দেখুন তো আপনার চেনা পরিবারের সঙ্গে মিলে কিনা?


সকাল বেলা এরকম একটা লেখা পড়তে ভালো লাগেনি। কেন জানেন?

এমন থাকব বলে কিন্তু আমরা দেশ স্বাধীন করিনি। দেশটা যেন এখনো সেই বৈষম্যের পাকিস্তান রয়ে গেলো। এতো দ্বিধা, এতো দ্বন্দ্ব, এতো লোভ সব কেন আমাদের সমাজে ডালপালা মেলে ঝাকিয়ে বসল? বলতে পারেন কেউ?

তারপরও আমি আশাবাদী। পরিবর্তন হবেই। সবাই ভালো থাকবেন। নিচের লেখাটি পড়ুন। দেখুন আপনার চেনা পরিবারের সঙ্গে মেলে কিনা?

আমি শুধুমাত্র নামটি গোপন রাখলাম। লেখাটি থেকে কিছু নাম বাদ দিয়ে দিলাম। বাকিটুকু সবই সেই ছেলেটির পাঠানো যেকিনা একটু স্বস্তির জীবন চায়। একটু সুন্দরভাবে বাঁচতে চায়। তার এই চাওয়া পাওয়া পূরণ হবে বলেই আশ্বস্ত করা হয়েছিল ১৯৭১ সালে। তার বয়সী তরুণরা সেসময়ে জীবন দিয়েছিল পরবর্তী প্রজন্ম ভালো থাকবে সেই আশায়।

এই তরুণের জন্ম আশির দশকে। সে কিন্তু ভালো নেই।

স্বাধীনতা কবে যে অর্থবহ হবে সেই অপেক্ষায়। চলুন লেখাটি পড়ি।

স্যার,
কেমন আছেন? লম্বা মেসেজ লিখছি, জরুরি কিছু নয়; জীবনের গল্প, অবসরে পড়বেন।

অনেকদিন আপনার সাথে কোন কথা হয় না। প্রত্যেকটা মানুষেরই কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। কিছু দোষ ত্রুটি আছে। আমি এর উর্ধ্বে নই। মাঝে মাঝে আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হই। হতাশা থেকে কয়েকদিন আমার সাথে যায় না এমন কিছু কথা বার্তা ফেসবুক স্টাটাসে লিখেছি। আমি এজন্য অনুতপ্ত। আমি অনুতপ্ত আমি এ যাবৎ যতো ভুল করেছি তার জন্য।

আমি এখন বাড়িতেই আছি। মাস কয়েক আগে আমার মা আমাদের ফ্যামিলি আমার বড় দুই ভাইয়ের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছেন। যেহেতু আমার কোন আয় রোজগার নেই তাই আমি ও মা মাসপ্রতি পালা করে এখন তাদের দুই ঘরে খাই।

১৬ তারিখে আমার ভাগ্নীর বিয়ে হলো। ভাগ্নীর বিয়ে উপলক্ষ্যে মেঝ ভাই দেড় বছর পর দুবাই হতে দেশে এসেছেন। সঙ্গে এনেছেন ১ লাখ টাকা। তার মধ্যে ৩০ হাজার টাকায় ফ্রিজ কেনা হয়েছে ভাগ্নীর বিয়েতে উপহার হিসেবে।

