জিলাপির প্যাচ


জিলাপির প্যাচ কষে যে মানুষ তাকে কেউ পছন্দ করেন না। তবুও সমাজে জিলাপির প্যাচ কষার মানুষের দেখা মেলে। করিম সাহেব এমন একজন জিলাপির প্যাচ কষা মানুষ। সব বিষয়েই তার পেচানো চাই। সহজ করে কোন কিছু বলতে পারেন না। দুই ধরনের অর্থবোধক কথা বলে সবকিছুতে প্যাচ লাগিয়ে রেখেই তিনি আনন্দ পান। করিম সাহেব পেশায় সরকারি অফিসের ক্লার্ক। মানে কেরানি। ফলে তার কাছে অনেক ফাইল পত্র যায়। তিনি সাধ্যমতো সেই সব ফাইলপত্রের সঙ্গে যুক্ত মানুষগুলোকে জিলাপির প্যাচে ফেলে নাকানি চোবনি খাওয়ান। গত প্রায় ২০ বছর ধরে তার এই অসামান্য দক্ষতায় ‍মুগ্ধ হয়ে তার সহকর্মীরা তাকে আড়ালে আবডালে জিলাপির প্যাচ নামেই ডাকে।

তার বস বাশার সাহেব তাকে কিছুটা হিংসে করেন। না করার কোন কারণ নেই। তিনি খুব ভালো করে জানেন যে, তার নাম ভাঙ্গিয়ে করিম ভালোই অর্থ কামাই করে যার সবটাতে তিনি ভাগ পান না। আবার করিম সাহেবকে হাতে নাতে ধরার মুরোদও তার নেই। তার এনিয়ে আক্ষেপ আছে। কিন্তু সেই আপেক্ষের কথা সবাইকে বলতেও পারেন না। মানুষের মনে যখন ক্ষোভ তৈরি হয় তখন সেটা কাউকে বলতে পারলে হালকা লাগে। এই বিষয়টি কাকে বলা যায় ভাবতে ভাবতে শেষ পর্যন্ত তিনি ছোটবেলার বন্ধুকে বাছাই করলেন। তার এই বন্ধুটি একটু সহজ সরল। মেয়ে বন্ধু। একদিন তাকে নিয়ে পার্কে গেলেন। নিরিবিলি পার্কে বসে বাশার সাহেব তার মনের দুঃখের কথা বললেন। সবটা শুনে বাশার সাহেবের বন্ধু রোহেনার মনটা খারাপ হলো। বন্ধুকে কিভাবে সাত্ত্বনা দেবেন ভাবতে লাগলেন। চট করে মনে হলো বড় কারো উদাহরণ দিলে হয়তো বন্ধুর মন ভালো হবে। বললেন, শোনো বাশার তুমি তো চুনপুটি। এই রাষ্ট্রের বড় দু’টা মানুষের কথা ভাবো। একজন আরেকজনের সবজেনেও ধরতে পারছেন না। এই ভেবে অন্তত তো তুমি মনে সান্ত্বনা পেতে পার। বন্ধুর কথা বাশার সাহেবের মাথার উপর দিয়ে গেলো। মানে কি? জিজ্ঞাসা করলেন তিনি।

তারেক জিয়ার কথাই ভাবো। একসময় সারা দেশের মানুষকে জানানো হলো তারেক জিয়া ৩০/৪০ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। এনিয়ে ব্যাপক আলোচনাও ২০০৬ সালে হয়েছে। আওয়ামী লীগ সেসময়ে এনিয়ে ব্যাপকভাবে কথা বলল কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেনি। কোনো ব্যবস্থাও নেয়নি। তাছাড়া, সরকার ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিল মন্ত্রীদের সম্পদের হিসেব দেওয়া হবে। কিন্তু তারা তারেক জিয়ার টাকা পযসা নিয়ে উচ্চবাচ্য করছে না। নিজেদের টাকা পয়সারও হিসেবে দিচ্ছে না।

তারমানে হলো তারেক জিয়াও হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেনি। বর্তমান মন্ত্রীসভার লোকজনও কোন লুটপাট করছে না।- বাশার সাহেব বললেন।

রোহেনা বিরক্ত হয়ে বলল, তুমি আমার মাথা বুঝেছো। তুমি বরং বাড়ি গিয়ে ঘুমাও। করিম অফিসে কি করল না করল সেটা নিয়ে চিন্তা বাদ দাও। তুমি তোমারটা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকো। করিমকে করিমেরটা করতে দাও। তোমারটা তো করিম খাচ্ছে না। তুমিও করিমেরটা খাচ্ছো না।

কিন্তু ও তো আমার নাম ভাঙ্গিয়ে খাচ্ছে।

তাতে কিচ্ছু আসে যায় না। তুমি পারলে তোমার বসের নাম ভাঙ্গিয়ে খাও। হয়ে গেলো। মনে রেখো পুরো দেশটাই জিলাপির প্যাচে আটকে আছে। এই অবস্থায় তুমি যতো প্যাচ লাগাতে পারবে ততো লাভ। যাই হোক। এসব কথা বাদ দাও। আসো অন্য কথা বলি।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s