অন্তরের ডাক শুনতে পাওয়া না পাওয়া


এই লেখাটা যুবদের জন্য। তবে বড়দের পড়তে বারণ নেই! শুধু ‘তুমি’ সম্বোধনটুকু ‘আপনি’ করে পড়ে নিলেই হলো!!

অন্তর হলো আসল মানুষ। এই মানুষটাকে অন্যরা দেখতে পায় না। শুধুই নিজে দেখা যায়। এমন মানুষ কি আছে যে, নিজের অন্তরকে চেনে না। আমার মনে হয়, এমন কেউ নেই। তবে এমন মানুষ বোধহয় আছে যাদের প্রকাশ্যের চেহারার সঙ্গে নিজের অন্তরের টানাপোড়নে চলে। কি ঠিক বললাম?

অন্তরকে যদি মানুষ ধরি, তাহলে ভাবনাটা হলো অন্তরের অন্তর। মানুষ মনে মনে কি ভাবছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের বাইরের চেহারাটা আসল চেহারা নয়। অন্তরের চেহারাটাই আসল।

অন্তরের চেহারা কারো মলিন হয়। কারোটা হয় স্বচ্ছ।

কেউ অন্তরের ডাককে চিনতে পারে। কেউ আবার পারে না। কেউ আছে অন্তরের ডাকেই জীবন কাটায়। আবার কেউ আছে অন্তরের ডাকে সাড়া দিতে অনীহা প্রকাশ করে। আলসেমি করে।

কয়েকটা উদাহরণ দিয়ে বিষয়গুলো বোঝার চেষ্টা করা যাক-

১. একবার এক রাজনৈতিক নেতা তার কাছে আসা এক বিপদাপন্ন মানুষকে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করার পরামর্শ দিলো। সেসঙ্গে একথাও বলে দিলো যে, মামলায় তাকে সে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। পরবর্তীতে প্রতিপক্ষ যখন ওই নেতার কাছে এলো, নেতা তাদেরকে মামলা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলল বিপদাপন্ন লোকটি খুব বেশিদিন মামলা চালাতে পারবে না ফলে জয় তাদের সুনিশ্চিত। বিপদাপন্ন লোকটি কিংবা তার প্রতিপক্ষরা কেউই নেতার মনের কথা জানতে পারল না। তারা নেতার বাইরের চেহারাটাকে চেনে। দুই পক্ষই ধরে নিলো নেতা তাদের সঙ্গে আছে। থানা পুলিশ ম্যানেজ করার জন্য নেতার সমর্থন তারা পেয়েছে। কিন্তু আসলে কি তারা কেউ সমর্থন পেয়েছে?

ঘটনার সাক্ষী হিসেবে আমি কি নেতার মনে কি আছে জানতে পেরেছি? আমি নেতাকে জিজ্ঞাসা করায় নেতা আমাকে জানিয়ে দিলো- এটাই নাকি পলিটিক্স। এটা না করলে নেতা হওয়া কিংবা নেতা থাকা যায় না।

প্রশ্ন হলো নেতার অন্তরটা কেমন? মলিন নাকি স্বচ্ছ? মানুষ তো তার ডাকে সাড়া দেয়। তিনি কার ডাকে সাড়া দেন?

২. ছেলেটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ভাবত প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কলেজে অধ্যাপনা করবে। মফস্বলে থাকবে। শিক্ষকতার পাশাপাশি কবিতা লিখবে, প্রবন্ধ লিখবে। ছুটির দিনে কলেজের পুকুরে বড়শি দিয়ে মাছ ধরবে। কলেজের বড় মাঠে তার ছেলেমেয়েরা খেলবে। শেষপর্যন্ত একটি সরকারি দপ্তরের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর পদে যোগ দিলো।

এই ছেলেটা কিন্তু বেসরকারি কলেজে যোগ দিতে পারত। সেখানে শুধু সে চাকরির নিশ্চয়তা পেতো না। বাকি সবই কিন্তু সেখানে ছিল। কিন্তু সেটা সে করতে পারেনি। ফলে এখন কবিতাও লেখে না। প্রবন্ধও লেখে না। সময়ের অভাব নেই। তাহলে সমস্যাটা কোথায়?

এই ছেলে কি অন্তরের ডাকে সাড়া দিতে পেরেছে?

৩. বাবা-মা দু’জনেই ডাক্তার। তাদের একমাত্র সন্তান ডাক্তার হোক সেটাই তারা চান। কিন্তু সন্তান বড় হয়ে ভিন্ন কিছু হতে চায়। এনিয়ে পরিবারে এক ধরনের মানসিক লড়াইও হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সন্তান কি তার অন্তরের ডাকে সাড়া দিতে পারবে নাকি মনের বিরুদ্ধেই মা-বাবার সঙ্গে যাবে!

তোমরা যারা আমার এই লেখা পড়ছো তাদের কাছে এমন আরো উদাহরণ আছে জানি। কিন্তু কখনো কি নিজেকে নিয়ে ভেবেছো? তুমি কি তোমার অন্তরের ডাক শুনতে পাচ্ছো? যদি শুনতে পাও, তবে অন্তরের ডাকে সাড়া দাও। সেটাই আমার পরামর্শ তোমাদের প্রতি। আর বলব, যতোটা পার অন্তরকে স্বচ্ছ করো। নিজের সঙ্গে কিংবা মানুষের সঙ্গে প্রতরণা করো না।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s