আওয়ামী লীগকে অভিনন্দন অতৃপ্ত আত্মাদের পক্ষ থেকে


জননেত্রী শেখ হাসিনা রয়েল বেঙ্গল বাঘের মতো কাজ করেছেন। বাচ্চু রাজাকার নামে পরিচিত মাওলানা আযাদের বিচার সম্পন্ন করেছেন। আজকে রায়ও ঘোষিত হয়েছে। তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই রায় ঘোষণার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আজকে একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করল।

১৯৭২ সালে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেই ভারতীয় সেনাদের বাংলাদেশ থেকে ফেরত পাঠিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ জাগিয়ে তুলেছিলেন। তার এই পদক্ষেপকে সেদিন অনেকেই সাহসিকতার নির্দশন হিসেবে দেখেছিল। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, অকুতোভয় বীর রাজনীতিবিদ শেখ মুজিবুর রহমান সাহসিকতার সঙ্গে আরো অনেক পরিস্থিতি মোকাবেলা করলেও ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের ঋণ শোধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

সদ্য স্বাধীন দেশে সবার মেমরি যখন তরতাজা ছিল তখন শেখ মুজিবুর রহমান চাইলেই ত্রিশ লাখ শহীদের তালিকা তৈরি করতে পারতেন। সেসঙ্গে তাদেরকে যারা মেরেছে সেইসকল যুদ্ধাপরাধী ব্যক্তিদের তালিকাও বানাতে পারতেন। শুধু তাই নয় দুই লাখ ধর্ষিত বীরঙ্গনার অনেকেই তখন জীবিত ছিলেন তাদের মাধ্যমে সহজেই অপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল। দেশ থেকে যে এক কোটি মানুষ শরনার্থী হিসেবে বৃহৎ প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্র ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল যাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, গরু ছাগল মেরে ফেলা কিংবা ধরে নিয়ে খেয়ে ফেলা হয়েছিল ক্ষতিগ্রস্ত সেসকল ব্যক্তিদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে তখনই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই কাজগুলো করেননি। সেদিন তিনি তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন না করায় আজকে অসময়ের দশ ফোড়ের মতো তারই কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। অনেক বাধা বিপত্তি মোকাবেলা করতে হচ্ছে ঘরে বাইরে। তবে সকল কিছুর পরও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করা হয়েছে। নাটের গুরু গোলাম আযম সহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অনেকের প্রত্যাশা ছিল যে, বিচারে প্রথম সাজা হবে গোলাম আযমের। কিন্তু সেটা হয়নি। তবে মন্দের ভালো খবর হলো বাচ্চু রাজাকারের বিচারের রায় ঘোষণা করা হয়েছে আজকে। বিচারে তার ফাঁসির আদেশ হয়েছে। এখন এই রায় কার্যকর করার পালা। এক্ষেত্রে বাধা হলো বাচ্চু রাজাকার কোথায় আছে সেটা কেউ জানেন না। আওয়ামী লীগের একাধিক মন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে অচিরেই তাকে বিদেশ থেকে ধরে এনে রায় কার্যকর করা হবে। তাদের এই ঘোষণা থেকে ধারণা করা যায় যে, বাচ্চু রাজাকার দেশে আত্মগোপন করেনি। সে বিদেশে আছে।

এই রকমের একটি কাজ করতে পারার জন্য সকলেরই উচিৎ হবে আওয়ামী লীগকে অভিনন্দিত করা। আওয়ামী লীগ, এই রায় ঘোষণার মাধ্যমে তাদের নির্বাচনী ওয়াদা পূরণ করার কাজটি শুরু করতে পেরেছে। ত্রিশ লাখ শহীদের অন্তত কয়েকজনের হত্যার বিচার হলো। এই বিচার সম্পন্ন করার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নিন্দুকদের মুখ বন্ধ করতে পেরেছে, যারা বলে বেড়ায় আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার রাজনৈতিক কারণে ধীরগতিতে করছে, কিংবা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঝুলিয়ে রেখে আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে তরুণদের ভোট টানার চেষ্টা করবে ইত্যাদি। এমন ধরনের ভাবনা যারা করেন তারা যে কতোটা ভুল সেটা প্রমাণ হলো বাচ্চু রাজাকারের বিচারের রায় ঘোষণার মাধ্যমে। ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা, ২ লাখ নারী ধর্ষণ, লাখ লাখ ঘরবাড়িতে আগুন লাগানো, বাজার ঘাট পুড়িয়ে দেওয়া লুটপাটে জড়িত কয়েক লাখ যুদ্ধাপরাধীদের গ্রেফতার ও বিচার সম্পন্ন করা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

