বাংলাদেশ ইটালী নয় যে দায় মেনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন


ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক লড়াইয়ে পরাজিত হয়ে ইটালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগ করার সময় বলেছেন, ‘I am stepping down to protect the honour of the country, of the armed forces and Italian diplomacy. I can no longer be part of this government and I announce my resignation.’

জানুয়ারি মাসের ৭ তারিখে নিজ দপ্তরে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিপু মনি বলেছিলেন, ‘সীমান্ত হত্যাকাণ্ড অমার্জনীয়। সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ধরনের ঘটনা নিশ্চয় কারও কাম্য নয়।সম্প্রতি সীমান্তে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি হত্যার বিষয়ে গতকাল রোববার ভারতের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছি।ভারতের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সীমান্ত হত্যা বন্ধের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত হত্যার সংখ্যা কমেছে। তবে আমরা চাই সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে। এ জন্য দুই পক্ষের ভূমিকা রয়েছে।’ ওই সপ্তাহে বিএসএফ চারজন বাংলাদেশিকে হত্যা করেছিল।২০১৩ সালের প্রথম দিন মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও সীমান্তে দুই বাংলাদেশীকে গুলি করে হত্যা করেছিল বিএসএফ। দ্বিতীয় দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের বিবিসন সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে আরো দুই বাংলাদেশী মারা যায়।

এর আগে ২০১২ সালের অক্টোবরে সচিব পর্যায়ের বৈঠকে ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বলেছিলেন, ভারত সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ৷ তিনি দাবি করেন, বিএসএফ শুধুমাত্র আত্মরক্ষার জন্য গুলি ছোড়ে৷ পরিসংখ্যান মতে, ভারতীয় বাহিনীর গুলিতে গড়ে ১০০ বাংলাদেশী মারা যায়। আহত হয় তার অন্তত দশ গুণেরও বেশি।

তারও আগে ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার সঞ্জয় ভট্টাচার্য বলেছিলেন, সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ সীমান্ত অপরাধ৷ ওই সেমিনারে সীমান্তের সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশী অর্থমন্ত্রী দুই দেশের রাজনীতিবিদদের মধ্যে সম্পর্ক বাড়ানোর কথা বলেছিলেন। সেই সম্পর্ক বেড়েছে। কিন্তু কমেনি সীমান্ত হত্যা। এরপর সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পাঁচদিনের সীমান্ত বৈঠকে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ’এর মহাপরিচালক ইউ কে বনশাল দাবি করেছেন, বিএসফ শুধুমাত্র জীবন বাঁচানোর জন্যই গুলি ছোড়ে৷ তার এই বক্তব্যে ফিসফিস করে অনেকে নিজেদের মধ্যে আলাপ করেছেন তাহলে ফেলানী কেন মারা গেলো। আওয়ামী লীগের অনেক মন্ত্রীও নিজের মনে সেই কথা জিজ্ঞাসা করেছেন হয়তো। তবে কেউ এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি। তবে একটি উত্তর দিয়েছিলেন মহাপরিচালক। তিনি বলেছিলেন,  কিশোরী ফেলানীর ঘটনায় তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেয়া হবে৷ সেই তদন্ত কতদূর এগোলো সেকথা জানা নেই। আমাদের দেশের পত্রিকাগুলো ফলোআপ রিপোর্ট কম করে। সেই সময় তাদের থাকে না।

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে, ২০১২ সালে সীমান্তে হত্যা ও নির্যাতনের ৩১৯টি ঘটনা ঘটেছে। ২০১২ সালের জুন মাসের সংসদে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেব দিয়েছিলেন যে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতা লাভের পর বিএসএফ ১৫১ জন বাংলাদেশীকে মেরেছে।

এতোদিনে সংখ্যাটা নিঃসন্দেহে আরো বেড়েছে। এই বছর কতো মারা যাবে সেটার হিসেব আর জানাও যাবে না। কারণ পত্রিকাগুলো ব্যস্ত হরতাল আর যু্দ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে। তাদের অগ্রাধিকারের তালিকা অতোটা হয়তো বড় হবে না যেখানে সীমান্তে কতো মানুষ মারা গেলো সেই ঘটনা প্রকাশ পাবে। এটা নির্বাচনের বছর। একদল হরতাল দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চাচ্ছে। অন্যদল যুদ্ধাপরাধ ইস্যুর উপর ভর করে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার পূরণের সকল ব্যর্থতাকে ঢেকে দিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় থাকতে চাচ্ছে। এই তো আমার স্বদেশ। এটা ইটালী নয় যে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্তে হত্যার দায় নিয়ে কিংবা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহারের প্রথম পাঁচটি অঙ্গীকার পালনের ব্যর্থতার দায়দায়িত্ব স্বীকার করে পদত্যাগ করবেন।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s