ এদের মধ্যে ২৬ শতাংশ বাড়িতে রয়েছে শাদা কালো টেলিভিশন৷ যাদের বাড়িতে টেলিভিশন আছে এমন প্রায় ১১ শতাংশ বাড়িতে কেবল বা ডিশ কানেকশন রয়েছে৷ একই জরিপ থেকে আরো জানা যায়, বাংলাদেশে টেলিভিশনের দর্শক সংখ্যা ১৯৯৮ সালের তুলনায় বেড়েছে দেড় গুণ এবং ১৯৯৫ সালের তুলনায় বেড়েছে দুই গুণ৷

দেশে বেসরকারি পর্যায়ে পরিচালিত টেলিভিশনের সংখ্যাও বাড়ছে৷ আমরা জানি, সরকারিভাবে বাংলাদেশে টেলিভিশনের যাত্রা শুরু ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর৷ সেসময় টেলিভিশনে সাদা কালো অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হতো৷ এরপর টেলিভিশনে রঙিন অনুষ্ঠান প্রচার শুরু হয় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৮০ সালে৷ ২০০৪ সালে বিটিভি বিশ্বব্যাপী সম্প্রচার শুরু করে বিটিভি ওয়ার্ল্ড এর মাধ্যমে৷

কিন্তু স্বায়ত্বশাসন হয়নি

আমরা লক্ষ্য করেছি এরশাদ সরকারের পতনকালে আন্দোলনরত বিরোধী দলগুলো বিএনপি, আওয়ামী লীগ এবং বাম দলগুলো ১৯৯০ সালের ১৯ নভেম্বরে এক যুক্ত ইশতেহারে বলেছিল তারা দেশের সরকারি টেলিভিশন ও রেডিওকে স্বাধীন ও স্বায়ত্বশাসন দেবে৷ যাতে করে এগুলো পুরোপুরি নিরপেক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে৷ কিন্তু তারপর দুই দুইবার বিএনপি এবং একবার আওয়ামী লীগ ও বাম দলগুলো ক্ষমতায় গেলেও তাদের সেই অঙ্গীকার তারা বাস্তবায়ন করেনি৷ যদিও আমরা দেখেছি আওয়ামী সরকারের আমলে ১৯৯৬ সালে একটি আট সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছিল৷ কিন্তু সেই কমিটি একটি রিপোর্ট পেশ করলেও পরবর্তীতে আওয়ামী সরকার একটি সাব কমিটি গঠনের মাধ্যমে সেই রিপোর্টকে ফাইলবন্দি করার ব্যবস্থা করেছিল৷ তবে আওয়ামী সরকারের আমলে সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় একুশে টেলিভিশন নামে একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে টেরিস্টরিয়াল অনুষ্ঠান সম্প্রচারের সুযোগ করে দেয়া হয় যার সূত্রে বাংলাদেশ টেলিভিশন বড় ধরনের প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে৷ বিশেষ করে বিরোধী দলের খবরাখবর প্রচারের মধ্য দিয়ে সরকার নিয়ন্ত্রিত বাংলাদেশ টেলিভিশনকে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে ঠেলে দেয় একুশে টেলিভিশন৷ কিন্তু অনুমোদনের প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে একুশে টেলিভিশন পরবর্তীতে অনুষ্ঠান সম্প্রচারণের অনুমোদন হারায়৷

এ িদকে বেসরকারিভাবে দেশে এটিএন বাংলা, চ্যানেল আই, এনটিভি, আরটিভি, চ্যানেল ওয়ান, বৈশাখী, বাংলাভিশনসহ একাধিক টিভি চ্যানেল চালু রয়েছে৷ আরো অন্তত কয়েক ডজন টেলিভিশন চ্যানেল পরিচালনার আবেদন জমা রয়েছে বলে শোনা যায়৷ এই চ্যানেলগুলো অনুমোদন পেলে হয়তো প্রতিযোগিতা বাড়বে যার সুফল সাধারণ জনগণ পেতে পারবে৷ তবে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে সত্যিকারের কল্যাণ পৌছে দিতে হলে কমিউনিটি পর্যায়ে টেলিভিশন, রেডিও এবং ইন্টারনেট প্রযু িক্তনির্ভর মিডিয়া চালুর কোনো বিকল্প নেই৷

গরিব মানুষের কথা শোনার ব্যবস্থা করতে হবে

৫০টি দেশের প্রায় ৪০ হাজার মানুষের উপর পরিচালিত ভয়েসসঅফদিপুওর: ক্যানএনিওয়ানহিয়ারআস? শীর্ষক এক গবেষণা থেকে জানা যায়, গরিব মানুষেরা মনে করেন তারা গরিব কারণ তাদের ক্ষমতা নেই, তাদের কথা কেউ শোনে না এবং তারা সংগঠিত নন৷ ফলে তারা সবসময়ই বঞ্চনার শিকার হন এবং তারা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন না৷

গবেষণার প্রাপ্ত তথ্যে য িদ আমরা বিশ্বাস করি, তবে আমরা বলতে পারি দারিদ্র্য হ্রাস করতে হলে তৃণমূলের মানুষদের সংগঠিত হওয়ার সামর্থ্য গড়ে তুলতে হবে, সামাজিক আচার আচরণ পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে এবং সামাজিক আন্দোলন, ইনোভেশন এবং নেতৃত্বকে সহায়তা করতে হবে৷ এক্ষেত্রে যুগান্তকারী কাজটি হতে পারে কমিউনিটি মিডিয়া চালুর সরকারি অনুমোদন৷

বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার কমিউনিটি মিডিয়া চালুর একটি ব্যবস্থা করতে পারেন৷ আমরা য িদ অতীতের দিকে তাকাই তবে দেখবো ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ভিস্যাট উম্মুক্ত করে দিয়ে ইন্টারনেটকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌছে দেয়ার শুভ সূচনা করেন৷

আমরা আশা করতে পারি সিইসি অপসারণ সংক্রান্ত রাজনৈতিক অস্থিরতা কমে এলে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার অন্তত পরীক্ষামূলকভাবে কমিউনিটি মিডিয়া চালুর ব্যাপারে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবেন৷

 

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s