আওয়ামী লীগের মতো তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত একটি রাজনৈতিক দল ১৯৭২ সালে দেশের সকল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার মতো সুযোগ পেয়েও কাজে না লাগানোর মতো ভুল করলেও এবার আর ভুল করবে না শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। কয়েক লাখ যুদ্ধাপরাধীকে ফাঁসি কাষ্ঠে ঝুলিয়ে দেওয়ার মতো কাজ করার সাহস রাখেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। দেশের জনগণও তার সঙ্গেই আছে। অতএব জনগণ আশা করতে পারে এই সরকারের বাকি মেয়াদকালে নাটের গুরু গোলাম আযমসহ দেশের ধর্ম-বর্ণ-দল নির্বিশেষে ১৯৭১ সালের কয়েক লাখ যুদ্ধাপরাধীদের সকলের শুধুমাত্র ফাঁসির রায় ঘোষণা নয়, ফাঁসি কার্যকর করার মাধ্যমে জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশকে যুদ্ধাপরাধী মুক্ত করে ১৯৭১ সালে শহীদ ৩০ লাখ অতৃপ্ত আত্মাদের শান্তি দেবেন। তিনি অন্তত তার বাবার মতো পিছু হটবেন না। সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার দিকে পা বাড়াবেন না। বিচার করবেন। শাস্তি দেবেন। শাস্তি কার্যকর করবেন।

Advertisements

One thought on “আওয়ামী লীগকে অভিনন্দন অতৃপ্ত আত্মাদের পক্ষ থেকে

  1. মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে মাওলানা আবুল কালাম আযাদের ফাঁসির আদেশ হওয়ার পর আপনার এই লেখাটি প্রকাশিত হয়েছিল। আপনার আবেগের তড়িৎ প্রকাশকে শ্রদ্ধাসহকারে সাধুবাদ জানাই। শুধু আপনি না, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে যারা পাকিস্থানী দোসরদের হাতে নির্যাতিত হয়েছে, স্বজন হারিয়েছেন তারাসহ বাংলাদেশ রাষ্ট্রে বিশ্বাসী সকল মানুষই এই রায়ে আপনার মতোই অনুভূতি প্রকাশ করে থাকবেন।

    বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে এদেশীয় যেসব কুলাঙ্গার আক্রমনকারী হানাদার বাহিনীকে এদেশের নিরপরাধ সাধারণ মানুষকে নির্যাতন ও হত্যায় সহযোগিতা করেছে এবং প্রত্যক্ষভাবে মানুষ হত্যা ও নির্যাতনে অংশ নিয়েছে- তাদের জন্ম এই ভূখন্ডে হলেও তারা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের জন্য দায়ী।বাংলাদেশের মাটিতে তাদের সুষ্ঠু বিচার অনেক আগেই হওয়াটা ইতিহাসের দাবী ছিল।

    ১৯৭১ সালে ইসলামের দোহাই দিয়ে হাতেগুনা কিছু পাকিস্থানপ্রেমী ছাড়া আপামর সাধারণ মানুষ বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র অভ্যুদয়ের পক্ষে ছিল। আর ইসলামের দোহাই দেওয়া পাকিস্থানপ্রেমীরা যুদ্ধকালীন সময়ে মানুষ হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনে নিজেরা সরাসরি জড়িত হয়ে এবং পাকিস্থানী হানাদারদের এইসব অপরাধ সংঘঠনে সহযোগিতা করে সব চেয়ে বেশী অনৈসলামিক কাজ করেছে তারাই।

    ১৯৭৪ সালে দেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ ক্ষমা ঘোসণার মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দিয়ে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন কিনা এবং পরবর্তীতে সেনাপ্রধানের পদ থেকে রাষ্ট ক্ষমতায় আসা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাদের রাজনৈতিক পুনর্বাসন সম্পন্ন করেছিলেন কিনা সেই বিতর্কে না গিয়ে আমি গত দুই দশকে যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের সবচেয়ে বড় অভিযোগ সেই জামায়াতকে নিয়ে কি রাজনীতি হয়েছে তার একটা বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করবো এখানে এবং সিদ্ধান্তে আসবো সত্যিই আওয়ামী লীগ বিএনপি যুদ্ধাপরাধীর বিচার চায় কিনা!