এদিকে, বড় ভাইয়ের গাড়ির ব্যবসার অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে। তিনি সৌদি আরবে কাজ করে যা জমিয়েছিলেন তিন বছর আগে দেশে এসে বন্ধুর পরামর্শে পরিবহন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছিলেন। সবমিলিয়ে প্রায় ১৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে কিছু টাকা ধারও করতে হয়েছিল। একটা সেকেন্ডহ্যান্ড বাস কিনেছিলেন। ওই বাস যেহারে নষ্ট থাকে তাতে আয়ের চেয়ে বছর শেষে ব্যয় বেশি হচ্ছে। তার উপর চাঁদাবাজি তো আছেই। ফলে তার ঋণ থাকছেই। এখন এই গাড়ি তিনি ছাড়তেও পারছেন না। অন্য কোন কিছু করবেন, এরকম কোন ব্যবসাও তিনি জানেন না। বিনিয়োগ করার সামর্থ্যও নেই। আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর থেকে সৌদি আরবে ভিসাও বন্ধ রয়েছে। মাঝে মধ্যে দু’চারটা শ্রমিক ভিসা যা হয়, তার দাম সাত আট লাখ টাকা। আর আমার ভাইকে যেতে হবে ফ্রি ভিসায়। তো তার দাম আরও বেশী। দশ লাখের ওপর। তাই সেখানেও ফিরে যেতে পারছেন না।
আর আমার কোন চাকুরি-বাকুরি কিছু হয়নি এখনো। বেকার দিন যাচ্ছে। আমার পেছনে বিনিয়োগ করার মতো সামর্থ্য আমার ভাইদের নেই। আর পারিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন যতোটা খারাপ যাচ্ছে, অন্যান্য পরিবারে আমার মতো ছেলেরা এ অবস্থায় ফ্যামিলিতে সাপোর্ট দেয়। আর আমি ভাইদের সাপোর্ট নিয়ে বেঁচে আছি।

আমি নিজেকে বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভুল যা হয়েছে, হয়ে গেছে। আর নয়। জীবন থেকে অনেকটা সময় চলে গেছে আলস্যে, কর্মহীনতায়। আর নয়। যে বয়সে আমার বন্ধুরা গাড়ি, বাড়ি, ব্যবসার মালিক- সেখানে আমি পথের ধুলায় গড়াগড়ি খাচ্ছি। এভাবে তো জীবন চলতে পারে না।আমাদের এখানে গত দুই দশক ধরে ছেলেদের ক্যারিয়ার বলতে যা বুঝায় তা হলো পড়াশোনা কোনরকম এসএসসি বা ইন্টারমিডিয়েট শেষ করে একটু পয়সাওয়ালা ঘরের ছেলেরা দালাল ধরে অবৈধ পথে ইউরোপের কোন দেশে পাড়ি জমায়। কম পয়সাওয়ালারা সুদের ওপর টাকা ধার নিয়ে, জমি বিক্রি করে তাদের ছেলেকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠায়। তারপর এরা টাকা পয়সা কামায়। বাড়িতে দালান-কোঠা তৈরি করে। দেশে এসে বিয়ে শাদী করে। কিছুদিন বৌ নিয়ে বাইকে চড়ে ঘুরে বেড়ায়। বাবা হয়, সুখী জীবন কাটায়। আমিতো এর কোনটাই করিনি। তাই আমার ক্যারিয়ার হয়নি।

চাকুরির আবেদন করে যাচ্ছি। তেমন কোথাও হতে ডাক পাচ্ছি না। বুঝতে পারছি আমি এই দেশে টিকে থাকার যোগ্য নই। কয়েকদিন আগে বিডিজবসে কন্টেন্ট ডেভলপার পদে আবেদন করেছিলাম। কাজ হলো সংবাদপত্রে বাংলায় প্রকাশিত বিজ্ঞাপন ইংরেজিতে অনুবাদ করে তাদের সাইটে পোস্ট করা। এজন্য বাংলা টাইপিং, ইংরেজি টাইপিং, অনুবাদ দক্ষতা ও এডোবি ইলাস্ট্রেটর যারা জানে তাদেরকে প্রাধান্য দেবে তারা। ডেকেছিল। একটি পোস্টের বিপরীতে ১৫ জনের মতো পরীক্ষা দিলাম। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা দু’টোই দিয়ে এলাম। ভালোই হয়েছে, তবে লিখিত পরীক্ষা শতভাগ নিখুত হয়নি। পরীক্ষার সময় কিছু ভুল ত্রুটি হয়েই যায়। তারপরও আমি আশাবাদী ছিলাম ওরা আমাকে ডাকবে। কিন্তু আমি ইলাস্ট্রেটর জানিনা, এটাই বোধহয় ফ্যাক্টর হয়েছে। যদিও ওরা প্রার্থীকে সব শিখিয়ে নেবে বলে বলেছে।

