দেশে ৬৪টি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের এটিই উপযুক্ত সময়


বাস্তবতাকে স্বীকার করে নেওয়া ভালো। তাতে সামনে আগানো সহজ হয়। বাংলাদেশের বাস্তবতায় নতুন কোনো সংগঠন মানে প্রায় সবার নেতা হতে চাওয়া। ফলে আমি আমার আগের লেখাতে (http://tinyurl.com/azaefmz) যুদ্ধাপরাধীমুক্ত নতুন রাজনৈতিক দল বলেছি সেখানে একথাটা্ও বিবেচ্য বিষয়। যে কারণে আমার আগের লেখার পাঠকরা লক্ষ্য করে থাকবেন আমি একাধিক দল গঠনের কথা বলেছি। যাতে করে নেতা হতে ইচ্ছুক বেশি সংখ্যক মানুষকে জায়গা করে দেওয়া যায়। আমাদের লক্ষ্য একটাই বাংলাদেশের সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ। সেকারণে ৩০০ আসনের মধ্যে অন্তত ১০০ আসনে বিজয়ী হতে হবে তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মকে।

আমার অন্য আরেকটি লেখায় (http://tinyurl.com/a2ww92k) আমি বলেছি যে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্ম দ্বারা চতুর্থ প্রজন্ম বিভ্রান্ত। এখানে বলা দরকার যে চতুর্থ প্রজন্ম বলতে আমি কোন বয়সীদের বোঝাচ্ছি। চতুর্থ প্রজন্ম হলো যাদের জন্ম মধ্য আশির দশক থেকে নব্বইয়ের দশকের শুরু পর্যন্ত। এই প্রজন্মের সন্তানদের আমরা রাস্তায় গাড়ি ভাঙ্গচুর করতে দেখি। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পেটাতে দেখি। ধরো মারো কাটো শ্লোগান দিতে দেখি। এরা এই দেশের দ্বিতীয় প্রজন্মের নাগরিক ও নেতৃবৃন্দের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে হিংসা বিদ্বেষের রাজনীতিতে জড়িয়ে যাচ্ছে। এরা ইতিহাসের পাঠ নেয় না। এরা যুক্তি দিয়ে জীবন চালায় না। এরা অন্যের যুক্তি শুনতে চায় না। এরা স্রোতে গা ভাসায়। এরা ব্লগে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। ভিন্নমতের মানুষের উপর যৌথভাবে হায়েনার মতো ঝাপিয়ে পড়ে। এদের বেশিরভাগ দিগভ্রান্ত প্রজন্ম। যেকারণে এরা বিভক্তির রাজনীতিতেই এগিয়ে যেতে চায়। এদের মধ্যে যে ক্ষুদ্র অংশ সত্যিকারের বাংলাদেশ গড়ায় আগ্রহী তাদের এখন সামনে আসার সময় হয়েছে। বজ্রকণ্ঠে আওয়াজ তোলার সময় হয়েছে। খামোশ। চুউউউউপ।

তবে এরা একা পারবে না। এদের কাজে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করতে হবে তৃতীয় প্রজন্মের। যাদের জন্ম ষাট দশকের শেষ ভাগ থেকে সত্তরের দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত। তৃতীয় প্রজন্ম অনেক বেশি ধীর স্থির। এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের ইতিহাসের পাঠ নেওয়া আছে। এরা চতুর্থ প্রজন্মের মতো হ্যামিলনের বাঁশির পেছনে ছোটে না। এরা রাশ টানতে জানে। কিন্তু এদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো চতুর্থ প্রজন্মের মতো এরা সাহসী নয়। দ্বিতীয় প্রজন্মের ধমকে এরা কুকড়ে থাকে। দ্বিতীয় প্রজন্ম তৃতীয় প্রজন্মকে ধমক দেয় আর চতুর্থ প্রজন্মকে হ্যামিলনের বাঁশি বাজিয়ে বিভ্রান্ত করে।

এই অবস্থায় তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের যৌথ চেষ্টায় দেশে নতুন রাজনৈতিক প্লাটফর্ম গঠন করা দরকার। যারা ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত আছে তারাও এই নতুন প্লাটফর্মে চলে আসতে পারে। আসলে তাদেরকে আনতে হবে। এক্ষেত্রে যাতে পদ নিয়ে সমস্যা না হয় সেকারণে জেলাভিত্তিক রাজনৈতিক দল গঠন করা যেতে পারে। পরবর্তীতে জেলাভিত্তিক দলগুলো একটি প্লাটফর্মে আসতে পারে। এই ধরনের রাজনৈতিক দল গঠনের অন্য অনেক সুবিধার সঙ্গে প্রধান দুটি সুবিধা পাওয়া সম্ভব হবে।

এক. মানুষ নতুন নেতৃত্বের প্রতি সহজেই আকর্ষিত হবে। তারা নতুন নেতৃত্বকে সুযোগ দিতে চাইবে। এক একটি জেলায় তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্ম একত্রিত হবে বিধায় জনগণের আস্থা তাদের প্রতি বাড়বে।

দুই. তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলো থেকে বের হয়ে এলে ওই রাজনৈতিক দলগুলো মোটামুটিভাবে এতিমে পরিণত হবে।

তখন আগামী নির্বাচনে ৬৪টি নতুন রাজনৈতিক দল থেকে তৈরি হওয়া তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের নতুন রাজনৈতিক প্লাটফর্ম অনায়াসে ১০০ সিট পেয়ে যাবে। অন্যদিকে বাকি রাজনৈতিক দলগুলো এতোটাই বিভক্ত হয়ে পড়বে যে তারা কেউ এককভাবে ১০০ সিটও পাবে না। আবার যেহেতু তারা দ্বিধাবিভক্ত ফলে তাদের পক্ষে যৌথভাবে আসাও সম্ভব হবে না।

আজকে শাহবাগ চত্বরে শুরু হওয়া প্রজন্মের আন্দোলন যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে দেশময় সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মকে তাদের ভাগ্য উন্নয়নে ব্যবহার করতে পারতে হবে। দ্বিতীয় প্রজন্মের ঘুটি হয়ে আর কতোকাল। নতুন নেতৃত্বকে যে চ্যালেঞ্জটি মোকাবেলা করতে হবে তা হলো সকলকে ঐক্যবদ্ধ করা। একাজটি করার জন্য দ্বিতীয় প্রজন্ম দ্বারা বিভ্রান্ত চতুর্থ প্রজন্মের মন থেকে দ্বিতীয় প্রজন্মের বানানো মিথ্যার আবেশ সরিয়ে দিতে হবে। তাদেরকে সত্যের আলোকে উদ্ভাসিত করতে হবে। তাদেরকে ইতিহাসের পাঠ নিতে শেখাতে হবে। আর সবসময় মনে রাখতে হবে দ্বিতীয় প্রজন্ম এই দেশটাকে পিছিয়ে রেখেছে বিভক্তির রাজনীতি করে। চতুর্থ প্রজন্মও সেই পথেই ধাবিত কারণ তারা হ্যামিলনের বাঁশিতে আবিষ্ট। সেকারণে নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সকলকে একত্রিত করা। কিন্তু কোন চ্যালেঞ্জই বোধহয় যুবদের কাছে চ্যালেঞ্জ নয়। দরকার একদল সঠিক নেতা। সেই নেতা আসতে হবে তৃতীয় ও চতু্র্থ প্রজন্ম থেকেই। বড়দের কোন জায়গা নেই। অনেক তো হলো। এবার তারা সাইডে লাইনেই না হয় থাকুক।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s