    আজ ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সাল। কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আন্তর্জানিক অপরাধ ট্রাইবুনালের রায় ঘোসিত হওয়ার পর বোধকরি আপনার আগের অবস্থানটি এখন আর অবশিষ্ট নেই। আপনি হয়তো প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এখন আর রয়েল বেঙ্গল বাঘ না বলে, একটা দু’মুখো সাপ বলতে চাইবেন। কারণটা খুবই স্বাভাবিক, শেখ হাসিনার ডাবল স্টান্ডার্ড বা দ্বৈত অবস্থান।

    আবুল কালাম আযাদ জামাতের কেউ নন, কিন্তু কাদের মোল্লা জামাতের একজন প্রথম সারির নেতা। জামাতের সাথে কোন একটা আপস-রফার ফলশ্রুতিতেই এমন একটা রায় দেয়া হয়েছে। কেবলমাত্র এই একটি ঘটনাতেই তার দ্বৈত অবস্থান ধরে পড়েছে তা নয়,অতীতে তিনি এরকম আরো বহু দ্বৈত অবস্থান নিয়েছেন। ভোল পাল্টে ফেলেছেন। সামরিক শাসক এরশাদের অধীনে নির্বচানে অংশগ্রহণ না করার ঘোসণা দিয়ে একমাত্র দল হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ ছিল শেখ হাসিনার এরকমই আরেকটি দ্বৈত অবস্থানের ঘটনা।

    কাদের মোল্লার এই রায় থেকে আমরা একটা পরিস্কার সিদ্ধান্তে আসতে পারি। শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে যুদ্ধাপরাধের বিচার করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন- এটা ছিল নিছকই তার রাজনৈতিক চাল, কোনভাবেই যুদ্ধপরাধের বিচার করা প্রয়োজন- এই দায়বদ্ধতা থেকে নয়। এখন তার রাজনৈতিক প্রয়োজনটা ধরে রাখার জন্যই কাদের মোল্লার ফাঁসির আদেশ না হয়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়েছে।বর্তমান হাসিনা সরকার ক্ষমতাসীন হয়েছে যুদ্ধাপরাধের বিচার করার অঙ্গীকার নিয়ে। কিন্তু এই অঙ্গীকারের প্রয়োজন শেখ হাসিনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সময়ে যখন রাজনৈতিক দল বিএনপি এককভাবে ক্ষমতায় ছিল। যখন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম রাজপথে যুদ্ধাপরাধীদের আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন।
    বরং তিনি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যে জামাতের বিরুদ্ধে সব চেয়ে বেশী, সেই জামাতের সাথে এক টেবিলে বসে,এক মঞ্চে দাড়িয়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন করেছেন। অসমর্থিত সূত্র [আমার ফাঁসি চাই]থেকে জানা যায় তিনি যুদ্ধাপরাদের সব চেয়ে বড় অভিযোগ যার বিরুদ্ধে সেই গোলাম আযমকে তিনি সেসময় কদমবুসিও করেন।
    তাহলে জামায়াতের নেতারা কি তখন যুদ্ধাপরাধী ছিলেন না? যদি থেকে থাকেন, শেখ হাসিনা কেন ১৯৯৬ সালে ক্ষমতাসীন হওয়ার পরও যুদ্ধাপরাধীদের বিচাররের ইস্যুটি সামনে নিয়ে আসার প্রয়োজন মনে করেননি? কেন বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেন নি? কারণ শেখ হাসিনা জানতেন জামাতের একটা নির্দিষ্ট অংকের ভোট ব্যাংক আছে এবং পরবর্তী নির্বাচনে জামাতকে কাছে টানতে পারলে তিনি সহজেই পুনঃনির্বাচিত হতে পারবেন।