আমার মায়ের ষাটের ওপরে বয়স হয়েছে, ডায়াবেটিসসহ আরো অনেক স্বাস্থ্য জটিলতা আছে তার। স্বাভাবিকভাবেই মা চাচ্ছেন, আমাকে বিয়ে দিয়ে বৌ দেখতে। এছাড়া আমার অনেক ছোটরাও বিয়ে করে সংসারী হয়েছে, বাবা হয়ে গেছে। আমি জীবন থেকে পিছিয়ে যাচ্ছি।

পরিবারের কেউ কেউ যৌতুক নিয়ে তারপর বিয়ে করানোকে একটা সমাধান ভাবছেন। আমি এরকম বিয়ে করতে চাই না।

আমি জানি এখন বিয়ে করলে আমি আমার জন্য উপযুক্ত পাত্রী বিয়ে করতে পারবো না। আমার যা অবস্থা, বিয়ে করার কোন যোগ্যতাই আমার নেই এবং আমি এর জন্য প্রস্তুতও নই । এলাকায় এখন যেসব বিয়ে হচ্ছে তাতে কোনটির খরচই ৫/৭ লাখ টাকার কম নয়। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আরো অন্তত ২/৩ বছর পরে বিয়ে করবো। এর মধ্যে আমাকে নিজের একটা অবস্থান তৈরি করতে হবে।

এখন যা সিদ্ধান্ত নিয়েছি তা হলো আমি অর্থনৈতিক সচ্ছলতার জন্য ছাত্রভিসায় বিদেশে কোন দেশে যাবো। প্রথম পছন্দ ফিনল্যান্ডে। আমার এক বন্ধু সেখানে আছে। দ্বিতীয় পছন্দ জার্মানী কিংবা কানাডা। জার্মানীতে আবেদন প্রক্রিয়া দীর্ঘ এবং ভাষা শিক্ষা কোর্সের জন্য প্রথম বছর অন্তত তিন লাখ টাকা ফি দিতে হবে। কিন্তু পড়াশোনার খরচ ফ্রি। যেতে কনসাল্টেশন ফি সহ ৮/১০ লাখ টাকার প্রয়োজন। কানাডাতে আরো দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং পড়াশোনার জন্য ফি দেওয়া লাগে। ব্যয়বহুল। এখনো পর্যেন্ত টাকার যোগার নিশ্চিত নয় তবে আমার নানা বাড়িতে আমার মায়ের প্রাপ্য সম্পত্তির অংশ বিক্রি করে টাকার যোগান করার ব্যাপারে মা রাজি হয়েছেন।

আমি যদি জানুয়ারীর মধ্যে IELTS পরীক্ষা দিয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে ৬.০ স্কোরের একটা রেজাল্ট বের করতে পারি, তাহলে এবছরের জন্য ফিনল্যান্ডে আবেদন করতে পারবো।ওয়েব সাইটে আমি সব খোজ খবর নিয়েছি। আর এখানে টিকে গেলে দের লাখ টাকায় ২০১৩-এর মাঝামাঝিতেই ফিনল্যান্ডে চলে যাওয়া সম্ভব, কোন কনসাল্টিং ফার্মের সাহায্য ছাড়া।

এই মুহুর্তে পাসপোর্ট ও কোচিং-এর ফি-এর জন্য ১৫ হাজার টাকা হলে আইইএলটিস পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করতে পারি। সমস্যা হলো সম্পত্তি বিক্রয়ের প্রক্রিয়াটা ঝুলে আছে। দাম নিয়ে দেন-দরবার হচ্ছে। আমার মামারা নায্য মূল্য দিতে চাচ্ছেন না।

অনেক কিছু লিখলাম। এখান থেকে হয়তো আপনার ব্লগে কিছু লেখার উপাদান পেতেও পারেন। সময় নিয়ে পড়ার জন্য আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

(নাম)

 

 

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s