সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের সমাজ


খাতাটা হারিয়ে ফেলেছিলাম। ফলে ঢাকায় ফিরেই লিখব সেটা আর হয়নি। ২০১২ সালের আগস্ট মাসের ঘটনা। এখন আর তেমনভাবে কিছু মনে নেই। খাতায় যে শব্দগুলো টোকা আছে সেগুলোর সবটা আর অর্থবহ হচ্ছে না! মানে সূত্রগুলো থেকে পুরো কাহিনীটা দাড় করানো যাচ্ছে না। সঙ্গে সঙ্গে না লেখার এই এক যন্ত্রণা। যাই হোক।

রায়গঞ্জে গিয়েছিলাম কাজে। সেসময়ে কাজের ফাঁকে এক গ্রামে কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল। তাদেরই একজন আমাকে তাদের গ্রাম ও সমাজ নিয়ে কিছু কথা বলেছিলেন। সমাজ সম্পর্কে আমি কিছু নতুন কথা জেনেছি। যার সঙ্গে কথা বলেছিলাম তাদের নামটা আলাদা করে লেখা হয়নি। তবে অনেকগুলো নাম লেখা। মীর আবদুল গফুর, আজহার আলী, আতাউর রহমান প্রমুখ। এদের একজন বলেছিলেন যে, এখন তাদের গ্রামে প্রায় ১০০০ খানা। এটা একটা বড় গ্রাম। এই গ্রামে হাইস্কুল, মাদ্রাসা, প্রাইমারি স্কুল সবই আছে। ৬০ বছর আগে এখানে এসবের কিছুই ছিলো না। সেসময়ে ৩০০/৩৫০ টা ঘর ছিল আনুমানিক। তখন সমাজ ছিল একটা। এখন সমাজ ১৩টা। একটি গ্রামে কয়টা সমাজ সেটা বোঝার সহজ উপায় হলো কতো জায়গায় কোরবানি হয়। তাদের গ্রামে এখন ১৩টি সমাজ কারণ ১৩ জায়গায় কোরবানি হয়। সমাজের বিত্তবানরা সবার কোরবানির পশু এক জায়গায় নিয়ে আসেন। এরপর সবগুলো সেখানে কোরবানি দিয়ে ফকির, মিসকিন ও আত্মীয় স্বজনের মাংস একত্রিত করে ভাগ করা হয়। সমাজ চলে মাতব্বরদের নেতৃত্বে। বংশের পরিচয়ে মাতব্বর নির্বাচিত হয়।

বিচার আচার সমাজের মধ্যেই হয়। চুরি ডাকাতি রোধ করাও সমাজের মাতব্বরের কাজ। বিয়ে শাদি সবই সমাজের দায়িত্ব। যদিও এখন আস্তে আস্তে সামাজিক বিষয়গুলোতে সমাজের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব কমে আসছে। তবে এই কমে আসাটা ঠিক হয়নি বলতে তারা ভুল করেননি।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s