    যেহেতু সেই ঘটনা ঘটেনি, এবং জামাত বিএনপির সাথে জোট বেঁধে ২০০১ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপির সাথে সরকারে থাকার পর পরবর্তী নির্বচনেও বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ নির্বাচনের সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তখন-ই কেবলমাত্র শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধের বিচারের ইস্যুটি সামনে নিয়ে আসেন।

    আমার বিবেচনায় বাংলাদেশ পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতকে পুনর্বাসনে বিএনপি যতোটা ভূমিকা রেখেছে, ঠিক একই ভূমিকা পালন করেছে আওয়ামী লীগ। আর তাই জামায়াত প্রশ্নে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ আর বিএনপি হলো একই মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। জাময়াতকে ঘুটি হিসেবে ব্যবহার করে দুটো দলই ক্ষমতায় আসতে চেয়েছে। বিএনপি এক্ষেত্রে সফল, আওয়ামী লীগ এক্ষেত্রে বিফল। আর বিফলতার প্রতিহিংসা থেকেই যুদ্ধাপরাধের ইস্যুটি আওয়ামী লীগ সামনে নিয়ে এসেছে, এবং এটিকে এখন জিইয়ে রাখার চেষ্টা করছে যাতে আগামী নির্বাচনে জামাতকে শেষ পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গ ছাড়িয়ে নিজেদের সাথে ভেড়ানো যায়।

    যুদ্ধাপরাধের বিচার করা প্রয়োজন- এই দায়বদ্ধতা থেকে শেখ হাসিনা কখনোই যুদ্ধাপরাধের বিচারের ইস্যুটি সামনে নিয়ে আসেন নি। যতোটা করেছেন, সবটাই রাজনীতিতে তার ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার জন্য জন্য করেছন। এমনকি যুদ্ধাপরাধের ইস্যুটি কখনো আওয়ামী লীগ সামনে নিয়ে আসতো না যদি রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াত বিএনপির সাথে না গিয়ে আওয়ামী লীগের সাথে থাকতো।

    শেখ হাসিনা নিজে আত্মীয়তা করেছেন একজন বড় যুদ্ধাপরাধীর সাথে এবং তাকে মন্ত্রীসভায়ও জায়গা দিয়েছেন। হাসিনা যদি সত্যি সত্যি যুদ্ধাপরাধের বিচার চাইতেন, তাহলে শুধুমাত্র তার বিরোধী পক্ষের বিচার প্রক্রিয়া শুরু না করে তার নিজের দলের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দিয়ে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু করতে পারতেন। এইসব থেকে পরিস্কার সিদ্ধান্তে আসা যায় যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রশ্নে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি দুটি দলই একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ মাত্র।

    একটা পলাতক যুদ্ধপরাধীর ফাঁসির রায়ে এতো উল্লসিত হওয়ার কিছু নেই। বিশেষ ভাবে আওয়ামী লীগকে ধন্যবাদও জানানোর কিছু নেই। আব্দুল কাদের মোল্লার রায়ে সেটা পরিস্কার হয়ে গেছে।

    পুনশ্চঃ আমার জন্ম স্বাধীনতারও দের দশক পরে। আমি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। যুদ্ধে মানুষের দুর্দশা, অসহায়ত্ব দেখিনি। নির্মম গণহত্যাও দেখিনি। কিন্তু আমি বাংলাদেশের প্রথম সারির রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ কর্তৃক হরতালের নামে বাসে আগুন দিয়ে জীবন্ত মানুষ বাসের ভেতর পুড়িয়ে মারতে দেখেছি। লগি বৈঠা দিয়ে জীবন্ত মানুষ পিটিয়ে মারতে দেখেছি। বিএনপি কর্তৃক হরতালের নামে মানুষ পিটিয়ে মারতে দেখেছি। জামায়াত কর্তৃক হরতালের নামে মানুষ মারতে দেখেছি।

    এরা কি তাহলে মানুষ না পশু? এরা গত দুই তিন দশক ধরে যা করে আসছে এগুলো কি মানবতা বিরোধী অপরাধ নয়? এগুলোর বিচার কি আদৌ হবে?

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s