যুদ্ধাপরাধীমুক্ত নতুন রাজনৈতিক দল


দেশে আক্ষরিক অর্থেই গণজাগরণ ঘটেছে। মূলত তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের (http://tinyurl.com/a2ww92k) ডাকে শুরু হয়েছে এই গণজাগরণ। কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবীতে শিশু-কিশোর-যুব-প্রবীণ সবাই জমায়েত হচ্ছে। শুরুটা ঢাকার শাহবাগে। তারপর দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে সেই আন্দোলন সারা দেশে। মানুষের মাঝে এমন স্বতঃস্ফূর্ততা বাংলাদেশের ইতিহাসে দুর্লভ ঘটনা।

তবে টিভি চ্যানেলগুলোতে দ্বিতীয় প্রজন্মের অনেকে ইনিয়ে বিনিয়ে বলার চেষ্টা করছেন যে তারা যা শুরু করেছিলেন ব্লগাররা সেটাকে শাহবাগে নিয়ে ‍গিয়েছে মাত্র। শাহবাগে জড়ো হওয়া কমবয়সী মানুষগুলো তাদের সমস্ত আবেগ উজাড় করে দিয়ে যখন সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি দাবী করছে তখন দ্বিতীয় প্রজন্মের মানুষগুলো তাদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে জানিয়ে দিচ্ছেন তারা আছেন। তারা ছিলেন। যখন মঞ্চ থেকে কেউ বক্তৃতা করছেন তখন তিনি আর অরাজনৈতিক কেউ থাকছেন না। তার রাজনৈতিক পরিচয়টা বলে দেওয়া হচ্ছে। টেলিভিশনের ক্যামেরাগুলো হাজার হাজার সাধারণ ছেলেমেয়েকে নয়, খুঁজে চেনামুখ। তবে অতোটা নিলর্জ্জ হতে পারে না বলে নতুন দুয়েকটা মুখও সেখানে থাকে। করপোরেট টিভি চ্যানেলগুলোর কাছ থেকে এরচেয়ে বেশি কিছু আশা করাটাও বোকামি। টেলিভিশনের টক শোগুলোতে দেশের চেনা বুদ্ধিজীবিরা স্মরণ করিয়ে দেন কোন আন্দোলন অরাজনৈতিক হলে সেটা টেকসই হয় না। তাদের কথা থেকে বোঝা যায় তারা ওত পেতে আছেন বরাবরের মতো একটি অরাজনৈতিক দাবীকে মানুষের প্রাণের দাবীকে দখল করার জন্য।  যুগে যুগে দেশে দেশে অরাজনৈতিক ও গণমানুষের দাবীকে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজ স্বার্থে ব্যবহারের নজির অনেক। সেকারণেই রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা লক্ষণীয়।

১৯৭১ সালে এভাবেই ফুঁসে উঠেছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ। তারা সবাই মিলে স্বাধীন করেছিল দেশকে। দীর্ঘ ৪২ বছর পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে আবারো ফুঁসে উঠেছে মানুষ। নতুন সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে আজ বাংলাদেশের সামনে। সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবীতে থেমে গেলে চলবে না। আজকে সময় হয়েছে এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার। তাদেরকে নতুন নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করতে হবে। এই সুযোগে অন্তত কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারে। দেশের আনাচে কানাচে চতুর্থ প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের নিজেদের রাজনৈতিক দলের শাখা চালু করার পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ। বর্তমানের রাজনৈতিক দলগুলোর বিভিন্ন স্তরে যুদ্ধাপরাধীরা পুর্নবাসিত হয়েছে। এই অবস্থায় বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বারা সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। আগামী নির্বাচনও সমাগত। এখনই উপযুক্ত সময় একটি কিংবা একাধিক রাজনৈতিক দল গঠনের। যে রাজনৈতিক দলে যুদ্ধাপরাধীদের স্থান হবে না। যে রাজনৈতিক দলে তৃতীয় ও চতুর্থ এবং পঞ্চম প্রজন্মের ছেলেমেয়েরাই নেতৃত্ব দেবে। যেহেতু ১৯৭১ সালে তাদের বয়স যুদ্ধাপরাধ করার মতো ছিলো না কিংবা তারা সেসময়ে জন্মগ্রহণই করেনি ফলে তারা মিলে যে রাজনৈতিক দল গঠন করবে সেগুলো হবে সত্যিকারের যুদ্ধাপরাধীমুক্ত রাজনৈতিক দল। নতুন এই রাজনৈতিক দলগুলো আবার নিজেদের মধ্যে জোট তৈরি করতে পারে। তারা আঞ্চলিকতার ভিত্তিতে ছোট ছোট জোট তৈরি করতে পারে। আমি বিশ্বাস করি তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের যুব বয়সীরা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে তাদের পক্ষে আগামী নির্বাচনে সংসদের অন্তত ১০০ সিটে বিজয়ী হওয়া হাতের তুড়ি বাজানোর মতোই সহজ হবে। এবং ১০০ সিটের কারণেই তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ দলে পরিণত হবে। তারাই সরকার গঠন করবে।

একটা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অন্য কোন বিকল্প নেই।

 

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s